বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
~ মামনি মামনি
> হ্যা মামনি বল
~ আমার বউ পুতুলটা বর পুতুলের ওপর রাগ
করেছে।
> ও তাই?
~ হ্যা মামনি। এখন কি করি?
> তোমার বর পুতুলটাকে বল সে যেন বউ
পুতুলকে একটি কবিতা শুনিয়ে দেয়।
তবেই রাগ কমে যাবে।
.
রিয়া(মেয়ে) কিছুক্ষণ ভেবে বলল
~ কিন্তু মামনি আমার বর পুতুল তো
কবিতা জানে না।
> ওই যে ভদ্র লোক খাটে শুয়ে আছে।
তাকে বল। সে ভাল ভাল কবিতা
লিখতে পারে।
.
রিয়া সেই ভদ্রলোক অর্থ্যাৎ তার
বাবার কাছে গেল।
.
~ বাবা বাবা
- উহু (ঘুমে বিভোর)
~ আমাকে একটা কবিতা লিখে দাও।
আমার বউ পুতুলের রাগ ভাঙ্গাতে হবে।
- (নো আন্সার)
~ এই বাবা (গা ধাক্কা দিয়ে)
- কি হইছে? (কিছুটা বিরক্তি নিয়ে)
~ কবিতা লিখে দাও।
- আমি পারি না। যা এখান থেকে। (ধমক
সুরে)
.
রিয়া কেদে উঠল। রিফাত লাফিয়ে
উঠল। কারণ রিয়ার কান্না আওয়াজ যদি
সাদিয়ার কানে পৌছায় তবে
রিফাতের ওপর তান্ডব চলবে।
.
রিফাত রিয়ার মুখ চেপে ধরল। যাতে
কান্নার শব্দ শোনা না যায়।
- আরে মামনি কাদে না। কবিতাই
তো? এক্ষুনি লিখে দিচ্ছি।
রিফাত লক্ষ্য করল। রিয়ার কান্না
থেমে গেছে। তাই রিফাত, এইতো
আমার লক্ষি মামনি বলে রিয়ার মুখ
ছেড়ে দিল। ওমনি রিয়া দৌড় দিয়ে
তার মামনির কাছে চলে গেল।
রিফাত ভয়ে আত্মহারা। মেয়েটা
ইদানিং ভারি দুষ্টু হয়েছে। কিছু হলেই
মামনির কাছে বিচার দিবেই দিবে।
.
~ মামনি মামনি বাবা আমাকে
বকেছে। (কিছুটা কান্নার ভাব। তবে
চোখে পানির অভাব)
> কি! আমার মামনিটাকে বকেছে? এত
বড় সাহস। চল দেখি তো।
.
সাদিয়া এসে দেখল রিফাত
বিছানায় নেই। এমন ভয়ংকর
পরিস্থিতির সময় রিফাত সবসময়
বাথরুমেই লুকিয়ে থাকে।
.
> এই বের হও বলছি।
- গোসল দিচ্ছি।
> বের হবা নাকি বাইর থেকে
আটকিয়ে দিব?
.
নিরুপায় হয়ে দরজা খুলল। রিফাত দেখল
সাদিয়ার চোখে আগুন ঝরছে। আর
অন্যদিকে রিয়ার মুখে দুষ্টু হাসি। এই
পিচ্চির জন্য রোজ সকালে কিছু না
কিছু ঘটবেই।
.
> আমার মামনিকে বকেছ কেন?
- কই নাতো।
> একদম মিথ্যক বলবে না। (হুংকার দিয়ে
বলল)
রিফাত ভয়ে চুপসে গেল।
- আরে কবিতাই তো। এক্ষুনি লিখে
দিচ্ছি।
.
রিফাতের অবস্থা দেখে সাদিয়া
মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল
> ঠিক আছে। আমার মামনি যেন আর না
কাদে।
- আরেকবার দাও না। ওই মিষ্টি হাসি।
.
রিফাত সাদিয়ার রাগ মাখা মুখটি
দেখে বলল
- আচ্ছা থাক লাগবে না।
.
সাদিয়া আবার সেই মিষ্টি হাসি
দিয়ে চলে গেল। রিফাত রিয়াকে
কাছে ডেকে কোলে তুলে নিল।
- এই দুষ্টু, কবিতার জন্য মাকে বলা
লাগে?
~ কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি
লিখে দাও। বউ পুতুলের রাগ ভাঙ্গাতে
হবে।
- বাপরে বাপ এত শাসন? অনেক পেকে
গেছিস। একদম মায়ের মত হয়েছিস।
~ দিবা নাকি মামনিকে ডাকব?
- আচ্ছা বাবা দাড়া দিচ্ছি। খালি
মামনি মামনি করিস কেন?
~ কবিতা দাও তো।
.
অতঃপর কবিতা লিখে দিল। তা নিয়ে
রিয়া চলে গেল খেলতে। সেই
সুযোগে রিফাত পাকঘরে এসে
সাদিয়াকে জড়িয়ে ধরল।
.
> এই কি হচ্ছে? ছাড় বলছি।
- আরে বাহ এত কষ্ট করে কবিতা
লিখলাম। আর এখন একটু আদরও পাব না?
> মাইর চিনো? মাইর দিব। ছাড়।
.
রিফাত সাদিয়াকে তার দিকে
ফিরিয়ে দু হাতের বাহুতে জড়িয়ে
ধরলো।
- হায়রে আমার ভাগ্য। আগে কবিতা
লিখতাম তোমার রাগ ভাঙ্গানোর
জন্য। আর এখন লিখি পুতুলের রাগ
ভাঙ্গানোর জন্য।
.
সাদিয়া রিফাতের নাক টিপে বলল
> আহারে।
- এই দেখি দেখি তোমার ঠোটে ওটা
কি?
> কই কি?
.
রিফাত এই সুযোগে আলতো পরশ বসিয়ে
দিল। সাদিয়া লজ্জায় লজ্জাবতী হয়ে
গেল। রিফাত সাদিয়াকে জড়িয়ে
ধরে বাহুতে আবদ্ধ করে নিয়ে নিল।
.
> এই ফাজিল কোথাকার‚ মেয়ে বাবা
হয়েছ কিন্তু এখন অসভ্যতা যায়নি?
- কেন বাবা হলে কি রোমান্স কমে
যায়?
> আসলে তুমি ………
.
তখনই রিয়া এসে বলল
~ মামনি মামনি আমার বউ পুতুলের রাগ
কমে গেছে।
.
রিয়াকে দেখে সাদিয়া রিফাতের
বাহু থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে
নিয়ে রিয়ার কাছে গেল।
.
> রাগ কমেছে। তাহলে তো ভালই। এখন
কি তুমি নাস্তা করবে?
রিয়া মাথা নেড়ে হ্যা বলল।
সাদিয়া রিয়াকে কোলে তুলে নিল।
> এইতো লক্ষি মা আমার।
~ মামনি তখন বাবা আমাকে খুব
বকেছে। তাই আমার মন খারাপ।
> তাই বুঝি? দাড়াও ওনাকে মজা
দেখাচ্ছি।
.
রিফাত মনে মনে ভাবল এখন আবার কি
হবে?
- আমি তো কবিতা লিখে দিয়েছি।
~ তাতে কি হয়েছি। তুমি আমাকে
বকেছ কেন?
- আচ্ছা বল কি করতে হবে?
~ আমাকে ১০টা পাপ্পি দিতে হবে।
- ও বকা দিলে পাপ্পি দিতে হয়?
~ হ্যা।
.
রিফাত সাথে সাথে সাদিয়া বকা
দিল। হঠাৎ রিফাতের বকা শুনে
সাদিয়া কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা
খেয়ে গেল।
.
> এই তুমি আমাকে বকা দিলে কেন?
- ওহ স্যরি। পাপ্পি দিয়ে দেই।
> মেয়ের সামনে এসব বলতে লজ্জা
লাগে না। (ফিসফিসিয়ে)
- বারে তোমার মেয়েই তো বলল বকা
দিলে পাপ্পি দিতে হয়। ……… তাই না
মামনি?
~ হ্যা তাই।
- সুতরাং পাপ্পি দেই?
.
> দাড়াও পাপ্পি দেখাচ্ছি তোমাকে।
সাদিয়া খুন্তি নিল হাতে। রিফাত
দৌড় দিয়ে পাকঘরের ওপারে যেয়ে
বলল
- অন্যায় অন্যায় অন্যায়। একজন বলে বকা
দিলে পাপ্পি দিতে হয়। অন্যজন
পাপ্পির কথা বললে মারতে চায়। এই
দেশে বিচার নেই।
> দাড়াও বিচার করাচ্ছি।
.
সাদিয়া এক পা এগোলো। আর রিফাত
দৌড় দিয়ে পালিয়ে গেল। সাদিয়া
মনে মনে বলছে পাগল একটা।
(ফেইসবুকের রোমান্টিক গল্প থেকে কপি করা। পোষ্ট :সাদমান সাকিব)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now