বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অচেনা অনুভুতি

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X ১. কিছু সম্পর্ক আছে যেগুলোর কোন নাম নেই। না ভালবাসার সম্পর্ক না বন্ধুত্ব, না আত্মীয় আবার অনাত্মীয় ও নয়। তবুও কিছু অভিমান থাকে কিন্তু অধিকারের ছিটাও থাকে না। সম্পর্কগুলো অদ্ভুত। বলছিলাম অবনী আর আমার কথা। ঠিক এমনি একটা অন্যরকম সম্পর্ক আমার আর অবনীর মধ্যে। প্রায় সাত মাস হলো, ভারচুয়াল জগতের ফেইসবুকের একটি সাহিত্যভিত্তিক গ্রুপ থেকে অবনীর সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। এই সাত মাসে প্রায় পাচ মাসই শুধুমাত্র চ্যাটিং হয়েছে অবনীর সাথে, আর দুমাস হলো ফোন নাম্বার আদান-প্রদান হয়েছে। এখন ফোনেও কথা হয় কম কম। এই সাত মাসে অবনীর সাথে আজ প্রথম দেখা হবে আমার, ভাবতেই যেন কেমন লাগে। গতকাল রাতে কনফ্রার্ম হলো আজ বিকেলে দেখা হবে দুজনার। বুকের ভিতর ধড়ফড় ধড়ফড় করছে পরিচিত ভালবাসায় অজানা কোন ভয়ে। অবনীকে ভালবাসার কথা বলা তো দূরের কথা, আপনি থেকে তুমিও বলা হয়নি কখনো। কয়েকবার তুমি বলার ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু কেমন জানি সংকোচবোধ হচ্ছিলো তাই আপনা-আপনিতেই রয়ে গেলাম দুজনে। তবে আমার মন বলে,সেও আমাকে ভালবাসে,কিন্তু কখনো বলেনি মুখ ফুটে। বিকেল গড়িয়ে এলো, আমি বাসা থেকে বেড়িয়ে পড়লাম ওর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে। স্পেশাল কিছুই পড়িনি গা'য়ে। হ্যাংগার থেকে নামিয়ে অফ হোয়াইট কালারের পলো টিশার্ট আর ব্লু জিন্স পরে বেড়িয়ে পড়লাম। গতকাল সে বলেছিলো যমুনা ফিউচার পার্কের কাছে বসুন্ধরা রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া'র গেইটে দাঁড়িয়ে থাকতে। আর সেখান থেকে দুজনে রিক্সা করে একদম রেসিডেন্সিয়াল এরিয়ার ভেতরের শেষ প্রান্তে লেকের মতো আছে,সেখানে বসবো। আমি নির্ধারিত সময়ের আগে এসে দাঁড়িয়ে আছি বসুন্ধরা গেইটে। অনেকক্ষন হলো ওর আসার নামগন্ধ নেই। অপেক্ষা আমার একদম ভাল লাগেনা। ওকে ফোন দিলামঃ --অবনী, আপনি কি আসবেন? --জ্বী, আমি আসতেছি ফাহিম। --এতো দেরি কেন করছেন? --ওমা, আজ আপনার সাথে প্রথম দেখা সাজুগুজো করবো না? --না, সাজতে হবে না। এভাবেই চলে আসেন। --আপনি অপেক্ষা না করতে পারলে চলে যান। আমি এসে আপনাকে না পেয়ে বিরহপীড়িত হয়ে আবার বাসায় ফিরে আসবো। হিহিহি। মেয়েটা সব সময় এভাবে কথা বলে আমার সাথে। আমি বসুন্ধরা গেইট থেকে হেটে হেটে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে এসে টঙ দোকানে বসলাম। ও আসা পর্যন্ত সময় কাটাতে হবে। একটা রঙ চা আর সিগেরেট নিয়ে বসে অপেক্ষা করছি অবনীর জন্য। সেখান থেকে খেয়াল করলাম একটা সুন্দরী মেয়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছে ওপাশ থেকে এদিকে আসার জন্য, আমি যেপাশে বসে আছি,সেপাশে। মেয়েটার পাশদিয়ে প্রায় সবাই এক এক করে রাস্তা পার হয়ে চলে আসছে আর মেয়েটা এক কদম এগোয় তো আবার ডানেবামে তাকিয়ে পেছনে চলে যায়,ভীতুর ডিম একটা। আরো সমস্যা হচ্ছে এখানে ট্রাফিক কোন সিগনাল নেই বা রাস্তা পার হওয়ার জন্য কোন ফ্লাই ওভার কোন ব্রীজ নেই। সবাইকেই নিজ নিজ দ্বায়িত্বে রাস্তা পার হতে হয়। মেয়েটার সাজগোজ দেখে মনে হচ্ছে কোন আলালের ঘরের দুলালী। আমি মেয়েটাকে সহযোগীতার হাত বাড়ানোর জন্য এগিয়ে গেলাম। অর্ধেক সিগেরেট বেঞ্চের এক পাশে রাখলাম, যেন ফিরে এসে আবার টানতে পারি। কি করবো,অভাবী মানুষ! আমি রাস্তা পার হয়ে ওপাশে গিয়ে মেয়েটার পাশে দাঁড়ালাম,কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার এটেনশন পাবার চেষ্টা করছি। কিন্তু মেয়েটা আমাকে পাত্তাই দিচ্ছে না। আরো একটু কাছে গিয়ে বললামঃ --এক্সকিউজ মি, আপনি কি রাস্তা পার হবেন? --এই ছিঃ কি বিশ্রী গন্ধ!!! --পারফিউম দেইনিতো,তাই হয়তো ঘামের গন্ধটা বেশি। --ঘামের না, আপনার মুখ থেকে সিগেরেটের দুর্গন্ধ আসছে! ওয়াক!!! দুলালী মেয়েটা এমন ভাবে ওয়াক ওয়াক করছে, মনে হচ্ছে আমি মাত্র ম্যানহোল থেকে বের হয়ে এসে পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার এটেনশন পাওয়ার চেষ্টা করছি। যত্তসব!!! এই জন্যই আমি বড়লোকের দুলালীদের দেখতে পারি না। বললামঃ --দেখুন, "দুর্গন্ধের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি"। আপনি চাইলে রাস্তা পার করে দিতে পারি। --ঠিক আছে, তবে আমার হাত ধরতে পারবেন না। --একি! হেল্প করবো তাও শর্ত!!! এই যে দুলালী, অনেকক্ষন ধরে দেখছি আপনি এদিক ওদিক করছেন কিন্তু রাস্তা পার হতে পারছেন না। তাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে এলাম। তাছাড়া আমি কি বলেছি নাকি যে আমার হাত ধরতে হবে? নিজে থেকেই তো হাত ধরাধরির কথা তুললেন। ঠিক আছে যান, হাত ধরবো না। এবার চলুন রাস্তা পার হই। আমারও সময় চলে যাচ্ছে। --চলুন তাইলে। যেহেতু বাম দিক থেকে গাড়ি আসতেছিল তাই দুলালী কে বললাম আপনি আমার ডান পাশে এসে দাঁড়ান। হেসে বললাম-মরলে আমি আগে মরবো তাও আপনার হাত ধরবো না। এতো গাড়ী আসছিল যে, সামনে আগাচ্ছি আবার পেছনে ফিরে আসছি। রাস্তার মাঝে চলে আসলাম,পাশে ফিরে দেখি দুলালী নেই। একি!!! পেছনে মাথা ঘুরিয়ে খেয়াল করলাম দুলালী দাড়িয়েই আছে। মেজাজটা গরম হয়ে গেলো, রাস্তাটা এবার পার হতে পারতাম। আবার পিছনে ফিরে এসে বললামঃ --আপনি কি যাবেন? --জ্বী, (মাথা নুইয়ে)। --তাইলে রাস্তার মাঝখান থেকে আবার ফিরে আসলেন কেন? --অনেকগুলো গাড়ি আসতেছিলো ঐ দিক থেকে তাও অনেক দ্রুত গতিতে। --এই জন্য আমাকে রাস্তার মাঝখানে একা রেখে পেছনে চলে আসলেন? নিজেকে বাচানোর জন্য একা একা চলে আসলেন, আমাকে নিয়ে ভাবলেন না!!! --তো কি করবো? রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাত ধরে টানাটানি করবো নাকি!!! --থাক, আর কথা বাড়াতে চাই না। --আমিও চাইনা আপনার সাথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করি, হুহ। --এবার কি যাওয়া যায়? --হুম। --চলুন,একদম ভয় পাওয়া চলবে না। আমি আছি তো! "আমি আছি তো"-কথাটা শুনার পর মেয়েটা একপলক আমার চোখের দিকে তাকালো। পৃথিবীতে সব মেয়েরাই শুনতে চায়, তাকে কেউ একজন বলুক,-"আমি আছি,ভয় পেয়ো না"। "এই একটি ভারসাতেই যে কোন মেয়ে সারাটা জীবন পাশে থেকে কাটিয়ে দিতে পারে।" "পুরুষ যেটাকে ভরসা ভেবে কোন মেয়েকে বলে,নারীরা সেটাকে ভালবাসা ভেবে মনে লালন করে।" আমি হালকা মুচকি হেসে মেয়েটার চোখ থেকে আমার চোখ সরালাম। আবার পার হওয়ার চেষ্টা করছি, সামনে থেকে একটা বাস আসছে, মনে হচ্ছে পার হয়ে যেতে পারবো। একটু পেছন থেকে মেয়েটা এই! এই! বলে দৌড়ে এসে আমার ডান হাতের কনিষ্ঠা আংগুলে ধরলো, আমি লুকিয়ে আবার মুচকি হেসে কনিষ্টা আংগুল ছাড়িয়ে তার পাচ আংগুলের ফাকে আমার পাচটি আংগুল রেখে মুষ্টিবদ্ধ করলাম যেন এবার আর দাঁড়িয়ে না থাকে,আবার যেন পেছনে ফিরে না যায়। পাশাপাশি রেখে রাস্তা পার করে দিতে পারি। রাস্তা পার হওয়ার পরই মেয়েটা এমন ভাব নিলো যে-আমি বিশাল কোন অপরাধ করে ফেলেছি তার হাত ধরে। মনে হলো-আমি ভিলেন "মিশু সওদাগর" আর সে নায়িকা "অপু বিশ্বাস"। আমার হাত থেকে তার হাতটা ঝেড়ে ছাড়িয়ে নিয়ে দ্রুত সামনের দিকে চলে যেতে লাগলো। আমি তার চলে যাওয়াটা চেয়ে চেয়ে দেখছি, ধন্যবাদ দেওয়া তো দুরের কথা পুরো বোকা বানিয়ে গেলো আমাকে। নিজের কানে দুহাত দিয়ে মনে মনে শপথ নিলাম-"না,আর নাহ" দ্রুত আবার সেই টঙ'য়ে গেলাম, টঙ এর একটু কাছে গিয়ে দেখলাম বিশাল কান্ড বেধেছে। সেই লেভেলের তর্কাতর্কি আর গালাগালি হচ্ছে। দোকানদার আর এক কাস্টমার এর বাকবিতণ্ডা চলছে,হাতাহাতি হবার উপক্রম। মনে হচ্ছে কাস্টমার এক্ষুনী দোকানীর কলার চেপে ধরবে। দূরে দাঁড়িয়ে থেকে ঝগড়া লাগার কারনটা বুঝলাম। আসলে ঝগড়া লাগার কারনটা আমিই। দুলালীকে দেখে হেল্প করতে যাওয়ার সময় যে জ্বলন্ত অর্ধেক সিগেরেটটা বেঞ্চের উপরে রেখে গেছিলাম তাতেই এই বিপত্তি ঘটেছে। এক কাস্টমার এসে এই জলন্ত সিগেরেটের উপরে বসে পড়েছিলো, ব্যাচারার পরনের প্যান্ট পুড়ে পেছনের দিকটা পুড়ে গেছে। বাম হাতে কোমরের পেছনে হাত বুলাচ্ছে আর ডান হাতের আংগুল উঁচিয়ে হুংকার দিচ্ছে। আমি সাবধানে ধীরেধীরে সেই স্থান প্রস্থান করার চেষ্টা করলাম, সামান্য দূরে গিয়ে দিলাম ভুঁদৌড়। মাঝখানে পেছনে দিকে তাকালাম,দেখলাম দোকানদার আমার দিকে আংগুল দেখাচ্ছে, হয়তো পিছনপোড়া লোকটাকে দেখাচ্ছে আমি সেই পাষন্ড লোক যার কারনে তার পিছনটা পুড়েছে। দৌড়ের গতি বাড়িয়ে দিলাম। এক দৌড়ে এসে বসুন্ধরা রেসিডেন্সিয়াল এরিয়ার গেইটের পেছনে দাঁড়িয়ে হাপাচ্ছি। এদিকে অবনীর আসার কোন খবরই নেই। মেজাজ আরো গরম হয়ে গেলো, অবনীকে কল দেওয়ার জন্য পকেট থেকে ফোনটা বের করলাম, ফোন হাতে নিয়ে দেখি- একি! অবনীর সাতটি মিসকল!!! ২. আহা! মেয়েটা বোধহয় রাগ করেছে। নিজের উপর রাগ হচ্ছে প্রচুর, ইচ্ছে করছে নিজের মাথার চুল নিজেই ছিঁড়ে ফেলি। কেন গেলাম দুলালী মেয়েটাকে হেল্প করতে,কেন গেলাম দোকানে সিগেরেট খেতে আর কেনই বা এতো হয়রানি পোহাতে হলো। অবনী কি তাহলে চলে গেলো আমি ফোন না ধরাতে!!! একটু অপেক্ষা করলে কি হতো অবনীর? না, জানা দরকার কেন সে চলে গেলো। আমি অবনীকে ফোন ব্যাক করলামঃ --এই যে অবনী, একটু অপেক্ষা করলে কি হতো, হ্যা? ফোন না ধরাতে চলে গেলেন। একটু অপেক্ষা করলে কি এমন ক্ষতি হতো? --হুম। --হুম কি? --আমি সেই অনেকক্ষন থেকেই দাঁড়িয়ে আছি, আপনার জন্য। ফোন তো রিসিভই করেন না,তার উপর আমাকে ঝারি দিচ্ছেন। --অহ, আছেন নাকি? --হুম,আছি। গেইটের পেছনে আসেন দাঁড়িয়ে আছি। --কিভাবে চিনবো আপনাকে? কখনো ছবিও তো দেখিনি আপনার! --কখনো তো ছবি চাননি আমার কাছে, ইচ্ছে করে কি করে দেই বলেন। --অহ আচ্ছা আচ্ছা। --আপনিও তো একই, প্রোফাইলে তো ছবি নাই-ই। ইনবক্সেও দেন নি। --আপনি তো নিজে থেকে আমার ছবি চান নি কখনো!!! কি করে দেই বলেন। --হিহিহি। --আমি অফ হোয়াইট টিশার্ট আর ব্লু জিন্স পরা। আপনি? --আমি ক্রীম কালারের লং কামিজ। --আচ্ছা, আমি আসছি। --হুম, আসুন। ভীষণভাবে বুক ধড়ফড় করছে, প্রথম দেখা অবনীর সাথে। আমাকে দেখে সে কেমন ভাববে, তাকে দেখতে কেমন দেখাবে। কিছুক্ষন কি থাকবে না দেখা মাত্রই হায় হ্যালো দিয়ে চলে যাবে!!! নাহ, এসব ভাবা যাবে না। থাকলে থাকুক না থাকলে চলে যাবে, আমি দেখা করবোই। চলে এলাম বসুন্ধরা রেসিডেন্সিয়াল এরিয়ার গেইট থেকে পিছনে, একটু দূরে। যেন আমি আগে চুপিচুপি ওকে দেখতে পারি। দেখে অবনী কনফার্ম হয়ে পরে সামনে যাবো। পর্যবেক্ষণ করছি দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, দেখা যাচ্ছে কিনা অবনীকে। একি!!! দুলালী মেয়েটাও তো এখানে দাঁড়িয়ে আছে, অবশ্য সে নীল শাড়ী পরেছে আর কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছে। অবনী বলেছিল সে ক্রীম কালারের কামিজ পরেছে। অনেক মেয়েকেই দেখা যাচ্ছে এখানে, কি করে খুঁজে বের করি অবনীকে। ফোন দিলাম অবনীকে, কথা বলছি আর খুজছি কে কে কানে ফোন লাগিয়ে কথা বলছে। হ্যা, দেখতে পেলাম আমার অবনীকে। ক্রীম কালারের কামিজ আর কানে ফোন লাগিয়ে কথা বলছে আমার সাথে। আমি আমার টিশার্ট টা টেনেটুনে ঠিকঠাক করলাম, পকেট থেকে টিস্যু বের করে মুখটা মুছে পেছন দিক থেকে অবনীকে ডাক দিলামঃ --আপনি? --আমি কি?(মুখ ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকালো) --আপনি অবনী? --না ভাইয়া? --ভাইয়া!!! (অবাক হয়ে) --অহ, সরি। না আংকেল, আমি অবনী না। একবুক বুক বেদনা আর আহত হৃদয় নিয়ে আগের স্থানে ফিরে আসে দাঁড়িয়ে রইলাম। অবিবাহিত ছেলেদেরকে ভাইয়া বলে ডাকলে কোথায় গিয়ে ব্যথা লাগে, তা কি জানে মেয়েরা? আবার মুখের উপর আংকেল বললো আমাকে। পায়ের নিচের মাটি যদি ফেটে কিছুক্ষনের জন্য আলাদা হতো, নিশ্চিত এ অপমানে স্বেচ্ছায় নিজেকে মাটিচাপা দিয়ে দিতাম। মন খারাপ করে আবার ফোন দিলাম অবিনীকে। দেখলাম দুলালী মেয়েটা হেডফোনের স্পীকার হাতে ধরে মুখের কাছে নিয়ে কথা বলছে। দুলালী নয়তো আবার!!! হঠাত করে দুলালীর চোখে আমার চোখ পড়লো। আমি কানে মোবাইল ধরে কথা বলছি আর সে হেডফোনে। আমার দিকে তাকিয়ে হাত উঁচিয়ে ইশারা করলো,বুঝাচ্ছে আমি কি সে-ই কিনা? আমিও হাত উঁচিয়ে ইশারা করলাম,আপনি অবনী? সে হালকা ঠোট বাকা করে হেসে বুঝালো, সেই-ই অবনী। ইশারা করলো পাশে যেতে। ফোনটা পকেটে রেখে তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। --আপনি তো বললেন ক্রীম কালারের কামিজ পরেছেন, মিথ্যে বললেন কেন? --আগে রিক্সা নিন। অহ,আচ্ছা। আমি রিক্সা ডাকতে থাকলাম। একটা রিকশাচালকও পাত্তা দিলো না আমাকে। "এই মামা", "এই খালি", "এই ভাই" বলে ডেকে ডেকে গলা শুকিয়ে ফেলেছি, একটা রিকশাও থামাতে পারলাম না। অবনী বললো, আপনি দুই হাত দূরে একটু সরে দাড়ান। দেখেন আমি কিভাবে রিকশা ম্যনেজ করি। আমি একটু দূরে সরে দাড়ালাম, দেখলাম সে একটা রিকশাওয়ালা কে বললো- "মামা যাবা" চলন্ত রিকশা হঠাত করেই থেমে দাঁড়িয়ে রইলো সামনে। ঠিক বুঝলাম না, রিকশাতে হাইড্রোলিক ব্রেক সিস্টেম কবে থেকে শুরু হলো!!! অবনীকে জিজ্ঞেস করলাম-এটা কি হলো? আমি ডেকে ডেকে গলা ফাটিয়ে দিলাম, আর আপনি শুধু বললেন-"মামা যাবা" ব্যাস, রিকশায় হাইড্রোলিক ব্রেকের উদয়!!! সে হেসে বললো, বুঝবেন না। এটা জেন্ডার বৈষম্য। রিকশাতে উঠে বসলাম দুজনে। আমি একদম চেপে চেপে একপাশে বসে আছি, যেন ওর গায়ে একটুও না লেগে যায়। লেগে গেলে পরে কি ভাবে, কি জানি। দু'পা একসাথে চিপিয়ে, আর দু'হাত বুকে পেঁচিয়ে গুছিয়ে রাখলাম। দেখলাম অবনী আড় চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছে। মাথা নুইয়ে মুখে হাত রেখে হিহি করে হেসে দিয়ে আবার অন্যদিকে তাকিয়ে হাসি লুকাবার চেষ্টা করছে। কেমন যেন ইতস্তত বোধ করছি। একটু সামনে এগুতে লাগলাম, আবাসিক এলাকাতে ঢুকার পর যখন রাস্তায় লোকজনের সমাগম কমে আসলো তখন অবনী রিকশার হুড তুলে দিলো। বললামঃ --একি! করছেন কি? রিকশায় তো বসা যাবে না হুড তোলা থাকলে। --সরে রয়েছেন কেন, একটু এদিকে চেপে বসলেই তো হয়। --না না! আপনার গায়ে লেগে যাবো তো! --তো? --কি ভাববেন আপনি!! --এক রিকশায় দুজনে উঠলে ভাবাভাবির কিছু নাই। আপনি এতো বোকা কেন? --এ্যাঁ!!! লজ্জায় পড়ে গেলাম এ কথা শুনে, ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য রিকশাচালক কে ডাক দিলাম। --এই মামা, আপনার রিকশার হুড এতো ছোট কেন? --সবাই-ই তো রিকশার ছোট হুড পছন্দ করে মামা। জোড়া জোড়া যাত্রী উঠলেই কয়,"মামা,হুডটা আরেকটু ছোট বানানো যায় না"? খেয়াল করলাম, অবনী হিহি করে হাসছে, আমিও অবনীর দিকে তাকিয়ে হেসে দিলাম। কি আর করা, ছোট হুডে দুজনে বসে রইলাম। বসুন্ধরার একদম শেষ প্রান্তে এসে রিক্সা থেকে নামলাম দুজনে। সূর্যাস্ত হবে এক্ষুনী, আকাশে বড় বড় তামাটে রংয়ের আভা পড়েছে। চারিদিকে বালি আর বালি, ডেভেলপাররা বাড়ি করার জন্য বালি দিয়ে ভরাট করেছে এখানকার জায়গাটা। মাঝে মাঝে কাশফুল গাছের মতো কিছু ঘাস আছে। একটু সামনেই খালের মতো জলাধার আছে। অবনী বললো-চলেন একটু সামনে গিয়ে বসি। দুজনে গিয়ে কাশফুল ঘাসের গোড়ায় জুতা খুলে বসে পড়লাম। বাতাস বইছে প্রচন্ড। আমি খেয়াল করলাম অবনী শাড়ির আচল বার বার বাতাসে উড়ে ভেসে বেড়াতে চাচ্ছে। ইচ্ছে হচ্ছিলো অবনীর পেছনে গিয়ে হাটুগেড়ে বসে উড়ন্ত শাড়ির আচলে নিজের মুখমন্ডলে তার স্পর্শ মাখি। ৩. ইচ্ছে করছে অবনীর আরো কাছে একটু পাশাপাশি বসতে। আমি ধীরেধীরে লুকিয়ে ওর পাশে যেতে লাগলাম যেন সে টের না পায়। অবনী আড় চোখে আমার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলো। লক্ষ্য করলাম তার দু'গালে টোল পড়েছে। পৃথিবীর অদ্ভুত এক সৌন্দর্যসৃষ্টির আবিষ্কার করিলাম, দেখলাম সে যখন হাসছিলো তার ঠোট না,বরং তার চোখদুটো হাসতেছিলো। অবনীর সাথে কথা বলতে মনটা খুব আকুপাকু করছে, ভারচুয়ালে মেসেজিং আর বাস্তবে কথা বলার মধ্যে অনেক প্রার্থক্য। ভারচুয়ালে মেসেজিং খুব স্বাচ্ছন্দ্যে করা গেলেও বাস্তবে তার উলটো দিক। বুক ধকধক করে, অনেক সংকোচবোধ হয় আর অজানা কোন ভয় কাজ করে ভেতরকার বামপাশটার হৃদপিন্ডে। আমি প্রানপ্রণে ছুতো খুজতেছি কথা বলার জন্য, শেষমেশ অবনীই বললোঃ --এই যে মিষ্টার, চুপ কেন? কথা বলবেন না? --বলতেই তো চাচ্ছি, আসলে আপনি অনেক সুন্দর!!! --তো!!! সুন্দর হলেই কি কাউকে হাত ধরে রাস্তা পার করে দিবেন? --আরে নাহ, রাস্তা পার হতে পারতেছিলেন না তাই একটু সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলাম আর কি! --এজন্য হাত ও ধরতে হবে? --ভয় পাচ্ছিলেন বেশি,তাই ধরেছিলাম। আচ্ছা সরি। আগে যদি জানতাম সেই দুলালীই আপনি হবেন তাইলে..... --তাইলে কি, আমার হাত ধরতেন না? --ইয়ে মানে!!! --হইছে আর ন্যাকামো করতে হবে না। --আচ্ছা। --আপনিবোকা কেন? --কেন? --কতদিন ধরে আমার সাথে পরিচয়,খেয়াল আছে? --হুম। সাত মাস। --একদিনও আমার ছবি দেখতে চাননি কেন? --সুন্দরীদের ছবি দেখলে সহ্য হয় না, জ্বালা বাড়ে, ভেতরটায়। --তাই বুঝি। --হুম। --আচ্ছা, আপনি কি গায়ে দিয়ে এসেছেন এগুলা? --কেন, টিশার্ট আর পেন্ট পড়েছি। --আবুল আবুল লাগছে আপনাকে। কোন মেয়ের সাথে দেখা করতে এলে পাঞ্জাবী পড়ে আসতে হয়,জানেন না? --আচ্ছা, সামনে থেকে পড়ে আসবো। --সামনে কি আর দেখা করার ইচ্ছে আছে? --হুম আছে,অনেক। --আমার ক্ষিদা লেগেছে, কিছু খেতে চাই। অবনীকে রেখে একটু খুঁজাখুঁজি করতে লাগলাম দোকানপাট কোথায় আছে। দোকান পেয়েও গেলাম,কিন্তু দোকান থেকে কিছু না কিনে হকার থেকে একগাদা বাদাম কিনলাম-যেন অবনী আরো অনেকটা সময় থাকতে পারে। খুব সিগেরেটের নেশা ধরেছে, মেয়েদের সামনে আবার আমার সিগেরেট খেতে লজ্জা হয় তাছাড়া অনেক মেয়েরাই সিগেরেট খাওয়াটা বিশ্রিভাবে দেখে। কিন্তু প্রতিটা ছেলেই চায় কেউ একজন তাকে শাষন করে বলুক-সিগেরেট খাওয়া চলবে না। অনিয়ম চলবে না। কেউ কেয়ার করুক। কেউ একজন ভালবেসে সব খারাপ অভ্যাস দূর করে দেক। অবনীর কাছে যাওয়ার আগেই সিগেরেট টা খেয়ে শেষ করে নিলাম। --এই নেন অবনী, আপনার জন্য খাবার নিয়ে এলাম। --এগুলো খাবার!!! বাদাম দেখে অবনী ভ্রু-কুচকে এমন ভাবে আমার চোখের দিকে তাকালো মনে হচ্ছে বাদামের নাম কোন খাদ্যতালিকাতে নেই। অথচ শত শত প্রেমিক প্রেমিকার ডেটিংয়ের অন্যতম খাবারের নাম হচ্ছে এই বাদাম। আমি বাদামগুলো আমার দিকে নিয়ে এসলাম। সে হয়তো খাবে না তাই একা একাই খাচ্ছি। কয়েকটা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে ওকে সাধলাম-এই নিন। অবনী আমার হাত থেকে বাদাম নিয়ে চিবাচ্ছে। বললাম-একলাইনের একটা ট্রেজেডি গল্প বলি,শুনবেন? অবনী মাথা নাড়িয়ে সাড়া দিলো-বলেন। "ছেলেটি বাদাম ছোলাচ্ছিলো,মেয়েটি চিবাচ্ছিলো,বাদাম শেষ মেয়েটিও নিরুদ্দেশ " অবনী হা হা করে হেসে উঠলো। বাদাম খেতে খেতে সন্ধ্যা ঘনিয়েছে, বিকেল থেকেই বৈরী বাতাস বইছিলো। বুঝাই যাচ্ছিলো বৃষ্টি হতে পারে। আকাশে হঠাত বিজলি চমকালো, সে আলোয় আলোকিত হয়ে উঠলো চারপাশ, আলোকিত হলো আবছা অন্ধকারে অবনীর মুখটাও, চেয়ে রইলাম তার দিকে। আমি জানি কিছুক্ষন পরই অবনী চলে যাবে। কিন্তু তাকে আমার মনের কথাটা এখনোও বলা হয়নি। এ ক'মাসে অবনীকে অনেক ভালবেসে ফেলেছি। বুকের ভেতর তার জন্য একটা পবিত্র জায়গা তৈরি করে রেখেছি। প্রতিটি ছেলেই খুব যত্ন করে মনের গহীনে তার প্রেয়সীর জন্য একটি স্থান রাখে, একদম আলাদা সেই জায়গাটা,মনের মাধুরী দিয়ে কল্পনায় ভালবাসা দিয়ে সাজিয়ে রাখে, আগলিয়ে রাখে সে স্থানটা। কেউ আসুক এখানটায়, রাজত্ব করুক ভালবাসা দিয়ে,কখনো আদর মাখানো শাষন, কখনো মায়ায় জড়ানো সোহাগ দিয়ে ছায়ার মতো লেগে থাকুক। পাশে থাকুক জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। আচ্ছা, অবনীও কি আমায় ভালবাসে!!! আমার মন বলে অবনীও আমাকে ভালবাসে। তার হাসি দেখেই বুঝতে পারি। শুনেছি, কারো হাসি দেখে ভালবাসে কিনা বুঝা যায়। ছেলেদের মুখের হাসি আর মেয়েদের ক্ষেত্রে চোখের হাসি নাকি ভালবাসার কথা বলে দেয়। আমি অবনীর চোখে সে হাসি অনেকবার খুঁজে পেয়েছি। তার চোখে সহস্রবার আমার ভালবাসা দেখেছি। তবে সে কেন ভালবাসার কথা বলছেনা। কেন বলছেনা "তোমাকে ভীষন প্রয়োজন জীবনের বাকীটা পথ পাশাপাশি চলার জন্য"। হিমালয় পর্বতমালা আরোহণ, চন্দ্রভ্রমন, মংগলগ্রহ জয় এগুলোর চাইতেও পৃথিবীর সবচাইতে কঠিন কাজ হলো-কোন মেয়ের মুখ থেকে মনের কথা বের করা। ভালবাসে, অথচ সে মেয়ের মুখ থেকে ভালবাসি কথাটা বের করার চাইতে কষ্টসাধ্য কাজ আর দ্বিতীয় নেই। একটু উপরের দিকে তাকালাম,আকাশের দিকে না, বিধাতার খোজে। আমি মনে মনে দোয়া করছি- "মেঘে আকাশ কালো হোক আর না হোক, মেঘের ডাকটা যেন বিকট হয়। আকাশে বিজলি চমকাক আর না চমকাক, শব্দটা যেন বিকট হয়। ঝড়বৃষ্টি হোক আর না হোক, হৃদকম্পিত গর্জনটা যেন বিকট হয়। প্রচন্ড শব্দে ভয়ে সে আতকে উঠুক, মাথাটা গুঁজে দেক আমার বুকের মাঝে। কুঁচকে যাক টিশার্ট টা আমার, তার ভয়ার্ত হাতের মুষ্টিতে।" --এইযে মিষ্টার, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলো। বাসায় তো যাওয়ার দরকার। --এক্ষুনী যাবেন? --হুম, আর কত থাকবো। কাজের কথা তো একটাও বললেন না। --অহ আচ্ছা আচ্ছা। আপনিও তো কিছুই বললেন না। --শুনার অপেক্ষায় ছিলাম,তাই বলিনি। --কি কি শুনার অপেক্ষায় ছিলেন? --বুঝেছি, থাক আর বলতে হবে না আপনাকে। একটু এগিয়ে দিবেন? --কি বলেন! অবশ্যই অবশ্যই। এতোটা সময় পাশাপাশি থেকেও কেউ কাউকে ভালবাসার কথাটা বলতে পারলাম না। ভীষন খারাপ লাগছে। মনটা একদম ভেংগে গেলো। প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে আমার, হয়তো অবনীরও তেমনটাই হচ্ছে। ওকে নিয়ে রিক্সায় উঠলাম। অবনী রিক্সার হুডটাও তুলছে না এখন, নিশ্চিত তার মন খারাপ। আকাশ থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। আমি রিক্সার হুডটা তুলতে গেলাম, অমনীই বলনী বললোঃ --সাবধান, হুড তুলবেন না। --কেন? আসার সময়তো তুলেছিলেন। --আসার সময় ইচ্ছে হচ্ছিলো তাই হুড তুলেছিলাম। এখন আর ইচ্ছে নেই। --বিজে যাবেন তো। --তো? --জ্বর আসবে। --আসুক। --পরে কষ্ট হবে আপনার। --পরে কষ্ট হলে আমার হবে, আপনার তাতে কি!!! রিক্সায় বাকীটা পথ নিশ্চুপ হয়ে থেকেছি দুজন। প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছি, ওকে এখানে নামিয়ে দিবো। তারপর দুজনার দুদিকের পথে চলে যাবো। ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে, না বলা অচেনা অনুভূতিটাকে কেউ কাউকে বলতে পারলাম না। ইগু না অপেক্ষা ছিলো দুজনের!!! অবনীকে নামিয়ে দিলাম,আমিও নামলাম রিক্সা থেকে। বৃষ্টির পরিমান বেড়ে গেলো। নেমেই সে -"ধন্যবাদ,আসি" বলে হাটা শুরু করলো তার পথে। আমি চেয়ে চেয়ে তার চলে যাওয়া দেখছি। আমিও তার বিপরীত দিকে আমার পথে হাটতে লাগলাম, বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে। পেছনে ফিরে তাকালাম -নাহ অবনী তাকালো না আমার দিকে। আবার একটু হেটে আবার তাকালাম, এবারো তাকালোনা সে। ক্ষনিকবাদে আবার তাকালাম, আবারো নিরাশ হলাম। আস্তে আস্তে অবনী দুরত্বে মিলিয়ে গেল। বৃষ্টির কারনে ঘোলাটে আবহাওয়ায় আমার দৃষ্টির সীমানার আর অবনী নেই। হারিয়ে গেছে সে। নাহ, আর সহ্য হচ্ছে না। মাথা ঘুরিয়ে দৌড় দিলাম, অবনী যে পথে দূরত্বে মিলিয়ে গেছে সে পথে। বন্ধ টঙ দোকানের সামনে রাখা একটা বেঞ্চে বসে আছে অবনী। ল্যাম্পপোস্টের নিয়ন আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তাকে। মাথা নুইয়ে একা একা বৃষ্টিতে ভিজছে সে। আমি পেছনে এসে আমার দুহাটুতে হাতে ভর দিয়ে নুইয়ে নুইয়ে হাপাচ্ছি। পেছন থেকে অবনীর কাধে হাত রাখলাম। মাথা ঘুরিয়ে তাকালো আমার মুখপানে। দেখলাম চোখ লাল হয়ে আছে, বৃষ্টির পানিতে চোখের জল মিলিয়ে গেছে হয়তো। আচমকা বললাম-- "ভালবাসি"। অবনী উঠে দাঁড়ালো, আমার দিকে মুখ করে সামনাসামনি হলো। দুহাতে আমার বুকের একটু উপরের দিকটায় এলোপাথাড়ি কিলঘুষি শুরু করে দিলো। আশ্চর্যকথা হচ্ছে সে আমাকে প্রতিউত্তরে ভালবাসি না বলে বললো-শয়তান, কুত্তা,বিলাই। বললাম, চলো একসাথে আজ দুজনে ভিজি। বিজলি চমকাচ্ছে, আকাশ গর্জে উঠলো বিকট শব্দে। ভয়ে অবনী আমার বুকের খাঁজে তার মাথা লুকালো। বৃষ্টিতে ভেজা লেপ্টে থাকা টিশার্ট তার হাতের মুষ্টিতে কুঁচকে গেল। (সমাপ্তি)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now