বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুপুর বেলা। আমি আর বেটার হাফ ডাইনিং টেবিলে খেতে বসছি। বেটার হাফ কপালের সামনে থেকে সানসিল্ক মারা চুলগুলা সরাতে সরাতে বললো, প্লেট বাড়াও। ভাত দিই।
আমি মুখে আহ্লাদের লালনীল সাজিবাতি জ্বালিয়ে জিগ্যেস করলাম, আজ কি রান্না করসো?
বেটার হাফ বললো, করলাভাজা, ঢেড়সের চচ্চড়ি আর আলুপটলের ঝোল রাঁধসি গরম মশলা দিয়ে। চিকেন রাঁধতে নিসিলাম, কিন্তু দেখলাম সময়ে কুলাবে না। রাতে রাঁধবোনে। এখন এগুলা খাও।
নিজের অজান্তেই আমার মুখ বেঁকে গেছিলো। বল্লাম, আচ্ছা অ্যাই শোনো না, আমাকে করলাভাজাটা দিও না, হ্যাঁ? খেতে ইচ্ছে করতেসে না।
বেটার হাফের ভুরু ফোট্টিফাইভ ডিগ্রি এঙ্গেলে বেঁকে গেল।
গম্ভীর গলায় বললো, ক্যানো খেতে ইচ্ছে করছে না, শুনি!
আমি বললাম, ইয়ে, করলাটা না, একটু বেশিই তিতা। মানে ক্যামন জানি স্বাদ! করলা খাইলে অবশ্য পেটে কৃমি থাকে না, কিন্তু আমার তো এমনিতেও কৃমির প্রবলেম নাই।
বেটার হাফ ফোস করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বল্ল, আচ্ছা। ঢেড়স চচ্চড়ি নাও।
বলে হাতা দিয়ে বোল থেকে ঢেড়সের চচ্চড়ি নিয়ে আমার থালার দিকে হাতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি আতঙ্কে নীল হয়ে ঢেড়সের দিকে তাকিয়ে আছি! ঢেড়স! ইয়াক! ঢেড়স! ছি! পিছলা পিছলা! টিপ দিলে ভেতর থেকে আরো পিছলা একটা রস বেরিয়ে আসে! কি বিশ্রি! ঢেড়সের গায়ে আবার খোচা খোচা দাড়ির মত। এই জিনিস খাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না! নো!
আমি প্রচন্ড আতঙ্কে চিৎকার করে উঠলাম, এইইই! এইইইইই! নাঅাঅাঅাঅাঅা! দিও না!
বেটার হাফও ভীষণ চমকে গেল। চিৎকার করে উঠলো, কি হইসে?
আমি আশকারার গলায় বললাম, ঢেড়সটা না খাই। ওটা খাইতে গেলে আবার আমার গলায় জড়ায় যায়। পিছলা তো, তাই!
বেটার হাফ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। ক্লান্ত গলায় বলল, আচ্ছা। আলুপটলের ঝোল খাবা?
আমি বেটার হাফকে খুশি করার জন্য বললাম, আচ্ছা দাও। আমি এটাই খাবো। আলুপটলের ঝোলের মত স্বাস্থ্যকর আর কি হইতে পারে।
বেটার হাফ বিড়বিড় করে কি জানি বললো। শুনে মনে হলো, বলছে, কোঁদালেদাঁতওয়ালা কোথাকার!
আমি শুনে মনে মনে অনেকটা খুশি হয়ে গেলাম। মধুর চেয়েও মিষ্টি গলায় ডাক পাড়লাম, অ্যাঁ??
গাধার মত অ্যাঁ অ্যাঁ করবা না। চুপচাপ খাও।
বেটার হাফের স্পষ্ট হুমকি।
আমি বেজার হয়ে মুখ বন্ধ করে দিলাম। বেটার হাফ আমার প্লেটে আলুপটলের ঝোল দিলো। আড়চোখে তাকিয়ে দেখলাম, আলুপটলের ঝোলের একটা টুকরা আলুও আমার প্লেটে এলো না। হতচ্ছাড়া পটলের টুকরাগুলো তরতর করে চলে এলো। যেন আমার প্লেটে ফ্রি-তে লটারি দিচ্ছে।
একটা পটলের টুকরায় চাপ দিলাম। পুট করে পটলের একটা বিচি বেরিয়ে এলো। গোলগাল নিরিহ বিচি। খুব ভরসা করে বিচিটা মুখে নিয়ে দাঁত দিয়ে কামড় দিলাম।
কামড় দিয়েই প্রথমেই যেটা মাথায় এলো, আমি কি পটলের বিচিতে কামড় দিলাম, নাকি টিকটিকির ডিমে কামড় দিলাম? নাকি পটলের ভেতর টিকটিকি ডিম পেড়ে রেখে গেছে? মুখের ভেতর পটলের বিচিটা টিকটিকির ডিমের মতই কড়াৎ করে ফেটেছে।
খাওয়ার যা ইচ্ছা ছিলো, তাও চলে গেল।
বেটার হাফ আমার দিকে ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে আছে।
বুকে এভারেস্ট বিজয়ের সাহস নিয়ে বললাম, ইয়ে শোনো...তুমি তো এখনো প্লেটে ভাত নাও নাই, তা তুমি আমার প্লেটটাই নিয়া নাও। আমার আসলে পটলটা খেতে ইচ্ছা করছে না।
বেটার হাফ ঠান্ডা গলায় বল্লো, ক্যানো ইচ্ছা করছে না?
আমি বানিয়ে বানিয়ে বলে দিলাম, আসলে পটলে আমার এলার্জি আছে তো, তাই। পটল খেলেই একটু পরে সারা গায়ে চাকা চাকা র্যাশ বের হইত।
প্লেটটা বেটার হাফের দিকে বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি বেসিনে গিয়ে হাত ধুতে লাগলাম।হাত ধুতে ধুতে দাঁত বের করে বললাম, চিন্তা কইরো না, রাতে চিকেন রান্না করবা তো, তখন বেশি করে খেয়ে নিবনে...
বেটার হাফ আরো এক ডিগ্রি ঠান্ডা গলায় বললো, রাতে আমি চিকেন রান্না করবো না। তোমারে এই জিনিসই খাইতে হবে।
আমার চোখে দুঃখে পানি চলে এলো। কোনো কথা না বলে ভেজা হাতটা ট্রাউজারে মুছতে মুছতে ডায়নিং রুম থেকে বেরিয়ে এলাম। ও সবসময় এমন করে। কী ভীষণ নিদারুণ!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now