বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভালবাসা দিবসে প্রেমিক প্রেমিকা তাদের মনের মানুষকে জানায় ভালবাসা। উপহার দেন নানা কিছু। কিন্তু যাদের জিবনে নেমে এসেছে ব্যর্থতা তারা কি করবেন ? হ্যা তারাও স্মৃতিচারণ করবেন, লিখবেন ব্যর্থতার কথা। এমনি ব্যর্থ জিবনের কয়েকটি কথা রোমন্থন করেছেন মজনুর রহমান আকাশ।
একদিন আমায় ছিলে এখন অন্যের!
নীহারিকা,
এখন গভীর রাত সকলে নিদ্রামগ্ন। প্রকৃতি যেন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। হয়তো ঘুমের ঘোরে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছো। আর আমি জেগে আছি। চোখে ঘুম নেই। বসে বসে ভাবছি কেমন ছিলাম আর কেমন আছি। এ প্রশ্নের জবাবে শুধু দু’চোখের দু’ফোটা অশ্রু দিয়েই শেষ হয়। যাক সেসব কথা। কেমন আছো ? আমি জানি আমি কেমন আছি তা জানার কোন ইচ্ছে তোমার নেই। তবুও বলবো আমি এখন খতিয়ানহীন মানচিত্র। ক্লান্ত এক পথিক।
মনে পড়ে তোমায় ? একদিন আমার উড়ন্ত মন তোমার কোমল হৃদয়কে আকুল করে তুলেছিল। আমায় জড়িয়ে ধরে বলেছিলে ভাল বাসি। কিন্তু তোমার ভালবাসা যে ছিল জলন্ত সিগারেটের ধোয়া যা আমার হৃদয়ে দাগ লাগিয়ে দিয়েছে। জানো নীহারিকা, আমি তোমার কাছে সেই প্রেম চেয়েছিলাম যে প্রেম চলার গতিকে মন্থর করেনা, হৃদয় কেটে ছবি আঁকে, নিজে পুড়ে অঙ্গার হয় কাইকে পোড়াতে চাইনা। হাজার হাজার মাইল দুর থেকে সকল কাজের অনুপ্রেরণা যোগায়। কিন্তু তুমি তা দাউনি। ভাল বেসে আমি তোমায় দিয়েছিলাম গাদা ফুল, আর তুমি দিয়েছিলে গোলাপ। এখন বুঝছি কেন এ গোলাপ দান। আসলে সুগন্ধ না থাকলেও গাঁদা ফুল পূজায় লাগে কিন্তু গোলাপ লাগেনা। কারণ গোলাপে কীট থাকে। তোমার মতো গোলাপের গন্ধ নিতে গিয়ে হৃদয়ে কীট প্রবেশ করিয়েছি যা আমার হৃদয়ের রক্ত চুষে চুষে খাচ্ছে।
নীহারিকা, তুমিতো সংসারী হতে চেয়েছিলে, হয়েছ। কিন্তু আমার নয়, অন্যের। বঙ্কিম চন্দ্র তার ইন্দিরা উপন্যাসে লিখেছেন, সংসার সেতো নন্দন বন, যেখানে পুরুষরা পারিজাত ফুলের বান মারিয়া নারী জনমকে সার্থক করে। পা দিলেই পুরুষরা হয় ভেড়া আর নারীরা হয় আপসরা। নিত্য কোকিল ডাকে। এখন বসন্ত কোকিল ডাকছে তুমিও সংসার করছো আর আমি বৈরাজ্ঞী। আমি তোমায় অভিশাপ করবো না কিন্তু আমার দীর্ঘশ্বাস থেকে যদি কোন অভিশাপ বেরিয়ে আসে তা থেকে তুমি মুক্তি পাবেনা।
যাযাবর তার দৃষ্টিপাত উপন্যাসে লিখেছেন, ছেলেদের প্রেম মেয়েদের কাছে আটপৌর শাড়ির মতো যাতে না আছে উচ্ছল উচ্ছলতা আর মেয়েদের প্রেম ছেলেদের কাছে গরীবের ঘরে বেনারশী শাড়ি। যে পায় সে অনেক মুল্য দিয়েই পায়। তোমার কিনে নেয়ার মতো টাকা না থাকায় আমি পারলামনা তোমার ভালবাসা কিনতে। একটা কথা মনে হল, প্রাচীন রাজার শাসনামলে রাজা হার্মাশিসকে ভাল বেসে উপেক্ষিত হয়েছিল চার্মিয়ন নামের এক নারী। আত্মহত্যার মতো অভিশপ্ত পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চার্মিয়ন লিখেছিলেন, হার্মাশিস তোমাকে ভাল বেসে শুধু উপেক্ষাই কুড়ালাম, কিন্তু বুঝতে চাইলেনা তোমার উপেক্ষার ছুরি আমাকে কতটুকু বিদ্ধ করছে। আমারও অবস্থা একই।
আজ যাযাবরের সেই কথাটি আমার জিবনে সত্য হয়ে আত্ম প্রকাশ ঘটিয়েছে, ‘ প্রেম জিবনকে দেয় ঐশ্বর্ষ্য মৃত্যুকে দেয় মহিমা , আর প্রবঞ্চিতকে দেয় দাহ। যে আগুন আলো দেয়না অথচ দহন করে। সে আগুনে দগ্ধ হচ্ছি আম আমরা যুব সমাজ।
রাত শেষ হতে চললো। কিন্তু কেন এ কালির আঁচড় কাটা ? তুমিতো আমার নও, অন্যের। কলম লিখতে চাইনা, কাগজ ছিড়ে যায় কিন্তু মনতো মানো। পুরানো বাক্সের ভিতর থেকে ন্যাপথলিনের গন্ধের মতো ভেষে আসছে আমার পুরানো অতীত। কালো মেঘ যেমন বৃষ্টি ঝেড়ে কিছুটা হালকা হয় তেমনি মনের গহীনে জমে থাকা কথাগুলো লিখে কিছুটা হালকা হবার প্রচেষ্ঠা মাত্র। মনে পড়ে যাচ্ছে জগন্ময়ের সেই সূর তুমি আজ কত দুরে…. তুমি আজ কত দুরে…………।
ইতি -
ধুমকেতু
১৪/০২/১৬
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now