বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রাইনা-(02)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X বিয়ের ৩ বছর পর, প্রতিদিনের মতই আজও সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরেছে জয়!! দরজায় এসে বেল টিপতেই দৌড়ে এসে দরজা খুলে দিলো রাইনা, দরজার খুলে ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে সে, রাইনা আজও জয়ের প্রিয় কালো রংএর শাড়ি পরেছে, জয় নির্বাক চোখে তাকিয়ে আছে রাইনার দিকে!! কাজল কালো চোখে জয়কে ইশারা করলো রাইনা!! কেমন লাগছে তাকে?? জয় রাইনাকে অবাক করে দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে তাঁর চুলে তাঁর প্রিয় বেলি ফুলের মালা পরিয়ে দিলো, রাইনা আজও প্রতিদিনের মতই অবাক হলো, তিন বছরে একটা দিনও এই ছেলেটা একদিনের জন্যে হলেও তাঁর প্রিয় বেলি ফুলের মালা আনতে ভুল করেনি । রাইনার চোখে পানি চলে এলো, জয় তাঁর চোখে পানি সহ্য করতে পারে না, তাই জয় দেখে ফেলার আগেই সে চোখের পানি মুছে বলল, হয়ে হয়েছে এখন ছাড়ো যাও ফ্রেশ হয়ে এসো আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি!! বলে রাইনা জয়ের হাত থেকে অফিস ব্যাগটা নিয়ে রুমে চলে গেলো, জয়ও পিছু পিছু গেলো... রাইনা টেবিলে খাবার নিয়ে বসে আছে, জয় ফ্রেশ হয়ে এসে খেতে বসলো, রাইনা প্রথমে জয়ের প্লেটে খাবার তুলে দিলো... জয় খেতে খেতেঃ - মাছের তরকারিতে লবন কম হইছে কেন?? : ওহ, আজ পাঁশের বাসার আদনান ভাই আমি রান্না করার সময় বারান্দায় এসছিলোতো জানো আজ ওনাকে এতো হ্যান্ডসাম লাগছিলো না?? ওনার দিক থেকে একদম চোখ সরাতে পারছিলাম না, তাই...... - ও তাই নাহ?? গুড... ভালো, বলে জয় খাবার রেখেই হাত ধুয়ে বেডরুমে চলে গেলো । পিছনে পিছনে হাঁসতে হাঁসতে বেডরুমে ঢুকলো রাইনা... : বাহ!! এতো রাগ?? ভালো, বউ এর উপর রাগ করা ভালো, ঝগড়া করা আরও ভালো, ভালোবাসা বাড়ে ঝগড়া করবা?? - আমার সাথে কথা বলবা না তুমি, যাও... : আরেহ!! ফাইজলামি করো?? কথা না বলার জন্য আমারে নিয়া ভাগাইয়া বিয়া করছিলা?? জয় কাঁদবে নাকি হাসবে বুঝতে পারছে না, এই মেয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন বাহানায় জয়কে রাগিয়ে দেয় । জয় জানে রাইনা তার সাথে ফাজলামো করে, সে তাকে রাগিয়ে মজা পায় কিন্তু রাইনা এটা জানে না, তার মুখে অন্য কোন ছেলের নাম শুনলে জয়ের রাগ হয় না, বরং যা হয় তা হলো কষ্ট । আর রাইনার স্বভাব হলো সব কিছুতে পালিয়ে বিয়ে করা নিয়ে কথা তোলা, খোঁটা দেয়া । রাইনা বুঝেও না যে সে এইকথাটা তুলে নিজের অজান্তেই আরও বেশী কষ্ট দিয়ে ফেলে তাকে। কিন্তু তবুও জয় কিচ্ছু মনে করে না, কারন জিবনের সব কষ্ট মিলিয়ে যত কষ্ট হবে তার থেকেও বেশী ভালোবাসে সে তার বউ রাইনাকে । জয় মাঝে মাঝে ৩ বছর আগে তাঁদের বিয়ের দিনের কথা ভাবে, সেই দিনের কথা ভাবতেও ভালোলাগে তার। আজও জয় ভাবতে ভাবতে আবার আবার চলে গেলো ৩বছর আগের সেই দিনে !! - আরও একবার ভেবে দেখো তুমি, তুমি সত্যি পারবে তো?? : দেখো জয়, তুমি পারলে আমি কেনো পারব না?? - দেখো রাইনা, বাস্তব জীবনটা এতো সহজ না, যেমন করে তুমি কল্পনা করতে পারো । : তুমি আর আমি মিলে ভালোবাসায় সব কিছু সহজ করে নিবো, কল্পনাকে বাস্তব করে নিবো । - আর একটু ভেবেদেখো রাইনা, অন্য কোন উপায় বের করা যায় না?? : আর কোন উপায় নেই জয়, আমি অনেক ভেবে দেখেছি অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু বাবা কোন কিছুতেই তার পছন্দের ছেলে ছাড়া অন্য কার সাথে আমার বিয়ে দিতে রাজি হবে না । - কিন্তু রাইনা এভাবে পালিয়ে বিয়ে করে তোমাকে কেমন করে সুখে রাখবো?? ছোট্ট একটা চাকরিতে কত টাকাই বা পাবো?? তাতে তোমার প্রয়োজন গুলোও তো মেটাতে পারবো না । : সুখ তো শুধু টাকা দিয়ে হয় না জয়, ভালোবাসার সুখ অনেক বড় । আর সংসারের প্রয়োজন গুলো মেটাতে আমিও চাকরী করবো, দুজন মিলে আমাদের সব প্রয়োজন গুলো মিটিয়ে নিবো । রাইনার কথা গুলো শুনে জয়ের মনটা খুশীতে ভরে গেলো, রাইনা চাইলে জয়ের থেকে হাজার কোটি গুনে ভালো ছেলেকেও পেতে পারতো । এমন কি তার এলাকার অনেক ছেলেরাই তার জন্য পাগল ছিলো, কিন্তু সে জয় ছাড়া কারো কথা ভাবতো ও না কখনো। সে শুধু জয়কেই পছন্দ করতো ভালোবাসতো । তার পরের দিন রেল ষ্টেশনে জয় আর রাইনাকে বিদায় জানাতে আসলো রাইনার বন্ধু আদিব । তারপর তারা বিয়ে করে চলে গেলো রাইনার প্রিয় নীলগিরিতে, রাইনার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো নীলগিরিতে বেড়াতে যাওয়া!! পালিয়ে খুব বেশিদিন থাকতে হলোনা তাঁদের, অল্প কিছুদিনের মাঝেই দুজনের বাড়ি থেকেই তাঁদের বিয়েটা মেনে নিলো সবাই। অতীতের অনিশ্চিত সুন্দর মুহূর্তের দিন গুলো থেকে আজকের বাস্তব ভালোবাসায় ঘেরা ভুবনে ফিরে এলো জয়, সামনেই প্লেটে খাবার হাঁতে দাঁড়িয়ে আছে রাইনা, জয়কে মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছে সে । জয় রাইনার মুখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে, আজ রাইনাকে পেয়ে তার জিবন ভালোবাসায় পরিপূর্ণ তার মাঝে ভালোবাসাকে আরও বেশী পূর্ণতা দিতে অল্পকিছুদিনের মাঝেই তাঁদের ঘর আলোকিত করে আসবে নতুন অতিথি, তাঁদের ভালোবাসার আরও একটা অংশ... রাইনা, আজ দুমাসের প্রেগন্যান্ট...... রাইনা আর জয়ের স্বপ্ন, ইচ্ছে তাঁদের কোল জুড়ে আসুক তাঁদের ছোট্ট রাজ্যের একটি রাজকুমারি, তাঁদের দুজনেরই ইচ্ছে তাঁদের প্রথম বেবিটা হোক তাঁদের মেয়ে। যাকে দুজন মিলে আদর ভালোবাসায় রাজকুমারীর মতই যত্নে রাখবে তারা!! এখন শুধু অপেক্ষা . . . ( নতুন অতিথির!!)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now