বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টাক মাথার প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ইমতিয়াজ আহমাদ (০ পয়েন্ট)

X টাক্কু মাথা টিনটিন - একপয়সাতে বউ কিন। ওরে টাক্কু দাঁড়া - তোর মাথা কেন নেড়া?? .. টাক্কু - টাক্কু - টাক্কু - টাক্কু - টাক্কু ... (হাত তালির সাথে সাথে শব্দটা বলেই চলল মেয়ে গুলো) । দুপুরবেলা মাথাটা নেড়া করে যখন বাসায় ফিরছিলাম! তখনই আক্রান্ত হলাম মহাবিপদ 'মেয়ে নামক কিছু ভাইরাসে। আমিও কম যাই না। দাঁড়িয়ে গেলাম। তারপর ..ইজ.. ---- এই যে আপুরা! কোনটা আগে?? ---- মানে কি?? ---- ঐ যে প্রথমে উপদেশ দিলেন! একপয়সাতে বউ কিনতে! ওটা আগে কিনবো?? নাকি কেনো নেড়া করেছি ওটার উত্তর দেবো?? ---- হা...হা...হা... এতো দেখি গোপালবাড়ের মত মজা করছেরে?? (একজন তার পাশের দু'জনের দিকে তাকিয়ে বলল) ---- আচ্ছা ধরে নিলাম আমি গোপালবাড়। তাই বলে কি আমার উত্তর গুলো পাবোনা?? ---- আগে আমাদের উত্তর দিন। কেনো নেড়া করেছেন?? ---- বউ কেনার জন্য। ---- তাহলে কিনে ফেলুন! মাথায় সরিষা মেখে দিবে কিন্তু! ---- এই নিন একপয়সা। ---- মানে কি?? আপনি আমাকে 'এক টাকা কেনো দিচ্ছেন?? ---- আপনাকে কিনে নিলাম বউ হিসেবে। পাশের দু'টা মেয়ে বুঝতে পারলো আমি গোপাল থেকে আজ তারাও মুক্তি পাবেনা। তাই পাশ কেটে তাদের দু'জনের মধ্যে থাকা সুন্দরিকে ফাঁসিয়ে দিয়ে চলে গেলো। মেয়েটা বেশ অপমানিত হয়ে 'সরি' বলতে যাবে, এমন সময় তার মুখে তর্জুনি চেপে ধরলাম। আর বললাম ... ---- বউদের কপাল এভাবে ঘামতে নেই। নতুন বউকে কাঁদতে হয়। ---- প্লিজ ভাইয়া আর না। ওরা অনেকদূর চলে গেছে আমায় যেতেদিন। (হাতটা ছাড়িয়ে) ---- আপনি বউ কেনার উপদেশ দেওয়ার সময় ওদের বাঁধা দেননি। এমনকি নিজেও উপদেশ দিয়েছিলেন। এখন আর ছাড়ছিনা আপনাকে। ---- প্লিজ ভাইয়া আমাকে মাফ করে দিন। (চোখে পানি) ---- তাহলে আপনার বাবার ফোন নাম্বার এবং আপনার বাসার ঠিকানা দিয়ে যান। মেয়েটা কাঁপা হাতে বেশ কয়েকবার কাগজের দিকে আর আমার মুখের দিকে তাকাচ্ছিলো। এতো মায়া ছিটকে উড়ছিল মেয়েটার চোখেমুখে! মনে হচ্ছিলো নভোনীল থেকে সদ্য মেঘ গুলো সরে যাওয়ার পর, সোনালি জ্যোৎস্না গুলো ছড়িয়ে পরছে ধীরেধীরে। আমি মেয়েটার চোখ দেখতে দেখতে তার হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি তার বাবার নাম্বার এবং ঠিকানাটা লিখা শেষ হয়ে যায়। তারপর ... ---- ভাইয়া প্লিজ! বাবার কাছে বিচার দিয়েন না। আপনি আমাদের বাসায় যায়েন। চায়ের দাওয়াত রইলো। ---- দূর পাগলি। তোমার আব্বুর কাছে আমাদের বিয়ের দাওয়াত নিয়ে যাবো। ---- দেখুন ভাইয়া মজা করবেন না। আমার খুব কান্না পাচ্ছে। কথাটা বলেই মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করলো মেয়েটি। ওর কপালে অদ্ভুত ভাজ পরে কাঁদলে। চোখের পানি গুলো শিশিরধৌত গোলাপের মতন একফোঁটা করে ঝরে পরছিলো। আমি মাথাটা উঠালাম। খুব মৃদু ছোঁয়ায় চোখ দুটো মুছে দিলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম .... ---- আচ্ছা বউ! তোমার নাম কি?? ---- ভাইয়া বৃষ্টি! ---- বৃষ্টি আসুক সমস্যা নেই। আজ তোমায় নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজবো। আর টাক্কু মাথাটা ঠাণ্ডা করবো। ---- ভাইয়া আমার নাম বৃষ্টি। আর বৃষ্টি আসছে। আমার সাথে ছাতা নেই। প্লিজ আমাকে এবার যেতে দিন! ---- আচ্ছা চলো বাসায় দিয়ে আসবো তোমাকে। ভয়ে বৃষ্টির পা আর এগুচ্ছে না। বারবার ক্ষমা চাইছে আমার কাছে। মেয়েটির প্রতি অনেক মায়া ধরে গেলো। স্বপ্নতো অনেকবার সাজিয়েছিলাম জীবনে। কত যে সুমহিয়া ফাহিয়া নাম ধরে বিয়ে করার স্বাদ, স্বপ্ন, কল্পনায়, বিভোর হতাম মাঝেমধ্যেই! কে জানতো! হঠাৎ বৃষ্টি এসে আমার সকল স্বপ্ন কল্পনা ফুরিয়ে দিয়ে যাবে! এক বৃষ্টি দ্রুত হেঁটে যায়। আর আকাশ থেকে ধীরেধীরে নেমে আসে আরেক বৃষ্টি। আমি টাক্কু মাথা নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির পথের দিকে তাকিয়ে থাকা অবস্থায় ভুলিয়েই গিয়েছিলাম, আকাশ থেকে নেমে আসা 'হঠাৎ বৃষ্টি' আমাকে বৃষ্টিভেজা করে দিবে। বৃষ্টিতে ভিজছিলাম আর আনমনে হাঁটছিলাম। অনেক অনুভূতিরা আমায় হঠাৎ বৃষ্টির মত আঁকড়ে ধরেছিলো। মানুষ অনুভূতির ছোঁয়া পেলে নিজের সাথেই কথা বলতে থাকে। আমিও হয়তোবা তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। শুরু করলাম নিজের সাথে আলাপন .... ---- বৃষ্টিতে কেনো ভিজতে হলো?? ---- বৃষ্টির জন্য। ---- বৃষ্টি! সে আবার কিভাবে এলো! কোথা থেকে এলো?? ---- নেড়া মাথার কাব্য থেকে। ---- কি বলছিস! নেড়া মাথা নিয়েও কাব্য?? ---- তা না হলে বৃষ্টি সেটা জানলো কি করে?? ---- আচ্ছা! বৃষ্টিকে নিয়ে এতো ভাবছিস কেনো?? ---- বৃষ্টির কাজল লেপটে যাওয়া কান্নার প্রেমে পরেছি। ---- প্রেম! এতো বড্ড খারাপ! নিজেকে মানিয়ে নে। যদি পারিস তবে বৃষ্টিকে বিয়ে করে ফেল। হ্যা! নিজের কোন ভাবনা এই প্রথম বাস্তবায়ন হলো। বৃষ্টির সাথে আমার বিয়ে হল। যেদিন সবাই বৃষ্টিকে দেখতে গিয়েছিল! সেদিন আমিও গিয়েছিলাম। তবে সবার শেষে খুব চুপিসারে। মাথাটাও নতুন করে নেড়া করে গিয়েছিলাম। আর হ্যাঁ! মাথাটা ঝুলন্ত রোমালে বাঁধা ছিলো। কেউই ধরতে পারেনি। কিন্তু বৃষ্টির সামনে গিয়ে রোমালটা খুলে ফেলে তারপর এক টাকার একটা লাল পয়সা বৃষ্টির হাতে দিয়ে বলেছিলাম ... ---- টাক্কু মাথা টিনটিন - একপয়সা আজ তোমার ঋণ। ---- আপনি এমন কেনো?? ---- কেমন?? ---- জানিনা। আসলেই মেয়েটা জানতোনা আমি ফকফকদককেমন। আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকী ছিলো। একবছর ভালবাসার সুতোয় বাঁধা আমাদের এই ছোট্ট জীবনে কখনো বৃষ্টির সাথে আমার ঝগড়া হয়নি। কিভাবেই বা হবে! সে একটু অভিমান করলেই মাথা নেড়া করে বাসায় ফিরতাম। আর বলতাম অভিমান করে যতদিন থাকবে টাক্কু মাথাও ততদিন থাকবে। এই টাক্কু হওয়ার ভয়ে অভিমানটাও বেশিক্ষণ করতে পারতোনা। আজও মাথা নেড়া করে বাসায় ফিরছি। নাহ! আজ বৃষ্টি অভিমান করেনি। আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকী ছিলো বলে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now