বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাদিয়ার দুই রাত তিন দিন ধরে ডায়রিয়া।
ভেবেছিলাম হানিমুনে এসেছি, দু’জন মিলে এনজয় করবো। জুতো খুলে হাতে নিয়ে সমুদ্রের বালিতে হাঁটবো। দৌড়াবো। বাতাস খাবো। সমুদ্রে ঝাঁপাবো। সারা কক্সবাজার দাপাদাপি করবো। রেস্টুরেন্টে খাবো। রাতে টায়ার্ড হয়ে কটেজে ফিরে আসবো। তিন দিন পরে একটা বাচ্চা কোলে নিয়ে ফিরে যাবো শহরের ব্যস্ত জীবনে।
অথচ কি হলো?
সাদিয়ার জন্য ডাবের পানিতে স্যালাইন গুলতে গুলতে সময় ফুরালো!
সাদিয়া জেগে জেগে ঘুমোচ্ছে। একদম বেঘোরে ঘুমানো মানুষের মতন কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে আছে ঠিক-ই, কিন্তু চোখ দু’টো একটু করে খোলা রেখেছে। ওভাবে চোখ খোলা রেখে রুমের কর্ণারে রাখা টেলিভিশনে একমনে তাকিয়ে আছে। মানুষ যখন মনযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকে, তখন মানুষ চোখের পলক কম ফেলে। সাদিয়াও কম ফেলছে।
আমার ইচ্ছা করছে আমার সামনে রাখা ডাবগুলোর একটা টেলিভিশনটার দিকে ছুঁড়ে দেই। ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাক এই অসভ্য টেলিভিশন, যে টেলিভিশনে গত দুই রাত তিন দিন ধরে শুধু নানা চ্যানেলের সিরিয়াল চলছে!
গ্লাসটা হাতে নিয়ে সাদিয়ার পাশে গিয়ে বললাম, “স্যালাইনটুকু খেয়ে নাও।”
সাদিয়া টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে-ই আমার হাত থেকে গ্লাসটা নিলো। টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে-ই গটগট করে স্যালাইন মেশানো ডাবের জল খেলো। টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে-ই আমার হাতে তুলে দিলো।
সিরিয়াল থেকে চোখ ফিরালো না একবারও।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছিলাম। সাদিয়া পেছন থেকে ডাক দিলো।
আমি তাকালাম।
সাদিয়া টেলিভিশন থেকে চোখ না সরিয়ে-ই বললো, “তুমি একটু যাও না, কোথাও থেকে ঘুরে আসো। ভালো লাগবে।”
আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না আমার হাসা উচিৎ, নাকি কাঁদা উচিৎ!
নতুন নতুন বিয়ে করার পর কি কি হয়, তার কত মধুর মধুর গল্প শুনেছি। সেই গল্পগুলো শুনে আমার ইচ্ছে করতো তক্ষুণি গিয়ে একটা বিয়ে করে ফেলি!
অথচ হানিমুনে এসে সাদিয়া নকল অসুখের ভান করে যে পয়জনমুন বানিয়ে দেবে, তা আমি আন্দাজও করতে পারি নি!
সে কি চায়, তা পর্যন্ত বুঝতে পারি নি!
একটু কাছে গেলে-ই পেটে হাত দিয়ে এমন ভাবে “ব্যথা, ব্যথা” বললে চিৎকার করতে থাকে... ধারে কাছে যেতেও ভয় লাগে।
আমি বের হয়ে গেলাম।
সিঁড়ি দিয়ে সামান্য নামতে-ই সাদিয়া কল দিলো।
রিসিভ করলাম, “হ্যালো..”
ওপাশ থেকে সাদিয়া বললো, “হ্যালো অভি, কই তুমি? একটু ফাস্ট আসো না!”
আমি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। এক দৌড়ে রুমে ঢুকে দেখলাম সাদিয়া শুয়ে-ই আছে। আমি হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করলাম, “কি হয়েছে? কোন প্রবলেম? শরীর খারাপ লাগছে?”
সাদিয়া মুখে বিরক্তি নিয়ে বললো, “দ্যাখো না, রিমোটটা কাজ করছে না। মে বি ব্যাটারী শেষ। তুমি একটু কষ্ট করে চ্যানেলটা চেঞ্জ করে স্টার জলসা দেবে?”
আমি গিয়ে টেলিভিশনটা বন্ধ করে আবার বের হয়ে গেলাম।
এ মুহূর্তে আমার কিছু-ই ভালো লাগছে না। তিনদিনের হানিমুনে এসেছিলাম। আজকে রাত পোহালে আগামীকাল ভোরে-ই ফিরতে হবে শহরে। আমাকে যদি এতটা-ই অপছন্দ হতো, বিয়ে করেছে কেন আমাকে মেয়েটা! কেউ কি ফোর্স করেছে? করে নি তো! এটলিস্ট আমিও বেঁচে যেতাম।
ফ্রাস্ট্রেশন দমিয়ে রাখতে না পেরে সমুদ্রের বালিতে-ই বসে পড়েছি। একটার পর একটা সিগারেট ধরাচ্ছি। সমুদ্রের বাতাসে সিগারেটগুলো কয়েকগুণ দ্রুত পুড়ে যাচ্ছে।
এর থেকে বেশি দ্রুত পুড়ে যাচ্ছি আমি।
মা বাবা শুধু ঘরে সুন্দরী বউ-ই এনেছে। সুখ-শান্তি আনতে পারে নি! ওদেরকে দোষ দিয়ে-ই বা কি লাভ!
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে বালিতে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়েছি, জানি না।
চোখও লেগে গিয়েছে।
হঠাৎ সাদিয়া মাথায় হাত দিয়ে ডাকলো।
আমি প্রচন্ড অবাক হয়ে চোখ মেললাম। উঠে বসে জিজ্ঞেস করলাম, “এখানে এলে কি করে?”
সাদিয়া হাসলো।
আর কিছু-ই বললো না।
আমার পাশে এসে বসে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে। আর আমি ওর দিতে তাকিয়ে আছি। বাতাসের ঝাপটায় ও ঠিকভাবে চোখ মেলতে পারছে না। চুলগুলো অর্ধেকটা বাঁধা। বাকি অর্ধেক চুল উড়ছে। আমার ওর চুলে হাত দিয়ে আদর করতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু তবুও নিজেকে সংযত করে নিলাম।
সাদিয়া কথা বলে ওঠলো, “তুমি আমার উপর খুব বিরক্ত। না অভি?”
আমি হেসে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললাম, “আরে ধুর। বিরক্ত কেন হবো!”
সাদিয়া হঠাৎ আমার হাত ধরে আমার কাঁধে মাথা রাখলো। আমার যেন গায়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেলো! নিজের বউ কাঁধে মাথা রাখার পর আর কারো ঠিক এমনটা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। আমার হচ্ছে। অস্বস্তিবোধ হচ্ছে। কলেজ জীবনে একটা বন্ধুর প্রেমিকাকে চুমু খাওয়ার সময়েও এমন অনুভূতি হয় নি!
খুব ফিশফিশ করে সাদিয়া কথা বলতে লাগলো। আমি প্রায় কোন কথা-ই বুঝতে পারছিলাম না। শুধু নিশ্বাসের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমার নিজের হৃদস্পন্দনও শুনতে পাচ্ছিলাম।
অবশেষে এত দারুণ একটা রাত এলো।
এ রাতের জন্য দু’রাত তিন দিন কেন, সারা জীবন অপেক্ষা করা যায়।
আমরা হাত ধরে রাতের বালুচরে হাঁটলাম। সমুদ্রে পা ভেজালাম। সমুদ্র থেকে ভেসে আসা প্রতিটা বাতাসের ঘ্রাণ নিলাম। কান পেতে সমুদ্রের ঢেউ শুনলাম। চাঁদের আলোতে চিকচিক করতে থাকা সমুদ্রের জল গুনলাম।
কখন যেন খুব কাছেও চলে এলাম!
সাদিয়া হঠাৎ নিরবতা ভেঙ্গে বললো, “চলো, কটেজে ফিরে যাই।”
আমি খুশি মনে রাজি হয়ে গেলাম। সাদিয়াকে সিঁড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আমি খাবার আনতে গেলাম। যাবার আগে বললাম, “সাদি, তুমি আজকে খুব করে সাজবে? তোমায় সাজানো দেখতে সুন্দর লাগে...”
সাদিয়া উপরে উঠে গেলো।
খাবার কিনে আমি রুমে ফিরে দেখি সাদিয়া বিছানায় শুয়ে আছে। আগের মতন কম্বল গায়ে দিয়ে। একমনে টেলিভিশন দেখছে।
আমি রুমে ঢুকতে-ই জিজ্ঞেস করলো, “কই ছিলা এতক্ষণ? গত দুই ঘন্টা ধরে ফোনে ট্রাই করে পাচ্ছি না তোমায়!”
আমি পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখি, 12 missed calls from Sadia।
আমি টেবিলে খাবারগুলো রেখে সাদিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি এতক্ষণ রুমে-ই ছিলা?”
সাদিয়া এবার আমার দিকে তাকিয়ে বললো, “ অসুখ নিয়ে কই থাকবো বলো? রুমে-ই ছিলাম।”
আমার গা দিয়ে আবার শীতল স্রোত বয়ে গেলো।
এই শীতল স্রোত ঠিক আগের শীতল স্রোতের মতন না। আলাদা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now