বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নির্জন বাংলো

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X নির্জন বাংলোটায় ঢুকেই শির শির করে উঠল আসিফের শরীর ।পুরনো পুরনো একটা গন্ধ সর্বত্র । চারদিকে দেখলেই বুঝা যায় বহুদিনের পড়ে থাকা বাংলোটা পরিষ্কার করার কোন ত্রুটি করেনি কর্মচারিরা ।তাও এর গায়ে পুরনো পুরনো ভাবটা থেকেই গেছে । আসিফ ।ছোট্ট একটা কাজে এসেছে এখানে ।সপ্তাহখানেক অবশ্য তাকে থাকতে হবে । কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া গেছে এলাকাটায় ।খুরাখুরির কাজ চলছে ।সেগুলোর তদারকির জন্যই তাঁর এখানে আসা । বাংলোটা একেবারে খুব একটা বড় নয় আবার ছোটও নয় ।মাঝামাঝি আকারের ।একটা হলরুম ।পুরো নিচতলা জুড়ে হলরুম ।একপাশে একটা কাঠের সিঁড়ি উঠে গেছে দু তলায় । মালপত্র নিয়ে আগে আগে চলেছে রোগা পটকা বৃদ্ধ একটা লোক ।বাংলোর কেয়ারটেকার ।উদ্ভুট একটা নাম লোকটার ।হাবিরা ।উপজাতি নাম । ক্যাচ ক্যাচ শব্দ করে উপরে উঠে গেল হাবিরা ।সম্বিত্ পেয়ে ওঁর অনুসরন করল আসিফ । দুতলা নিচতলার তুলনায় একটু ছোট ।একটা বেডরুম সাথে বাথরুম ।সাথে লাগোয়া ল্যান । মালপত্র ঘরে রেখে নিচে নেমে গেল হাবিরা । ফ্রেশ হওয়ার জন্য বাথরুমে এসে ঢুকল আসিফ ।আধুনিক ষ্টাইলের বাথরুম । সম্ভবত পরবর্তিতে তৈরী করা হয়েছে এটা । *** : আচ্ছা হাবিরা ! শুনেছি বাংলোতে নাকি ভুত আছে ? খেতে প্রশ্লটা করল আসিফ ।এখানে আসার আগে এই কথাটা তাকে অনেকবার শুনতে হয়েছে । বাবা ,মা এমনি ওর ছোট বোন তিতলীও আসার সময় এ ব্যাপারে ওকে জানিয়েছে । ভুতে অবশ্য আসিফের বিশ্বাস নেই । : কেউ কেউ তো বলে স্যার ! পাশে লন্ঠন না নামিয়ে রাখল হাবিরা । উপজাতি হলেও লোকটা তো দেখছি বেশ ভালই বাংলা বলতে পারে ।ভাবল আসিফ । : লোকে বলে বলতে তুমি কখনও দেখোনি ? একটু অবাক দেখাল আসিফের মুখ । : ঠিক দেখিও নি যে তাও নয় স্যার ।তবে এসবে আমার বিশ্বাস নেই ।কিন্তু তাও একটা ঘটনা আমাকে খুবই অবাক করেছে .. বড় বড় শব্দগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলতে লাগল হাবিরা । : কি ঘটনা ? প্লেট থেকে হাত তুলে রাখল আসিফ ।একটা ইন্টারেস্টিং ভৌতিক গল্প শুনার জন্য সজাগ হয়ে উঠল ওর স্নায়ু । : তেমন কিছু না স্যার ।তবে .. : ভৌতিক কিছু নাকি ? : ঠিক ভৌতিক কিনা বলতে পারবনা স্যার ।তবে বেশ রহস্যময় বলে মনে হয়েছে আমার । : রহস্য ! না চাইতেও শব্দটা বেরিয়ে এল ওর মুখ থেকে । : জ্বি স্যার ।সেটা প্রায় বছর দেড়েক আগের কথা ।সবেমাত্র বাংলো মেরামতের কাজ চলছে । আমিও তখন চাকরিতে নতুন মাত্র যোগ দিয়েছি .. বলতে লাগল হাবিরা ।নিশ্চুম রাত ।বিরান ভুমির বাংলোটায় লন্ঠনের মৃধু মৃধু আলোয় পরিবেশটা অন্যরকম হয়ে উঠেছে তখন । : সময়টা ছিল বর্ষাকাল ।এই আকাশ ফর্সা এই মেঘাচ্ছন্ন । আমি অবশ্য রাতের বেলায় তখন বাংলোতে থাকতাম না । থাকতাম দূরের একটা হোটেলে ।কিন্তু একদিন বেশকিছু দামি জিনিসপত্র এখানে আনার কারনে আমাকে এখানে পাহাড়ার জন্য থেকে যেতে হল । ৮টার দিকে আমাকে চাবি বুঝিয়ে দিয়ে কর্মচারীরা বিদায় নিল । সদর দরজা বন্ধ করে যেই ঘুরে দাড়িয়েছি অমনি একটা অদ্ভুত অনুভূতি হল আমার । মনে হল কেউ উপর থেকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । : ইন্টারেস্টিং ! ভয় ভয় নিশ্চয় লাগছিল তোমার ? নাক গলানোর মত করে বলল আসিফ । : ভয় ভয় অবশ্য লাগছিল তবে পাত্তা দিলাম না । হলরুমের এক কোনায় বিছানা করে শুয়ে পড়লাম ।ঠিক সেসময় শুরু হল দমকা বাতাস আর বৃষ্টি ।কখন যে চোখটা বুঝে এসেছে বুঝতেই পারিনি । মাঝরাতে হঠাত্ ঘুম ভেঙ্গে গেল ।পাশে থাকা লন্ডনটাও দেখলাম নিভে গেছে ।বৃষ্টি ততখনে থেমে গেছে ।থেমে গেছে বাতাসও ।বাইরে অজ্ঞাত কিছু প্রাণীর ছোটখাট হাক ডাক ছাড়া একেবারেই নিশ্চুপ । হঠাত্ করেই আমার মনে হল কেউ সিড়িতে হাটছে ।ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজ ।স্পষ্ট শুনলাম ।একবার দু বার অনেকবার ।নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল আমার ।এতরাতে সিঁড়িতে কে হাঁটে ।চোর নয়তো ? কেন জানি নিজের যুক্তি নিজের কাছেই বিঃশ্বাস হলনা আমার । একটু থামল হাবিরা ।আসিফ হাত ধুঁয়ে নিচে মেজেতে এসে হাবিরার মুখোমুখি বসল । : তারপর ! : আমি সাহস করে উঠে বসলাম ।ধীর পায়ে এগিয়ে গেলাম সিঁড়ির দিকে ।একটা ছায়ামূর্তির মত কিছু একটা চোখে পড়ল ।সাহস সঞ্চয় করে জিজ্ঞেস করলামঃ কে ? কে ওখানে । ছায়ামূর্তিটা একটুও নড়লনা ।কোন উত্তরও করলনা । একটা ভয় ঢুকে গেল আমার মনে ।চোর নয় এটা ।চোর হলে দাড়িয়ে থাকত না ।পালিয়ে যেত । আমি আবার জিজ্ঞেস করলামঃ কে ? কে আপনি ? কিছুটা ভয়মিশ্রিত গলা এবার । উত্তর এলঃ আমি । ভয়ের একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল আমার মেরুদন্ড দিয়ে । অনেক কষ্টে জিজ্ঞেস করলামঃ আমি আমিকে ? হঠাত্ একটা তীব্র আলোকছটা আমার চোখ ধাধীয়ে চলে গেল ।এলিয়ে পড়লাম আমি । : ও ! ইশ লন্ঠনের আলোটা থাকলেই তুমি ভুতের মুখটা দেখতে পেতে । অবিশ্বাস আর রসিকথার সুরে বলল আসিফ । : বিশ্বাস করেন আর নাই করেন স্যার ঘটনা কিন্তু সত্যি ! : তারপর কি হল ? বিশ্বাস অবিশ্বাসের প্রশ্ন এড়িয়ে গেল ও । : সকালে জেগে উঠলাম আমি ।তবে একটা দৃশ্য দেখে চমকে উঠলাম আমি ! : কি দৃশ্য ! একটু কৌতুহল অনুভব করল আসিফ । : দেখলাম একটা গলা কাটা লাশ পড়ে আছে মেঝেতে । : ও ! প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে আসিফের ! : একটু একটু করে লাশটার কাছে এগিয়ে গেলাম ।আর জানেন স্যার তখন কি দেখলাম ? : কি ? : এইযে ? আসিফ বিস্মরিত চোখে হাবিরার দিকে তাকিয়ে রইল ।লোকটার মাথাটা ভয়ঙ্কর ভাবে গলা থেকে কেঁটে আলাদা করা ।কাঁটা মাথাটা সে বলের মত লুফালুফি করছে !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now