বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সেদিন যখন তোমায় প্রথম দেখেছিলাম, দিনটা ছিল বৃষ্টিতে ভেজা ... মুশলধারার বৃষ্টির মাঝে সেই শান্ত দুটো চোখ ...
তুমি কম কথা বললেও, তোমার চোখ কিন্তু অনেক কথা বলতো!.. জানি, সেই কথা শুধু আমি ছাড়া আর কেউ কখনোও শুনতে পেত না !
বুঝতেও পারত না ....
সেই সন্ধ্যেবেলা , গঙ্গার ধারে, যখন তুমি হাজার চেষ্টা করেও, হাজার সাজিয়েও বলতে পারছিলে না যে তোমার মনে আমার একটা নতুন
ঠিকানা হয়েছে ! তখনও আমি তোমার চোখ দেখে বুঝেছিলাম , তোমার মনের সব জমা কথা, জমাট ভালোবাসা....
বেশ কাটছিল আমাদের দিনগুলো... যেন একটা স্বপ্নের মতন ... কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছিলাম , স্বপ্নগুলো হয় কাঁচের মতন ... একটা ধাক্কাই
যথেষ্ট , টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার জন্য ... ৯ই এপ্রিল , সন্ধ্যেবেলা যখন আমার ফোনটা বাজলো, তার আগের মুহুর্তেও বুঝিনি আমাদের
রূপকথাটা বাস্তবের সাথে ধাক্কা খেয়েছে ... একটা এক্সিডেন্ট সব কিছু বদলে দিল !
আজ , তোমার চোখ দুটো স্থির , নিথর... সেই এক্সিডেন্ট এর পর তোমার চারিদিকে শুধুই অন্ধকার ... ডাক্তাররা তোমার প্রাণটা বাঁচাতে পারলেও
চোখ দুটোকে বাঁচাতে পারেনি ... গাড়ির টুকরো টুকরো কাঁচ তোমার চোখে বিঁধে দেখার সব শক্তিকে শেষ করে দিয়েছে....
সমাজ এক মুহুর্তে তোমাকে নতুন একটা নাম দিয়ে দিয়েছে , 'প্রতিবন্ধী'.... মা, বাবা, আত্মীয় সজন যারা দু দিন আগেও আমাদের বিয়ের
কেনাকাটা নিয়ে প্রচন্ড ব্যস্ত ছিল , যারা কথায় কথায় বলতো যে তোমার মতন ছেলে না কি হাজার খুঁজেও পাওয়া যায় না , তাদের প্রত্যেকের
মুখে আজ একটাই কথা , এই বিয়ে না কি কোনভাবেই সম্ভব না ... একটা অন্ধ ছেলের হাতে নিজের মেয়েকে তুলে দিতে এরা কখনই পারবে না ...
এমনকি তুমিও আজ সবার কথার সাথে একমত ... এক্সিডেন্ট এর পর শুধু দুটো শব্দই বলেছিলে সেইদিন , ''চলে যাও..''.......
তখন কাউকে বলতে পারিনি, বোঝাতে পারিনি যে চলে যাওয়াটা অত সহজ না ! আর চলে যাবো বলে তো তোমার জীবনে আসিনি .. তাই সেইদিন
প্রথম মা বাবার কথা, তোমার কথা না শুনে নিঃস্তব্ধে তোমার হাতটা ধরেছিলাম , শক্ত করে ... আমার কাছে সেদিন শুধু একটা উত্তরই ছিল,
চোখ ছাড়া সবার কাছে তুমি যেমন প্রতিবন্ধী , তোমাকে ছাড়া আমার জীবনও একটা প্রতিবন্ধীর ... চোখ যেমন তোমার শরীরের একটা অঙ্গ ,
তুমি সেইরকম আমার মনের একটা অঙ্গ... এই অঙ্গ টা কে শেষ করে দিলে আমি বাঁচতে পারবো না ....
আজ আমাদের বিয়ের ১৫ বছরের এনিভার্সারি ... তাই হঠাত এই জমা কথাগুলো ডায়রিতে সাজিয়ে রাখতে ইচ্ছে করলো ... এখন জীবনটা আবার একটা সুন্দর রুপকথা ... আজ যখন তুমি এত বড় একজন লেখক , ব্রেলিতে লেখা তোমার বইগুলো যখন অনেক অন্ধকার জীবনে আলো ছড়িয়ে দেয়,
তখন আমার মনে হয় আত্মীয় সজন , মা বাবা সবাইকে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলি, প্রতিবন্ধকতা শরীরের না, মনের হয় ... আর সেটার থেকে পালিয়ে গিয়ে না, সঙ্গে নিয়ে বাঁচার নামই জীবন .....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now