বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সম্পর্কের গোলকধাঁধা

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X ১৫ বছর এর বড় হওয়া সত্ত্বেও রায়হান এর সাথে বিয়েটা হয়েই গেলো। এই ঈদ আমার শ্বশুর বাড়িতে প্রথম ঈদ। আম্মা শিখিয়ে দিয়েছিল,বাসায় গুরু জনরে সবাইকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করবে। গাড়ি থেকে নেমে যখন রায়হান আর আমি বাসার ভিতরে ঢুকবো,দরজার সামনে প্রায় ৩০জন দাড়ানো,কয় জনকে সালাম দিব এই ভেবে বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। সালাম দেয়া শুরু করলে রাত শেষ হয়ে যাবে।একদম সামনে দুজন মহিলা দাড়ানো ছিল,রায়হান এর মা এবং দাদি। আগে মা কে সালাম দিলাম,সালাম দিয়ে উঠে বললাম,ঈদ মোবারাক মা। সে আমায় কিছু না বলেই ভিতরে চলে গেল। কিছুই বুঝলাম না,হয়তো দাদির আগে তাকে সালাম দিছি তাই রেগে গেছে। যাক, দাদিকে সালাম দিয়ে বললাম,দাদি শরীর ভালো আপনার? দাদি ও কিছু না বলে হন হন করে ভিতরে চলে গেল। চারদিকের সবাই হাসছে,ভাবলাম এ আমি কই আসলাম? সবাই পাগল নাকি? এর মাঝেই রায়হান আমার হাত ধরে রুম এ নিয়ে গেল। আমিতো লজ্জা ই পেয়েছিলাম,বুড়া হলেও বউ এর প্রতি কি টান। আমি:- এই যে বুড়া লজ্জা নাই?সবার সামনে দিয়া নতুন বউ কে নিয়ে রুম এ আসলা যে? রায়হান:- রুম এ আসছি কি স্বাধ এ? তুমি আমার বড় বোন কে মা বলছো আমি:- তাহলে মা কই? রায়হান:- তারে তো তুমি দাদি বানাইয়া দিছো। আল্লাহগো,কি মসিবত এ পরলাম আমি।সালাম দিয়া কি ভেজাল এ পরলাম।ওর বড় বোন তাই আমার মায়ের বয়সি। আর ওই বুড়া মহিলা আমার শাশুড়ি। বিয়ের আগে ছবি দেখা উচিৎ ছিল। যাই শাশুরীর মান ভাঙিয়ে আসি। গিয়ে দেখি সে রুম এ দরজা দিয়ে রেখেছে। অনেক নক করার পর দরজা খুলছে। -মা আপনি রাগ করেছেন? না মা আমি রাগ করিনি। মন খারাপ। -কেন মা? আসলে আমার নানু খুব অসুস্থ। আমি কতক্ষন হা করে তাকিয়ে বলি আপনার নানু? বলে হি হি করে হেসে দিছি। শাশুড়ি আম্মা ক্ষেপে আমায় বের করে রুম দিয়া বের করে দিলেন। আমার কি দোষ,শাশুড়ি আম্মাই এক পা কবরে দেয়ার বয়স তার মা ও না,তার নানু এখনো জীবিত। বেশ বয়স পেয়েছে। মন খারাপ করে রায়হান এর রুম এ যাচ্ছি, এমন সময় আমার বয়সী কয়েকজন আমায় পা ধরে সালাম দিল। আমি তাদের উঠিয়ে বললাম,ওঠো ভাইয়ারা।ভাবলাম দেবর-ননদ।ওরা হেসেই বলে,মামি তুমি আমাদের ভাইয়া কেন বলো? খাইলাম আবার বিলা । ভাবছি আর মুখ খুলবো না।রায়হান এর কাছে গেলাম,ভাবলাম আজ ঈদ এর দিন,রায়হান কে একটা সালাম দেয়া উচিৎ। একমাত্র ওরে সালাম দিয়াই লজ্জা পাবোনা।বুড়া আছে। সালাম দিব বলে প্রস্তুত হচ্ছি, ভাবলাম হয়তো ও সিনেমার মতন আমায় তুলে বলবে,ওগো তোমার জায়গা আমার বুকে।নিচু করে বসে সালাম দিতে নিলাম,রায়হান আটকাচ্ছে না। সালাম দিয়ে দেখি সামনে রায়হান নাই,আছে একটা বাচ্চা।আনুমানিক ৫বছর হবে। রায়হান সামনে দিয়া চলে গেছে।আমি ভুলে ওই বাচ্চারেই সালাম দিছি। এই বাচ্চা আবার কে! যেহেতু বুড়া বুড়া পোলাপান ই আমার ভাগ্নে -ভাগ্নি তাহলে এ বাচ্চা মনে হয় আমার নাতি। বিয়ে হতে না হতেই আমি নানী হয়ে গেলাম। বাচ্চারে কোলে নিয়া বলি,কি বাবু নতুন নানী কে পছন্দ হয়েছে? ও বলছে তুমি তো আমার রাঙা ভাবি। পরে জানি ও রায়হান এর চাচাতো ভাই। কোন ঘরে আসলাম,বুড়া রা সম্পর্কে ছোট আর বাচ্চারা সম্পর্কে বড়। পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি,রায়হান কাঁদছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? ও বলে ওর বড় মা মারা গেছে। বললাল,আমার শ্বশুর আব্বার দুটা বউ আগে জানতাম নাতো। রায়হান রেগে বললো,আমার মা এর নানীকে বড় মা বলি। আমি আবার আহাম্মক হইলাম। এখন সান্তনা দেয়ার ভাষা ই খুঁজে পাচ্ছিনা।নতুন বিয়ে স্বামীর প্রতি ই মায়া হয়নায় তার উপর নানী শাশুড়ির প্রতি। যাক একটা সান্তনা দেয়া উচিৎ। উঠেই বললাম,রায়হান, সে মারা গেছে তুমি কিছু মনে করোনা। ও আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলে,না কিছু মনে করবো কেন,সে তো আমার বেয়াইন লাগে। রায়হান ও হন হন করে চলে গেল রুম থেকে। শ্বশুর বাড়ি আমায় পুড়া বিলা বানাইয়া দিল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now