বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চলোমান জীবনের প্রতিচ্ছবি (সমস্ত পার্ট এক সাথে)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ইমতিয়াজ আহমাদ (০ পয়েন্ট)

X প্রতিদিনের মতো আজো মাহফুজ মধ্যরাতে নেশা করে দরজা ধাক্কাতে লাগলো। মাহফুজের পরিবারে মাহফুজ এবং তার মা আর ছোট বোন।এটাই হলো মাহফুজের ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় আপনজনদের মধ্য হতে সবচাইতে কাছের মানুষ।৬ মাস আগেও মাহফুজ অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই ছিলো।মাহফুজ যখন ইন্টার পরিক্ষার্থি তখন তার বাবা হঠাৎ হার্ট এটাক করে পরোপারে পারি জমান।বাবা ছিলো পোষ্ট মাষ্টারের সামান্য একজন পিয়ন। কিছুদিন পূর্বেই কাজ থেকে রিটায়ার করেছিলেন।বাবা মারা যাবার পর সংসারের সমস্ত বোঝা এসে পরে মাহফুজ এর কাধে।সরকার থেকে পাওয়া কিছু পেনশন আর মাহফুজের টিউশনি করে যা আয় হতো তা দিয়েই টেনেটুনে সংসার চলে যেতো।মাহফুজের জীবনে সবচাইতে বড় ধাক্কাটা আসে রিতা নামের একটি মেয়ের কাছ থেকে।চলার তাগিদে মাহফুজ নতুন একটি টিউশন তালাশ করছিলো।তখনি হাতে চাঁদ হয়ে ধরা দেয় এলাকার বিশিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আফজাল হোসেনের মেয়ে রিতা। রিতা তখন দশম শ্রেনীর ছাত্রী। সামনের পরীক্ষার জন্য তার দরকার ছিল একজন ভালো টিউটর। আর তখনই আফজাল হোসেনের চোখে মাহফুজ এসে ধরা দেয়। আফজাল হোসেন যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন আর রিতাকে পড়ানোর দায়িত্ব মাহফুজের হাতে সপে দেন।রিতা ছিল অসম্ভব সুন্দরী। তাই প্রথম দেখাতেই মাহফুজ তার প্রেমে পড়ে যায়। তবে কথায় আছে না পকেটে ১০ টাকা মনে হাজারটা স্বপ্ন এরই নাম মধ্যবিত্ত। তাই মাহফুজ কখনো তা প্রকাশ করত না। তবে রিতাকে পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে আড়চোখে তার সৌন্দর্য উপভোগ করত। রিতা অবশ্য বিষয়টা খেয়াল করতো তবে সে এ ব্যাপারে কিছু বলত না। একদিন রিতা মাহফুজকে বলল প্রতিদিন পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে কি দেখেন? মাহফুজ তার প্রশ্নে ভয় পেয়ে গেল।রিতা মাহফুজকে বলল আজকে যদি আপনি আমার এই প্রশ্নের জবাব না দেন তাহলে আমি আমার আব্বুকে সব বলে দেব। মাহফুজ তখন বলে প্রথম দেখাতেই তোমাকে আমার ভাল লেগে যায় আমি কোন পর্যায়ে আছি সেটা আমি ভাল করেই জানি । তাই বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়াতে চাইনা। এখন যদি তোমার আব্বুকে কিছু বলতে চাও তাহলে বলতে পারো।রিতা অবশ্য মাহফুজের কথায় অবাক হলেও এই কিছুদিনে সে মাহফুজের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। রিতা তখন মাহফুজের কথার উত্তরে বলে আপনার সাহসিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আর কিছুদিন যাবত আপনার প্রতি আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি। আর আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তখন থেকেই মাহফুজের সাথে রিতার প্রেম শুরু হয়। মাহফুজ রিতার সাথে প্রেম করলে কী হবে? সে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রিতাকে পড়ানো শুরু করে। ফলে রিতা এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে এ প্লাস অর্জন করে। একদিন কিভাবে যেন আফজাল সাহেবের কানে মাহফুজ এবং রিতার প্রেমের খবর চলে আসলো। তখন সাথে সাথেই মাহফুজকে বের করে দেন। তার পরের দিনই রিতার সাথে অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেন। মাহফুজ মন প্রান দিয়েই রিতাকে ভালোবাসতো। সে যতবারই রিতার সাথে দেখা করার চেষ্টা করত ততবারই আফজাল সাহেব তাকে কুকুরের মত দূর দূর করে তাড়িয়ে দিত। একদিন রিতা মাহফুজের বন্ধুর মাধ্যমে তাকে খবর পাঠায় যে গোপন একটি জায়গা দেখা করতে। মাহফুজ সেখানে গেলে রিতা তাকে অনেক গালমন্দ করে আর বলে তার সাথে যেন আর দেখা না করে। মাহফুজ তাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে তখন রীতা মাহফুজকে বলে তার মত ছোট লোকের ছেলের সাথে তার সম্পর্ক রাখা সম্ভব না। মাহফুজ সেদিন অনেক কষ্ট পায়। আর সেই দিন থেকেই নেশার সাথে তার পরিচয়। মাহফুজের মা মাহফুজকে অনেক বুঝায় এই সব ছেড়েছুড়ে ভাল পথে আসতে । কিন্তু মাহফুজ যে কষ্ট পেয়েছে ভুলে থাকার জন্য নেশাকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে। মাহফুজের মা চিন্তা করে দেখল হয়তো ছেলেকে বিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মাহফুজ কে বিয়ে করার জন্য অনেক পীড়াপীড়ি শুরু করে। কিন্তু মাহফুজের এক কথা সে আর অন্য কোন মেয়ের জীবন নষ্ট করতে চায় না। এরই মাঝে তার ছোট বোনকে দেখতে একটি সম্বন্ধ আসে এবং বরপক্ষ তার ছোট বোনকে খুব পছন্দ করে এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার ছোট বোনের বিয়ে হয়ে যায়। তখন বৃদ্ধ মায়ের কথা চিন্তা করেই মাহফুজ বিয়ের জন্য রাজি হয়। তখন সে তার মাকে শর্ত দেয় যে বিয়ের পর সেই মেয়ে তার মার সাথে ঘুমাবে। তার সাথে ঘুমাতে পারবে না। অতঃপর যথারীতি ছোটখাটো আয়োজনের মধ্য দিয়ে মাহফুজের বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। মাহফুজ বাসর রাতে গিয়ে দেখে তার বউ তার জন্য মুখে ঘুমটা দিয়ে অপেক্ষা করছে। মাহফুজ তাকে বলে দেখো এই বিয়েটা আমার সম্মতিতে হয়নি তাই আমার সাথে থাকা তোমার প্রশ্নই আসে না সুতরাং তুমি এখন আমার মার কাছে চলে যাও। আজ থেকে তুমি সেখানেই ঘুমাবে। এই কথা বলা মাত্রই মেয়েটা মাহফুজের মায়ের কাছে চলে গেল। তবে যাওয়ার সময় মাহফুজের কানে কান্নার মতো ফোঁপানির শব্দ এলো। ♥♠♦ কিছুদিন পরের কথা, প্রতিদিনের মত আজও মাহফুজ নেশা করার জন্য মায়ের কাছে টাকা চাইতে গেলো।এরই মাঝে একরাতে বৃষ্টিতে ভেজার করনে দুই দিন প্রচন্ড জ্বরে ভুগেছে।দুইদিন নেশা করতে পারেনি। তাই আজ নেশার জন্য মনটা আনচান করছিল। গিয়ে দেখে মা মাগরিবের নামাজ আদায় করছেন। আর তার সাথে মাহফুজ সেই মেয়েকেও তার মায়ের সাথে নামাজ আদায় করতে দেখলো। তাদের বিয়ে হয়েছে দুই মাস হলো। কিন্তু এই দুই মাসে সেই মেয়ে তার কাছে আসেনি, কারন সেই তাকে আসতে মানা করে দিয়েছে। তাই ভালোভাবে কখনো সেই মেয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করেনি।,কিন্তু আজ যখন সেই মেয়েকে মনের অজান্তে পরিপূর্ণ ভাবে দেখতে পেল, তখন তার কাছে মনে হল যেন স্বর্গ থেকে ১ টা হুর দুনিয়াতে নেমে এসেছে। সে ফ্যালফ্যাল করে সেই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকলো। মনে মনে চিন্তার সাইমুম ঝড় বইতে লাগলো, মানুষ এত সুন্দর কিভাবে হতে পারে?এ কোন মানুষ নাকি ডানা কাঁটা পরী!!নামাযে তার মুখায়ব আরো মায়াবী মনে হলো মাহফুজের কাছে।অবশেষে মায়ের ডাকে তার ভাবনায় ছেদ পড়ল।মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেশার আড্ডায় চলে গেল। আড্ডা থেকে যখন বাসায় ফিরলো তখন রাত একটা বাজে। বাসায় এসে যখন দরজায় টোকা দিলো তখন মনে হল টোকা দেওয়ার সাথে সাথে দরজা কেউ খুলে দিয়েছে। হঠাৎ তার খেয়াল হল দুই মাস যাবত তার সাথে প্রতিদিনি এমন হচ্ছে। যেন কেউ তার অপেক্ষা করছে। প্রায় এসে দেখে খাবার টেবিলে তার জন্য খাবার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মাঝে মাঝে খাবারের চাহিদা থাকলে খায়, আর না হলে নিজের রুমে চলে যায়। তার কিছুদিন পরের কথা। মাহফুজের বোন তার স্বামীকে সাথে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে মাকে দেখতে ঢাকায় এসেছে। কিছুদিন পর সে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাচ্ছে। তাই মার কাছ থেকে বিদায় নিতে এসেছে। রাতের বেলা খাবারের পর তার বোন মাহফুজের রুমে এলো, দেখল মাহফুজ রুমের লাইট অফ করে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। তার বোন মাহফুজকে জিজ্ঞাসা করল, ভাইয়া ঘুমিয়ে গিয়েছিস? মাহফুজ: না,কিছু বলার থাকলে বলতে পারিস। বোন: ভাইয়া তুই নিলিমা আপুকে এত কষ্ট দিস কেন? মাহফুজ: নীলিমা আবার কে? বোন: কে আবার? তোর স্ত্রী!!তুই জানিস!যখন তোর জ্বর ছিলো তখন নিলিমা আপু সারাটা দিন সারাটা রাত তোর পাশে ছিলো।তোকে সুস্থ করে তুলতে দিন রাত এক করে দিয়েছে। যখন তুই রাত করে বাসায় ফিরিস তখন সে তোর অপেক্ষায় জেগে থাকে।রাতের খাবারটা পর্যন্ত খায়না।যেদিন তুই রাতের খাবার খাস সেইদিন সেও খায়।আর যেদিন তুই রাতের খাবার খাসনা সেইদিন সে না খেয়েই চুপচাপ শুয়ে থাকে।দেখ ভাইয়া! একটা মেয়ে তোকে ধোকা দিয়েছে বলে সমস্ত মেয়ে জাতিকে খারাপ ভাবাটা অন্যায়।আশা করি আমার কথাটা ভালোভাবে ভেবে দেখবি। মাহফুজ তার বোনের কথা শুনে ভাবনার অতল সাগরে হারিয়ে গেলো।ঠিকই তো! সেই মেয়ের কি দোষ! আমি যে সেই মেয়ের প্রতি বিনাদোষে এতো অবিচার করছি তাকি বিধাতা মেনে নিবেন?ভূল তো আমারই ছিলো যে বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে গিয়েছি।যেই মেয়ে কোন দিনি আমার হবেনা তাকে নিয়ে চিন্তা করাও তো ছিলো আকাশ কুসুম কল্পনা!তাই বলে সব মেয়েকে এক সারিতে রেখে সবাইকে একরকম ভাবাও তো মহা পাপের সামিল!!এই সব চিন্তা করতে করতে কখন যে মাহফুজ ঘুমের অতলে হারিয়ে গেলো সে টেরও পেলোনা। মাহফুজের বোন তার স্বামিকে নিয়ে ১সপ্তাহ মাহফুজদের বাসায় বেড়িয়ে শশুর বাড়ি চলে গেলো।এই এক সপ্তাহ বোনের মান ইজ্জতের দিকে তাকিয়ে মাহফুজ আর নেশা টেশা করেনি।বোন চলে যাবার পর ১জনের কাছ থেকে টাকা ধার করে নেশার আড্ডায় চলে গেলো।আজ রাতে একটু আগে ভাগে বাসায় চলে এলো।কারন আজ আকাশ থেকে টিপ টিপ করে বৃষ্টি পরছে।নেশার আড্ডা থেকে ভিজতে ভিজতেই মাহফুজ বাসায় এসে পৌছায়।বাসায় এসে আরাম করে একটা গোছল সেরে এসে তার রুমের বারান্দার একটি কেদারায় এসে বসলো।কিছুক্ষন আগেই বৃষ্টি থেমে গেছে আর আকাশে আলোক ঝলমলে খুব সুন্দর একটি চাঁদ উকি দিয়েছে।রাস্তায় জমে থাকা বৃষ্টির পানি আর চাঁদের চিক চিক করা অথৈ আলোর ফেয়ারায় এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ♥♠♦ গোছলের কারনে আজ মাহফুজের মনটা অনেক প্রফুল্ল লাগছে। আর বারান্দায় এমন মায়াবী এক পরিবেশের স্যান্নিদ্ধে এসে এই প্রথম মাহফুজের অন্তরে জন্ম নিলো অন্য রকম এক অনুভূতি, অন্য রকম এক ভালো লাগার পরশ। আজ প্রথম মাহফুজের অন্তর অভাব বোধ করলো এমন একটি হাতের,যে হাত তার এলোমেলো জীবনের সমস্ত রুপরেখা গুলোকে পরিপূর্ণ ভাবে পরিবর্তন করে দিবে। অভাব বোধ করলো এমন এক বন্ধুর,যে তার বিপদে আপদে ছাঁয়ার মতো তার পাশে থাকবে,যে তার মনের ব্যথা বুঝতে সক্ষম হবে,যে হবে তার সুখের পাশাপাশি দুঃখেরও সমান ভাগিদার।অভাব বোধ করলো এমন এক সঙ্গীর, যে তার জীবন সম্পূর্ণ ভাবে পাল্টে দেবে এবং ভুলিয়ে দেবে অতিতের কলংময় কালিমার জঞ্জাল।গোছলের কারনে আজ মাহফুজের মন মেজাজ সতেজ এবং ফুরফুরে লাগছে। সেই সাথে পেটের মদ্ধে ক্ষুধাটাও জেগে উঠেছে প্রবল ভাবে।খাবারের জন্য টেবিলে এসে দেখতে পেলো তার জন্য আগেই টেবিলে খাবার সাজিয়ে রাখা হয়েছে।জীবনে এই প্রথম বার নিলীমার সাথে একসাথে বসে খাবার খাওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছে হলো মাহফুজের।এই কয়েক দিনে নিলিমার প্রতি সে প্রচন্ড আকর্ষণ অনুভব করেছে। এবং অনুভব করেছে তার প্রতি ভালো লাগার এক প্রচন্ড মায়াময়ী টান, কিন্তু কিসের যেন এক অদৃশ্য বাধার প্রাচীর তাদের মাঝে এসে দারিয়েছে।কি সেই প্রাচীর? কি সেই বাধা? তা নিজেও সে জানেনা।এই প্রাচীর ভাঙ্গার চেষ্টা সে করেছে বারবার বহুবার।কিন্তু কিসের যেন এক জড়তা, কিসের যেন এক বিব্রতভাব, কিসের যেন এক সলজ্জিত পরিস্থিতি তাকে পিছু হটিয়ে দিয়েছে বারবার প্রতিবার।প্রতিদিনি চেয়েছে সমস্ত প্রাচীর ভেঙ্গে মাটির সাথে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে,চেয়েছে লজ্জার ভেদাভেদ ভূলে তার সঙ্গে কথা বলতে।তেমনি ভাবে আজো চেয়েছে নিলিমাকে ডেকে এনে তার পাশে বসিয়ে নিজের হাতে পরম যত্নে খাইয়ে দিতে,কিন্তু অস্পষ্ট এক জড়তার কারনে সে আজো তা করতে ব্যার্থ হয়।অবশেষে চুপচাপ খেয়েদেয়ে উঠে যায় খাবার টেবিল থেকে।রুমে এসে আবার বারান্দার চেয়ারে এসে বসে চাঁদের নির্মল নরম আলো উপভোগ করে, আর হারিয়ে যায় পিছনের অতিত জীবনের সুদূর গহিনে। এরকম চিন্তার পিছুটানের কিছুক্ষণ এর মধ্যে হাঠাৎ তার সিগারেটের প্রচন্ড তেষ্টা পায়।প্যাকেটের জন্য রুমে এসে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সিগারেটের প্যাকেটটা খুঁজে পেলোনা।হঠাৎ মনে পরলো পকেট থেকে কোন ভাবে খাবার টেবিলের ওখানে পড়ে গেছে হয়তো?এই আশায় সে তা খুঁজতে খুঁজতে খাবার টেবিলের ওখানে চলে আসে, এবং সেখানে এসে নিলিমাকে দেখতে পায় যে সে টেবিল থেকে খাবারের বাসন পত্র সরিয়ে নিচ্ছে।আচমকা মাহফুজের আগমনের কারনে নিলিমার সাথে মাহফুজের চোখাচোখি হয়ে গেলো আর উভয়ের শরীরে খেলে গেলো বিদ্যুতের ন্যায় এক তরঙ্গের প্রবাহ।মাহফুজ আর নিলিমা এই সময় আর যাই হোক কেউ কাউকে এখানে আশা করেনি, তাই নিলিমা মাহফুজ কে দেখে ছুটে পালাতে চাইলো। এদিকে নিলমাকে দেখে মাহফুজের মুখ থেকে আচমকা বের হয়ে এলো, নিলিমা আমার জন্য এক কাপ চা নিয়ে আসতে পারবে?নিলিমা আর যাই হোক মাহফুজ তার সাথে কথা বলবে এমনটা আশা করেনি!নিলিমা হ্যা,না, কিছু না বলে মাথা নিচু করে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলো।মাহফুজ তার রুমের বারান্দায় এসে একটু আগে কি হয়ে গেলো তা নিয়ে চিন্তার গভীর সাগরে সাঁতারাতে লাগলো।তার চিন্তায় ছন্দপতন ঘটলো চায়ের কাপ রাখার শব্দে।মাহফুজ দেখতে পেলো নিলিমা চায়ের কাপ রেখে নিঃশব্দে তার পাশ কেটে চলে যাচ্ছে।মাহফুজ তা দেখে মনের অজান্তে নিলিমাকে বলে বসলো কোথায় যাচ্ছ তুমি?চলো আজ আমরা চাঁদের আলোয় বসে গল্প করি!এই বলে নিলিমার দিকে একটি চেয়ার বাড়িয়ে দিলো। নিলিমা প্রথমে একটু ইতস্তত করলেও অবশেষে নিলিমা চুপচাপ মাহফুজের দেয়া চেয়ারে বসে পড়লো,চাঁদের উজ্জ্বল মায়াময়ী আলোতে নিলিমার মুখাবয়ব আরো মায়াবী আরো নিষ্পাপ আরো লাবণ্যময় লাগছিলো।হঠাৎ নিলিমা মাহফুজ কে উদ্দেশ্য করে বলল আমাকে কি কিছু বলতে চান? মাহফুজ এতোক্ষন নিলিমার সুন্দর্য প্রাণ ভরে উপভোগ করছিলো নিলিমার কথায় মাহফুজ সম্বিত ফিরে পেয়ে বললো, মাহফুজ:আপনি ভালো করেই জানেন আমি কেমন মন মানসিকতার মানুষ সব কিছু জেনে শুনেও আমাকে বিয়ে করলেন কেন?? মাহফুজের কথা শুনে নিলিমা স্নান হেঁসে বলল আমার মা আমাকে জন্ম দিতে গিয়ে ছোট কালেই মারা যান,অতঃপর আমার বাবা অন্য আরেকটি বিয়ে করেন। ছোট কাল থেকেই আমি সৎ মার হাতে লালিত পালিত হই।আপনি হয়তো ভালো করেই জানেন যে সৎ মায়ের হাতে লালিত পালিত হওয়ার পরিনাম কি হতে পারে?আমার বেলাতেও তাই ঘটে।দিনের পর দিন সৎ মা আমায় না খাইয়ে রাখতো,সারাটা দিন কালুর বলদের মতো আমায় খাটাতো আর নিজের সন্তানদের রাখতো রাজার হালতে,সব সময় আমার ভূল ধরার জন্য তক্কে তক্কে থাকতো, কাজে একটু ভুল হলেই গালামন্দের প্রয়লংকারী তুফান শুরু হয়ে যেতো!! মাঝে মাঝে আবার গায়ে হাত পর্যন্ত উঠাতো।বাবা সবসময় মাকে প্রচন্ড ভয় পেতেন তাই মাকে সরাসরি সামনা সামনি ভাবে কখনো কিছু বলার সাহস পাননি,কিন্তু আড়ালে আড়ালে সব সময় আমাকে সন্তনা দিয়ে বলতেন মারে!আর কিছুদিন ধৈর্য ধর!,দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে.....জানেন! আমার পড়ালেখা করার অনেক সখ ছিলো,সবার মতো আমারো স্বপ্ন ছিলো অনেক বড় কিছু হবার।সৎ মায়ের সন্তানেরা যখন স্কুল থেকে বাসায় ফিরতো তখন আমি লুকিয়ে লুকিয়ে তাদের বই বের করে বইয়ের ছবির দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতাম।আমার পড়াশুনার আগ্রহ দেখে বাবা আমাকে একটি সন্ধাকালিন প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি করে দেন।সারা দিন কাজ করে সন্ধায় সেখানে পড়তে যেতাম।এখানেও আমার সৎ মায়ের প্রচন্ড দ্বিমত ছিলো।একদিন কোন এক ছুতোর রেশ ধরে আমার সমস্ত বই পত্র জ্বালিয়ে শেষ করে দিলো।সেদিন সারারাত আমি অঝোর ধারায় কেঁদেছি। বই হরানোর শোকে রাতে এক ফোটাও ঘুমাতে পারিনি। এমনি ভাবে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে ক্রমে ক্রমে যৌবনের সিঁড়িতে পদার্পণ করি।জীবনে কোনদিন স্বাধীনতার লেশ মাত্র পাইনি।তখন সব সময় আমার জীবন সঙ্গিকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনতাম। স্বপ্ন দেখতাম আমি যাকে বিয়ে করবো সে হবে আমার সবথেকে বড় আপনজন। তাকে বানাবো আমার সবথেকে কাছের বন্ধু।যাকে নিয়ে বেঁচে থাকবো তাকে নিয়ে দেখতাম ঘর বাধার সুন্দর সপ্ন। ক্রমে ক্রমে আমার বাবা ফুসফুস জনিত রোগে শয্যাশায়ী হয়ে পরলেন,তিনি তখন ছিলেন ক্ষনিকের পথিক মাত্র, তাই আমাকে সৎ মায়ের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি শেষ চেষ্টা করলেন,কোন কারনে আপনার মায়ের সাথে আমার বাবার ভালো সম্পর্ক ছিলো। তখন তিনি জানতে পারেন আপনার ছেলেকে বিয়ে দেবার জন্য পাত্রির সন্ধান করছেন।তাই তিনি আপনার মাকে খবর পাঠান পাত্রি হিসেবে আমাকে দেখে যাবার জন্য,আপনার মা একদিন আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে দেখে পছন্দ করেন এবং বিয়ের দিন ধার্য করেন,প্রথমে এই বিয়েতে সৎ মায়ের দ্বিমত থাকলেও পরে যখন আপনার অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলো তখন এটাকে সূবর্ন সুযোগ ভেবে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়ে দিয়ে আপদ বিদেয় করেন। দির্ঘ কথা বলে নিলিমা থামলো।মাহফুজ দেখতে পেলো নিলিমার চোখের কোনে নোনা পানির স্রোত ধারা ,পূর্ণিমার চাঁদের আলো যেন তা রুপান্তর করেছে অজস্র মুক্তোর অমূল্য রত্ন ভান্ডারে।কথা শেষ করে নিলিমা উঠে চলে যেতে উদ্যত হলে মাহফুজ হঠাৎ পিছন থেকে নিলিমার হাত চেপে ধরলো। নিলিমা মাহফুজের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলো অশ্রু সজল চোখে মাহফুজ তার দিকে তাকিয়ে আছে।মাহফুজ কোন রকম নিজের কান্না সংবরণ করে বলল নিলিমা!তোমার মতো আমারো এই জীবনে কোন বন্ধু নেই তুমি কি হবে আমার সেই বন্ধু! যাকে আমি বলতে পারবো আমার জীবনের না বলা হাজারো বেদনার কথা?যে হবে আমার সুখের পাশাপাশি দুঃখের সমান অংশীদার? নিলিমা মাহফুজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ছুটে চলে যেতে চাইলে মাহফুজ তার হাত আরো শক্ত করে ধরে নিজের বাহু বন্ধনে আবদ্ধ করে নিলো।নিলিমা প্রথমে ছটফট করলেও একসময় স্বপে দেয় নিজেকে তার বাহুবলে।আর সে মাহফুজের বুকে মাথা রেখে কাঁদতে থাকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ।তবে এ কান্নার অশ্রু কোন দুঃখের অশ্রু নয় বরং এ অশ্রু হলো প্রিয়জনকেপ ফিরে পাবার পরম আনন্দের সুখের অশ্রু। (সমাপ্ত) বিঃদ্রঃ আপনাদের পড়ার সুবিধার্থে সমস্ত পার্ট একসাথে করে দেয়া হলো গল্পটি কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।(emtiaz.taib) ♥on fb♥


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now