বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত থেকে গাছের সাথে হাত পা বাঁধা অবস্থায় আছে মজনু চোর।সারা রাত মশার কামড় আর বৃস্টিতে ভিজে তার শরীর জ্বর জ্বর লাগছে।রাতে একটা কুকুরের হাত থেকেও সে রেহাই পায়নি।কুকুরটি কিছু সময় তার চার পাশে ঘুর ঘুর করছিল সে মুখ দিয়ে আওয়াজ করে তাকে তাড়ানোর চেষ্টা করছিল কিন্তু কুকুরটি চলে যাওয়ার আগে তার কাছে এসে এক পা তুলে প্রাকৃতিক কাজ টা করে চলে যায়।মজনু বুঝতে পারল একটা কুকুরও চোরকে ঘৃণা করে।
.
বন্যার পানিতে তার সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাদ যায়নি তার মাটির ঘরটিও।ছোট মেয়ে ফুলিকে নিয়ে আশ্রয় নিতে হয় বাঁধে।ত্রানের কিছুই তাদের কাছে পৌছায়নি।চার দিন ধরে পেটে কোন দানা পানি পরেনি। সে আর তার স্ত্রী না হয় ক্ষুদার কষ্ট সহ্য করছে কিন্তু তাদের ৫বছরের মেয়ে কিভাবে তা সহ্য করবে?
.
ফুলির কথা ভেবে সে কাজের সন্ধানে বেড়িয়ে চলে গেল পার্শ্ববর্তী দুই গ্রাম পরের একটি গ্রামে।সারাদিন ঘুরাঘুরি করেও কোন কাজ জুটল না। সন্ধ্যার পরে ফিরে আসার সময় সোহাগদের বাড়িটা চোখে পড়ল কাছে গিয়ে দেখে বাড়ির দরজা খোলা, ভেতরে কোন মানুষের অস্তিত্ব টের পেল না। কি মনে এল কে জানে, ভেতরে ঢুকেই সে একটা খাঁটের নিচে ঢুকে পড়ল। সবাই ঘুমিয়ে পরার পরে সে রাত ১টায় খাটের নিচ থেকে বেড়িয়ে আসল।জীবনের প্রথম চুরি তাই মনে খুব ভয়ও করছিল। অন্ধকার রুমের মধ্যে হাটতে গিয়ে হোচট খেল সে, আওয়াজ পেয়ে ঘুম ভেঙে গেল সবার তারপর যে যা পারল ফ্রীতে কিল ঘুসি দিয়ে এই গাছের সাথে বেঁধে যে যার মত ঘুমাতে গেল।সকাল হলে চেয়ারম্যান এসে এই চোরের বিচার করবে।
.
এখন সকাল ১০টা চোরের বিচার দেখার জন্য আবালবৃদ্ধবনিতা জড়ো হতে শুরু করেছে যেন এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।এক কোনে কয়েকটা চেয়ার সাজানো রয়েছে।সোহাগের বাবা লোকজন সহ চেয়ারম্যানকে আসতে দেখে দৌড়ে তার কাছে গেল সালাম দিয়ে একটা এক হাজার নোট তার হাতে গুঁজে দিল।চেয়ারম্যান বুঝে গেল আজকের বিচার কঠোর হতে হবে।চেয়ারম্যানের সাথে আসা লোকজনের একজন হলো রমিজ তার বাজারে একটা মাংসের দোকান আছে,২কেজি মাংসের মধ্যে তার ১৫০ গ্রাম ঘাটতি থাকে সে মজনুর কাছে এসেই দু গালে ৫টা চড় দিল আর বলতে লাগল এই গ্রাম থেকে চোরের গুষ্টিশুদ্ধ বিদায় করব।অথচ সে নিজেই একটা চোর।
.
চেয়ারম্যান :- এই তোমার নাম কি?
.
লজ্জায় মাথা নিচু করে উত্তর আসল,মজনু।
.
চেয়ারম্যান :- কোন গ্রাম?
.
মজনু ক্ষুদায় আর জ্বর নিয়ে মাথাটা ডান দিকে কাঁত হয়ে আছে, চোখ বন্ধ করে আছে সে।সব কিছু শুনতে পাচ্ছে কিন্তু উত্তর দেয়ার শক্তি তার কাছে নেই।
.
শুভংকর একটা লাঠি নিয়ে কয়েক ঘা লাগিয়ে দিয়ে বলল,এই কথা কস না ক্যান?কথা কানে যায় না?
.
শুভংকর একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী।জুয়েলারির ব্যবসায়ের চেয়ে তার সুদের ব্যবসাটাই ভাল চলে।চড়া সুদে টাকা ধার দেয় অন্যকে।তার কাছে গয়না বানাতে দিলে কেউ, তার মধ্যে স্বর্নের চেয়ে খাঁদ বেশি থাকে।
.
মজনু চোখ মেলে উত্তর দিল, রসুলপুর।
.
চেয়ারম্যান :- অন্য গ্রামের লোক হয়ে এই গ্রামে চুরি করতে আসছে!! কত বড় সাহস।একে কি শাস্তি দেয়া যায়??
.
বিভিন্নজন বিভিন্ন শাস্তির কথা বলে।শেষে ঠিক হল তার মাথা ন্যাড়া করে জুতার মালা গলায় দিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেয়া।মজনুর দড়ি খুলে দিতেই সে পরে গেল।একজন তার তার মাথা ন্যাড়া করে দিল তারপর তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে তিনজন মিলে মজনু কে ধরে ধরে গ্রামের বাইরে দিয়ে আসল।মজনুর চোখ দিয়ে পানি ঝরে পড়ছে তার সে পানি ছিল লজ্জার,দুখের, অভাবের।
.
(এ দেশে অভাবে পড়ে যারা চুরি করে তাদের বিচার হয় কিন্তু স্বভাবে পড়ে যারা চুরি করে তাদের বিচার হয় না)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now