বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চলোমান জীবনের প্রতিচ্ছবি (শেষ পর্ব)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ইমতিয়াজ আহমাদ (০ পয়েন্ট)

X গোছলের কারনে আজ মাহফুজের মনটা অনেক প্রফুল্ল লাগছে। আর বারান্দায় এমন মায়াবী এক পরিবেশের স্যান্নিদ্ধে এসে এই প্রথম মাহফুজের অন্তরে জন্ম নিলো অন্য রকম এক অনুভূতি, অন্য রকম এক ভালো লাগার পরশ। আজ প্রথম মাহফুজের অন্তর অভাব বোধ করলো এমন একটি হাতের,যে হাত তার এলোমেলো জীবনের সমস্ত রুপরেখা গুলোকে পরিপূর্ণ ভাবে পরিবর্তন করে দিবে। অভাব বোধ করলো এমন এক বন্ধুর,যে তার বিপদে আপদে ছাঁয়ার মতো তার পাশে থাকবে,যে তার মনের ব্যথা বুঝতে সক্ষম হবে,যে হবে তার সুখের পাশাপাশি দুঃখেরও সমান ভাগিদার।অভাব বোধ করলো এমন এক সঙ্গীর, যে তার জীবন সম্পূর্ণ ভাবে পাল্টে দেবে এবং ভুলিয়ে দেবে অতিতের কলংময় কালিমার জঞ্জাল।গোছলের কারনে আজ মাহফুজের মন মেজাজ সতেজ এবং ফুরফুরে লাগছে। সেই সাথে পেটের মদ্ধে ক্ষুধাটাও জেগে উঠেছে প্রবল ভাবে।খাবারের জন্য টেবিলে এসে দেখতে পেলো তার জন্য আগেই টেবিলে খাবার সাজিয়ে রাখা হয়েছে।জীবনে এই প্রথম বার নিলীমার সাথে একসাথে বসে খাবার খাওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছে হলো মাহফুজের।এই কয়েক দিনে নিলিমার প্রতি সে প্রচন্ড আকর্ষণ অনুভব করেছে। এবং অনুভব করেছে তার প্রতি ভালো লাগার এক প্রচন্ড মায়াময়ী টান, কিন্তু কিসের যেন এক অদৃশ্য বাধার প্রাচীর তাদের মাঝে এসে দারিয়েছে।কি সেই প্রাচীর? কি সেই বাধা? তা নিজেও সে জানেনা।এই প্রাচীর ভাঙ্গার চেষ্টা সে করেছে বারবার বহুবার।কিন্তু কিসের যেন এক জড়তা, কিসের যেন এক বিব্রতভাব, কিসের যেন এক সলজ্জিত পরিস্থিতি তাকে পিছু হটিয়ে দিয়েছে বারবার প্রতিবার।প্রতিদিনি চেয়েছে সমস্ত প্রাচীর ভেঙ্গে মাটির সাথে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে,চেয়েছে লজ্জার ভেদাভেদ ভূলে তার সঙ্গে কথা বলতে।তেমনি ভাবে আজো চেয়েছে নিলিমাকে ডেকে এনে তার পাশে বসিয়ে নিজের হাতে পরম যত্নে খাইয়ে দিতে,কিন্তু অস্পষ্ট এক জড়তার কারনে সে আজো তা করতে ব্যার্থ হয়।অবশেষে চুপচাপ খেয়েদেয়ে উঠে যায় খাবার টেবিল থেকে।রুমে এসে আবার বারান্দার চেয়ারে এসে বসে চাঁদের নির্মল নরম আলো উপভোগ করে, আর হারিয়ে যায় পিছনের অতিত জীবনের সুদূর গহিনে। এরকম চিন্তার পিছুটানের কিছুক্ষণ এর মধ্যে হাঠাৎ তার সিগারেটের প্রচন্ড তেষ্টা পায়।প্যাকেটের জন্য রুমে এসে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সিগারেটের প্যাকেটটা খুঁজে পেলোনা।হঠাৎ মনে পরলো পকেট থেকে কোন ভাবে খাবার টেবিলের ওখানে পড়ে গেছে হয়তো?এই আশায় সে তা খুঁজতে খুঁজতে খাবার টেবিলের ওখানে চলে আসে, এবং সেখানে এসে নিলিমাকে দেখতে পায় যে সে টেবিল থেকে খাবারের বাসন পত্র সরিয়ে নিচ্ছে।আচমকা মাহফুজের আগমনের কারনে নিলিমার সাথে মাহফুজের চোখাচোখি হয়ে গেলো আর উভয়ের শরীরে খেলে গেলো বিদ্যুতের ন্যায় এক তরঙ্গের প্রবাহ।মাহফুজ আর নিলিমা এই সময় আর যাই হোক কেউ কাউকে এখানে আশা করেনি, তাই নিলিমা মাহফুজ কে দেখে ছুটে পালাতে চাইলো। এদিকে নিলমাকে দেখে মাহফুজের মুখ থেকে আচমকা বের হয়ে এলো, নিলিমা আমার জন্য এক কাপ চা নিয়ে আসতে পারবে?নিলিমা আর যাই হোক মাহফুজ তার সাথে কথা বলবে এমনটা আশা করেনি!নিলিমা হ্যা,না, কিছু না বলে মাথা নিচু করে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলো।মাহফুজ তার রুমের বারান্দায় এসে একটু আগে কি হয়ে গেলো তা নিয়ে চিন্তার গভীর সাগরে সাঁতারাতে লাগলো।তার চিন্তায় ছন্দপতন ঘটলো চায়ের কাপ রাখার শব্দে।মাহফুজ দেখতে পেলো নিলিমা চায়ের কাপ রেখে নিঃশব্দে তার পাশ কেটে চলে যাচ্ছে।মাহফুজ তা দেখে মনের অজান্তে নিলিমাকে বলে বসলো কোথায় যাচ্ছ তুমি?চলো আজ আমরা চাঁদের আলোয় বসে গল্প করি!এই বলে নিলিমার দিকে একটি চেয়ার বাড়িয়ে দিলো। নিলিমা প্রথমে একটু ইতস্তত করলেও অবশেষে নিলিমা চুপচাপ মাহফুজের দেয়া চেয়ারে বসে পড়লো,চাঁদের উজ্জ্বল মায়াময়ী আলোতে নিলিমার মুখাবয়ব আরো মায়াবী আরো নিষ্পাপ আরো লাবণ্যময় লাগছিলো।হঠাৎ নিলিমা মাহফুজ কে উদ্দেশ্য করে বলল আমাকে কি কিছু বলতে চান? মাহফুজ এতোক্ষন নিলিমার সুন্দর্য প্রাণ ভরে উপভোগ করছিলো নিলিমার কথায় মাহফুজ সম্বিত ফিরে পেয়ে বললো, মাহফুজ:আপনি ভালো করেই জানেন আমি কেমন মন মানসিকতার মানুষ সব কিছু জেনে শুনেও আমাকে বিয়ে করলেন কেন?? মাহফুজের কথা শুনে নিলিমা স্নান হেঁসে বলল আমার মা আমাকে জন্ম দিতে গিয়ে ছোট কালেই মারা যান,অতঃপর আমার বাবা অন্য আরেকটি বিয়ে করেন। ছোট কাল থেকেই আমি সৎ মার হাতে লালিত পালিত হই।আপনি হয়তো ভালো করেই জানেন যে সৎ মায়ের হাতে লালিত পালিত হওয়ার পরিনাম কি হতে পারে?আমার বেলাতেও তাই ঘটে।দিনের পর দিন সৎ মা আমায় না খাইয়ে রাখতো,সারাটা দিন কালুর বলদের মতো আমায় খাটাতো আর নিজের সন্তানদের রাখতো রাজার হালতে,সব সময় আমার ভূল ধরার জন্য তক্কে তক্কে থাকতো, কাজে একটু ভুল হলেই গালামন্দের প্রয়লংকারী তুফান শুরু হয়ে যেতো!! মাঝে মাঝে আবার গায়ে হাত পর্যন্ত উঠাতো।বাবা সবসময় মাকে প্রচন্ড ভয় পেতেন তাই মাকে সরাসরি সামনা সামনি ভাবে কখনো কিছু বলার সাহস পাননি,কিন্তু আড়ালে আড়ালে সব সময় আমাকে সন্তনা দিয়ে বলতেন মারে!আর কিছুদিন ধৈর্য ধর!,দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে.....জানেন! আমার পড়ালেখা করার অনেক সখ ছিলো,সবার মতো আমারো স্বপ্ন ছিলো অনেক বড় কিছু হবার।সৎ মায়ের সন্তানেরা যখন স্কুল থেকে বাসায় ফিরতো তখন আমি লুকিয়ে লুকিয়ে তাদের বই বের করে বইয়ের ছবির দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতাম।আমার পড়াশুনার আগ্রহ দেখে বাবা আমাকে একটি সন্ধাকালিন প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি করে দেন।সারা দিন কাজ করে সন্ধায় সেখানে পড়তে যেতাম।এখানেও আমার সৎ মায়ের প্রচন্ড দ্বিমত ছিলো।একদিন কোন এক ছুতোর রেশ ধরে আমার সমস্ত বই পত্র জ্বালিয়ে শেষ করে দিলো।সেদিন সারারাত আমি অঝোর ধারায় কেঁদেছি। বই হরানোর শোকে রাতে এক ফোটাও ঘুমাতে পারিনি। এমনি ভাবে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে ক্রমে ক্রমে যৌবনের সিঁড়িতে পদার্পণ করি।জীবনে কোনদিন স্বাধীনতার লেশ মাত্র পাইনি।তখন সব সময় আমার জীবন সঙ্গিকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনতাম। স্বপ্ন দেখতাম আমি যাকে বিয়ে করবো সে হবে আমার সবথেকে বড় আপনজন। তাকে বানাবো আমার সবথেকে কাছের বন্ধু।যাকে নিয়ে বেঁচে থাকবো তাকে নিয়ে দেখতাম ঘর বাধার সুন্দর সপ্ন। ক্রমে ক্রমে আমার বাবা ফুসফুস জনিত রোগে শয্যাশায়ী হয়ে পরলেন,তিনি তখন ছিলেন ক্ষনিকের পথিক মাত্র, তাই আমাকে সৎ মায়ের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি শেষ চেষ্টা করলেন,কোন কারনে আপনার মায়ের সাথে আমার বাবার ভালো সম্পর্ক ছিলো। তখন তিনি জানতে পারেন আপনার ছেলেকে বিয়ে দেবার জন্য পাত্রির সন্ধান করছেন।তাই তিনি আপনার মাকে খবর পাঠান পাত্রি হিসেবে আমাকে দেখে যাবার জন্য,আপনার মা একদিন আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে দেখে পছন্দ করেন এবং বিয়ের দিন ধার্য করেন,প্রথমে এই বিয়েতে সৎ মায়ের দ্বিমত থাকলেও পরে যখন আপনার অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারলো তখন এটাকে সূবর্ন সুযোগ ভেবে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়ে দিয়ে আপদ বিদেয় করেন। দির্ঘ কথা বলে নিলিমা থামলো।মাহফুজ দেখতে পেলো নিলিমার চোখের কোনে নোনা পানির স্রোত ধারা ,পূর্ণিমার চাঁদের আলো যেন তা রুপান্তর করেছে অজস্র মুক্তোর অমূল্য রত্ন ভান্ডারে।কথা শেষ করে নিলিমা উঠে চলে যেতে উদ্যত হলে মাহফুজ হঠাৎ পিছন থেকে নিলিমার হাত চেপে ধরলো। নিলিমা মাহফুজের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলো অশ্রু সজল চোখে মাহফুজ তার দিকে তাকিয়ে আছে।মাহফুজ কোন রকম নিজের কান্না সংবরণ করে বলল নিলিমা!তোমার মতো আমারো এই জীবনে কোন বন্ধু নেই তুমি কি হবে আমার সেই বন্ধু! যাকে আমি বলতে পারবো আমার জীবনের না বলা হাজারো বেদনার কথা?যে হবে আমার সুখের পাশাপাশি দুঃখের সমান অংশীদার? নিলিমা মাহফুজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ছুটে চলে যেতে চাইলে মাহফুজ তার হাত আরো শক্ত করে ধরে নিজের বাহু বন্ধনে আবদ্ধ করে নিলো।নিলিমা প্রথমে ছটফট করলেও একসময় স্বপে দেয় নিজেকে তার বাহুবলে।আর সে মাহফুজের বুকে মাথা রেখে কাঁদতে থাকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ।তবে এ কান্নার অশ্রু কোন দুঃখের অশ্রু নয় বরং এ অশ্রু হলো প্রিয়জনকে ফিরে পাবার পরম আনন্দের সুখের অশ্রু।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now