বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লম্বাচুল ধারী মেয়েটি যার নাম নিমতি শেষবারের মত চুলগুলো খোপা করে নিলো। ঘড়িটার দিকে তাকালো উৎসুক চোখে। ঘড়িতে 1:20 বাজে। এটাই সঠিক সময়। বাসার সব লোকজন ঘুমে কাদা। ভারী ব্যাগটা বের করে সবকিছু চেক করে নিলো সে আরেকবার। বারান্দায় এসে ভারী ব্যাগটা মোটা দড়ির সাহায্যে দু'তলা থেকে নামিয়ে ফেললো আস্তে আস্তে করে। তারপর চিঠিটা তার পড়ার টেবিলে রেখে উপরে একটা পেপারওয়েট দিয়ে ঢেকে দেয়। নিজের বিছানায় ছোট্ট বোনটার মুখের দিকে চোখ পড়তেই কপালে চুমু একে বেড়িয়ে পড়ে ঘর থেকে। বারান্দা থেকে নিচের দিকে ঝুলানো দড়িটা শেষবারের মত আরেকবার চেক করে নেয় সে এবং দ্রুত তরতর করে নেমে পড়ে সে ।
নিচে নেমেই দেখলো রিম্পি, নীহারিকা দাড়িয়ে আছে। তাকে দেখেই রিম্পি বলে উঠলো, " কেবল তোর আসার সময় হলো? জানিস কতক্ষন ধরে মশার কামড় খাচ্ছি? নে চল তাড়াতাড়ি। বড্ড দেরি হয়ে গেছে অলরেডি। ভোর হবার আগেই মিশন শেষ করতে হবে । সেটা মনে আছে? "
হুম আছে। সুব্রত, নিশান এরা কই? বলে উঠলো নিমতি।
"আর বলিস না, হঠাৎ নিশান এর কী যে হলো ও নাকি যাবে না । আজব ছেলে একটা! ছেলেটার মাঝে মাঝে কী যে হয়। অথচ ওর ই এ মিশনে বেশি উৎসাহ দেখেছি। আর সুব্রতের ছোট ভাইটা হঠাৎ পায়ের ব্যাথায় কাতরাতে শুরু করেছে। ওকে নিয়ে হসপিটালে গেছে ও । ও বলেছে ও ঐই জায়গায় আমাদের সাথে সরাসরি যোগ দিবে । দেরি হলে আমাদের কাজ শুরু করে দিতে বলেছে। জবাব দিলো নীহারিকা।
নিমতি নিজেই তাড়া দেয়," নে চল এখন" । সময় হাতে নেই বেশি। ভোর হবার আগেই বাড়িতে পৌছাতে হবে আমাদের। তিনজনের দলটা দ্রুত সাইকেলে চড়ে বসে। প্রত্যেকের ঘাড়ে বড় বড় ভারী একটা করে ব্যাগ। দ্রুত প্যাডেল চালাতে থাকে সবাই। তারা জানে না তাদের জন্য কী বিপদ অপেক্ষা করে আছে। এরা পাঁচজনেই বেস্ট ফ্রেন্ড। নতুন নতুন এডভেঞ্চার এ যাওয়ার নেশা তাদের জন্ম থেকেই মনে হয়। নীহারিকার বাবা মা কেউ নেই। সে তার দাদা আর চাচা চাচীর সাথে থাকেন। তার দাদাই তাকে এডভেঞ্চার এ উৎসাহী করে তুলেছে বলা যায়। এ দিকে নিমতি আর রিম্পির পরিবার কখনোই তাদের এ দুঃসাহসিক কাজে উৎসাহ তো দূরে থাক প্রায় সময় নজরদারিতে রাখে। এ পর্যন্ত দু'দুটা অভিযানে তারা সফল হয়েছে । এবং পুলিশের কাছে বিশেষ সাহসিকতার জন্য প্রশংসিতও হয়েছে। এবার তারা " ভয়ংকর ভুতুরে বাড়ি " নামে সুপরিচিত বাড়িতে এডভেঞ্চার চালাবে। তারা যতদূর জানে এ বাড়িতে জুয়ারু ছেলেরাই রাতের বেলা মানুষকে ভয় দেখিয়ে বাড়িটাতে নেশার আড্ডাস্থল বানিয়ে ফেলেছে । দু'জন পুলিশকে নৃশৃংস ভাবে খুন করার পর পোস্টমর্টেম থেকে জানা যায়, " এই হত্যাকান্ড সাধারন কোন হত্যাকান্ড নয়।" সবার মনের মধ্যে এজন্যই বদ্ধমূল হয়েছে যে ,বাড়িটাতে আসলেই ভয়ংকর কিছু আছে। নিমতিদের দলটা তবুও ঝুঁকি নিয়ে এটার রহস্য সমাধান করতে এই মিশনের পরিকল্পনা করেছে।
.
"এসে গেছি আমরা " বলে উঠে নিমতি। নে ব্যাগগুলো এই গাছটাতে রেখে দে। একটু অপেক্ষা করি সুব্রতের জন্য ,না জানি ওর ভাইয়ের কী অবস্থা এখন। আদৌ আসতে পারবে কি না। না আসলে নিজেদের ই মিশনে নামতে হবে। "
রিম্পি গম্ভীর ভাবে বলে উঠে," তোরা যাই বল আমার কেন জানি খুব ভয় করছে। সত্যিই যদি...!"
আহ্! চুপ কর তো। ধমকিয়ে উঠে নীহারিকা। এতো দূর যেহেতু এসেছি, "ঐইটার রহস্য বের করেই ছাড়বো। "
দূরে কারো একটা অবয়ব সরে যেতে দেখে রিম্পি। এটা দেখার পরপরই শিউরে উঠে সে । আমতা আমতা করে বলে উঠে, " আ.. আ.. মার কেন জানি খুউ..বব ভয় করছে রে। "
আহ্ তুই আবারো শুরু করলি !! এবার ধমক দেয় নিমতি । ছেলেরা তো এজন্যই বলে, " মেয়েরা একেকটা ভীতুর ডিম । "
নিমতি ছটা মোমবাতি জ্বালিয়ে ফেলে তখনি । প্রত্যেকে দু'টো করে হাতে নিয়ে এগোতে থাকে পোড়ো বাড়িটার দিকে। সামনে নিমতি, মাঝে রিম্পি এবং শেষে নীহারিকা। এসময় নাকী স্বরে কে যেন বলে উঠে, " হেঁ হেঁ নিঁমঁতিঁ তোঁরঁ এঁতোঁ সাঁহঁসঁ রেঁ ।
দাঁড়িয়ে পড়ে দলটা! রিম্পি কাঁপতে কাঁপতে মোমবাতি দুটো মাটিতে ফেলেই দেয়।
হাসতে হাসতে তাদের সামনে দাঁড়ায় নিশান। What a surprise! দিলাম দেখলি। আমি এ মজাটা করার জন্যই তখন তোদের সাথে আসি নি। হা হা হা। আকাশ কাঁপানো হাসিটা যেন রিম্পিকে আরো ভয় পাইয়ে দেয়।
"আহ্ নিশান! তোর ফাজলামো গুলো ভাল লাগে না। দিলি তো এডভেঞ্চার এর মজাটাতে জল ঢেলে। নে চল এখন! জানি না আর কত কী বাকি আছে দেখার! রেগে বলে উঠে নীহারিকা।
রিম্পি আমতা আমতা করে বলে, " আ.. আ ..আ..মিইই.. বাড়ি..ইই যা..বো ..ওওও"
যা! একা আসছিস একাই যা!! ওখানে সাইকেল রাখা আছে চলে যা। যখন পুলিশ আমাদের কাজে খুশি হয়ে ধন্য ধন্য করবে তখন মুখটা আমশি করে রাখিস। বলেই ফোঁশ করে উঠে নিমতি।
"তুই পারিস ও নিশান!" নীহারিকা হাসতে হাসতে নিশানের ভুতুরে কথার প্রশংসা করে চলে।
সামনের বিশাল পোড়া বাড়িটার দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে চলে চারজনের দলটা । চাঁদটা হঠাৎ মেঘের আড়াল হওয়াতে অন্ধকারে ঢেকে যায় পোড়ো বাড়িটা। গা ছমছমে পরিবেশে সাহসী দলটাও কিছু সময়ের জন্য হলেও থমকে যায় বাড়িটার এ রুপ দেখে। যার নাম " ভয়ংকর ভুতুড়ে বাড়ি!
................সমাপ্ত.................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now