বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কাফেলার লোকগুলো জেগে উঠলেও অস্ত্র
হাতে নেয়ার সুযোগ পেলো না। নেমে পড়া
ডাকাতরা অস্ত্র তাক করে চিৎকার দিয়ে
বললো, ‘তোমাদের জিনিসপত্র ও
মেয়েদেরকে আমাদের হাতে তুলে দাও।
আর তোমাদের জীবন রক্ষা কর।’
ডাকাতরা মেয়েদেরকে একদিকে সরিয়ে
দিতে দিতে বললো, ‘তোমরা সরে দাঁড়াও,
নইলে মারা পড়বে।’
লোকগুলো ছিল নিরস্ত্র এবং সদ্য ঘুম জাগা।
ফলে প্রতিরোধের কোন অবকাশ ছিল না
তাদের। তবুও দু’জন লড়াই করার জন্য
তলোয়ার বের করে রুখে দাঁড়াল। লড়াই
দেখে বুঝা গেল, তারা খুবই দক্ষ যোদ্ধা।
প্রাণপণে লড়ে চলল তারা ডাকাতদের
সাথে।
আলী বিন সুফিয়ানের সঙ্গীরা টিলার ওপর
থেকে বাজপাখীর মত ঝাঁপিয়ে পড়লো
তাদের ওপর। ডাকাতরা কিছু বুঝে উঠার
আগেই একেকটি বর্শা একেকজন ডাকাতের
শরীরে বিদ্ধ হয়ে গেল। অবশ্য এর আগেই
কাফেলার দুঃসাহসী সেই দুই লড়াকু
ডাকাতদের হাতে খুন হয়ে গেল।
এতে আলী বিন সুফিয়ানের কোন আফসোস
ছিল না। তিনিও চাচ্ছিলেন, তাদের
দু’একজন লোক মারা যাক। তাতে
অন্যান্যদের মনে আতংক সৃষ্টি হবে। এ ছিল
বিজলী চমকের মত যুদ্ধ, যে মুহূর্তে শুরু সে
মুহূর্তেই শেষ। আতংকগ্রস্থ মেয়ে এবং
লোকগুলো বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে রইল
আলীর বাহিনীর দিকে। কারো মুখে কোন
কথা নেই।
আলী তার লোকদের ইশারা করলো সরে
যেতে। কমান্ডোরা টিলার পাশে সরে গেল
মুহূর্তে। আলী ভীতচকিত লোকগুলোর পাশে
গিয়ে বসলেন।
মেয়েরা ভয়ে কাঁপছিল। তাদের সামনে
নিজেদের দু’টি ও ডাকাতদের নয়টি লাশ
পড়েছিল। আলী বিন সুফিয়ান তাদের সঙ্গে
কথা শুরু করলেন।
তারা কৃতজ্ঞচিত্তে তাকে বার বার
ধন্যবাদ জানাতে লাগল। চোখ মুখ থেকেও
ঠিকরে পড়তে লাগল কৃতজ্ঞতার আবেগ। বার
বার বলতে লাগল, ‘আল্লাহ আপনার মঙ্গল
করবেন। আপনি আমাদেরকে মৃত্যুর হাত
থেকে বাঁচিয়েছেন।’
তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন,
‘তোমরা কোথেকে এসেছো, কোথায়
যাচ্ছো?’
তারা যে উত্তর দিল তা শুনে আলী বিন
সুফিয়ান হেসে উঠলেন। বললেন, ‘যদি
তোমরাও আমাকে এমন প্রশ্ন করতে তবে
আমিও এরকম মিথ্যা উত্তরই দিতাম। আমি
সত্যি তোমাদের প্রশংসা করছি, এত
আতংকের মধ্যেও তোমরা তোমাদের
গোপনীয়তা বজায় রেখেছো।’
‘আপনারা কোথেকে এসেছেন?’ তাদের
একজন জিজ্ঞেস করলো, ‘আর কোথায়
যাচ্ছেন?’
‘যেখান থেকে তোমরা এসেছো।’ আলী বিন
সুফিয়ান উত্তর দিল, ‘আর সেখানেই যাচ্ছি,
যেখানে তোমরা যাচ্ছো। আমাদের কাজ
ভিন্ন কিন্তু লক্ষ্যস্থল একই।’
লোকগুলো এবং মেয়েরা একে অন্যের দিকে
প্রশ্নমাখা দৃষ্টিতে তাকাতে লাগলো।
আবার অবাক হয়ে আলী বিন সুফিয়ানকে
দেখতে লাগলো। তিনি হাসছিলেন আর
বলছিলেন, ‘তোমরা কি দেখোনি আমি
কেমন প্রফেশনাল? কি অবলীলায়
ডাকাতদের শেষ করে দিলাম? কোন
মুসাফির বা বণিক কি এমন কুশলী যোদ্ধা
হতে পারে? যে উস্তাদী আমি দেখিয়েছি
তা কি আনাড়ি লোকের পক্ষে সম্ভব?’
‘না, তা সম্ভব নয়। আপনারা কি মুসলিম
বাহিনীর লোক?’
‘আমি খৃস্টান সেনাকমান্ডার।’ আলী বিন
সুফিয়ানের উত্তর।
‘তাহলে নিশ্চয়ই আপনার কাছে ক্রুশ আছে?’
‘তোমরা কি তোমাদের ক্রুশ দেখাতে
পারবে আমাকে?’ পাল্টা প্রশ্ন করলেন
আলী বিন সুফিয়ান। তারপর সবার দিকে
তাকিয়ে বললেন, ‘আমি জানি তোমরা তা
পারবে না। তোমাদের কাছে কোন ক্রুশ
নেই, কেননা তোমরা যে কাজে যাচ্ছো
তাতে সাথে ক্রুশ রাখা সম্ভব নয়। আমি
তোমাদের নাম জানতে চাচ্ছি না।
আমারও আর কোন পরিচয় তোমাদের কাছে
দেবো না। শুধু এতটুকু বলবো, আমরা একই
মঞ্জিলের মুসাফির। আর আমাদের মধ্যে
কে কে বাড়ী ফিরে যেতে পারবে তাও
বলতে পারি না।’
‘আমরা অবশ্যই সফল হবো। খোদওয়ান্দ
ইসামসীহ যেভাবে আমাদের রক্ষা করার
জন্য আপনাদের পাঠিয়েছেন তাতে প্রমাণ
হয়, আমরা সঠিক পথে আছি এবং আমরা
অবশ্যই সফল হবো।’
‘হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছো। নূরুদ্দিন জঙ্গীর
মৃত্যু দুনিয়াতে ক্রুশের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ
উন্মুক্ত করে দিয়েছে। মুসলমানদের এমন
কোন শাসক আছে, যে আমাদের ফাঁদে
পড়েনি এবং পড়বে না? আমি তোমাদের এই
উপদেশই দেবো, তোমরা আপন দায়িত্ব
নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সাথে পালন করবে।’
তিনি মেয়েদের দিকে লক্ষ্য করে বললেন,
‘তোমাদের কাজ সবচে কঠিন ও ঝুকিপূর্ণ।
খোদাওয়ান্দ ইসামসীহ তোমাদের
কোরবানীকে কখনও ভুলে যাবেন না। আমরা
পুরুষ জাতি, আমরা মানুষের জীবন নেই এবং
জীবন দেই। তোমাদের জীবন দিতে হয় না,
কিন্তু যৌবন ও সম্ভ্রম কোরবানী দিতে হয়।
এটাই বড় কোরবানী। কারণ, এর সাথে
জড়িয়ে থাকে দুঃসহ গ্লানি, যা আমাদের
কখনো স্পর্শ করে না।’
আলী বিন সুফিয়ানের কথার যাদু স্পর্শ
করলো ওদের। তার বলার ভঙ্গিতে এমন
আন্তরিকতা ও যাদু ছিল যে, তাদের মনের
সব সন্দেহ ও অবিশ্বাস দূর হয়ে গেল। তারা
স্বীকার করলো, তারা খৃস্টান।
নাশকতামূলক কাজের জন্য তারা দামেস্ক ও
অন্যান্য মুসলিম রাজ্যে যাচ্ছে।
তারাও বনিকের বেশেই যাচ্ছিল। আলী
বিন সুফিয়ান খৃস্টান গোয়েন্দা বিভাগের
অনেক গোপন বিষয় ও আইন কানুন জানতেন।
জীবনে তিনি অসংখ্য খৃস্টান অপরাধীকে
ধরে তাদের অপরাধ স্বীকার করিয়েছেন।
তিনি যখন সে সব আচরণ করলেন, তখন মেয়ে
এবং তাদের সঙ্গী খৃস্টান গোয়েন্দারা
তাঁকে শুধু বিশ্বাসই করেনি বরং তাকে
খৃস্টান গোয়েন্দা বিভাগের কমান্ডার মনে
করলো।
তিনি তাদেরকে বললেন, ‘আমার সঙ্গে
একশো লোক রয়েছে। এরা সবাই লড়াকু
গোয়েন্দা। এদের মধ্যে মুসলিম ফেদাইন
সন্ত্রাসীও আছে। আমরা যাচ্ছি দামেস্ক ও
অন্যান্য শহরে বড় বড় অফিসারদের
গুপ্তহত্যা করতে। বিশেষ করে
সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর সমর্থক নেতাদের।’
‘আমাদের কাছে তাদের কিছু তালিকা
আছে। দরকার মনে করলে আপনি তা নিতে
পারেন।’
‘না, তার কোন দরকার নেই আমার। এতদিন
আমি মিশরে ছিলাম। সেখান থেকে
বিশাল এক তালিকা সংগ্রহ করেই আমরা
রওণা দিয়েছি।’
এভাবে গল্প করতে করতে আলী বিন
সুফিয়ান তাদের সব গোপন তথ্য জেনে
নিলেন। তারা জানালো, ডাকাতদের
হাতে তাদের কমান্ডার নিহত হয়েছে। এই
এলাকায় তারা এই প্রথম এসেছে।
কমান্ডারের মৃত্যুতে তাদের অবস্থা এখন
দিশেহারা অন্ধের মত। তাদের একজন
নেতা ও পথপ্রদর্শক প্রয়োজন।
আলী বিন সুফিয়ান তাদের সান্তনা
দিলেন। বললেন, ‘দলের নেতৃত্ব দেয়ার মত
অনেকেই আছে আমার সাথে। যদি প্রয়োজন
মনে করো তবে তাদের মধ্য থেকে কাউকে
দিয়ে দেবো তোমাদের সঙ্গে। অবশ্য আগে
জানা দরকার তোমাদের মিশন কতটা
গুরুত্বপুর্ণ এবং মিশনটা কি? তাহলে সেই
অনুযায়ী একজন যোগ্য লোক তোমাদের
দেয়া যেতে পারে। কারণ, সবাইকে দিয়ে
সব কাজ হয় না। বিশেষ কাজের জন্য দরকার
বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন লোক। আরে
ঘাবড়াও কেন? বেশী গুরুত্বপূর্ণ হলে দলের
দায়িত্ব অন্য কারো হাতে দিয়ে আমি
নিজেই না হয় তোমাদের দায়িত্ব নেবো।
আসল কথা হলো ক্রুশের সেবা। যেভাবে
বেশী করা যায় সেটাই আমাদের করা
উচিত।’
তারা তাদের মিশনের নাম বললো, ‘বন্ধু’ ।
কয়েকজন সেনাপতি ও আমীরের নাম
উল্লেখ করে বললো, এসব সেনাপতিদের যে
কোন উপায়ে আমাদের বন্ধু বানাতে হবে। এ
জন্য এসব উপহার সামগ্রী ও মেয়েদের দেয়া
হয়েছে। প্রয়োজন মত এদের ব্যবহার করে
এসব আমীর ও সেনাপতি, যারা এখনো
খৃস্টানদের শত্রু আছে তাদের বন্ধু
বানানোই এ মিশনের কাজ।’
‘তোমাদের ও আমাদের উদ্দেশ্য এক, কিন্তু
কাজ ভিন্ন। আমাদের তালিকায়ও এসব
আমির ও সেনাপতিদের নাম আছে।
আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এদের খুন করা। এ
ক্ষেত্রে কাজ হাসিল করাই বড় কথা,
কিভাবে তা হাসিল হলো তা বড় নয়।
তোমরা যদি ওদেরকে আমাদের পক্ষে
আনতে পারো সে হবে অতি উত্তম।
আমাদের অনেক কাজ তখন তারাই করে
দেবে। আর যদি তা না পারো তাহলে
তাদের ভাগ্যে লেখা থাকবে মরণ। সে
ব্যবস্থা আমিই করবো। তার মানে আমাদের
উভয়ের কাজ এখন অভিন্ন। তা, তোমরা
দামেস্কে কোথায় উঠবে?’
তাদের একজন উত্তর দিল, ‘দামেস্কে গিয়েই
এসব মেয়েরা পোষাকে আশাকে মুসলমান
হয়ে যাবে। প্রথমে আমরা আবাসিক
হোটেলে গিয়ে উঠবো। সেখান থেকে
বণিকের বেশে যোগাযোগ করবো আমীর ও
সালারদের সাথে।’
o
একটু পর সূর্য উঠল। আলী বিন সুফিয়ানের
কাফেলা নাশতা সেরা দামেস্কের দিকে
যাত্রা করলো। খৃস্টান যুবতী ও লোকগুলোও
শামিল হয়ে গেল তাদের কাফেলায়। সঙ্গে
নিল ডাকাতদের বাড়তি ঘোড়াহুলোও।
খৃস্টানরা আলী বিন সুফিয়ানকে নেতা
মেনে এগিয়ে চললো তাদের সাথে। তিনি
ওদের বললেন, ‘কাফেলার অন্য যাত্রীদের
সাথে এ নিয়ে কোন কথা বলো না। কারণ এ
কাফেলায় মুসলিম গুপ্তঘাতক ফেদাইনরাও
রয়েছে। তারা আমাদের হয়ে কাজ করছে
ঠিকই, কিন্তু সব কথা তাদের বলতে নেই,
কোন মুসলমানকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে
নেই।’
আলীর কথা তাদের খুব মনপূত হলো।
অধিকাংশ সময়ই তারা আলীর কাছাকাছি
থাকতে চেষ্টা করলো। আলী বিন সুফিয়ানও
এ সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগালেন। তিনি
তাদেরকে প্রশ্ন করে করে অনেক তথ্য
সংগ্রহ করে নিলেন।
পরের দিন। দামেস্কে পৌছে গেল
কাফেলা। আলী বিন সুফিয়ানের নির্দেশ
মত হোটেলে যাওয়ার পরিবর্তে কাফেলা
এক ময়দানে ক্যাম্প করলো। বাইরে থেকে
কোন বণিকের কাফেলা এলে লোকেরা
সস্তায় মালামাল কেনার আশায় সহজেই
ভীড় জমায় সেখানে। ওদের ওখানেও
রীতিমত লোকের ভীড় জমে গেল।
আলী বিন সুফিয়ান দশটি ঘোড়া বিক্রির
ঘোষণা দিলেন। সেই ক্রেতার ভীরে
দামেস্কের অনেক ব্যবসায়ী ও দোকানদারও
ছিল। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সেখানে মেলা
বসে গেল। আলী বিন সুফিয়ান তার
লোকদের বলে দিল, তারা যেন মাল ধরে
রাখে। তাড়াতাড়ি বিক্রি না করে ফেলে।
কয়েকজন কমান্ডোকে ডেকে নিয়ে
খৃস্টানদের ষড়যন্ত্রের কথা বললো তাদের।
বললো, ‘তোমরা সব সময় ওদের উপর নজর
রাখবে। ওরা যেন ভিড়ের মাঝে একেবারে
মিশে না যায় এবং তাদের উদ্দেশ্যের কথা
কাউকে বলে না দেয় সেদিকে খেয়াল
রাখবে।’
এসব কমান্ডোরা ছিল খুবই দক্ষ। তারা
পোশাক পাল্টে ভীড়ের মাঝে মিশে গেল
এবং খৃস্টানদের দিকে কড়া নজর রাখতে
লাগলো।
আলী বিন সুফিয়ান ও তার সঙ্গীরা
মাগরিবের নামাজের সময় কায়দা করে
বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে আলাদা আলাদা
ভাবে নামাজ আদায় করে এলো। খৃস্টান
যুবতী ও লোকগুলো এবং তাদের ওপর যারা
নজর রাখছিল তারা রয়ে গেলো তাবুতেই।
মসজিদে মুসল্লীদের সাথে কথা প্রসঙ্গে
তারা জনগণের চিন্তাধারা জেনে নিলো।
জনগণের মনের আবেগ ছিল বড় আশাব্যঞ্জক।
তাদের মধ্যে কিছু লোক নতুন খলিফা ও
ওমরাদের কঠোর সমালোচনা করলো।
তাদের আলোচনা থেকে বুঝা গেল, মুসলিম
বিশ্ব এখন খৃস্টানদের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন
এবং খেলাফত বিলাসপ্রিয় আমীরদের
হাতে চলে গেছে, এ সত্যও তারা বুঝতে
পেরেছে। তাঁরা যে খুবই মানসিক অশান্তি
ও দুশ্চিন্তায় আছে তাও প্রকাশ পাচ্ছিল
তাদের কথায়। অনেকে এমনও বললো,
‘নূরুদ্দিন জঙ্গীর মৃত্যুর পর এখন সালাহউদ্দিন
আইয়ুবীই আছেন, যিনি এ সয়লাবের
মোকাবেলা করতে পারেন, পারেন
ইসলামের মর্যাদা ও গৌরব টিকিয়ে
রাখতে।’
আলী তার বাহিনীর সবাইকে বলে
দিয়েছিলেন, ‘এই মেয়ে ও খৃস্টানদের কাছে
নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করবে না।
তোমরা যে মুসলমান, তাও ওদের জানানো
চলবে না। তাদেরকে বলবে, আমরা সকলেই
খৃস্টান, এক বিশেষ মিশনে এখানে এসেছি।
তাদের মনে যেন কোন সন্দেহ না জাগে সে
দিকে খেয়াল রাখবে।’
মসজিদ থেকে ফিরে আলী বিন সুফিয়ান
সবাইকে বললেন, ‘আজ রাতে সবাই আরাম
করো। এরপর কি করতে হবে আগামীকাল
বলে দেবো।’
সবাইকে এ কথা বলে আলী চুপিসারে
বেরিয়ে এলেন তাবু থেকে। সবার অলক্ষ্যে
গিয়ে পৌছলেন সেনাপতি তাওফিক
জাওয়াদের বাড়ি। তার পরণে বণিকের
বেশ, মুখে কৃত্রিম দাড়ি গোঁফ।
দারোয়ানকে বললেন, ‘ভেতরে সংবাদ দাও,
কায়রো থেকে আপনার এক বন্ধু এসেছেন।’
দারোয়ান ভেতরে সংবাদ দিতেই আলী
বিন সুফিয়ানকে মেহমানখানায় ডেকে
নেয়া হলো। কিন্তু তাওফিক জাওয়াদ
তাকে চিনতে পারলেন না। আগন্তুকের
দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে
রইলেন তিনি। আলী বিন সুফিয়ান বললেন,
‘চিনতে না পারারই কথা। এমন বুড়োকে কে
আর মনে রাখে!’
গলার স্বর শুনেই তাওফিক জাওয়াদ চিনে
ফেললেন তাকে। দ্রুত এগিয়ে এসে বুকে
জড়িয়ে ধরে পরিহাসতরল কন্ঠে বললেন, ‘এ
যে দেখছি অর্ধেক বুড়ো! চুল দাড়ি পাকলেও
গলার স্বর মোটেও পাকেনি।’ এ কথায়
দু’জনেই হেসে উঠলেন।
এ লোকটির ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল আলী বিন
সুফিয়ানের। তিনি তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য
বর্ণনা করলেন। বললেন, ‘আগে আমার জানা
দরকার এখানকার আভ্যন্তরীণ অবস্থা।
কায়রোতে এরই মধ্যে অনেক দুঃসংবাদ
গিয়ে পৌছেছে।’
তাওফিক জাওয়াদ সমস্ত সংবাদের সত্যতা
স্বীকার করে বললেন, ‘আলী ভাই, তুমি একে
গৃহযুদ্ধ বলবে। কিন্তু খৃস্টান ভীতি রোধ
করতে হলে আইয়ুবীকে বর্তমান খেলাফতের
বিরুদ্ধে অবশ্যই সামরিক অভিযান চালাতে
হবে।’
‘যদি আমরা কায়রো থেকে সেনাবাহিনী
নিয়ে এখানে পৌছি, এখানকার
সেনাবাহিনী আমাদের বাঁধা দেবে না?’
আলী বিন সুফিয়ান প্রশ্ন করেন।
‘তোমরা আক্রমণের গতিতে আসবে না।’
তাওফিক জাওয়াদ বললেন, ‘সুলতান আইয়ুবী
আসবেন খলিফার সাথে সাক্ষাৎ করতে।
খলিফার সম্মানে কিছু সৈন্য সঙ্গে আনবেন
তিনি। যদি খলিফার নিয়ত ভালো হয়, তবে
তাকে স্বাগত জানাবেন। খলিফার সামনে
আইয়ুবী উপস্থিত থাকলে অন্য কোন আমীরই
মাথা তুলতে সাহস পাবে না। যদি খলিফা
আইয়ুবীকে বাঁধা দান করতে চান, তবে আমি
নিশ্চিত, তিনি বিরুপ প্রতিক্রিয়ার
সম্মুখীন হবেন। এ অবস্থায় এখানকার কোন
সৈন্য আইয়ুবীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে রাজি
হবে না, এ আমি হলফ করে বলতে পারি।’
‘এতটা জোর দিয়ে বলা কি ঠিক হচ্ছে?’
‘অবশ্যই। আমি তো বলতে চাই, এখানকার
সৈনিকরা তোমাদের সহযোগীতাও করবে।
কিন্তু এটা এখনকার পরিস্থিতি। দিন যত
যাবে ততই পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। মনে
রেখ, তোমরা যত দেরী করবে এখানকার
সৈন্যরা ততই তোমাদের থেকে দূরে সরে
যাবে। কারণ, সৈনিকদের মাঝে যে
ইসলামী প্রেরণা ও জোশ আছে তা শেষ
করার চেষ্টা চলছে। তুমি তো জানো আলী
ভাই, শাসকশ্রেণী যদি আরাম আয়েশ ও
বিলাসিতায় মগ্ন হয়ে যায়, তখন তারা
প্রথমে শত্রুর সাথে আপোষরফা করে, যাতে
স্থায়ী যুদ্ধ ও সংঘাতের আশংকা দূর হয়।
তারপর তারা সৈন্য বিভাগকে দুর্বল করতে
থাকে। তখন তারা এমন সেনাপতি খোজে,
আল্লাহর বিধানের চাইতে যাদের কাছে
সুলতানের ইচ্ছা অধিক গুরুত্ব পায়। আর
স্বার্থের গোলাম পাওয়া এ পৃথিবীতে
কোন কঠিন কাজ নয়।
.................চলবে.................
(বি:দ্র: কেমন লাগলো জানাবেন প্লিজ)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now