বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মৌমিতার আজ প্রায় ছ-বছর হলো বিয়ে হয়েছে ,শুভাশীষ ব্যাংকে চাকরি করে । সম্বন্ধ করে ওদের বিয়ে হয়েছে ,শুভাশীষ মৌমিতার কাকার দূরসম্পর্কের আত্মীয় ।মৌমিতার শ্বশুর - শাশুড়ি একটু সেকেলে ,বৌমার চাকরি - বাকরি করা নিয়ে তাদের আপত্তি ।
মৌমিতা একটা প্রাইভেট স্কুলে পড়াতো ,বিয়ের পর শুভাশীষ এর পরিবারের চাপে সেই চাকরিটা ছাড়তে বাধ্য হয় ।
একা একা কাটে মৌ এর দিনগুলো ,শুধু দিনে একবার বাবা - মায়ের সাথে কথা বলে ফোনে।নর্থবেঙ্গল বাপের বাড়ি বলে খুব বেশি যাওয়া হয় না ওর ,এত দূরের রাস্তা ,শুভর ছুটি কম বলে মাঝে- সাঝে বাবা - মা আসে মৌ এর শ্বশুরবাড়ি কলকাতায় ।
সারাটাদিন মৌমিতা ভীষণ নিঃসঙ্গ বোধ করে ।শুভাশীষ বাড়ি ফেরে অনেক দেরিতে ,ক্লান্ত হয়ে ।শ্বশুর - শাশুড়ি নিজেদের জগতেই থাকতে ভালোবাসেন ।বাড়ি থেকে খুব একটা বেরোয় না মৌ ।ওই রবিবার গুলোতে শুভ যদি একটু ঘুরতে নিয়ে যায় তাহলেই ওর একটু বাইরের জগৎ এর সাথে যোগাযোগ হয় ।
ছ - বছর ধরে অনেক ডাক্তার দেখিয়েও মৌ আজও মা ডাক শুনতে পায়নি ।শুভর মা পাড়ার প্রায় সকলের কাছে দুঃখ করে বেড়ান, আর বোধহয় ওনার নাতির মুখ দেখে যাওয়া হলো না।
অনেক ভাবনা -চিন্তা করে ,কিছুটা জোরকরেই শুভকে রাজি করিয়ে মৌ সকলের মতের বিরুদ্ধেই একটি অনাথ আশ্রম থেকে একটি মেয়ে দত্তক নিলো ।মাত্র এক বছর বয়েসের ছোট্ট পরী ,মৌ ওর নাম দেয় আকাঙ্খা ।
মায়ের আদরে ,বাড়ির আর সকলের অনিচ্ছাকৃত যত্নে আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠছে আকাঙ্খা। ওর মা ডাকে জগৎ ভোলে মৌ ।
সারাদিন ওকে নিয়েই কাটে মৌ এর ।শুভ অফিস থেকে ফিরে ওকে নিয়ে মৌ বাড়াবাড়ি করছে দেখলেই বিরক্ত হয় , মৌ বুঝতে পারে ,নিজের ঔরসজাত নয় বলেই শুভর কোনো টান নেই আকাঙ্খার প্রতি ।
দেখতে দেখতে আকাঙ্খা পাঁচে পা দিলো ।পাঁচ বছরের আকাঙ্খার গোটা পৃথিবী জুড়ে শুধুই মৌ।
কয়েকদিন ধরেই মৌ এর শরীরটা ভালো নেই ,সকাল হলেই মাথাটা ঘুরছে ওর ।শ্বাশুড়ি হঠাৎ হেসে শুভকে বললো এবার বোধহয় ভগবান মুখতুলে চেয়েছেন , মনে হচ্ছে মৌ মা হতে চলেছে ,আর নাকি ওনাদের বংশে বাতি দেবার মানুষ আসতে চলেছে ।
টেস্টের রিপোর্ট পজেটিভ এলো ।
বাড়িতে খুশির হওয়া বইছে ।
অসুস্থ শরীর নিয়েও মৌ আকাঙ্খার জুতোর ফিতে বেঁধে দিতে ভোলেনা স্কুলের যাওয়ার সময় ।খুব বাধ্য মেয়ে ও ,মায়ের সব কথা শোনে আর বাবাকে ভীষণ ভালোবাসে সাথে ভয়ও পায় ।
বাড়ির সকলে এখন দিন গুনছে কবে আসবে নতুন অতিথি ।
আকাঙ্খার অযত্ন আরো বেড়েছে। ভারী শরীর নিয়ে মৌ বেশি চলাফেরা করতে পারেনা ।ছোট্ট মেয়েটা একা একা চুপচাপ খেয়ে নিচ্ছে ,মায়ের গান না শুনেই ঘুমিয়ে যাচ্ছে মেয়েটা । কাজের মাসিও আকাঙ্খাকে অযত্নই করে চলেছে ।
অবশেষে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মৌ এর কোল আলো করে এলো এক পুত্রসন্তান ।
শ্বশুর - শ্বাশুড়ি সবাই খুব খুশি ,সব থেকে খুশি বোধহয় আকাঙ্খা ,ছোট্ট একটা হাত-পা নাড়া পুতুল পেয়ে ।
মৌও এখন ব্যাস্ত ছোট্ট আঙ্গিককে পরিচর্যা করতে ।শুভ ওর নাম রেখেছে আঙ্গিক ।বাড়ির সবাই ভীষণ ব্যাস্ত বংশধরকে নিয়ে ।
বিকালে মৌ রোজ চুল আঁচড়ে ,টিপি পরিয়ে সাজিয়ে দিত আকাঙ্খাকে ,আজ অনেক দিন পর ও দেখলো মেয়েটা খুব রুগ্ন হয়ে গেছে ,একটু বেশিই চুপচাপ ।ঠিক করে খাওয়া- দাওয়া করছে কিনা জানতে চাইলে অবাক চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলো ,তুমি তো আমার নিজের মা নয় তাহলে ভাই এসে গেছে বলে কি আমাকে তাড়িয়ে দেবে ?
কেউ যেন একটা চাবুক মৌয়ের পিঠে সজোরে মারলো ,হতভম্ব মৌ খেয়াল করলো অনাদরে মেয়েটার চোখের তলায় কালি পড়তে শুরু করেছে ।
শুভ বা ওর বাবা - মা যদি আকাঙ্খাকে ওদের বংশরক্ষকের ফাই-ফরমাস খাটার লোক ভাবতে থাকে তাহলে মৌ আর এই বাড়িতেই থাকবে না ।মৌ ঠিক করলো আজই সকলের সাথে কথা বলবে ।
আকাঙ্খা সেই মেয়ে যে মৌ কে প্রথম মা ডাকের আনন্দ অনুভব করিয়েছে ,গর্ভে ধারণ না করেও যার কাছ থেকে ও পেয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা ,যার দুস্টুমি ওর একাকিত্বের যন্ত্রনার অবসান ঘটিয়েছে ।
আজ রাতে আকাঙ্খা আর আঙ্গিককে নিয়ে পরিপূর্ণ মৌ নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে ।ওর দুই সন্তান, এটাই সত্যি আর সকলকে এটাই মানতে হবে । নিজেও বুঝতে পারেনা মৌ এত আত্মবিশ্বাস ,এত মনের জোর ও কোথা থেকে পাচ্ছে !
আকাঙ্খার জন্য যোগ্য পরিচয়ের লড়াই -ই ওকে সাহসী করে তুলেছে । ওকে সব বাঁধা ভাঙতেই হবে ওর মেয়ের জন্য ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now