বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এক নিশীথে-(দুঃস্বপ্ন)

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X সুভাষ সর্ব্ববিদ্যা সেবার পুলিশে আমার কলার ধরেছিল। জ্ঞান খরচ করে হাত কামড়ে দিই। পালিয়ে বাঁচি। কাল আবারও এলো বাসায়,নিশীথে। ঠকঠক ঠকঠক ঠকঠক। দরজার কড়া নাড়ার শব্দ। স্তম্ভিত হই আমি। ভিতর থেকে বলি-কে? -চাচা,আঁই আপনাগো দারোয়ান দিল মোহাম্মদ। ঘুমাইছেন নাকি? -ঘুমাচ্ছি না চাচা। পি কে দেখছি। -কি দ্যাহেন কইলেন? -হিন্দি মুভি। পিকে। -পিকে,ফিকে যা-ই দ্যাহেন অহন বন্ধ রাহেন। দরজাখান খুলেন। -কেন? কি হয়েছে? -পুলিশ আইছে। আপনেরে খোঁজে। -পুলিশ এলো শুনে ভয়ে কেঁচো হলাম দ্বিগুণ। তবে দূর্বল হয়নি। বুকে সাহস এনে বলি- পুলিশ?এতো রাতে? আমার খোঁজে? কেন? আমি কি চোর ডাকাত? -চুর না ডাকাইত হেইডা আপনে ভালা জানেন। আঁই ক্যান্নে কইতাম। -ওদের বলো কাল সকালে আসতে। আমি ঘুমাবো। -হ,হেগুন আঁর নানার বাড়ির লোক নি। কইলে হুইনবো। তা ও আঁই কমু,কাইল বিয়ান্ন্যা আইসতে। -জ্বি। কাল সকালে। দারোয়ান ফিরে গেল। কঠিন সময়ের দ্বারপ্রান্তে আমি। শৈশবে নানা বলতেন,"বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা,পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ ঘা।"সে-ই যদি হয় এই বুঝি আর রক্ষা নাই। নিজেকে স্থির রাখার চেষ্টা করি। মাকে স্মরণে আনি। মা বলতেন,"বিপদে বুদ্ধি হারাতে নাই।" ভাবনায় এলো,জীবনে অন্যায়ের কাছেতো কখনও মাথা নত করিনি। আর পুলিশ? সেতো মামুলি ব্যাপার। ওদের কাছে মাথা নত করবো কেন? প্রয়োজনে পাঁচ তলা হতে লাফিয়ে পড়বো। জীবনাবসান ঘটাবো। আচমকা হু হু করে উঠলো বুকের অতল। চোখের সামনে ভেসে উঠলো স্নিগ্ধার মায়াবী মুখ খানি। স্নিগ্ধা আমার বউ। আমার ভালোবাসা। আমার আদর। এই স্নিগ্ধা আমার নৈকট্য পেতে ওর মা-বাবাকে শত্রু জেনেছিলো । কোন এক অমানিশা রাতে ঘর ছেড়ে পালিয়ে ঠাঁই নিয়েছিলো আমার বুকে। শুধু আমাকে পাবার আশায়। আমি মারা পড়লে সে খুব খুব কষ্ট পাবে। পাগল হয়ে যাবে। আমার জন্য সে কেন কষ্ট পাবে? সে কেন পাগল হবে? সে কেন পতিহীণা হবে? না না না। এটি কখনোই হতে দেবনা। নিজেই ধরা দেব। পুলিশের হ্যান্ডকাপ পড়বো। সে-ই ভালো। ধীর পায়ে উত্তরের জানালার দিকে গেলাম। জানালা খুলে বাইরে দৃষ্টি ফেলি। এক প্লাটুন পুলিশ। এদিক-ওদিক টহল দিচ্ছিলো। ভাবতে কষ্ট হচ্ছিলো আমার। অফিসেও এমন কোন সমস্যা হয়নি যে ওরা পুলিশ পাঠাবে আমার খোঁজে। আর শ্বশুর বাড়ির ব্যাপারটা? সেটাও চুকে গেছে অনেক আগেই। তাহলে, কি এমন অপরাধ করেছি আমি? বিড়বিড় করে বললাম,ঐ হারামীর বাচ্চা। একজন পুঁচকে কেরানী ধরতে তোদের এতোসব আয়োজেন। দু'জন হাবিলদারই যথেষ্ট ছিলো। মশা মারতে কেন মিছিমিছি কামান দাগাচ্ছিস্? ওদিকে বুটজুতার চিড়বিড় আওয়াজ। ডোর-আই এ চোখ রাখলাম। সাত/আটজন পুলিশ। দু'জন পুলিশের অবিরাম দরজা ভাঙার চেষ্ট। দরজা ভাঙা দেখলে জমিদার গালমন্দ করবে। ভাড়ার ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিবে। সময় ক্ষেপণ করা মানে বোকামির দন্ড গোনা। দরজা খুুলে দিলাম। মুহুর্তে ঝাপটে ধরলো ওদের একজন। ওদিকে স্নিগ্ধার ঘুম ভেঙে যায়। ছুটে এসে হাওমাউ শুরু করে দেয়। মেয়েমানুষদের এ একটাই বদভ্যাস। একটুতেই ইমোশনাল হয়ে পড়ে। ওর দিকে তাকাতে পারছিলাম না। ও খুব ভেঙে পড়েছে। কাঁদে কাঁদো কন্ঠে ও পুলিশদের বলছে- ও পুলিশ ভাই,অপরাধ উনি করেননি। জোড় খাটিয়ে আমিই বিয়ে করেছি উনাকে। উনি নির্দোষ। অপরাধ করিছি আমি। আমাকে নিয়ে চলুন। শোর চিৎকার শুনে পাশের ফ্ল্যাট হতে বেরিয়ে এলেন জাফর সাহেব। জাফর সাহেব সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা। পার্টিতেও বেশ নাম ডাক আছে। সরকারের উপরের লেভেলেও সম্পর্ক ভালো। কিছু পাবলিককে ঋণ-ফিন দিয়ে ইদানিং বেশ ফেঁসে ফুঁসে উঠেছেন। আমাদের মতো গরিবদের কুদৃষ্টে দেখেন। পুলিশকে উদ্দেশ করে জাফর সাহেব দ্বরাজ কন্ঠে বললেন-এই পুলিশ,এই শালা খতরনাক আদমি। শালারে নিইয়া যাও। ক্রসফায়ারে দাও। ওপরের দিকটা আমি সামলাবো। বোঝার অবশিষ্ঠ রইলো না । এই জাফর সাহেব নেপথ্যের ভিলেন। সেবার পুলিশে ধরিয়ে দিতে এই বেটার হাত ছিল। বাঁচাও,কে আছো বাঁচাও। আমি চিৎকার দিই। স্নিগ্ধা আমাকে জড়িয়ে ধরে। বলে-স্বপ্ন দেখেছো? -হ বোন। স্বপ্ন নয় দুঃস্বপ্ন। -আমি তোমার বোন? তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? -হুঁ! কি আর বলবো? চৈত্রের রাতে দুঃস্বপ্ন দেখল বৌকেও বোন মনে হয়। আমি ঘামছি। শরীর নিঃসাড় হয়ে যাচ্ছে। কখন বিদ্যুৎ গিয়েছিলো ঘুমের টের পাইনি। স্নিগ্ধাকে বলি-স্নিগ্ধা একটু জল খাবো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now