বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আশ্রয় ২য় ও শেষ পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X এমন ঝড় আসার কোন সম্ভাবনাই ছিল না আজ। শুধু আজ কেন আগামী সাত দিনের আবহাওয়াও ঝড়ের লক্ষণের কোন পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া অফিস। অথচ আজই শুরু হয়ে গেছে মহাপ্রলয়। এমন প্রলয়ঙ্করী ঝড় আমি জীবনে দেখিনি। মড়মড় করে কাছেই কোথাও একটা গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ হলো। ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। গাড়ি চালাতে একটু ভয় ভয় লাগছে। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্পীড একেবারে কমিয়ে দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত গাড়ি থামাতেই হলো। গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। একটু আগে যে গাছটা ভাঙার শব্দ শুনলাম সেটাই হয়তো পড়ে আছে। অসহায়ের মতো গাড়িতে বসে ভাবছি কি করা যায়। বৃষ্টি কিছুটা কমেছে এখন। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই বিশাল এক গেট দেখতে পেলাম। স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে গাড়ি থেকে নেমে গেটের দিকে ছুটলাম। এতো বড় গেট যেহেতু, বাড়িটাও নিচয়ই অনেক বড় হবে। আর এতো বড় বাড়িতে কেউ না কেউ তো অবশ্যই থাকবে। গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই বাঁধানো রাস্তা দেখতে পেলাম। দৌড়াতে দৌড়াতে রাস্তার শেষ মাথায় আসতেই বাড়িটা দেখতে পেলাম। আমার ধারণাই সত্যি। বাড়িটা আসলেই অনেক বড়। প্রায় রাজপ্রাসাদ বলা চলে। দরজায় কড়া নাড়ছি অনেকক্ষণ থেকে। কিন্তু কেউ দরজা খুলছে না। বৃষ্টির শব্দে হয়তো ভেতর থেকে শোনা যাচ্ছেনা। বৃষ্টিতে ভিজে একেকজন আমরা টইটুম্বুর হয়ে আছি। দরজা খোলার কোন লক্ষণই নেই। ভেতরে যাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছি। বারান্দাতেই রাত কাটানোর কথা ভাবছি। এমন সময় আমাদের অবাক করে দিয়ে দরজাটা খুলে গেলো। মাঝবয়সী এক ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে আছেন সামনে। আমাদের দুরবস্থার কথা শুনে তিনি সানন্দে আমাদের ভেতরে আসার অনুমতি দিলেন। মেয়েটার ঠাণ্ডা লেগে গেছে। জ্বরও আসবে মনে হচ্ছে। রাতের খাওয়া শেষে তাই তাড়াতাড়িই শুয়ে পড়তে হলো। ভদ্রমহিলা খেতে খেতে জানালেন একাই থাকেন তিনি এ বাড়িতে। বেশ অবাক হলাম তাঁর কথা শুনে। এতো বড় বাড়ি অথচ বাসিন্দা মাত্র একজন! সে যাই হোক, এ নিয়ে আর মাথা ঘামালাম না। আসলে মাথা ঘামানোর মতো অবস্থা তখন ছিল না আমাদের। বিছানায় শোয়া মাত্রই ঘুমে দুচোখ ভেঙে এলো। সাথে সাথেই ঘুমের অতল গহ্বরে নিজেকে হারিয়ে ফেললাম। তবে ভালো ঘুম হলো না। কিছু সময় পরপরই ভয়ংকর সব দুঃস্বপ্ন দেখতে লাগলাম। এক সময় দেখলাম এ বাড়ির কর্তী খাটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। অদ্ভুত তাঁর মুখের গড়ন। রক্তবর্ণ চোখ মেলে তাকিয়ে আছে। হটাত আমার মেয়েটার উপর ঝুঁকে পড়লেন। গলার পাশটায় কামড় বসিয়ে দিয়েছেন। অথচ আমি শুয়ে শুয়ে তাই দেখছি। বাঁধা দিতে পারছিনা তাকে। কে যেন আমার সমস্ত শক্তি শরীর থেকে শুষে বের করে নিয়েছে। মৃত মানুষের মতো পড়ে আছি আমি খাটের উপর। সকাল বেলা ঘুম ভাঙতেই পাশে তাকিয়ে চমকে উঠলাম। মেয়ে আর স্ত্রীর ছিন্নভিন্ন লাশ পড়ে আছে সেখানে। নড়াচড়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি আমি মেয়েটার লাশ দেখে, যেন জমে পাথর হয়ে গেছি। গলার পাশের ক্ষতটার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। রাতের স্বপ্নটা তাহলে স্বপ্ন ছিল না? না এখনো আমি স্বপ্নই দেখছি?” . ধ্যাত। শেষের পৃষ্ঠাগুলো কে যেন ছিঁড়ে ফেলেছে। গল্পের শেষটা তাই জানা গেলো না। মনের ভেতরে উথাল পাথাল ঢেউ উঠছে আমার। শেষটা জানার জন্য মন আঁকুপাঁকু করছে। এটা কি ছিলো? ডায়রী? না কোন লেখকের গল্প? কে ছিলেন এই ইমতিয়াজ মাহমুদ? কি হলো আমার কিছুই বুঝতে পারছিনা। তীব্র আগ্রহ অনুভব করছি আমি এর শেষটা জানার জন্য। আবার পাতা উল্টানো শুরু করলাম ডাইরিটার। হুট করে একটা পাতা খুলে নিচে পড়ে গেলো। তুলে নিয়ে দেখলাম এটা ডাইরীর কোন পৃষ্ঠা নয়। এটা একটা ম্যাপ। কি আশ্চর্য! ম্যাপটা এখানে আসলো কোথা থেকে? ডাইরীটা পড়ার সময় তো ম্যাপটা চোখে পড়েনি? ম্যাপের উপর আবছা একটা দাগ দেখতে পেলাম। ম্যাগ্নিফ্লাইং গ্লাসটা ম্যাপের উপরে ধরতেই দাগটা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠলো। কিছুটা খুশি হলাম। এটা হয়তো ওই বাড়িটার রাস্তাই হবে। এইসব অতিপ্রাকৃত ব্যাপারে আমার আগে থেকেই তীব্র আকর্ষণ ছিলো। বিয়ে করার আগে অনেক হানাবাড়িতে রাত কাটিয়েছি আমি। কিন্তু কখনই কিছু চোখে পড়েনি আমার। ভুত-প্রেত, দৈত্য-দানো সহ অতিপ্রাকৃত অনেক গল্পই শুনেছি আমি অনেক মানুষের মুখে। গল্প শোনার জন্য ছুটে গিয়েছি বিভিন্ন অজপারাগায়ে। কিন্তু সব জায়গায়ই আমাকে নিরাশ হতে হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী বা ভুক্তভোগী কাউকেই পাইনি আমি। সবাই গল্পগুলো শুনেছে হয় দাদাদাদি অথবা নানানানির কাছ থেকে। কি ননসেন্স একেকজন! নিজে কখনো দেখেনি অথচ বিশ্বাস করে বসে আছে। যেহেতু সুযোগ একটা পাওয়া গেছে, এটা হাতছাড়া করতে কোনভাবেই আমি রাজি না। এক ছুটির দিনে নিলু আর দীপাকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ওই বাড়ির উদ্দেশ্যে। একাই যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বউ আর মেয়েকে কিছুতেই মানানো গেলো না। অগত্যা ওদেরকেও সাথে নিয়ে যেতে হচ্ছে। ম্যাপ দেখে দেখে চলছি। বাড়িটা এখান থেকে ভালোই দূরে। যেতে যেতে বিকেল হয়ে যাবে। অফিস থেকে ছুটি নেওয়া আছে। তাই কোন সমস্যাই নেই। দুপুরের খাওয়াদাওয়াটা একটা হোটেলে সেরে নিলাম। রাতের জন্য খাবার সাথে নিয়ে নিলাম এখান থেকেই। বলা তো যায়না অখ্যাত ওই জায়গায় হোটেল আছে কিনা? বিকেলের দিকে হালকা বাতাস শুরু হলো। সময় যত গড়াচ্ছে বাতাসের বেগ ততো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আমলে নিলাম না তেমন। ব্যাপারটা সম্পূর্ণই কাকতালীয় ভেবে উড়িয়ে দিলাম। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। প্রায় ঝড়ই শুরু হয়ে গেছে। কাছেই একটা অশ্বত্থ গাছ ভেঙে পড়লো। রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে গাছটা। এমন সময় বিশাল একটা গেট চোখে পড়লো আমার। ডায়রীর কথা মনে পড়ে গেলো আমার। দীপা অবশ্য ডায়রীটা পড়েছে কিনা আমি জানি না। তীব্র সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি আমি বাড়ির ভেতরে ঢোকা না ঢোকা নিয়ে। দীপা অবশ্য বাড়ির ভেতরে ঢোকার কথাই বলছে। ও সম্ভবত ডায়রীটা পড়েনি। কি করবো আমি এই মুহূর্তে? ডায়রীর ঘটনা বলবো ওকে? না এই মহাপ্রলয় থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেবো ওই বাড়িতে? না গাড়ির ভেতরে হাত-পা গুটিয়ে বসে থেকে অসহায়ভাবে মারা যাবো এই আশ্বিনা ঝড়ে? ........সমাপ্ত.........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now