বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"একটি ডাইরির গল্প" ২য় পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X ঐদিন রাতে আমার প্রচন্ড জ্বর আসে। তিনদিন বিছানায় পড়ে ছিলাম। স্কুলেও যেতে পারিনি। এই তিন দিনে ঋতুকেও একবার দেখিনি। চতুর্থ দিন শরীর একটু ভালবোধ করলাম। সেদিনই স্কুলে গেলাম। ঐদিন ছিল বৃহস্পতিবার। তাই হাফ স্কুল। ছুটির সময় দেখলাম ঋতু আর তন্নি গেইটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে আসতে দেখে তন্নি চলে গেল। গেইটের কাছে গেলে ঋতু জিজ্ঞেস করল, -' কেমন আছিস?' -' এই তো ভালই।' -'তোর উত্তর নিবি না?' এই কথা শুনেতো আমি স্তব্ধীভূত হয়ে গেলাম। আমার অবস্থা দেখে ও কানের কাছে মুখ এনে বলল,' আমিও তোকে ভালবাসিরে আলু।' তারপর একটা ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে চলে গেল। ঋতু আমাকে আলু বলে ক্ষেপায়। তবে আজকের মতো এতো ভাল "আলু" শব্দটি শোনার পর কোন দিন লাগেনি। ……… দেখতে দেখতে আমাদের পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। এর কিছুদিন পর ঋতু স্কুল থেকে টি,সি নিয়ে বরিশাল চলে যায়। তারপর থেকে আমাদের মোবাইলে যোগাযোগ হতো। তখন আমার মোবাইল ছিল কিন্তু ঋতুর ছিল না। ঋতু আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য নিজের পার্সোনাল মোবাইল নেয়। ভালই যাচ্ছিল আমাদের দিন গুলো। ……… আমদের সম্পর্কের তখন বয়স প্রায় চার মাসের মতো। একদিন রাতে আমি ঋতুকে ম্যাসেজ করি যে, আমি এখনো শারমিনকে ভালবাসি। শারমিনকে আমি আগে ভালবাসতাম। ঋতু শারমিনের ব্যাপারটা জানত। সে কথা ঋতুর সাথে সম্পর্কের প্রায় বছর খানেক আগে। শারমিনও আমাকে পচ্ছন্দ করত। কিন্তু ও খুব জেদি মেয়ে ছিল। একদিন শারমিন আর আমার বিকেলে দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন ইন্টার স্কুল ফাইনাল খেলা ছিল। আমাদের স্কুল ফাইনালে গেছিল। আমি আমদের স্কুল টিমের ক্যাপ্টেন ছিলাম। খেলা হয়েছিল উপজেলা স্কুল মাঠে, আমাদের গ্রাম থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে। সেদিন খেলা শেষ হতে হতে সন্ধা হয়ে যায়। তাই সেদিন শারমিনের সাথে দেখা করতে পারিনি। শারমিন ভীষন অভিমান করে। ও আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। শারমিন আর ঋতু একই ক্লাসে পড়ত। ঋতু আমাদের ব্যাপারটা জানত। তাই ও শারমিনকে অনেক বোঝায়। কিন্তু কাজ হয় না। তারপর থেকে শারমিনের সাথে আমার যোগাযোগ বন্ধ। হঠাৎ করে সেদিন শারমিনের সাথে আমার দেখা হয়ে যায়। কিন্তু ও মুখ ঘুরিয়ে চলে গেল। শারমিনকে দেখার পর আমার বুকের মধ্যে চিনচিন করে ব্যথা অনুভব করছিলাম। তখন ঋতুর সাথে প্রায় চার মাস ধরে দেখা হয় না। তখন হঠাৎ করে কেন যেন মনে হলো আমি শারমিনকে এখনো ভালবাসি। কি মনে করে সেদিন রাতে ঋতুকে ম্যাসেজ করে কথাগুলো জানিয়ে দিলাম। ……… তারপর দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম মোবাইলে ৩৭টা মিসকল। সব গুলোই ঋতুর নম্বর থেকে। রাতে মোবাইল সাইলেন্ট করা ছিল।তখন আমার কালকে রাতের কথা মনে পড়ে গেল। আমার তখন মাথা গরম হয়ে গেছে। নিজের ভুলের জন্য নিজেকেই অপরাধী মনে হচ্ছে। অমনি আমি ঋতুকে কল দিলাম। রিং হওয়ার সাথে সাথেই ও রিসিব করল। -' হ্যালো ঋতু?' ওপাশ থেকে কোন সাড়া পেলাম না। শুধু বুঝতে পারলাম ও কাঁদছে। -'ঋতু প্লিজ কথা বল।' -' তুমি আমাকে আসলে ভালবাস না। না???' এভাবেই ও কথাগুলো বলল। আমার বুকের মধ্যে হঠাৎ মোচোড় দিয়ে উঠল। কথা বলার সময় ওর গলা জড়িয়ে যাচ্ছিল। বুঝলাম ও সারা রাত ঘুমায়নি। আমি চুপ করে আছি দেখে ও আবার ঢুকরে ঢুকরে কেঁদে উঠল। সেদিন অনেক বেগ পেতে হয়েছিল ঋতুর কান্না থামাতে। সেদিন বুঝতে পারলাম মেয়েটা আমাকে আসলেই অনেক ভালবাসে। ……… এই ঘটনার তিন দিন পর আমি বরিশাল গেলাম ঋতুর সাথে দেখা করতে। তন্নির কাছ থেকে ওদের ঠিকানা নিয়েছিলাম। ঋতুদের বাসার নিচে গিয়ে ওকে ফোন দিলাম। -' ঋতু তুমি কই? ' -'আমিতো চাচ্চুর বাসায়। ' -'কখন আসবে?' -'কালকে। ' -'ও আচ্ছা রাখছি।' একরাশ হতাশা নিয়ে হাটা শুরু করলাম। তখন হঠাৎ করে কে যেন আমার নাম ধরে ডাকদিল। আমি পেছনে ফিরে দেখলাম ঋতু। আমিতো পুরার টাস্কি খেলাম। সারপ্রাইজ দিতে এসে নিজেই সারপ্রাইজড হয়ে গেলাম। ঋতু আমার অবস্থা দেখে হাসতে শুরু করল। আমি বোকা বোকা মুখ করে হাতে ধরে রাখা ফুল গুলো ওর দিকে এগিয়ে দিলাম। সেদিন সারাদিন ওর সাথে কাটালাম। পরে ওর কাছ থেকে জানতে পারলাম তন্নি ওকে ফোন করে বলেছিল আমার আসার কথা। তাই ওই আমাকে সারপ্রাইজ দিল। ……… এরপরের দিন গুলো ভালই চলছিল। দেখতে দেখতে আমার এস,এস,সি পরীক্ষা চলে এলো। ফলাফলও ভালই হলো। ঢাকা কলেজে চান্স পেলাম। চলে এলাম ঢাকায়। ঢাকা এসে প্রথমে এক মামার বাসায় উঠলাম। ঋতুর সাথে দূরত্বটা আরেকটু বেড়ে গেল। দিনে দুই ঘন্টার মতো ফোনে কথা হতো। ততদিনে দুজনেই ফেইসবুকের জগতে চলে এসেছি। সারারাত ধরে চ্যাট হতো। এভাবেই চলছিল দিন গুলো। .............চলবে............


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "একটি ডাইরির গল্প" ১ম পর্ব
→ "একটি ডাইরির গল্প" ৩য় ও শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now