বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মাঝরাতের বোবা কান্না

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X সারাদিন অনেক খাঁটুনি গেছে আজকে,তাই সকাল সকাল রাতের খাবার খেয়ে সুয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিলাম। এমন সময় দেখি পাশে থাকা ফোনটা বাঁজছে। স্কিনে তাকাতেই দেখি আরিফ ফোন দিছে। হঠাৎ ফোন দিলো কাহিনী কি,নিশ্চয় আবার কোনো অঘটন ঘটিয়েছে হারামিটা। ফোন টা রিসিভ করতেই আরিফ বলে উঠলো, :-দোস্ত কোই তুই? :-কেন,বাড়িতেই আছি। :-একটু ক্লাবে আই তো। :-এখন এই রাতের বেলাতে। :-হুম,,,তাড়াতাড়ি আই। বলেই ফোনটা কেটে দিলো। কি আর করার,বাধ্য হয়ে যেতে হলো,তখন রাত ৯ টা বাঁজে। তাই যেতে কোনো রকম সমস্যা হলো না, গিয়ে দেখি আরিফ সহ আরো ৫জন মিলে ক্লাবে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে। :-কি রে,কি হয়ছে এত রাতে আসতে বললি? :-আরে বস একটু ,,,বিয়ে করেছিস নাকি? বাড়ি থেকে আর বার ই হস না। আরিফের কথা শুনে মেজাজ টা প্রচন্ড রকমের খারাপ হয়ে গেলো। এমনিতেই শরির টা খুব খারাপ, আবার তার উপর এমন ফাজলামি। তবুও ওদের জোরাজোরিতে থেকে গেলাম। আড্ডা দিতে দিতে কখন যে রাত ১ টা বেজে গেছে খেয়াল ই করি নাই। হঠাৎ আরিফ বলে উঠলো, দোস্ত দেখ ওখানে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। কথাটি শুনে ১ম এ একটু ভয় পেয়ে গেলেও পরে নিজেকে সামলিয়ে নিলাম,আর ওকে সবাই ইচ্ছে মতন মারলাম। এমনিতেই রাত তার উপরে এমন আজেবাজে কথা কেও বলে। যাই হোক যে যার বাসার উদ্দ্যেশ্য নিয়ে রওনা দিলাম। কিন্তু আমি ফিরবো কি করে,কারন আমার বাসায় যেতে হলে তো,বাঁশ বন পের হতে হবে। আর এতো রাতে একা একা। দু জন কে বললাম,তারা কেও রাজি হলো না। আর আরিফ কে মারার কারনে সেও রাজি না। কি আর করার,সাহস দেখিয়ে একা একা রওনা দিলাম।জোৎস্না রাত,রাস্তা ঘাট ভালোই বুঝা যাচ্ছে। ভয় দুর করানোর জন্য নিজের মনে গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে হাটতে লাগলাম।রাস্তার পাশে থাকা ছোট ছোট ঝোপ গুলো থেকে ঝিঝি পোকার আওয়াজে মুখরিত চারদিক। শুনশান রাস্তা,হঠাৎ কানে ভেসে আসতে লাগলো একটা কান্নার আওয়াজ। কে কাঁদছে এতো রাতে। কেও কি মারা গেলো, দেখার জন্য সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম যতই পা বাড়াই,কান্নার আওয়াজ টা ততই তিব্র হতে লাগলো। আওয়াজ টা ফলো করতে করতে কখন যে বাঁশ বনের ভিতরে চলে এসেছি নিজেও বুঝতে পারি নি। ঝুলে থাকা একটা বাঁশের সাথে আকস্মিক ভাবে ধাক্কা খাওয়ার পর নিজে নিজেই ভয়ে চমকে উঠলাম। একি আমি বাঁশ বনে আসলাম কি করে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে বার হতে হবে। তাই তাড়াতাড়ি পা বাড়ানোর চেষ্টা করলাম। মুহুর্তেই কানে ভেসে আসলো আবার কান্নার আওয়াজ। আবার পিছু ফিরে তাকালাম। কিন্তু এই বাঁশ বনে এতো রাতে কে কাঁদবে। নাকি এগুলো আমার ভ্রম,কিছুই বুঝতেছি না। সামনে যেতেই চোখে পড়লো একটা কুকুর। কুকুরের চোখে লাইট মারতেই নিজে নিজে ভয়ে শিহরিত হয়ে উঠলাম। এমন কুকুর জীবনেই দেখি নাই। সারা শরিরে রক্তাক্ত, মুখে রক্ত লেগে,চোখ দুটো রক্তবর্ণ আর মনে হচ্ছে আগুন জ্বলছে চোখের ভিতরে। কুকুর টা খুব জোরে জোরে ঘেও ঘেও করছে। কিন্তু তার ঘেও ঘেও এর শব্দ আমার কান পর্যন্ত আসছে না। আরেক টু ভালো করে দেখতে যেতে কুকুর টা মুহুর্তের ভিতরে কোথাই যেন হারিয়ে গেলো। এখন খুব ভয় লাগছে,গায়ের লোম গুলো সব খাড়া হয়ে গেছে ভয়ে। পিছু ফিরতেই আবার কানে ভেসে আসলো সেই কান্নার আওয়াজ। এবার একপ্রকার জেদ করেই বসলাম,আজকে যা করেই হোক দেখবোই কে কান্না করে। এমনিতেই আমি যখন আমার রুমে শুয়ে থাকি তখন ও এই সময় টাতে প্রাই কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। ভিরু পায়ে, টিপে টিপে হাটতে শুরু করলাম। একটু পথ যেতেই দেখলাম একটা মেয়ে একা বসে কান্না করছে। তারমানে এই মেয়েটাই রোজ কান্না করে। মনের ভিতরে হাজারো প্রশ্নের যট বেধে গেলো মুহুর্তের ভিতরে। কে এই মেয়ে,আর এতো রাতে এই নিজর্নে তার কি কাজ আর এভাবে কান্নায় বা করছে কেন? ভিরু পায়ে মেয়েটার পাশে গিয়ে দাড়ালাম। মেয়েটির মুখটা দেখা যাচ্ছে না,মাথা ভর্তি কেশ এ মুখটা ঢেকে আছে। মেয়েটার কাঁধে হাত রাখতেই শরিরে কেমন যানি একটা অদৃশ্য শক্তি আমাকে ধাক্বা মেরে ফেলে দিলো। এখন আর মেয়েটার কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না,তবুও গেলাম। আবারও মেয়েটার কাঁধে হাত রাখলাম। আবারও কেও আমাকে স্বজোরে এসে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো। এবার চোখ মেলে তাকাতেই দেখি মেয়েটা আমার চোখের সামনে দাড়িয়ে। এটা কি মেয়ে নাকি অন্য কিছু,সাদা ধবধবে,চোখ গুলো আগুনের ন্যায় ঝলসানো। হাতে ধারালো ছুরির ন্যায় নোখযুক্ত।। দাত গুলো কেমন জানি,মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। কি বিভৎষ্য চেহারা। দেখেই শরির টা ঠান্ডা হয়ে যেতে লাগলো। ধিরে ধিরে নড়ার শক্তিটাও হারিয়ে ফেললাম। মেয়েটা ক্ষুধার্থ চোখ নিয়ে আমার দিকে ধিরে ধিরে অগ্রসর হচ্ছে। সাথে মুখে ভয়ংকর হাসির ধ্বনি। মুখ থেকে এখনো ফোটা ফোটা তাজা রক্ত পড়ছে। ধিরে ধিরে আমার একদম মুখের কাছে চলে আসলো,কানের কাছে মুখটা রেখে কি যেনো বলবার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।। অনেক কষ্টে একটা শব্দ মুখ থেকে উচ্চারিত হলো, ""আমাকে মুক্তি দাও"" কথাটি বলেই খুব জোরে জোরে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। সে কান্না আমার দেখার মতন নই,বুকের ভিতরে এসে সোজা ধাক্কা দিচ্ছে তার কান্নার প্রতিধ্বনি। হঠাৎ ই বিকট শব্দ করে হেসে,বাতাসের সাথে মিলে গেলো। চারদিকে থেকে ভেসে আসতে লাগলো অদ্ভুৎ সব নাম না জানা শব্দের প্রতিধ্বনি। আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি নাই,চোখের পাতা গুলো বুজে যেতে চাচ্ছে,অনেক কষ্ট করেও তাকে খুলে রাখতে পারলাম না। সকালে চোখ খুলে দেখি একটা চাচার বাসাতে,সুয়ে আছি। :-গতকাল তুমি বাঁশ বনে কি করতে গিয়েছিলে। :-রাতের পুরো ঘটনাটি খুলে বলতেই চাচা বললো,তুমি খুব ভাগ্যবান। সেই জন্য বেঁচে ফিরেছো। এর আগে যেই এই কান্নার আওয়াজ শুনে দেখতে গেছে আর ফিরত আসে নি। চাচার কথা শুনে মাথার ভিতরে একটাই প্রশ্ন ঘুরতে লাগলো। তবে আমাকে ছেড়ে দিলো কি কারনে................ জানি না প্রশ্নের উত্তর কখনো জানতে পারবো কি না? ...................সমাপ্ত..................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now