বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছন্নছাড়া

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X তোমার সাথে আর রিলেশন রাখা সম্ভব না। সেদিনই আমি বুঝে নিছিলাম আমি একজন ভুল মানুষকে চিহ্নিত করেছি। যে মানুষটি আমার যোগ্য না। মেয়েটি যখন বলেছিলো আমাকে ছেড়ে চলে যাবে তখন আমি তার জন্য একটুও কাদিনি। বরং চলে যাওয়ার রাস্তাটা প্রশস্ত করে দিয়ে হাসি মুখে তার হাত ধরে দু'কদম এগিয়ে দিয়ে আসলাম। যাওয়ার সময় মেয়েটা কে কিছুই বলিনি। তবে সেদিন ডায়েরিতে একটা কথা লিখে রাখছিলাম, একদিন তুমি আমাকে খুঁজবে। পাগলের মত আমাকে চাইবে। . সেদিন মেয়েটা কে আমি বলিনি আমাকে ছেড়ে প্লীজ চলে যেওনা। বরং ওর চলে যাওয়াতে এই ভেবে আনন্দ লাগছিলো যে আমি একটা ভুল কে শুধরানোর সুযোগ পেয়েছি। সেদিন আমি মেয়েটাকে বলিনি সুনা পাখি,জান পানি, ময়না পাখি, ফিরে এসো প্লিজ। কারণ আমার জানা ছিলো, যে চলে যেতে চায় সে হাজারো অনুরুধে কখনো ফিরে আসবে না। সুতরাং তাকে তার মত যেতে দেওয়াটাই শ্রেয়। আমি তখনই বুঝে নিছিলাম সময়ের আগে কোনো কিছু চাওয়া বা কল্পনা করা ঠিক না। বরং সময় হলে সে এমনিতেই আমার কাছে ধরা দিবে। . মেয়েটির চলে যাওয়াতে আমার মধ্যে কোনো রকম পরিবর্তন আসেনি। বরং আমি আমার মত চলতে লাগলাম। একটা রাত ও তার জন্য নির্ঘুম কাটাইনি। প্রত্যেকটা রাত নিশ্চিন্তে ঘুমোতে যেতাম। বালিশে মাথা রেখে কখনো ও তার কথা আমি ভাবিনি। তবে কত দিন কত ঘন্টা কত মিনিট কত সেকেন্ড তার জন্য ব্যয় করলাম সেটার হিসাব প্রতিদিনই করতাম। আমি কখনো তার চলে যাওয়াতে নিকোটিন স্পর্শ করিনি। বরং নিজেকে নিয়ে সব সময় ভাবতাম। . আমি জানি কারোর চলে যাওয়াতে ভেঙ্গে পড়া চলবে না। বরং নিজেকে ভালোবাসতে হবে। নিজেকে নিয়ে ভাবতে হবে। আমি তাই করতাম। সব সময় নিজেকে নিয়ে ভাবতাম। নিজেকে সব সময় ব্যস্ত রাখতাম। নিজের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য আমি সর্বদা চিন্তা করতাম। নিজের মিশনে সাকসেস হওয়ার জন্য আমি মাথার ঘাম পায়ে ফেলতাম। আমার বাবা মা আমাকে বলতেন না তোর চেহারা কয়েকদিন থেকে এত ফ্যাকাসে কেন। তোর এত টেনশন কিসের? বরং আমার বাবা মা আমাকে বলতেন নিজেকে একটু স্বস্তিতে থাকতে দে। এত ব্যস্ত থাকলে আড্ডা দিবি কখন? . সেদিন একটা মেয়ের সাথে কিছুক্ষণ কথা হলো। কথা বলার একপর্যায়ে মেয়েটা বলেছিলো ভাইয়া ভালোবাসা কি? আমি এককথায় উত্তর দিয়েছিলাম নিজের খেয়ে নিজেকে নিয়ে না ভেবে অন্য একটা মানুষকে নিয়ে ভাবার নাম হলো ভালোবাসা। মেয়েটা রেগে সেখান চলে গিয়েছিলো। হয়তো আমার উত্তরটা তার পছন্দ হয়নি। অথবা আমার থেকে এরকম একটা উত্তরের আশাবাদী ছিলো না। আমি মেয়েটার চলে যাওয়া দেখে হাসছিলাম। খুব হাসছিলাম। . কিছুদিন আগে একটা ছেলে আমাকে বললো ভাইয়া আপনি কি তাকে ভালোবাসতেন না? সত্যি করে বলুন। আমি কিছুক্ষণ মৌনাবলম্বন করে বললাম হুম বাসতাম তবে ভুল মানুষকে। ছেলেটা বললো তার কথা কি আপনার স্মরণ হয়না? উত্তরে মৃদু হেসে বললাম নিজেকে নিয়ে সব সময় ভাবলে অন্যকে নিয়ে ভাবার টাইম কই পাই। নিজেকে টাইম দেয়ার পর অন্যকে টাইম দেয়ার মত সময় বাকি থাকেনা। আমার ব্যস্ততা আমাকে ভুলিয়ে দেয় কেউ একজন আমার জীবনে ছিলো। আর হ্যাঁ তার স্মৃতিতে মগ্ন থেকে নিজের টাইম নষ্ট করার চাইতে নিজেকে নিয়ে নিজের ফ্যামেলিকে নিয়ে ভাবা আমার কাছে উত্তম। . সেদিন পার্কের বেঞ্চিতে বসে আছি এমন সময় কেউ একজন আমার পাশ থেকে বললো কেমন আছেন আপনি? উত্তরে বলেছিলাম তোমার চলে যাওয়াতে যতটুকু ভালো আছি তুমি থাকলে হয়ত ততটুকু ভালো থাকতে পারতাম না। মেয়েটি তখন বললো আমাকে কি একেবারে ভুলে গেছেন? উত্তরে বলেছিলাম সঠিক ধরেছো আগে যতটুকু তোমাকে স্মরণ রাখতাম তার চেয়ে বেশী ভুলে গেছি। মেয়েটি আমার পাশে কিছুক্ষণ ঠায় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। অতঃপর কেঁদে কেঁদে সেখান থেকে চলে গেলো। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো তার ক্রন্দন দেখে আমার সেদিন আমার মন কেঁদে উঠেনি। মেয়েটি চলে যাওয়ার সময় বারবার পিছনের দিকে তাকাচ্ছিলো। তার এহেন আচরণ দেখে আমার ভীষণ হাসি পাচ্ছিলো। মেয়েটি পিছনে বারবার তাকাচ্ছিলো। ভাবছিলো হয়তো আমি তাকে ফিরানোর চেষ্টা করবো। কিন্তু আমি তা করিনি। তাকে যেতে দিয়েছি। ৪মাস গত হওয়ার পর ও মানুষ অধিকার খাটাতে আসে। কি সাংঘাতিক। . সেদিন ডায়েরীর সেই প্রথম লাইনের ঠিক নিচে লিখলাম, আজ তুমি আমাকে খুঁজছিলে। পাগলের মত আমার হতে চাইছিলে। কিন্তু আমি তোমাকে তোমার মত দূরে ঠেলে দিয়েছি। সেখানে আরেকটা কথা লিখে রাখলাম আমি কারোর হাতের পুতুল না। ইচ্ছা হলে আদর করবে। ইচ্ছা হলে মাটিতে ছুড়ে ফেলবে। . এইতো দুদিন আগে এক ছোট ভাই আমাকে বললো ভাইয়া আমাকে কেউ ভালোবাসে না। আমি তার কথা শুনে উচ্চস্বরে কতক্ষণ হাসলাম। অতঃপর বললাম তুই নিজেকে ভালোবাসতে শিখিস নি। আগে নিজেকে ভালোবাসতে শিখ। নিজেকে টাইম দে। নিজেকে সবার সামনে তুলে ধর। দেখবি সবাই তোকে নিজ থেকে ভালোবাসবে। . ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে সারাদিন রাত দেয়ালের সাথে মাথা টুকিয়ে কোনো লাভ নেই। তার চেয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। নিজেকে ভালোবাসুন। নিজেকে টাইম দেয়ার চেষ্টা করেন। তাহলে দেখবেন সব কিছু আগের মত হয়ে গেছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now