বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছোটবেলা থেকেই এটা সেটা হারাতে অভ্যস্ত আমি। হারাতে হারাতে যখন নিঃস্ব হয়ে যাই, তখনই মূল্যবান কিছুকে পেয়ে যাই আমি। আবার হারানোর জন্য।
সেই মূল্যবান অমূল্যকে যখন খুঁজে পাই, তখন হারানোর সব ব্যাথা ভুলে যেতে ইচ্ছে করে। অতল কোনো সুখের সাগরে ডুবে যেতে ইচ্ছে করে। কোনো ইয়ত্তাই থাকে না যে, এই অমূল্যকেও আমার হারাতে হবে। ভুল করেও কখনও মনে পড়ে না, কখনও না।
নিজেকে আমার এই মুহূর্তে অপয়া মনে হচ্ছে। জানি, আমা কথাগুলো অনেকের ছোট্ট মেয়ের ছেলেমানুষী অভিমান মনে হচ্ছে।
মনে হতেই পারে। এইজন্য কাউকে আমি দোষ দেব না। অন্ধবিশ্বাস যদি কারো মনে ঢুকে যায়, সে ছাড়া বাকি সবারই একই কথা মনে হবে। আমার কাছে এই অনুভূতিটা কী, তা আমি কোনোদিন বলে বোঝাতে পারব না, অনন্তকাল ধরে চেষ্টা করলেও না।
আমি একজন অসহায় কিশোরী, যে এই অসহায়ত্বের ভেতর অভিজ্ঞতা খোঁজার চেষ্টা করছে।
ছোটবেলা থেকে শুরু করে অনেক বন্ধু হারিয়েছি আমি। যাকেই ‘সবচেয়ে ভাল বন্ধু’ ভাবতাম, সে-ই দূরে চলে যেত। হাইস্কুলে অবশেষে তিনজনের একটা দল গড়েছিলাম আমি, শূন্য আর শত্তরের। দলের একটা সুন্দর নামও ছিল। ‘কাহিনী’, আমাদের তিনজনের নামের তিনটি অক্ষর দিয়ে গড়া... এক অপূর্ব কাহিনী।
শত্তর ইটালিতে পাড়ি জমানোর পর তো দলটাও গেল ভেঙ্গে। আর হাইস্কুলটাকেও তো ছেড়ে এলাম।
হাইস্কুলের সাথে আমার সম্পর্কটা মোটেও ভাল ছিল না। মনে হতো, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছাড়া পেলে বাঁচি।
কই? এখন তো তেমন মনে হচ্ছে না!
হুমায়ূন আহমেদের খুব ভক্ত আমি। দুর্ভাগ্য ছিল আমার, আমি তার ভক্ত যখন হলাম তখন তিনি আর নেই। তিনিও পাড়ী জমালেন ... ওপারে।
একটা ইংরেজি সিনেমার সিরিজ ছিল। আমার খুব পছন্দের। নায়ক নায়িকার জুটিটা ছিলো আমার দারুণ পছন্দের। চাইতাম, ওদের জুটিতে যেন কারো নজর না লাগে। কিন্তু যখন তাদের ভক্ত হলাম, সেটাও শেষ।
আমার সবচেয়ে পছন্দের গানের দল- ‘ওয়ান ডিরেকশন’... সেটাও তো ভেঙ্গে গেল এক নিমিষেই। এবং আমার সাথে সাক্ষাতের পর পরই।
এদের সবাই ছিল ক্ষণকালীন। এরা হঠাৎ এসেছিল, মন ছুঁয়েছিল, হঠাৎই চলে গেল। এদের যাওয়ার পর একটা ক্ষতস্থান থেকে যায়, ধীরে ধীরে ক্ষতটা ভরে যায়। তারপর দাগটা থেকে যায়। তার জন্য কেউ বা কারো জীবন থেমে থাকে না।
জীবন এবং সময়- তাদের নিজস্ব গতিতে গতিশীল।
যাও, তুমিও চলে যাও, ভাই। তোমাকেও আমি আটকাব না। তাছাড়া, আমার আটকানো আর না আটকানোতে কীই বা এসে যায়? তোমাকে তো যেতেই হবে!
জীবন আর সময়ের মত তোমাকেও তাই যেতে দিলাম।
আমি তোমাকে অনেকদিন ধরে মোটেও চিনি না। তোমাকে চিনি, ব্যস দু’বছর হলো। আগে তো জানতামই নাকে মাশরাফি! আমি কি আর সবার মতোন ক্রিকেট পাগল ছিলাম নাকি?
আমি তো মনমরা, গোমরা, একঘেয়ে, বইপোকা একটা মেয়ে। কে জানে কীসের নেশা আমায় পাগল করে দিল!
আমি বোধ হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কাউকেই চিনতাম না... যদি না তোমার সাথে পরিচয় হতো, ভাই।
দু’বছরের ক্রিকেট ভূতটা তৃতীয় বছরে এসে নামতে চলেছে।
ভূত তাড়ানোর জন্য ওঝার ব্যবস্থা আছে, ভূতে পাওয়ার জন্য কে আছে?
যে-ই থাক, এই ভূতকে তুমি ছাড়া আর কেউ আটকাতে পারবে না, ভাই।
তাও, চলে যাও, ভাই। মায়া বাড়িয়ো না। মায়া জিনিসটাকে প্রচণ্ড ঘৃণা করি আমি, প্রচণ্ড!
আমি দেখেছি, যেদিন তুমি বলেছিলে তোমার চেয়ে ভাল বোলার দলে আছে, তারা তোমার জায়গা নিয়ে নেবে।
ভাই! তখন আমার মনে হচ্ছিল আমার কলিজায় কেউ ছুরি গরম করে ঢুকিয়ে দিয়েছে! এও শুনতে হলো?
তাও! চলে যাও। আমি ফিরে দেখব না।
আমি তোমাকে ভাল করে চিনি না। জানিও না। তোমার সবচেয়ে ভাল বোলিংগুলো আমার দেখা হয় নি। তোমার সবচেয়ে বেশি রানের ম্যাচগুলোও আমার দেখা হয় নি। আমি তোমাকে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হতে দেখি নি।
কিন্তু আমি দেখেছি। আমি তোমাকে দেখেছি। তাসকিনের দুঃসময়ে আমি এক সমব্যাথী, সহযাত্রী বন্ধুকে দেখেছি। আমি নবী মুস্তাফিজের কৃতিত্বে, কাউকে শাবাশি দিতে দেখেছি।
অসুস্থ খেলোয়াড়কে খেলার মাঠে সাহস যোগাতে দেখেছি।
আমি তাকে দেখেছি... আমি তোমায় দেখেছি।
তাই... তুমি আমার চিরজন্ম ধরে চেনা মানুষ। তুমি আমার না থাকা সে ভাইটা।
যাকে দেখার জন্য খেলার সময় ক্লান্তে চোখদুটো টিভির স্ক্রিনে লেপ্টে থাকত।
যাকে দেখার জন্য, যে চোখদুটো এই বোকার বাক্সটাকে দু’চক্ষে সইতে পারত না, সেই দুটো চোখই বারবার উঁকি দিত, চশমার ফাঁকে।
কিন্তু এবার যাওয়ার সময় হলো যে!
তাও, চলে যাও। ফিরে তাকিয়ো না। একদম না।
তোমার ভক্ত কেন হলাম? এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। আমি কেন? এই প্রশ্নের উত্তরটা সারা দুনিয়া জুড়ে তোমার কোনো ভক্তের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না।
তুমি যে অনন্য। এইখানেই তুমি অনন্য। রহস্যময়ী।
বারবার প্রার্থনা করতাম, তোমার পা দুটো যেন একদম ভাল হয়ে যায়। তুমি যাতে খুব ভাল খেলতে পারো। তখন কি আমার মনে কোনো কারণে তোমার এই চলে যাওয়ার ভয়টা কাজ করছিল?
অবচেতন মনের কাজকর্ম যতই দেখি, ততই হাসি পায়। লুকিয়ে রাখার দরকারটা কী ছিল? আমায় জানিয়ে দিলেই তো আগে–ভাগে সাবধান হতাম। পিছু হটে যেতাম! কে শোনে কার কথা?
কিন্তু, সত্যিই কি পিছু হটতে পারতাম?
যখন তোমার অবসরের খবরটা শুনলাম, হয়তোবা অন্যমনস্ক ছিলাম। কেন যেন পাত্তা দিই নি। হয়তো বা অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল।
শত হোক! কেউ যদি বলে সে উড়তে পারে, কেউ পাত্তা দেবে না।
আমার বোধ হয় সেই রকম মনে হচ্ছিল। তারচেয়ে উড়তে পারার খবরটা বোধ হয় বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হত।
এক সময় শ্রাবণের আকাশের মতোন হঠাৎ সব কালো মেঘ উধাও হয়ে যায়, তখন আমি সংবিৎ ফিরে পাই। মনে হয়, “কী শুনলাম?”
তারপর ভাবি, “ভাই আর খেলবে না?”
তারপরই মনে হয়, “আমি কার খেলা দেখব?”
সেই থেকে অনেক সময় কেটে গেছে। আজ তোমার শেষ টি টোয়েন্টি সিরিজ খেলা।
আর আজ আমি বিদায় জানাচ্ছি তোমায়। বুকে পাথর রেখে বলছি,
“তাও, চলে যাও। আমি পিছু ডাকব না।“
আমি এবারও সামলে নেব। ঠিক অন্য সব সময়ের মত।
ধন্যবাদ তোমায়, সে সবকিছুর জিন্য, যা দিয়েছ আমায়। আর ধন্যবাদ, আরও একটা হারানোর অভিজ্ঞতার জন্য।
শুধু কিছু প্রশ্ন ছিল তোমার কাছে। উত্তর দেবে না জানি। কিন্তু তাও প্রশ্নগুলো আমাকে করতেই হবে।
আচ্ছা, আমি আমার মনকে কী দিয়ে বোঝাব?
আমার তন্দ্রাচ্ছন্ন অনিমিখাদের কী দিয়ে বোঝাব?
যে চোখদুটো খেলার মাঠে প্রতিনিয়তই তোমাকে খুঁজে যাচ্ছে, তাদেরই বা কী বলব?
আমি আমাকেই বা কী করে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now