বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সুলতাকে ভালবাসার জন্য প্রপোজ করেছিলাম বছর চারেক আগে। তারপর দু'বছর তো আঠার মতো পিছেই লেগে ছিলাম।কিন্তু তাতে আমার জুতো ক্ষয় হওয়া ছাড়া আর কোন লাভ হয় নি। আমি অবশ্য অনেকবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম কেন ভালবাসবে না। সে একটা মলিন হাসি ছাড়া আর কিছু দেয় নি।
হঠাৎ করে সেদিন মেসেজ দিলো সুলতা। আইসক্রিম খেতে চায়। আমি তো মহাখুশী।আমি রিপ্লাইয়ে লিখলাম - কখন? সুলতা প্রতিউত্তরে জানালো," আগামীকাল সন্ধ্যায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সামনে এসে কল দিয়েন। আমি ওখানে ফোটোগ্রাফের ক্লাশ করি। "আমার মনে তখন পৈশাচিক আনন্দ কাজ করছে। যেমনটা কোন নোবেলজয়ী নেত্রী রোহিঙ্গা মেরে পায়।
পরদিন বিকেলে দেড় ঘন্টা শাওয়ার নিলাম। সমস্যা হলো ড্রেস আপ নিয়ে। এতোদিন পর দেখা। কি পড়ে যাই ভাবতে ভাবতে আরো আধা ঘন্টা সময় নষ্ট করলাম।অবশেষে অপ্রিয় লাল রঙের গেঞ্জি আর কালো জিন্স পড়ে বের হলাম।
বাস থেকে নামলাম বাংলামোটর। গুগল ম্যাপের সহায়তায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রটাও খুঁজে বের করলাম।কয়েকবার কল দিলাম সুলতা কে।মেসেজও করলাম।কোন রেসপন্স নেই।আমি একটা চায়ের দোকানে বসে সুলতার ফিডব্যাকের অপেক্ষা করছি।
এমন সময় একটা আননোন নাম্বার থেকে কল আসলো।রিসিভ করতেই সুলতা বলে উঠলো," স্যরি আমার ফোনের ব্যালেন্স শেষ। এটা আমার ক্লাশমেটের নাম্বার। আপনি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের গেটের সামনে এসে দাঁড়ান।" আমি ফোন রেখে সেদিকে এগোলাম।
গেটের সামনে আসতেই দেখি সুলতা আমার জন্য অপেক্ষমাণ। আমি আসতেই বলে উঠলো," কেমন আছেন ? " আমি বললাম, " ভালো। "
সুলতা এবার বললো," চলুন এগোন যাক।" আমরা হাটতে শুরু করলাম।আমি জিজ্ঞাসা করলাম," কোথায় যাচ্ছি আমরা? " সুলতা উত্তরে বললো," শাহবাগের দিকে।" এবার আমি বললাম," রিকশা নিবো ? " সুলতা না করে দিলো।আমি বুঝতে পারলাম সুলতা চায় না আমার সাথে রিকশার পাশে বসতে। যাই হোক আমি তো আর তার প্রেমিক না।
আমরা হাটতে থাকলাম।এর মাঝে দূর্ভাগ্যক্রমে আমার হাতের আঙুলগুলো সুলতার আঙুলগুলো ছুঁয়ে দিলো।মুহূর্তে যেন আমার ভেতরটা শীতল হয়ে গেলো। মনে হলো কেউ যেন বন্যার পানি ঢেলে দিয়েছে হৃদয়ে।যেমনটা ভারত ফারাক্কা বাধ খুলে দেয়।
ঠিক এ সময় আইস্ক্রিমের গাড়ী এসে থামলো। সুলতা আইস্ক্রিম নিলো।সে একটা আইস্ক্রিম নিলো। আমি অবশ্য বললাম আরো কয়েকটা নিতে। সুলতা নিলো না।সুলতা হাটতে হাটতেই আইসক্রিম খেতে লাগলো।
আমি অবশ্য সুলতার দিকে চেয়ে রইছি।আগের চেয়ে বেশ সুন্দরী হয়েছে। কিন্তু চেহারায় কেমন যেন মলিনিতা।মন খারাপের কারণটা কি তবে আমি ? সাত পাঁচ না ভেবে জিজ্ঞাসা করেই ফেললাম," কোন কারণে কি মন খারাপ ? " সুলতা বললো," মন খারাপ না। তবে মুড অফ। "
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, " কেন ? " সুলতা বললো," আজ আনোয়ারা দেখেছি।" আমি জিজ্ঞাসা করলাম," আনোয়ারা কে ? " সুলতা হেসে বললো," আনোয়ারা হচ্ছে রাজ্জাকের মুভি।তার স্মরণে দশ দিন যাবৎ বিশ্ব সাহিত্যে কেন্দ্রে তার অভিনীত চলচ্চিত্র প্রদর্শীত হচ্ছে। " আমি এবার জিজ্ঞাসা করলাম," তো এতে মুড অফের কি আছে? " সুলতা বললো," শেষে আনোয়ারার দাদী মারা যায়। খুব প্যাথেটিক ছিলো দৃশ্যটা।"
আমি হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না।তবে এটুকু বুঝলাম সবাই আমার মতো নায়িকাদের ঝর্নার নিচে স্লান করার দৃশ্য দেখে না।অবশ্য কথায় কথায় জানতে পারলাম সুলতার দাদীও মারা গেছে। ভীষণ কষ্ট পেলাম শুনে।
কখন যে শাহবাগ এসে পড়েছি খেয়াল নেই।আমি সুলতাকে এবার জিজ্ঞাসা করলাম," কোথায় যাচ্ছি আমরা ? " সুলতা বললো," আজিমপুর। " আমি বললাম," রিকশা নেই। " সুলতার এবারো না।মনে মনে ভাবলাম সে অনেক চালাক।রিকশায় বসে বাতাসে উড়ন্ত কেশের ঘ্রাণ নিতে দিবে না।
টি.এস.সির মোড় পের হতেই সুলতার কল আসলো।তার কোন এক ভার্সিটির ফ্রেন্ড কল দিয়েছে। মেয়ে ফ্রেন্ড অবশ্য। কিন্তু বেচারির কথা শেষ হচ্ছে না।মেয়ে ফ্রেন্ডটার উপর মেজাজ গরম হচ্ছে।হবেই বা না কেন ? কই আছো,কি করো,পড়ালেখা কেমন চলছে,হোস্টেলে সীট পাবো কি না, খরচ কতো ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করেই চলছে।আর সুলতা বলেই যাচ্ছে। এভাবে কথা বলতে বলতে ইডেনের সামনে চলে আসলাম।
আমার তখন মন চাচ্ছে সুলতার সেই ফ্রেন্ডের মাড়ির দাতগুলো প্লাস দিয়ে তুলে ফেলি।তবে আর কাউকে কল দিয়ে এভাবে ফাই চাটতে পারবে না।কথা বলতে গেলেই ব্যথায় উহ আহ করে উঠবে।
সুলতা কথা শেষ করে বললো," স্যরি।" আমি একটা ফেক হাসি দিয়ে বললাম," ইটস ওকে।"তারপর আমি বলেই ফেললাম," চলেন বিয়ে করি। " সুলতা হেসে উঠলো।
বললো," আম্মু পাত্র দেখতেছে। কিন্তু সব পাত্রর গায়ের রঙ কালো।তার ফর্সা পাত্র দরকার।" বুঝলাম আমার কপাল পুড়া। আমার মতো আলকাতরার মতো রঙের অধিকারীর এই বর্ণবাদী মায়ের মেয়ের বর হওয়া সম্ভব না।
খানিকদূর যেতেই সুলতা বললো," এবার যে বিদায় নিতে হয়।সামনেই আমাদের বাসা।একসাথে দেখলে সমস্যা। " আমি বললাম," ওকে যান।কি আর করা। " সুলতা আর সময় নষ্ট করলো না।বাই বলে হাটা শুরু করে দিলো।একবারো পিছে ফিরে দেখলো না।
আমিও বাসে উঠলাম।ভাড়া দিতে গিয়ে দেখি মানিব্যাগ হাওয়া।বেশ কিছু টাকা ছিলো।আম্মু এতীমখানায় দেবার জন্য আর শার্ট কিনার জন্য দিয়েছিলো।বুঝতে পারলাম লোকাল বাসে উঠলে এই অবস্থাই হবে।হেল্পারকে বললাম," ভাই মানিব্যাগ তো চুরি গেলো।" বেচারা আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। তারপর চলে গেলো।
বাসায় আসার সাথে সাথে আম্মু জিজ্ঞাসা করলো," এতীমখানায় টাকা দিয়ে এসেছিলি ? " আম্মুকে কখনো মিথ্যে বলি নি।আজ বললাম," হা দিয়েছি। " ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে ফোনটা হাতে নিতেই দেখলাম সুলতার মেসেজ।সুলতা লিখেছে - খুব রাগ হচ্ছে আমার প্রতি তাই না ? জানেন আমিও না আপনাকে ভালবাসতে চাই। কিন্তু তা আর কখনো সম্ভব না। আমার ক্যান্সার। আমাকে ভুলে গিয়ে ভাল থাকবেন।"
® পিশাচ™
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now