বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মৌমিতা ফায়সালের সব থেকে ভালো
বন্ধু।
ফায়সালের সাথে ওর পরিচয় সেই
ভার্সিটিতে ভর্তি
পরিক্ষার সময় থেকে। চার বছর যাবৎ দুই
জন এক
সাথেই চলা ফেরা করছে। দুইজন
দুইজনকে
সবসময় বন্ধুর চোখেই দেখে আসছে। খুব
ভালো বন্ধু বিদায় দুইজন একে অপরের
সাথে সব
কিছুই কনো দ্বিধাবোধ না করে শেয়ার
করতো। তাছাড়া ফায়সাল প্রতি দিনি
ওকে
একটা কথা বলেই জ্বালাতো। সেইটা
হলো, ওই মৌ
সিঙ্গেল লাইফটা আর ভালো লাগেনা।
প্লিজ দোস্ত
একটা গার্ল ফ্রেন্ড যোগায়া দেনা। (ওর
নামটা বড়
বিদায় তাই ওকে মৌ বলেই ডাকি।)
মৌ: ওই তোর মুখ থেকা কবে এই গার্ল
ফ্রেন্ড
নামের শব্দটা পরলোকগমন করবো রে?
আমি: আরে দোস্ত তুই চেতছ কেন? তুই
দেখ
তপু,অলিন,সুবন ওদের কতো কিউট কিউট
গার্ল
ফ্রেন্ড আছে। আমার কপালে কেন একটা
জুটতাছে না।
মৌ : তোর মতো কিপ্টার কপালে জুটবো
ও না।
আমি: দোস্ত তুই আমারে অভিসাপ
দিলি?
মৌ: কই? নাতো?
আমি: এই যে বল্লি আমার মতো
কিপ্টার কপালে
জুটবো না।
মৌ: হুম।কিন্তু কিউট একটা বউ পাবি
দোআ কইরা দিলাম।
আমি: যা ফইন্নি পলিয়ে পালিয়ে
প্রেম করে যেই
মজা পামু,বিয়া করে কি ওই মজা পামু।
মৌ : ফায়সাল তুই বাদ দে তো এই
সব,চার বছর ধরে
তোর এই একটা কথা শুনতে শুনতে,আমার
কানটা
নষ্ট হয়ে গেতাছে। উঠ ক্লাসে চল।
আমি: নাহ আমি ক্লাসে যামুনা তুই
যা। (রাগের ইমু)
মৌ: আচ্ছা যা একটা কিউট জি.এফ খুজে
দিমু তোর
জন্য। এখন খুশিতো।
আমি: তাহলে ১৪ ফ্রেবুয়ারির আগে?
মৌ: সব রেখে ১৪ ফ্রেবুয়ারি কেন?
আমি: এইবার ১৪ ফ্রেবুয়ারিতে যেনো
সিঙ্গেল না
থাকি তাই।
মৌ: বাবারে পোলার feeling কতো! (একটু
হেসেই
বল্লো)
আমি: ওই বান্দরনী তুই মজা মারতাছিস
তাই না?
মৌ: আরে না দোস্ত। যাহ আমি ১৪
ফ্রেবুয়ারির
মধ্যেই তোর জন্য একটা জি.এফ খুজে
দিবো।
আমি: সত্যি তো?
মৌ: হুম।
(সবসময় মৌ এই রকম মিথ্যা বলেই ওকে
সান্তনা
দিতো।)
এই বলেই দুইজন ক্লাসের দিকে রওনা
দিলো।
**
**
ক্লাস শেষে দুইজন একসাথে বের হলো।
মৌ বার
বার ফায়সালের দিকে তাকিয়ে
হাসতে
লাগলো,ফায়সাল ওর দিকে তাকিয়ে
বল্লো,
কিরে তুই হাসতেছিস কেন?
(স্বাভাবিক ভাবে
বল্লো)
মৌ: না এমনি।
-ও।
মৌ : কিরে মনটা খারাপ?
- নাতো।
মৌ: তাহলে ক্লাসেও তোকে চুপ চাপ
দেখলাম।
এখনো চুপচাপ হাটতেছিস,কনো কথা
বলতেছিস না।
- নারে দোস্ত এমনি।
মৌ : ও। আচ্ছা আমি যদি তোর জি.এফ
না পটায়া দিতে
পারি তখন কি খুব রাগ করবি? (ওকে
রাগানোর জন্য)
- নাহ। ওইটা আমার ভাগ্যের উপর নির্ভর
করবে। (খুব
ইমোশনাল ভাবে)
মৌ : কিরে তুই এতো ইমোশনাল
হইতাছিস কেন?
মানুষ ছেকা খেয়ে ইমোশনাল হয় আর
তুই প্রেম
করার আগেই ইমোশনাল হয়ে গেলি?
(স্বাভাবিক
ভাবে)
- বাদ দেতো দোস্ত। ভালো
লাগতেছেনা আমি
আজকে যাই।
এই বলেই ছেলেটা চলে গেলো।
মৌমিতা মনে
মনে বলতে লাগলো কি পাগল একটা
ছেলে,সামান্য
একটা জি.এফ না পাওয়ার কারনে কতো
ইমোশনাল
হয়ে গেলো। ও তো আমাকে ছাড়া কনো
মেয়ের সাথে কথাই বলেনা পাগলটা
কি করে
জি.এফ পাবে।
এই বলে মৌমিতা ও ওর বাসায় চলে
গেলো।
**
**
পরের দিন সকাল না হতে হতেই
মৌমিতার কাছে
ফায়সালের ফোন,
মৌ: কিরে এতো সকালে কিসের জন্য
ফোন
দিছিস?
ফায়সাল : কাজের জন্যেই ফোন দিছি।
আমি
তোদের বাড়ির নিচে।তুই একটু
তারাতারি নিচে নাম।
মৌ: কি! ফাইজালামি করতাছিস
নাতো।
ফায়সাল: আরে না দোস্ত,তুই একবার
নেমেই
দেখ না।
মৌ : দাড়া আমি আসতেছি।
ফায়সাল: হুম তারাতারি আয়।
মৌ ঘড়ির কাটার দিকে তাকিয়ে
দেখলো,সকাল ৯টা
বাজে মাত্র। ও কিছুনা ভেবেই মাথার
চুল গুলো
বেধে, রুম থেকে বের হয়ে
গেলো,বাহিরে যেয়ে দেখে ফায়সাল
দাড়িয়ে
আছে,ও ফায়সালের সামনে যেয়ে বলতে
লাগলো,কিরে তুই কি মনে করে এখানে
এসেছিস! তুই তো ১১টার আগে ঘুম
থেকেই
উঠিস না।
ফায়সাল: ওই এই সব বাদ দে তো।আগে
বল
তোদের বাড়িতে তিন তালায় ওই যে
(হাতে ইংগিত
করে দেখালো) ওই রুমে যে মেয়েটা
থাকে ওইটা কে?
মৌ : মেয়ে! কেনরে কি হইছে।
ফায়সাল: আরে বলিস না।আজকে
সকালে ঘুম
থেকে তারাতারি তে উঠে যাওয়াতে
মা আমাকে
বাজারে পাঠিয়েছিলো। বাজারে
আসার পর ওই
মেয়েটাকে দেখি আর দেখার পর এতো
ভালো লাগলো যে আমি ওর পিছু নিয়ে
নেই।
দোস্ত আমাকে এই মেয়েটার সাথে
লাইন
লাগিয়ে দেনা প্লিজ,আমার তো এই
মেয়েটাকে দেখে মাথা নষ্ট হয়ে
গেছে।
মৌ : ওই কইলি কি তুই এইটা হুম? (খুব
রেগে
যেয়ে)
ফায়সাল: কেন কি হইছে।
মৌ : শালা এইটা আমাদের ভাবি
লাগে। ওনার একটা
মেয়ে ও আছে।
ফায়সাল: কি!! আরে দেখলেতো মনে হই
১৮
বছরের ললনা।
মৌ: দাড়া ফাজিল আজ তোর একদিন
কি আমার একদিন
এই বলেই মৌ যখন ফায়সাল কে মারতে
যাবে ঠিক
তখনি ফায়সাল দিলো দৌড়।
মৌ আর ফায়সালকে ধড়তে পারলোনা।
এই বলে ও
ওর রুমে চলে গেলো।
মৌ ওর রুমে যেয়ে ফায়সালের কর্ম-
কান্ড
গুলো মনে করে হাসছে,আর মনে মনে
বলতে লাগলো, এমন কেনরে তুই
ফায়সাল,গত
কাল কতো ইমোশনাল হয়ে গেছিলি।
আর আজ
আবার আগের মতো বান্দরামি শুরু করে
দিলি।
আমাদের বাড়ির ভাবিকে ললনা মনে
করে
আমাদের বাড়ির সামনে এসে পরেছিস।
কেন
তোর এতো প্রেম করার শখ। চার বছরের
ভিতরে তোকে একটুও বুঝতে পারি নেই।
আমার
বুঝারো কনো দরকার নেই। এমন কেন তুই।
তুইতো আমাকে ছাড়া কানো মেয়েদের
সাথে ভালো করে কথায় বলতে পারিস
না,তুই
আবার কি প্রেম করবি। এই রকম শত শত
কথা
বলতে লাগলো আর মনে মনে হাসতে
লাগলো।
**
**
এইভাবে চলতে চলতে ফ্রেবুয়ারির ১২
টা দিন
কেটে গেলো। আজ ফ্রেবু: ১৩ তারিখ,
কিন্তু
এখনো ফায়সাল কনো জি.এফ এর সন্ধান
পেলো
না। ছেলেটা সকালে ঘুম থেকে উঠে
ফ্রেশ
হয়ে নিলো,আর মৌ কে ফোন দিয়ে
বল্লো,কিরে কি করিস?
মৌ: এইতো রেডি হইতেছি। তুই?
ফায়সাল: আমিও।
মৌ : ওকে তাহলে , ভার্সিটিতে চলে
আয় আমি এখনি
রওনা দিলাম। ফায়সাল:ওকে।
.
"দুইজন একসাথে ক্যাম্পাসে বসে আছে।
এরি
মাঝে ফায়সাল মৌ কে বল্লো,কিরে
নাস্তা করে
আসছিস তো।
মৌ ফায়সালের মুখে এমন কথা শুনে
আবাক হয়ে
গেলো,কারন ওদের ফ্রেন্ডশিপ হওয়ার
পর ওর
মুখে এমন কথা একটি বারো শুনে
নি,খালি
ফাইজলামি,দুষ্টামির কথা ছাড়া।
ফায়সাল:কিরে বলতেছিস না
যে। মৌ : না আজকে খেয়ে আসতে
পারি নাই। হঠাৎ
এই কথা কেন বল্লি?? ফায়সাল: কেন
জিজ্ঞাস
করতে পারিনা নাকি?
মৌ: তা না। কখনো তো তোর মুখে এই
রকম কথা
শুনি নাই।তাই আশ্চর্য হলাম। ফায়সাল :
ও। চল।
মৌ: কোথায়?
ফায়সাল: ক্যান্টিনে।
মৌ : কেন?
ফায়সাল আর কিছু না বলেই ওর হাত
টান দিয়ে ওকে
উঠিয়ে ক্যান্টিনে নিয়ে গেলো।
তারপর ফায়সাল
ওকে ক্যান্টিনে বসিয়ে,কিছু রুটি কিনে
এনে ওকে
খেতে দিলো।
মৌ ফায়সালের এই রকম কর্মকান্ড
দেখে বেশ
অবাক হলো।
মৌ : কিরে তোর আবার কি হলো!
ফায়সাল: কি হবে
আবার আমার। মৌ: কখনো তো নিজের
ইচ্ছাকৃত
ভাবে খাওয়াসনি! আজকি কনো
ইস্পেশাল দিন নাকি?
ফায়সাল: আরে না। তুই এগুলো খা তো।
মৌ: তুই
খাবিনা?
ফায়সাল: আমি বাড়ি থেকে খেয়ে
এসেছি। তারপর মৌ
নাস্তা গুলো খেয়ে নিলো। ফায়সাল:
দোস্ত কাল
সকাল থেকে নিয়ে রাত পর্যন্ত আমাকে
সময়
দিতে পারবি? মৌ: কেন রে?
ফায়সাল: তোকে নিয়ে সারা দিন
ঘুরাঘুরি করবো।
মৌ আবারো আশ্চর্য হলো
বুঝতেছিলোনা যে,
ফায়সালের আজ কি হলো। আজ
ফায়সালের সব কিছু
ওর কাছে অদ্ভুত লাগতেছে।ও কিছু না
বলে
ফায়সালের দিকে তাকিয়ে রইলো।
ফায়সাল: কিরে
পারবিনা?
মৌ: ঠিক আছে। (কিছুটা সংকুচিত হয়ে)
ফায়সাল:
আরেকটা কথা,কালকের দিনের জন্য তুই
আমার
জি.এফ হবি। শুধু কালকের দিনের জন্য।
মৌ কি বলবে কিছুই বুঝতেছিলোনা। ও
শুধু হা করে
তাকিয়ে ছিলো ফায়সাল এর দিকে।
ফায়সাল: দোস্ত
শুধু কালকের দিনের জন্য আমার জি.এফ
হবি প্লিজ?
তুই দেখ সবাই কালকে কতো রোমেন্স
করবে
আমি এগুলা দেখে কি করে থাকবো।
আমার তো
এমনেই আবেগ বেশি। প্লিজ দোস্ত না
করিসনা।
মৌ: হারামি! এর জন্যই কই এই
হারামিটা কনো কারন ছাড়া
কেন আমাকে খাওয়াবে।। ফায়সাল: হি
হি হি। বুঝতে
পারছিস। প্লিজ দোস্ত একদিনের জন্য
আমার
জি.এফ হবি?প্লিজ প্লিজ। মৌ মনে মনে
ভাবতে
লাগলো,যাক একটা সুযোগ পেয়েছি এই
কিপ্টুস টার
পকেট টা কালকে পুরো খালি করে ওর
মাথা
থেকে জি.এফ এর নামটা ভুলিয়ে
দেওয়ার ধারুন
একটা সুযোগ পেলাম। মৌ: ঠিক আছে।
এর বিনিময় কি
পাবো? ফায়সাল:তুই যা চাস।
মৌ: বুঝে বলতেছিস তো?
ফায়সাল: হুম। কিন্তু তুই করে বলতে
পারবিনা।
দুইজনে দুইজনকে তুমি করে বলবো,তারপর
আমাকে
রোমান্টিক কথা শুনাবি,একটু আদর
করবি,যেনো
মনে হয় দুইজন একে অপরকে ছাড়া
কিছুতেই
বাঁচবোনা।
মৌ: হা হা হা। হারামি তুই এতো
রোমান্টিক হইলি কবে
থেকে?
ফায়সাল: ছোট বেলা থেকেই। আর শুন,
আজকে
রাতের ১২টা থেকেই তুই আমার জি.এফ
সো সুন্দর
করে কথা বলবি।
মৌ:ঠিক আছে।
মৌ ফায়সালের কথা শুনে হাসতেছে
কি বলবে
বুঝতেছেনা।
ফায়সাল: কিরে হাসতেছিস কেন? মৌ :
তোর
কথাগুলোই তো হাসানোর মতো আমি
কি
করবো?
ফায়সাল: দেখ সিরিয়াস হ বলতেছি।
মৌ : হুম সময় হলে
সিরিয়াস হয়ে যাবো।
ফায়সাল: হুম কথাটা যেনো
মনে থাকে।
মৌ: আরে বাবা আচ্ছা ঠিক আছে। .
**
**
রাতের ১২টা বাজে মৌ ফায়সালকে
ফোন দিয়েয়
যাচ্ছে কিন্তু ফায়সাল বিভোর ঘুমে
ব্যাস্ত। হঠাৎ
করে ঘুম ভেঙ্গে গেলো,খেয়াল করে
দেখলো,মৌ ফোন দিয়েছে রিসিভ
করেই,ওই তুই
আমাকে কেন এতো রাতে ফোন
দিছোস?
(ফায়সাল ভুলে গেছিলো আজকের রাত
১২ টা
থেকে তারা একে অপরের কলিজার
টুকরা)
মৌ: কি বেপার বাবু তোমার শরীর
খারাপ?
ফায়সাল : তা হবে কেন? (আশ্চর্য হয়ে
বল্লো)
মৌ: তাহলে জান কেন এভাবে কথা
বল্লা,তোমার কি
গতকাল সকালের কথা খেয়াল নাই?
ফায়সাল: ও সরি দোস্ত আমি ভুলেই
গেছিলাম।
মৌ: এই যে শোন আমি কিন্তু তোর
সাথেই জি.এফ
এর অভিনয় করছি। তুই আবার দোস্ত
বল্লি কেন?
ফায়সাল: ওহ সরি সোনামনি।
(আহ্লাদী ভাবে)
মৌ ওর এই টুকু কথা শুনে অবাক হয়ে
গেলো।
মনে হচ্ছে কত বছরের না সম্পর্ক না
ওদের।
মৌ কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে বল্লো হুম
এখন ঠিক আছে।
তাহলে এখন ঘুমাও সকালে আমার
বাসার সামনে
থেকে আমাকে নিয়ে যাবা ঠিক আছে
বাবুই।
ফায়সাল: ওকে আমার লক্ষি পরিটা।
মৌ ফায়সাল এর প্রতিটা কথায় অবাক
হয়ে যাচ্ছে আর
খালি রহস্য জনক ভাবে হাসতেছে।
.
"ফোনটা রাখার পর ফায়সাল মৌকে
একটা মেসেজ
দিলো, জান...... আজকে কিন্তু তোমাকে
শারি
পড়তে হবে। যেনো তোমার মাঝে একটা
নিউ
লুক খুজে পাই।" I love u my cuty princes
ummmmaaaa....."
মৌ ফায়সালে মেসেজটা সিন করে হা
করে তাকিয়ে
রইলো। আর মনে মনে বলতে লাগলো
সালা দারা
কাল তোকে বুঝাবো সত্যি কারের
জি.এফ
থাকলে কি ধরনে প্যারা নিতে হয়।আর
ভবিষ্যৎ তে
জি.এফ এর নাম নিতে হবে না। এই বলেই
ছোট
একটা মেসেজ দিয়ে দিলো ঠিক আছে
বাবুই।
**
**
ফায়সাল সকাল ৯.৩০ ঘুম থেকে
উঠেই,মৌকে
ফোন দিলো
ফায়সাল : কি করতেছে আমার
বাবুনিটা?
মৌ : এইতো রেডি হইতেছে তুমি
ফায়সাল: এইতো তোমাদের বাড়ির
সামনে কিছুক্ষণ
এর মধ্যে আসতেছি।
মৌ : হুম তারাতারি আসো।আমার আর
বেশিক্ষন
লাগবেনা।
ফায়সাল: ওকে জান। i love u (আহ্লাদী
ভাবে)
মৌ : আচ্ছা বাবু আমি এখন রাখি। এই
বলেই মৌ ফোনটা
রেখে দিলো।
ফায়সাল মনে মনে বলতে
লাগলো,শয়তান,ফাজিল
মাইয়া একটা love u বল্লাম ওইটার
উত্তরটা দিলো না।
এই বলেই ফায়সাল ফ্রেশ হয়ে,মৌদের
বাড়ির সামনে
চলে গেলো। প্রায় ২০ মিনিট দাড়িয়ে
থাকার পর মৌ
ঘর থেকে বের হলো, ফায়সালকে দেখেই
মৌ
ওর কাছে গেলো। ফায়সাল ওকে দেখেই
হা
করে তাকিয়ে রইলো কি বলবে কিছুই
বুঝতেছে
না ছেলেটা,সাত রঙ দ্বারা স্টেপ করা
একটা
জরজেট এর শারি পরনে।মনে হচ্ছিলো
আকাশের
রংধনুটা ওর হাতের মুঠোয় এসে পরেছে।
ইচ্ছে
করলে ছুয়ে দিতে পারবে।চোখে ব্রাউন
কালার
এর লেন্স সাথে টানা করে কাজল
দেওয়া। মৌ এর
এই সুন্দর্যের আভাটা দেখে বার বার
ফায়সালের
মাঝে মাতাল হাওয়ার ঢেউ বয়ে
যাচ্ছিলো। ছেলেটা
কিছুক্ষন যাবৎ শুধু ওর দিকে তাকিয়েই
রইলো।
"মৌ ফায়সালকে আস্তে করে ধাক্কা
দিলো,ফলে
ছেলেটা বাস্তবে ফিরে এলো"
মৌ:কি ব্যাপার তুমি এইভাবে
তাকিয়ে আছো কেন?
ফায়সাল: মৌ তুই এতো সুন্দর কেমনে
হইলি? এই চার
বছরে তো তোকে এতো সুন্দর লাগে
নাই।
তুইতো আজকে আমাকে পাগল করে
দিলি।
মৌ লজ্জায় মাথাটা নুয়ে নিলো, আর
বল্লো তুই
করে বল্লা কেন?
ফায়সাল: ও সরি সুইট হার্ট।। আর
হবেনা।
মৌ: হুম। আর আগে থেকেই বলে
দিলাম,যা করবা
শ্লীলতা বজায় রেখে করবা।
ফায়সাল: আচ্ছা চেষ্টা করবো।
মৌ: মানে?
ফায়সাল: মানে তুমি আমার জি.এফ আর
আজকের
দিনে তো সবার মাঝে তার জি.এফ এর
সাথে
রোমেন্স
করার ইচ্ছা থাকবেই। তাই না!
মৌ: দেখ আমার রাগ উঠাবিনা একদম।
আমি কিন্তু তোর
আসল জি.এফ না যে তুই আমার সাথে যা
ইচ্ছা তা করবি!
এইটা কিন্তু আমি মেনে নিতে
পারবোনা।
ফায়সাল: আরে বাবা রাগ করিস কেন?
ওকে সরি!
কোন কিছুই করবোনা। শুধু হাতটা ধরতে
দিও বাবুনি।
(আহ্লাদি ভাবে বল্লো)
মৌ: একটু হাসি দিয়ে বল্লো হুম ঠিক
আছে। এখন
রিকশা নেও আমি নাস্তা করে বের হই
নাই,আগে
নাস্তা করাবে তারপর পর ঘুরাঘুরি
করবো।
ফায়সাল: হুম চলো।
(মৌ মনে মনে বলতে লাগলো এই দেখ
আজকেই তোকে বাশ দিয়ে বুঝিয়ে
দিবো
জি.এফ থাকলে কি রকম বাশ খেতে হয়)
**
**
দুইজনে একসাথে নাস্তা খাওয়া শেষ
করে চলে
গেলো বোটানিক্যাল গার্ডেন।
সেইখানে
যেয়ে দুইজন একসাথে একটা শান্তিপূর্ণ
জায়গায়
বসলো। কেউ কাউকে কিছু বলছিলো না।
বলবেই
বা কি ওরাতো আর সত্যিকারের
প্রেমিক প্রেমিকা
না। এরি মাঝে মৌ বলে উঠলো, কি
হলো কিছু
বলতেছো না কেন?
ফায়সাল: কি বলবো বলো,আমরাতো আর
সত্যিকারের প্রেমিক প্রেমিকা না।
(হতাশা নিয়ে)
মৌ ফায়সাল এর এই হতাশার রূপ দেখে
মুচকি একটা হাসি
দিলো। আর ও নিজেই ফায়সাল এর
হাতটা জড়িয়ে
ধরলো আর বল্লো, যাও শুধু আজকের জন্য
আমরা সত্যিকারের প্রেমিক
প্রেমিকা। এই বলেই
ফায়সাল কে এতগুলা খুশি করালো। খুশি
করার একটা
কারনি ছিলো তা হলো বাশ দেওয়া।
.
কিছুখন পর মৌ ফায়সাল কে বলে
উঠলো,বাবু একটা
গান শুনাও না প্লিজ? (আহ্লাদি ভাবে)
ফায়সাল: কি গান শুনবা?
মৌ: তোমার যেইটা ইচ্ছা ওইটাই
শোনাও।
ফায়সাল: চোখে চোখে চোখ পরেছে
কি
বলবো মুখে, কে তোমায় সাজিয়েছে
এতো
অপরূপে............
মৌ খুব একটা লজ্জা পেয়েছিলো আর খুব
একটা
রোমান্টিক মোমেন্ট উপভোগ
করছিল,কিন্তু সে
এই সব ফায়সাল কে বুঝতে দেই নি।
মৌ: হুম এতোগুলা সুন্দর হইছে বাবুই।
ফায়সাল: ধন্যবাদ সোনামণি।
"কিছুখন পর মৌ দেখলো ফায়সাল অন্য
এক কাপল এর
দিকে তাকিয়ে আছে।ওই কাপলটা একে
অপরের
সাথে খুব ক্লোজ করে বসেছিলো। সেই
মুহূর্তে দুইজন একে অপরের চুমো
খাচ্ছিলো,সেই দৃশ্য দেখে ফায়সাল
হতাশা জনিত
মুচকি হাসি দিলো। মৌ ওর ফিলিং টা
বুজতে পারলো। তাই
মৌ ফায়সালকে বল্লো চলো এখান
থেকে উঠি।
ফায়সাল: কই যাবে শুনি?
মৌ: চলো আগে তারপরেই দেখবা।
তারপর দুইজন রিকশা করে হাতিরপুল
চলে গেলো।
সেইখানে যেয়ে দুইজন একটা কসমেটিক
এর
দোকানে এ ঢুকলো ফায়সাল মৌ এর
দিকে তাকিয়ে
রইলো,দেখলো মেয়েটা মুচকি মুচকি
হাসছে। ও
বুজতে পারলো যে মৌ এখন কি করবে। ও
আগে
থেকেই জানতো মৌ আজকের দিনে ওর
সাথে
প্রেমিক প্রেমিকার অভিনয় করাতে
রাজি হওয়ার
পিছনে কনো কারন জড়িত আছে। তাই
ফায়সাল আজ
কিছুই বলবেনা আজ ফায়সাল দেখতে
চাই, রংধুনুটার সব
দুষ্টামিগুলা।
**
**
মৌ কসমেটিক এর দোকানে ঢুকে ওর যেই
যেই
জিনিস না লাগবে সেই গুলো ও নিতে
লাগলো,ফায়সাল ওর এই রকম পাগলামি
গুলো
দেখে মুচকি হাসতে লাগলো। আজ
যেইভাবে
মৌ মেয়েটা পাগলামি করছে এই রকম
পাগলামি ফায়সাল এই চার বছরের
মধ্যে
কনো দিন দেখে নি,হয়তোবা আজ যেই
চোখে
ফায়সাল মৌ কে দেখছে হয়তো আগে
এই রকম
ভাবে দেখে নি বিদায় ওর চোখে আজ
মৌ
এর এই সব পাগললামি খুব ভালোলাগছে।
আজ
কিছুই বলার নেই ফায়সাল এর। মৌ তার
কাজ
শেষ করে বল্লো,
মৌ: বাবু আমার এইগুলো লাগবে।
(আহ্লাদী
ভাবে)
ফায়সাল: আর কিছু লাগলে নিয়ে নাও।
(স্বাভাবিক ভাবে)
মৌ: না আর কিছু লাগবে না। ( অবাক
হয়ে
উত্তরটা দিলো)
মৌ খুব অবাক হয়ে গেলো,কারন
ফায়সাল খুব
হাসি মুখেই ওর নেয়া জিনিসগুলোর
দাম
দিয়ে দিলো,মৌ ভাবছিলো একটু রাগ
দেখাবে কিন্তু তা মোটেই হলো না।
পরে
দুইজন দোকানটা থেকে বের হয়ে
গেলো।
.
তারপর মৌ ফায়সালকে আবার বাশ
দেওয়ার
জন্য একটা শারীর দোকানে
ঢুকলো,সেইখানে
যেয়ে শারী পচ্ছন্দ করতে লাগলো,মৌ
ভাবছে এইবার ফায়সাল ঠিকই কিছু
বলবে
কিন্তু না,এইবারো কিছু না বলে
ফায়সাল নিজেই ওকে শারী
পচ্ছন্দ করতে সাহায্য করলো। আর ওই
দোকানের সব থেকে ইস্পেশাল
শারীটাই মৌ
কে হাসিমুখে কিনে দিলো। মৌ যেই
রকম
ভাবছে ঠিক উল্টো টাই ফায়সাল করতে
লাগলো। আর মৌ কে পর পর দুইবারি
অবাক
করে দিলো।
**
**
এইভাবেই সারাদিন ঘুরতে ঘুরতে দুপুর
হয়ে
গেলো। তারপর দুইজন মিলে রিকশায়
উঠে লাঞ্চ
করার জন্য এক রেস্টুরেন্ট এর দিকে রওনা
দিলো। ফায়সাল অপলক দৃষ্টিতে মৌ এর
দিকে
তাকিয়ে আছে। মৃদু বাতাসে
ফায়সালের চেহারা বার
বার লেপটে যাচ্ছে মৌ এর চুল দারা।
ছেলেটা
চোখ দুটো বন্ধ করে মৌ এর চুলের ঘ্রাণ
নিতে
লাগলো। মৌ বিষয়টা লক্ষ করেও কিছু
বল্লো না।
আজ মৌ তার নিজের কাছে হেরে
গেলো। পর
পর ফায়সালকে দুইবার বাশ দিয়েও কনো
প্রতিকার
পেলোনা। কিছুখন পর দুইজন এক
রেস্টুরেন্ট
এর কাছে যেয়ে নামলো। রেস্টুরেন্ট এর
ভিতরে ঢুকে ফায়সাল মৌ এর সব প্রিয়
খাবার গুলোর
অর্ডার দিলো। মৌ ফায়সালের দিকে
অবাক চোখে
তাকিয়ে বল্লো এই কি করলা?
ফায়সাল: ফায়সাল কি করলাম আবার?
মৌ: এতো কিছু অর্ডার করার কি দরকার
ছিলো?
ফায়সাল; আমার সুইট বার্ডিটা
বাড়িতে কি খায় তা তো আর
আমি দেখিনা তাই আজ আমার
বার্ডিটা খাবে আমি তার
খাওয়ার স্বাদ গ্রহন করতে চাই।
মৌ এইবার ফায়সাল এর কথার মাঝে
কিছু একটা খুজে
পেলো,খুব অবাক হয়ে গেলো এই আবেগি
ছেলেটার কথা শুনে। ওদের পাশে
থাকা
কাপলগুলো ওদের দিকে তাকিয়ে
রইলো।
হয়তো কাপলগুলো ভাবতেছিল ওদের
দুইজনের
মাঝে ভালবাসা জিনিসটা রসে ভর
পুর।
খাবারগুলো ওদের টেবিলে আসার পর
ফায়সাল
নিজের হাতেই মৌ কে খাওয়িয়ে
দেওয়ার জন্য হাতটা
বাড়ালো। মৌ কাজল কালো চোখে
ফায়সালের
দিকে কিছুটা লজ্জা নিয়ে তাকালো।
আর ওর হাত
থেকে খাবারটা খেয়ে নিলো। বলতে
গেলে
ফায়সালের প্রতি মৌ যেনো কি একটা
অনুভব করতে
লাগলো। খাওয়া দাওয়া শেষ করে দুইজন
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেলো।
**
**
এইভাবে দুইজন সারাদিন ঘুরাঘুরি করার
পর কখন যে
সন্ধ্যা হয়ে গেলো তা বুঝাই গেলো
না। দুইজন
এক সাথে এই সন্ধ্যার মৃদু হাওয়ার মাঝে
হাটতে
লাগলো। তাদের কথা বলার ধরনগুলো
আগের
থেকে খুব পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিলো।
দুইজনের
মাঝে বন্ধুত্ব সম্পর্কটা হয়তো পরিবর্তন
হবে এই
রকম একটা সুভাস ছড়াচ্ছিল। ফায়সাল
মৌ এর দিকে কিছুটা
লক্ষ করে দেখলো মেয়েটা শীতে
কিছুটা
হিমশিম খাচ্ছে। তাই নিজের পরনে
থাকা কোট টা
খুলে মৌ এর হাতে দিয়ে বল্লো,এইটা
পরে নাও।
মৌ কিছুক্ষন ফায়সাল এর দিকে
তাকিয়ে বল্লো, না
সমস্যা নাই তেমন শীত লাগতেছেনা।
ফায়সাল: আমার কিন্তু চোখ আছে
দেখতে
পারতেছি শীত লাগছে কি লাগছেনা।
মৌ কিছু বল্লো না ফায়সালের হাত
থেকে কোট টা
নিয়ে নিজের শরীরে জড়িয়ে নিলো।
আর
অনুভব করতে লাগলো কোটের মাঝে
মিশে
থাকা ফায়সালের স্পর্শগুলো।
মেয়েটার খুব ইচ্ছে
হচ্ছিলো ফায়সালের হাতটা ধরে
হাটার। মেয়েটা
যখনি ওর হাতটা ধরতে গেলো তখনি ও
হাত দুইটা
নীজের পকেটে নিয়ে নিলো। মেয়েটা
আর
হাতটা ধরতে পারলো না। মৌ
ফায়সালের দিকে এক
দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আর মনে মনে
বলতে
লাগলো,ফায়সাল তুই দেখি আমাকে
ইমোশনাল
ব্লাকমেইল করে ফেল্লি। এখন দেখি
একটু হাতটা
ধরারো সুযোগ দিলিনা।
এরি মাঝে ফায়সাল একটা রিকশা ডাক
দিলো আর
বল্লো,মামা পান্থপথ যাইবা?
রিকশাওয়ালা: হুম মামা যামু।
ফায়সাল মৌকে বল্লো,রিকশায় উঠো।
মৌ কিছু না বলেই রিকশায় উঠে
পড়লো।
"ফায়সাল বাহিরের দিকে তাকিয়ে
আছে আর মৌ এক
দৃষ্টিতে ফায়সালের দিকে তাকিয়ে
আছে।
দুইজনের মাঝে কনো কথায় হচ্ছে না।
মৌ আবার
ফায়সালের হাতটা ধরতে চাইলো
কিন্তু এইবার ফায়সাল
বিষয়টা একটু লক্ষ করে পকেটে হাত
দিয়ে
মোবাইলটা বের করলো মৌ এইবারো
হাতটা ধরতে
পারলোনা। মেয়েটা কিছুটা রাগ নিয়ে
বল্লো,আমার
বাসায় যেতে হবে।
ফায়সাল: হুম।
মৌ: কি হুম? আমি বাসায় যাবো
রিকশা ঘুরাতে বলো।
ফায়সাল: চুপ করে বসো,কিছুক্ষন পরেই
তোমাকে বাড়িতে পৌছিয়ে দিয়ে
আসবো।
মৌ আর কিছু বল্লোনা। ফায়সাল একটা
মুচকি হাসি দিলো।
কারন মৌ রাগ করে বল্লেও ওইটা রাগ
বুঝা যাচ্ছিলো
না। কারন মেয়েটা অভিমান করে
কথাটা বলেছিলো।
মেয়েটার মাঝে অনেক পরিবর্তন হয়ে
গিয়েছে,তা ফায়সাল খুব সহযে বুঝতে
পেরেছে। ফায়সাল মৌ এর দিকে
তাকালো
মেয়েটার চেহারাটা খুব একটা
মলিনভাব ফুটে
উঠেছিলো তা সোডিয়ামের আলোতে
খুব সহযেই বুঝা যাচ্ছিলো । খুব একটা
মায়ায় পরে অনিচ্ছা থাকা সত্বেও
ফায়সাল মৌ এর কাধে
নিজের হাতটা রাখলো।ফায়সালের
স্পর্শতে মৌ কিছুটা
শিউরে উঠলো। মৌ ফায়সালের দিকে
তাকিয়েও কিছু
বল্লোনা। "মনে হয় ওদের আজকের
তুমিটা তুমিই
থেকে যাবে আজীবন! এই তুমিটা আর
কখনোই
হয়তো তুই এ রূপ ধারন করবেনা।"
**
**
পান্থপথ এসেই দুইজন রিকশা থেকে
নামলো।
মৌ ফায়সালকে বল্লো আমরা কোথায়
যাচ্ছি?
ফায়সাল: আগে আসো দেখলেই বুঝতে
পারবে।
মৌ আর কনো কথা বাড়ালোনা। তারপর
ফায়সাল ওকে নিয়ে একটা জুয়েলারির
দোকানে ঢুকলো। ডায়মন্ড এর কাজ করা
একটা রিং দেখিয়ে জুয়েলারি
দোকানি কে
ফায়সাল বল্লো, ওই রিংটা বের করেন
তো।
মৌ ফায়সালের দিকে তাকিয়ে
রইলো,কি
করছে এই ছেলেটা! দোকানি রিংটা
দেওয়ার পর ফায়সাল মৌকে বল্লো,
রিংটা
কেমন দেখতে?
মৌ: ভালোই (খুব একটা দ্বিধায় পরে
কথাটা
বল্লো)
ফায়সাল মৌ এর হাতটা ওর হাতে নিয়ে
রিংটা মৌকে পড়িয়ে দিলো।
মৌ: এইটা কি করলা?
ফায়সাল: তোমাকে রিং পড়ালাম।
দেখছো
রিংটা তোমার হাতে কতটা
মানায়ছে?
মৌ: ফায়সাল এইটার দাম কিন্তু অনেক।
( আস্তে করেই বল্লো)
ফায়সাল: দাম তো আর তুমি
দিতেছোনা।
তাছাড় এই স্পেশাল দিনে আমার
সবথেকে
স্পেশাল মানুষটাকে কিছু না দিলে কি
হয়!
এর থেকে অনেক দামি তুমি আমার
কাছে।
( স্বাভাবিক ভাবেই বল্লো)
মৌ ফায়সালের মুখে এমন কথা শুনে
কথা
বলার ভাষা হারিয়ে ফেল্লো। অবাক
চোখে
ফায়সালের দিকে তাকিয়ে রইলো। কি
বলবে
কিছুই বুঝতেছিলোনা। আজ দিনটা এমন
হয়ে
যাবে মৌ কখনোই ভাবে নি। ফায়সাল
দোকানিকে টাকাটা দিয়ে মৌ কে
নিয়ে
বের হয়ে গেলো।
তারপর রিকশা ডাক দিয়ে নিজেদের
বাড়ি
যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।
**
**
একসাথে দুইজন রিকশাতে বসে আছে
কারো
মুখেই কনো কথা নেই। মৌ বার বার
ফায়সালের
দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু ছেলেটা
একবারো ওর
দিকে তাকাচ্ছেনা। মৌ নিজেই
নীরবতা ভেঙ্গে
ফায়সালকে জিজ্ঞাস করলো, এতগুলা
টাকা পেলে
কোথায়?
ফায়সাল: জমিয়েছিলাম ।
মৌ: তো রিংটা কিনে এতোগুলা টাকা
কেনো নষ্ট
করলে?
ফায়সাল: বাদ দাওতো এইসব।
মৌ: কেন বাদ দিবো হুম? (কিছুটা
চেচিয়ে)
ফায়সাল: দেখলাম নিজেকে নিজেই
বাশ দিতে কি
মজা অনুভব করা যায়।
মৌ: ও তাহলে এই কথা। তো আমার উপর
রাগ
দেখিয়ে এই কাজটা করছো তাই তো?
(খুব একটা
করুনার শুরে)
ফায়সাল: তা হবে কেনো?
মৌ : তাহলে এইভাবে বল্লা কেন? খুব
বাশ দিয়ে
ফেলছি আমি তাইনা। (অভিমান করে)
ফায়সাক: সরি ফাইজলামি করে বলছি।
মৌ আর কিছু বল্লোনা। মেয়েটা খুব কষ্ট
পেয়েছে ফায়সালের কথা শুনে।
ফায়াসাল আবার
বল্লো,আচ্ছা সত্যিকারের
ভালবাসাটা অনুভব করতে
কেমন লাগে?
মৌ কিছু বল্লোনা।
ফায়সাল: ও তুমিতো কাউকে সত্যিকার
ভাবে ভালবাসই
নাই তুমি জানবে কিভাবে? ওকে
তোমার বিয়ে
হলে তো তখন তোমার হাসবেন্ডকে
সত্যিকারেরি ভালবাসবা তখন কিন্তু
এইটার উত্তর টা
আমাকে দতে হবে।
মৌ এইবার চোখে ছলছল জ্বল নিয়ে
ফায়সালের
দিকে তাকিয়ে রইলো। এইবার নিজেকে
কন্টল
করতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো।বলতে গেলে
মেয়েটা ফায়সালের আজকের ঘটে
যাওয়া কার্য
কর্ম গুলো দেখে ওর প্রতি খুব দুর্বল হয়ে
গিয়েছে। কারন ফায়সালের ছোট একটা
কথায়
মেয়েটার চোখে পানি ছলছল
করতেছিলো। তা
থেকেই বুঝা যায় মেয়েটার মনের ভিতর
কি
চলতেছে।
মৌদের বাড়ির সামনে রিকশা এসে
পড়লো। মেয়েটা
বিষয়টা লক্ষ করেনি। ফায়সাল বল্লো
কি হলো
নামবে না?
মৌ ফায়সালের কথা শুনে ওর দিকে একটু
তাকিয়ে
রিকশা থেকে নেমে গেলো। কেন
যেনো
মেয়েটার রিকশা থেকে নামতে ইচ্ছা
করতেছিলোনা। বার বার মনে
হচ্ছিলো,দমটা মনে
হয় এখনি বন্ধ হয়ে যাবে। কারন রিকশায়
বসে থাকা
তার অক্সিজেনটা এখন তাকে রেখেই
চলে
যাবে।
"রিকশাটা চলা শুরু করলো মৌ
রিকশাটার দিকে এখনো
তাকিয়ে আছে "
ওইদিক দিয়ে ফায়সালের ও খুব শূন্য শূন্য
লাগতেছিলো। ফায়সাল বাসার সামনে
যেতেনা
যেতেই মৌ এর ফোন ফায়সাল মুচকি
একটা হাসি দিয়ে
ফোনটা রিসিভ করেই বলতে লাগলো,
ফায়সাল: কিরে ফোন দিলি কেন?
( নীজ ইচ্ছায় তুই
করে বল্লো)
মৌ ফায়সালের মুখে তুই ডাকটা শুনে
বল্লো,
এখনো কিন্তু আজকের দিনটা শেষ হয়
নাই।
(অভিমানের শুরে)
ফায়সাল কিছুটা সংকোচিত হয়ে
বল্লো,হুম।
মৌ: আমি আমার বাড়ির সামনে
দাড়িয়ে আছি,তোমার
কোট টা নিয়ে যাও।
ফায়সাল: কাল নিয়ে যাবো নে।
মৌ: এখন বলছি এখন আসবা। (রাগ নিয়ে
বল্লো)
ফায়সাল: ওকে আসতেছি।
ফায়সাল আবার একটা মুচকি হাসি
দিয়ে ওদের বাড়ির
উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য রওনা দিলো।
কিছু একটা
হতে চলছে ফায়সাল এইটা বুঝতে
পারলো।
.
কিছুখন পর ওদের বাড়ির সামনে যেয়ে
ছেলেটা
দেখলো মৌ এখনো সেই জায়গায়
দাড়িয়ে আছে
যেই জায়গায় ও রিকশা থেকে
নেমেছিলো।
ফায়সাল মৌ এর কাছে যেয়ে দাড়ালো
চাদের
আলোতে বুজায় যাচ্ছিলো মৌ এর
চোখে পানি!
ছলছল করতেছে।। দুইজন দুইজনের দিকে
তাকিয়ে রইলো। ফায়সাল মৌ এর কাছ
থেকে কোট
টা নিয়ে বল্লো,আমি আসি। এই বলেই
হাটা শুরু
করলো.... কিছু দূরে যেতেই বুঝতে
পারলো
কে যেনো পিছন থেকে কোট টা টান
দিয়ে
ধরেছে। পিছনেই ঘুরতে না ঘুরতেই
মেয়েটা
ফায়সালকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে
বলতে
লাগলো,ওই শয়তান,ফাজিল,কুত্তা
আমাকে রাইখা কৈ যাস।
(কান্না জড়িত কন্ঠে)
ফায়সাল কিছুই বলতেছেনা শুধু
মেয়েটার না বলা কথাটা
শুনার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।
মৌ আবার বলতে লাগলো, ভালইতো
সারা দিন আমার
ইমোশনাল নিয়ে খেলে খুব মজা
পাইছো তাই না।
আমি আর তোমাকে ছাড়তেছি না। আর
কোথাও
তোমাকে যাইতে দিতেছিনা i love u,
love u so
much.
ফায়সাল একটা মুচকি হাসি দিয়ে
বল্লো,হুম
মৌ: ফায়সালের দিকে তাকিয়ে একটু
রাগ নিয়ে
বল্লো হুম মানে কি?
ফায়সাল: i love u টা কি শুধু আজকের
জন্য।
মৌ ঠোট রাঙ্গানো একটু হাসি দিয়ে
বল্লো জানিনা।
এই বলেই কাছ থেকে দৌড় দিয়ে ওদের
বাড়ির
ভীতর চলে গেলো। আমিও মাথাটা
চুলকাতে
চুলকাতে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
কিছুখন পর
মোবাইলটা টং করে উঠলো। তাকিয়ে
দেখি মৌ এর
মেসেজ লিখা ছিলো, i love u টা
সারাজীবনের
জন্যেই হবে তবে, বাশ ও কিন্তু
সারাজীবন
খেতে হবে। মেসেজটা পরে ফায়সালের
মধ্যে যে ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি
হলো,আজ না
হয় কাল আপনাদেরও সেই অনুভূতিটা
সৃষ্টি হবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now