বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মইনু, সোনাম আর তাতা এখনো জানে না ওদের সেই
ঝারোয়ার জঙ্গলের অভিজ্ঞতাটা সত্যি, না মিথ্যে
না স্বপ্ন। অথচ এ কথাও সত্যি যে ওরা চারজন
ঢুকেছিল জঙ্গলে। বাদল আর কোনদিনই ফেরেনি।
বাদলের জেদেই ঝারোয়া যায় ওরা। নইলে
ঝারোয়ার নাম ওরা শোনেইনি কখনো। বাদলের
কাকা পালামৌয়ের এক জঙ্গলে কাঠ কাটবার
ঠিকাদার। এ বছর মার্চ মাসে বাদল ওঁর সাথে কাজে
লাগবে। স্কুল থেকেই চারজন বেজায় বন্ধু। মইনু আর
তাতা সবে ব্যাঙ্কে ঢুকেছে। সোনাম ওর বাবার
খবরের কাগজের অফিসে ঢুকবে এবার।
বাদল বরাবর বেজায় ছটফটে আর খেয়ালী ছিল।
স্বাস্থ্যটা ওর রীতিমত ভাল। দেখলে বাঙালী
ছেলে মনে হয় না। বাদলের উৎসাহে ওরা সাইকেলে
ভারতবর্ষ ঘুরেছে। হিমালয়ে উঠেছে কয়েকবার।
বাদলের একটা আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল। কি সে ক্ষমতা,
কয়েকটা উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবে। 'তরুণ দল'
ক্লাবের সঙ্গে সেবার ওরা গঙ্গোত্রির কাছে এক
গ্লেসিয়ারের গতিপথ দেখতে গিয়েছিল। যেখানে
বেসক্যাম্প করার কথা, বাদল বলল, " এখানে নয়।
এখানে ভীষণ দূর্ঘটনা হবে"।
দলের নেতা মোহনবাবু চটে গেলেন। তিনি একজন
পাকা পর্বতারোহী। সঙ্গে আছে তিনজন অভিজ্ঞ
শেরপা। তাঁরা বুঝছেন না, বাদল বেশী বুঝছে?
বাদল বলতে গেলে তাঁকে অমান্য করেই বন্ধুদের
নিয়ে ফিরে গেল তাঁবুতে। আর সেই রাতে চাঁদের
আলোয় যখন ধুয়ে যাচ্ছে বরফের আঙিনা,
অপ্রত্যাশিত বরফের ধস নেমে মোহনবাবুদের
বেসক্যাম্প নিশ্চিহ্ন করে দিল।
এইভাবে বাদল আগে থেকে অশুভ কিছুর আঁচ পেত।
মইনু, সোনাম আরর তাতা তো তা স্বচক্ষে দেখেছে।
ঝারোয়াতে গিয়ে কি হল?
সব যেন দু:স্বপ্ন বলে মনে হয়।
মার্চ মাসে কাজে লাগবে বাদল। খুব উত্তেজিত।
জঙ্গলে ঘুরবে, কত রকম রোমাঞ্চ অভিজ্ঞতা হবে।
বাদলই বলল " তোরাও চল। কদিন থেকে চলে আয়।"
"শিকার করা যাবে?" মইনুরা জিজ্ঞেস করল।
" যা, শিকার করা বারণ। পাখি টাখি মারতে
পারবি"। বাদল বলল, " আর এক আধটা হরিণ"।
" থাকব কোথায়?"
" কাকার বাংলোয়। কাকা বিয়ে করে নি। সারা
জীবন কাটাল জঙ্গলে জঙ্গলে। এক সময় বর্মায় হাতি
ধরত। চল না, গল্প করবে জমিয়ে"।
বাদলের কাকা থাকার জন্য জায়গা বেছেছেন বটে।
ট্রেন থেকে নামো কোমান্ডি নামে একটা জঙ্গল
ঢাকা স্টেশন। তারপর কাকার জিপে চল্লিশ মাইল
ভিতরে চলা। সুমা নামে একটা জায়গা। সুমা নদী
পাথরে পাথরে নেচে বয়ে গেছে এঁকেবেঁকে।
কাকার বাংলোর চারদিকে উঁচু কাঁটাতারের বেড়া।
এক সময় এখানে বক্সাইটের খনির কাজ শুরু হয়েছিল।
বেশ কয়েক বছর কাজও হয়। তারপর খনির কাজ কেন
যেন বন্ধ হয়ে যায়। খনির কাজের জন্য তৈরি
রাস্তাগুলো এখনো আছে। সেই পথেই কাঠবাহী ট্রাক
চলে যায় ডালটনগঞ্জ।
দেখা গেল বাদলের কাকা সর্টে জবাব দেন।
মইনুরা যখন জিজ্ঞেস করল " কাঁটাতারের বেড়া
কেন?"
" হাতি আসে"।
" বেড়া উপড়ে ফেলে না?"
" পারে, ফেলে না, প্রখর বুদ্ধি রাখে"।
মার্চ মাসেই বিকেল নাগাদ বেশ ঠান্ডা। সন্ধে
থেকে শীত শীত।
বনতিতিরের রোস্ট আর চাপাটি খাওয়া হল। কফি
খেয়ে কাকার মেজাজ একটু খুশি খুশি হল।
বললেন " তোরা তো এলি, কিন্তু সময়টা ভাল যাচ্ছে
না। ভাল জঙ্গলটাতেই কাজকর্ম বন্ধ।"
" কেন? কাজকর্ম বন্ধ কেন?" মইনুরা অবাক।
কাকা বললেন " কি যে বলি বুঝতে পারছি না"।
" বলই না" মইনুরা জোর দেয়।
কাকা বলতে লাগলেন:-
" ওই পাহাড়টার ওপারে ঝারোয়ার জঙ্গল। কখনো
হাত পড়ে নি, ভাল ভাল শালগাছ অঢেল।
সেই জঙ্গলটা জমা নেয় এক পাঞ্জাবী ভদ্রলোক।
নেয় খুব অদ্ভুত কারণে। নির্জনে থাকবে বলে। একটা
বাড়ি বানায়। বউ নিয়ে আসে। জানা যায় ওদের
একটি বাচ্চাও জন্মায়। সপ্তাহে সপ্তাহে ধীলন
হাটে আসত সওদা করতে।
হঠাৎ পর পর কয়েক সপ্তাহ তার দেখা নেই। অবশেষে
এক অবিশ্বাস্য খবর পাই। ধীলনের জিপ গাড়িটা
রাস্তায় উলটে পড়ে আছে। আর ধীলনের বডিটা পড়ে
আছে তার বাড়িতে। বউ-বাচ্চা উধাও।
আমি তো ওখানে গেলাম। দেখলাম ধীলন বারান্দায়
পড়ে আছে। তার মুখ চোখে অবিশ্বাস্য আতঙ্কের
ছাপ। ঘরের মধ্যে পড়ে আছে বিশাল গ্রেট ডেন
কুকুরটা। ধীলন বা কুকুর, দুটো মৃতদেহেই এক ফোঁটা
রক্ত নেই। ধীলন কাগজের মতো সাদা।
বউ-বাচ্চার কোন খোঁজ নেই।
খোলা বাড়িতে বডি পড়ে আছে। হায়েনা বা
শেয়াল টানাটানি করে নি।
আমার জঙ্গলকুলিরা বলল, সাহাব, এ কোনও
পিশাচদানোর কান্ড। ওদের কাছেই জানলাম ধীলন
বিয়ে করেছিল একটি মেয়েকে যার কোনও
ঠিকুজিকোষ্ঠী সে জানত না। জঙ্গলের মধ্যে একা
একটি মেয়েকে ঘুরতে দেখে সে নিয়ে আসে, বিয়ে
করে। গজাড় জঙ্গলে কি কোনো মানুষের মেয়ে
ঘোরে! একবারও ভেবে দেখল না, যে জঙ্গলে একটা
পাখি পর্যন্ত ডাকে না, কোনও জানোয়ার পর্যন্ত
নেই, সেই জঙ্গলে একা একটা মেয়ে কোথা থেকে
এল! কিছু না দেখে শুনেই সে বিয়ে করে বসল
মেয়েটিকে! অবশ্য ধীলন কিছু করতেও পারত না।
যখনি ওই জঙ্গলে বাড়ি করেছে তখনি ও মরেছে।
যখনি ও মেয়েটাকে দেখেছে তখনি ওর ওপর শাপ
লেগে গেছে।
ও তো মেয়ে নয়, মানুষের ওপর প্রতিহিংসা নেবার
জন্য কখনো মেয়ে, কখনো হরিণ সেজে ঘুরে বেড়ায়,
মানুষকে ভোলায়। তারপর মানুষের রক্ত চুষে শেষ
করে ফেলে রেখে চলে যায়।"
এতদূর বলে কাকা থামলেন।
ওভারসিয়ারের তাঁবুর কাছে একটা লোক কেটলিতে
চা বানাচ্ছে, বিড়ি বেচছে।
কাকা আবার বলতে লাগলেন :
" আমি জঙ্গলকুলীদের কথা বিশ্বাস করি না।
............চলবে...........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now