বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শাস্তি পর্ব (৮)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X দোলা রুমে একা বসে কাঁদছিল ।বাসায় আসার পর থেকে কারও সাথে কথা বলেনি।বলে দিয়েছে কেউ যেন ওকে বিরক্ত না করে।শান্তিতেই কাঁদতে পারছে এখানে এসে।হঠাত দরজায় শব্দ হল।বিরক্ত হয়ে বলল, -না করেছি না আমাকে বিরক্ত করতে?যাও এখান থেকে তবুও কড়া নেড়েই যাচ্ছে দরজায়।শেষমেষ দরজা খুলল।খুলে দেখে আকাশ সামনে দাঁড়িয়ে ।ও মাকে বলে এসেছিল একা থাকতে চায়।আকাশ যেন যোগাযোগ না করে আপাতত তার সাথে।তবুও মনে মনে আকাশকে অনেক মিস করছিল।এখন আকাশ সামনে দাঁড়িয়ে আছে।বিরক্ত হউয়ার ভান ধরে বলল, -আপনি কি করছেন এখানে? -বলছি। তার আগে ভিতরে আসতে পারি? -না।যান এখান থেকে।আমার মেজাজ ভাল না। আকাশ দোলার অনুমতির পরোয়া না করে হাত ধরে দোলাকে সাইড করে ভিতরে ঢূকে গেলো। -আজব তো!!!আমার রুমে এভাবে ঢুকে গেলেন যে? -আপনিও তো আমার রুমে এতদিন ছিলেন?আমার কপাল ফাটিয়ে দিয়েছেন,গীটার ভেঙ্গে দিয়েছেন।তবুও তো আপনাকে কিছু বলিনি।এখন আমিও আপনার এখানে কিছুদিন থাকব। হেসে বিছানায় গা এলিয়ে দিল আকাশ। এর মাঝেই দোলার মা রুমে ঢুকল।মাকে দেখে আকাশ উঠে বসতে বসতে বলল, -মা দেখুন আপনার মেয়ে আমাকে বের করে দিতে চাইছে।কিন্তু আমি তো কিছুদিন শ্বশুড়বাড়ি থাকতে চাই।প্লিজ বুঝান একটু আপনার মেয়েকে। -বের করে দিতে চায় মানে?তুমি যতদিন ইচ্ছা থাকতে পার বাবা।ওর কথায় কস্ট নিয়ো না। বলেই গরম চোখে দোলার দিকে তাকালেন। -বরের সাথে কেউ এভাবে কথা বলে?জামাই এই গরমে কস্ট করে এসেছে কই শরবত করে খাওয়াবি তা না ঝগড়া করছিস। তারপর আকাশকে বললেন, -বাবা তুমি বসো।আমি শরবত করে আনছি। আকাশ ব্যাস্ত হয়ে বলল, -আপনি আনবেন মানে?আমি খেলে আমার বউয়ের হাতে বানানো শরবত খাব নাহলে খাব না। তারপর দোলার দিকে তাকিয়ে বলল, -বউ যাও আমাকে এক গ্লাস শরবত করে খাওয়াও। বলেই দোলার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিল একটা।এসেই বাসায় ঝামেলা পাকাতে ইচ্ছে করছে না দোলার।তাই রাগে ফুলতে ফুলতে শরবত বানাতে গেল। - - শরবত নিয়ে এসে দেখে আকাশ ঘুমিয়ে গেছে।দোলা শব্দ করে গ্লাস টা টেবিলে রাখল।আকাশের চোখ লেগে এসেছিল প্রায়।শব্দে কাঁচা ঘুমটা ভেঙ্গে গেছে।উঠে বসতে বসতে বলল, -শরবত টা বরং আপনিই খান।আপনার মাথা মনে হচ্ছে আজ অনেক গরম। -আমি খাব মানে?কস্ট করে বানিয়ে এনেছি।এখন না খেলে গ্লাসটা আপনার মাথায় ভাংব। আকাশ বুঝল এটা দোলার জন্য অসম্ভব কিছু না।প্রথম রাতের অভিজ্ঞতা ভোলার মত নয়।কথা না বাড়িয়ে গ্লাসটা টেবিল থেকে নিয়ে এক টানে সবটা শেষ করল।দোলার হাসি পাচ্ছিল।তবুও মুখে একটা সিরিয়াস ভাব বজায় রেখে বলল, -আচ্ছা আপনি কেন আসলেন এখানে?যেকোন দিন আপনার মার্ডার করে ফেলতে পারি।আসাটা উচিত হয়নি। -কি করব বলুন বউ ছাড়া থাকতে পারিনা এখন।তাই চলে এসেছি।মারলে মেরে ফেলুন তবুও আপনার পিছন পিছনই দৌড়াবো। বলেই হাসতে লাগল আকাশ।দোলাও আর সিরিয়াস হয়ে থাকতে পারল না।সেও হেসে ফেলল। - - খাওয়া দাওয়া শেষে দোলার মা দোলাকে ডেকে নিয়ে বললেন, -শ্বশুড়বাড়িতে সবাই কেমন রে?ওখানেও রাগারাগী করিস নাতো? -হুম করি তো।সেদিন কাপ ভেঙ্গে ফেলেছিলাম।কিন্তু মা আমাকে কিছুই বলেননি উল্টো কাজের মেয়েকে বকেছেন। দোলার মা হতভম্ব হয়ে গেলেন। -কি বলিস এইসব?আকাশ কিছু বলেনা? -প্রথম প্রথম বলতো এখন উনিও কিছু বলেনা। দোলার মা মনে মনে স্বস্তি পেলেন।এরকম একটা পরিবারে মেয়ের বিয়ে দিতে পারবেন কখনও কল্পনাও করেননি।্মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন উনি।দোলা বলল, -আমাকে নিয়ে চিন্তা করোনা মা।আমি অনেক ভাল হয়ে থাকব এখন থেকে।উনারা অনেক ভাল জানো?উনাদের কস্ট দেব না আর। মনে একরকম প্রশান্তি কাজ করছে মায়ের।মেয়ে বদলাচ্ছে।বিয়েটা দিয়ে কোন ভুল করেননি উনারা। - - রুমে ঢুকেই দোলা দেখে আকাশ ল্যাপটপে কি যেন করছে। -কি করছেন? -আজ আপনার রেজাল্ট দিবে।ভুলে গেছেন? দোলারখেয়াল হল আজ এডমিশন এক্সামের রেজাল্ট দেওয়ার কথা ।আকাশের পাশে গিয়ে বসল সে।আকাশ জিগ্যেস করল, -আপনার রোল নাম্বারটা বলুন। দোলা কি বলবে বুঝতে পারছে না।রোলটা সে ভুলে গেছে।এডমিট কার্ড এখানে নিয়ে আসেনি। আকাশ দোলার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝল।দোলা বলল, - আমি মাকে কল দিয়ে জেনে নিচ্ছি। আকাশ আটকালো।বলল, -আমার মনে হয়েছে।জানতাম আপনি ভুলে যাবেন।তাই আমিও খেয়াল রেখেছিলাম রোল নাম্বারটা দিতেই রেজাল্ট এল।চান্স হয়েছে এবং পছন্দের সাবজেক্টই পেয়েছে দোলা।আকাশ খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল। -চান্সটা হয়েই গেল আপনার।কাল মিষ্টি নিয়ে আসব। ্দোলা একটু লজ্জা পেয়ে গেল।প্রাইভেট ভার্সিটিতে চান্স পেয়ে খুশি হতে কেন যেন ইগোতে লাগছে ওর।কিন্তু আকাশকে এতটা খুশি দেখে অনেক ভাল লাগছে আজ।।সব মন খারাপ,রাগ অভিমান নিমিষেই মুছে গেল মন থেকে।আকাশ বলল, -দেখি ভর্তি ডেট কবে।নতুন ভার্সিটিতে যাবেন কেনাকাটাও তো করতে হবে। বলে আবার ল্যাপটপে মনযোগ দিল আকাশ।দোলা আকাশকে দেখছে আর মনে মনে ভাবছে, ইশ্ প্রতিটা মেয়েই যদি এমন বর পেতো!!!নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে আজ।তারপর ভাবল,আকাশের ওকে বউ হিসেবে মানতে হবে না।এভাবেই মানুষটার সাথে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারবে সে। - - ঘুমাতে যাওয়ার সময় আকাশ দেখল দোলা একমনে কি যেন চিন্তা করছে।আকাশ বলল, -কি ভাবছেন?খুশি হননি আপনি? -খুশি হয়েছি অনেক। আপনাকে কি বলে ধন্যবাদ দিব তা বুঝতে পারছিনা। -ধন্যবাদ দিতে হবেনা।তবে একটা কাজ করতে পারেন।এমনিতেই অনেকটা পিছিয়ে গেছেন পড়াশুনায়।বেশি বেশি কোর্স নিয়ে তাড়াতাড়ি গ্র্যাজূয়েশন টা শেষ করবেন প্লিজ।তাহলেই আমি খুশি। দোলার একটু ভয় করছে।গ্র্যাজুয়েশন শেষ হউয়ার পর যদি আকাশ ওকে চলে যেতে বলে?মাকে ছেড়ে আর আকাশকে ছেড়ে থাকার কথা সে চিন্তাও করতে পারছে না। ও বলল, -একটা কথা জিগ্যেস করব? -হুম করুন -গ্র্যাজুয়েশন শেষ হউয়ার পর কি আপনি আমাকে চলে যেতে বলবেন? আকাশ কি বলবে বুঝতে পারছে না।দোলা ওর প্রতি দুর্বল হয়ে গেছে এটা সে বুঝে গেছে।দোলাকে কস্ট দিতে ইচ্ছে করছেনা গত রাতের মত।সে বলল, -আপনাকে ছাড়া মা থাকতে পারবে ভেবেছেন?চলে যাওয়ার প্ল্যান বাদ দিন বুঝলেন?আমার সাথে ফেঁসে গেছেন সারা জীবনের জন্যই। -আর আপনার? আমাকে ছাড়া থাকতে আপনার কস্ট হবেনা? দোলার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে আকাশের জন্য। দোলাকে ভালবাসে কিনা জানে না কিন্তু বাবার বাড়ি চলে আসার পর অনেক খারাপ লেগেছিল। আকাশ দোলার গালে হাত রেখে বলল, -অনেক কস্ট হবে।আপনার মত পাগলি বউকে ছাড়া থাকা অনেক কঠিন। দোলা নিজেকে সামলাতে পারল না।আকাশকে জড়িয়ে ধরল শক্ত করে।আকাশ কি করবে বুঝতে পারছে না।তমার মুখটা মনে পড়ে যাচ্ছে বারবার।বুকের দিকে শার্টটা ভিজে গেছে।বুঝল দোলা কাঁদছে ।আকাশ আস্তে করে দোলাকে জড়িয়ে ধরে বলল, -কাঁদবেন না প্লিজ।আমি আছি তো (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৯১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now