বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ট্রেনে উঠেছি। ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ ফিরছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ পরীক্ষা দিয়ে ফিরছি। পরীক্ষা আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো হয়েছে। বাকিটা আল্লাহর হাতে। এমন সময় অর্থাৎ ভার্সিটি এক্সাম এর সময় রাস্তায় প্রচুর জ্যাম হয় তাই ট্রেনে ওঠা। তাছাড়া সচরাচর ট্রেনে উঠি না। ট্রেনে উঠেই প্রণয়ার কথা ভাবছি ও সাথে থাকলে ভালোই হতো। ওর সাথে পুরোনো এবং নতুন কাটানো সময়গুলোর কথা ভাবছি। এমন সময় একটি ছাই রঙের পোকা চিন্তায় ব্যঘাত ঘটালো। হয়তো জানালা দিয়ে ঢুকেছে। পোকার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবার চিন্তায় ডুব দিলাম। ল্যাপটপটার কথা মনে পরে গেল। এমন সময় ওটা থাকলে সময়টা ভালোই যেত। ল্যাপটপ এর জন্য ফোন এর নেশাটা কেটে গেছে অনেকদিন হয়েছে। তাই ফোনও বের করতে ইচ্ছে করছে না। ব্যাগের চেইনে হাত ঢুকালাম। হ্যাঁ টাকার বান্ডিলটা ঠিকি আছে। ল্যাপটপ বিক্রি করা টাকা। খুব সখ করে কিনেছিলাম ওটা। বলতে গেলে আমার থেকে আমাকে কিনে দেওয়ার জন্য আব্বুর সখই ছিল বেশি। কারণ এসএসসি রেজাল্টে ভালো করার পর আমার একমাত্র ইচ্ছে তো ছিল এটাই। যদিও চাওয়ার বছরখানেক পরে দিয়েছে। আজ বিক্রি করে খারাপই লাগছে। এমন অনেক কথা ভাবতে ভাবতে প্রায় অর্ধেক পথ এসে পরেছি। আবার চোখ গেল পোকাটির দিকে। এখনো সে স্থির বসে আছে। তারমানে তো পোকাটা ঢাকা থেকে গাজীপুর এসে পরলো। বিনা ভাড়ায় ট্রেনে করে। জানতে ইচ্ছে করলো পোকাটি কোথায় যাচ্ছে। সেখানে কি ওর চেনা কেউ আছে?? না তা কেন হবে। ওদের কাছে তো এই দূরত্বটা বিশাল। তাহলে ও যাচ্ছে কেন? আচ্ছা ও কি নিজে জানে ও যে যাচ্ছে? ও যখন বুঝবে ওর বাবা-মা পরিবার সবাইকে ছেড়ে অনেকদূর চলে এসেছে তখন কি ওর কষ্ট হবে? ও কি কাঁদবে? খুঁজবে ওর প্রিয়জনদের?
এমন এলোমেলো ভাবতে ভাবতে পত্রিকা ওয়ালা এসে বললো ভাই পত্রিকা নিবেন? এমন সময় পত্রিকা খারাপ হয় না। কিন্তু ফোনে তো ফ্রি বেসিক্স আছে তার জন্য। তাই ভেবে আর নিলাম না। তাকে না করে জানালা দিয়ে তাকালাম। প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর সব দৃশ্য। খুব ইচ্ছে করছে প্রকৃতি নিয়ে কিছু লিখতে, ঘন সবুজ গ্রাম, গ্রামের মানুষ, মেঠোপথ এসব নিয়ে লিখতে। ল্যাপটপটার কথা আবার মনে পরে গেল। সে ছিল আমার লেখার সাথি। আবার ব্যাগে হাত দিলাম, হ্যাঁ বান্ডিলটা এখনো আছে।
৩ ঘণ্টার মাথায় সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন পৌঁছে গেলাম। সরাসরি মেডিনোভা হাসপাতালে। ১০ মিনিট পর সেখান থেকে বের হয়ে সোজা বাড়িতে।
পরীক্ষা ভালো হয়েছে শুনে সবাই তো অনেক খুশি
মা- আমি তো জানি আমার ছেলে খারাপ পরীক্ষা দিতেই পারে না।
আব্বু- রেজাল্ট কবে দিবে রে শুভ?
আমি- আব্বু কালকেই দিবে।ম্যাসেজ এ জানিয়ে দেবে।
আপু- ম্যাসেজ এর জন্য ওয়েট করবি নাকি? নেটেই তো সব রেজাল্ট পেয়ে যাবি
আমি- ফোনে এসবের ক্ষেত্রে সার্ভারে প্রব্লেম হয়। ম্যাসেজেই জানবো নি, হলে তো আগে পরে জানবোই
আপু- তোর ল্যাপটপ থাকতে কেন তুই ফোনে দেখতে যাবি।ম?
আমি আপুর কথা পাস কাটিয়ে দেওয়ার জন্য আম্মুকে বললাম ক্ষুধা লাগছে। খেতে দেও।
আজ অনেকদিন পর একসাথে খেতে বসেছি। নয় আমি বাড়ি থাকি না নয়তো আব্বু অথবা আপু। গল্প করতে করতে খাওয়া শুরু করলাম আমরা ৪ বন্ধু। কি অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ার কিছু নেই আমরা ৪ জন, বন্ধুর মতোই। আব্বু-আম্মু অনেক অনেক ফ্রি। আব্বুর দিকে তাকালাম। আব্বুর হাসিতে কৃত্রিমতা। কারণটা শুধু সে আর আমিই জানি। তবুও অনড়গল কথা বলে যাচ্ছে, যে কথায় আমি, আপু, আম্মু হেঁসে হেঁসে গড়িয়ে পড়ছি। আব্বু পারেও গল্প করতে। আমি কখনো পারবোনা ঐ ছাই রঙা পোকাটার মতো আমার ফেমিলিকে ছেড়ে যেতে, হটাৎই পোকাটাকে স্বার্থপর মনে হল। খাওয়া শেষে আব্বুকে বললাম আমার সাথে বের হতে। আব্বু কারণ জিজ্ঞাসা করায় এড়িয়ে গেলাম। আব্বুর সাথে রিকশায় যাওয়ার সময় আমার হাতটা ধরে আছে যেন আমি পড়ে না যাই। ছোট বেলা থেকেই এই কাজটি আব্বু করে আসছে। হয়তো ভুলেই গেছে আমি এখন বড় হয়ে গেছি। আব্বুর সাথে রিকশায় গল্প করতে করতে হাসপাতালের সামনে আসলাম। নামতে বলায় আব্বুর মুখটা দেখলাম ছোট হয়ে এসেছে। এত ছোট হতে কখনো দেখি নি। একে একে ৭টা পরীক্ষা করালাম। তারপর ডাক্তার কে রিপোর্টগুলো দেখালাম। ডাক্তার কি যেন একটা রোগের নাম বললো। বায়োলজি তে কাঁচা হওয়ায় ভুলেই গেছি। ডাক্তারের ভাস্য→ "ভাগ্য ভালো ঠিকসময়ে এসেছেন। আর একমাস পরে আসলে খারাপ কিছু হয়ে যেত।"
আমি ভাবনায় চলে গেলাম। সেদিন ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল। আব্বু ভুলে ১১ হাজার টাকা আমাকে দিয়ে দিছিল। আমি একহাজার টাকা ড্রয়ারে ফেরত রাখতে গিয়ে কাগজটি পাই। আজকের তারিখ দিয়ে লেখা ছিল "এই দিনের মধ্যে দেখাতে হবে অবশ্যই। আর টাকা লাগবে ঔষুধ সহ ৩০ হাজারের কিছু বেশি হয়তো।" আমি বুঝতে পেরেছিলাম এই টাকাটা আব্বু নিজের জন্য কখনোই খরচ করবে না। তার সামর্থ্যও খুব একটা আছে বলা যায় না। ভার্সিটি কোচিং আর পরীক্ষা দিতে গিয়ে তো জমানো সব শেষ।
আব্বুর কথায় ছেদ পরলো ভাবনায়
-ল্যাপটপ টা তোর খুব প্রিয় ছিল, না রে শুভ?
-আব্বু, তোমার থেকে না।
আব্বু আর কোনো কথা বললো না। ঔষুধ কিনে নিয়ে ২জনই রিক্সায় গিয়ে উঠলাম। এবার আমি আব্বুর হাতটা ধরলাম, খুব শক্ত করে যেন রিকশার ঝাকুনিতে আব্বু পড়ে না যায় ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now