বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এক জন অপরিচিতা মেয়ে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X কত বার দেখেছি টাইটানিক মুভিটা।তারপরও দেখার সাধ মিটে না আমার।এই নিয়ে বাইশ বার চলছে।মাত্র বরফের সাথে ধাক্কা লাগল।আর সেই প্রতিফলন আমার ফোনে পড়ল মনে হয়।চিৎকার করে চলেছে।রিসিভ না করা পর্যন্ত এটা বাজবে।কারণ অপর প্রান্তে একটা শাঁকচুন্নি বসে আছে যে.... - কি রে অসময়ে ফোন দিচ্ছিস কেন? মুভিটা তো দেখতে দে... - প্রহর, আমি সুস্মি বলছি। - ওওও মোহনার ফোন তোর কাছে কেন? - একটা ঝামেলা হয়ে গেছে। - কি হয়েছে? - তুই আমাদের মেসে আয়। - রাত বাজে এগারটা এখন তোদের মেসে আমাকে ঢুকতে দেবে কেও? - তুই কথা বাড়াস না প্লিজ কুইক আয়। - বলবি তো কি হইছে! (গলার আওয়াজ নিজের কাছেই অন্যরকম লাগছে,কেমন অচেনা) ওপাশের লাইন টা কেটে গেল।আমার বাসা থেকে ওদের মেস খুব জোর বিশ মিনিট লাগবে যেতে।বাসায় কাউকে না বলেই বেরিয়ে গেলাম। ; দারোয়ান আজ আটকে দিল না আমাকে।অবাক হচ্ছি আর উদ্বিগ্ন বেড়েই চলেছে।কোন অশুভ ছায়া কড়া নাড়ছে জানি না।মোহনাদের রুমের ভেতর অনেক ভীড়।সাত আটটা মেয়ে কয়েকজন দাড়িয়ে কেউ বিছানায় বসে।আর তাদের মাঝে লম্বা ভাবে মোহনাকে শুইয়ে রাখা হয়েছে।চোখটা সিলিং এর দিকে যেতেই অন্তরাত্মা কেঁপে গেল আমার।গলায় ফাসের দড়িটা ঝুলছে এখনো। মনে হচ্ছে পায়ের তলা থেকে মাটি ফাকা হয়ে যাচ্ছে।সুস্মি এসে আমাকে ধরল। - ও বেচে আছে....( সুস্মি) কিছু সময়ের জন্য কানের শ্রবন শক্তিও যেন হারিয়ে গেছে।তাকিয়ে রইলাম সুস্মির দিকে।ও আবার বলল... - ঘাবরাস না,হুশ নেই শুধু।কিচ্ছু হয়নি। ওর পাশে গিয়ে বসলাম।লক্ষ্য করলাম খুব ধীরে শ্বাস প্রশ্বাস চলছে।অনেকক্ষন পর স্বাভাবিক হলাম।একটা কথা জিগেস করলাম শুধু.... - কি হয়েছিল? - সাড়ে নয়টার দিকে বাইরে থেকে আসছিল।ওর ফোন অফ ছিল।ফোন দিলাম কিন্তু ঢুকছিল না।খুব নার্ভাস দেখাচ্ছিল। দরজা আটকে বসেছিল অনেক্ষন। অনেক কাঁদছিল। কিচ্ছু বলেনা কি হইছে।রান্নাবাড়া নিয়ে আমরা ব্যাস্ত ছিলাম।তখন এটা করেছে।ফ্যানের নিচে টেবিল দিয়ে তার উপর চেয়ার দিয়ে দড়ি দিতে গিয়েছিল।কোন ভাবে পা ফসকে নিচে আছড়ে পড়ে।আওয়াজ শুনে সবাই ছুটে আসি।দেখি মেঝেতে জ্ঞ্যান হারিয়ে পড়ে আছে।তারপর তোকে ফোন দেই...... হাসপাতালে নেয়ার কথা ভাবছি।কিন্তু এত রাতে..... দুটোর দিকে জ্ঞ্যান ফিরল মোহনার।এত মানুষ আসা করেনি হয়ত।ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে ছিলাম ওর দিকে।মুখটা দেখে খুবই মায়া লাগছিল।পলক আটকে গিয়েছিল।কিন্তু ওর কান্না দেখে বস্তবে ফিরে এলাম। - এসব কি মোহনা? মনে হয় কিছুই শুনতে পায়নি।কান্না করেই চলেছে।উঠে বসল ও।সুস্মি বাকি মেয়েদের বের করে দিল রুম থেকে। - দোস্ত বল এমন কেন করতে যাচ্ছিলি? (সুস্মি) - মোহনা প্লিজ চুপ করে থাকিস না... ( আমি) কারো কথার উত্তর দিচ্ছে না মোহনা।ওর হাত ধরলাম।এবার হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। আমার বাম বাহুর কাছে মাথা ঠেকে ধরল দু হাত দিয়ে বাহু খামচে ধরল।আর একটু সময় দিলাম ওকে.... - রাদিত.... ( মোহনা) - রাদিত??? কে রাদিত??? - আমার স্টুডেন্ট..... - কি করেছে ও? - ও না... ওর বড় ভাই..... - কি করেছে ওর বড় ভাই? - বাসায় কেউ ছিল না আজ।সন্ধ্যায় পড়াতে যাই ওকে....আজও গেলাম,কিন্তু ও ছিল না।ওর ভাইয়া বলল দশ মিনিট ওয়েট করেন চলে আসবে।ওয়েট করলাম।উনি আমাকে চা বিস্কিট দিয়ে গেল।ওগুলা খেতেই ঘুমিয়ে গেছি। চোখ মেলতেই দেখি...... থেমে গেছে মেয়েটা।আবার কান্না জুড়ে দিয়েছে। - চোখ মেলে কি? বললল????? - ওই জানোয়ারটা আমার উপর..... মুখে কাপড় বাধা।কিচ্ছু বলতে পারছিলাম না।আমার পৃথিবী অন্ধকার করে দিয়েছে প্রহর....... আবারও কান্নার আওয়াজ ভারি করে তুললো ছোট্ট রুমের ভেতর।আমার হাত পা কেমন অসাড় হয়ে আসছে।সুস্মিকে দেখলাম কাপড় দিয়ে মুখ চেপে ধরেছে।গলা দিয়ে কোন শব্দ বের করতে পারছি না।ঝুলন্ত দড়িটার দিকে তাকিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করলাম।আর পানি গাল গড়িয়ে নিচে পড়ল। শান্তনার বানি আমার জানা নেই। কলেজ লাইফে পরিচয় হয়েছিল ওর সাথে।ভাল লাগার মত একটা মেয়ে মোহনা।নম্রতা ভদ্রতার উদাহরণ দিতে গেলে ওকে টেনে নেয়া যায়।সৌন্দর্য বর্নণা করতে গেলে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলব।ওর ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার প্রয়োজন মনে করিনি।শুধু এটুকুই বুঝেছিলাম আমার এই মেয়েকেই চাই।বন্ধুত্ব করার মত ইচ্ছা ছিল না।সরাসরি প্রপোজ করে বসলাম।আর এক বাক্যেই বলল "না " হজম করতে কষ্ট হলেও সামলে নিয়েছিলাম।সেটা ফার্স্ট আর সেটাই ছিল লাস্ট আমার জন্য।পরে বন্ধুত্ব বরন করে নিয়েছিলাম।সেই থেকে শুরু এক সাথে।পরে জানতে পারলাম কেন আমাকে "না " করেছিল...... " ছোট বেলা থেকে কেটেছে ইয়াতিম খানায় ইয়াতিম দের সাথে।বাবা মা হীন বেড়ে ওঠা একটা মেয়ে।সেখানেই কোন ভাবে মাধ্যমিক কেটেছিল।খুব ইচ্ছা ছিল তার বড় হবে। স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা।সংজ্ঞি ছিল নিজের স্বপ্ন। স্বপ্ন পুরনের আশায় এখানে আসা তার।নিজে চলার মত কিছুই নেই।অনেক কষ্টে কয়েকটা টিউশন খুজে নিয়েছে।কষ্ট হলেও দিন গুলো কেটে যাচ্ছিল।পরিচয় হীন মেয়েটা নিজের সাথে কাউকে জড়াবে না বলেই আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।" ওর সবটা জানার পর আরও বেশি দূর্বল হয়ে গেলাম ওর উপর। কিন্তু না তখন ও আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল মেয়েটা।তখনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বন্ধু হয়েই থাকব যত দিন বাচিঁ। ; ফজরের আজান পড়ে গেছে। এখনি সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি কি করব।ভোরের হতেই সুস্মির হেল্প নিয়ে মোহনাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।চোখ দুটো ফুলে গেছে কাঁদতে কাঁদতে। প্রাণবন্ত মেয়েটা হঠাৎ করেই যেন চুপসে গেল।সব কিছুই যেন পানসে হয়ে গেছে।আজ দু দিন পার হয়ে গেছে।যখন একটা মেয়ের সম্ভ্রম নষ্ট হয়ে যায়,তখন হাজার সান্তনা দিলেও সে বুঝতে পারে যেটা হারিয়েছে সেটার মুল্য অমুল্য ছিল।অনেক ভাবে বুঝিয়েছি কিছুই হয়নি।নিজেও জানি সান্তনা এখানে হাস্যকর ছাড়া কিছুই না।তারপরও....... আর সমাজ????? চোখ ফিরিয়ে নেয়াতে তার জুড়ি নেয়।আর যে তাকায় সে বাকা চোখে তাকায়।যেন একটা আবর্জনা দেখছে।সমাজের একটা ময়লা এখন মেয়েটা।এটা উপলব্ধি করেই হয়ত মেয়েদের সুইসাইড সংখ্যা বেড়ে চলেছে।অথচ এসবের পেছনে আমার আপনার মতই কিছু লোক দায়ী। এমন সময় ঈদের জন্য ছুটির ঘোষনা হয়ে গেল।মেয়েরা অনেকেই এর ভেতর বাড়ি চলে গেছে।এই সময়টা আমার কাছে খুব কষ্টকর।কারন সবাই যখন চলে যাই,একটা মেয়ে চুপচাপ দেখে অন্যদের চলে যাওয়া।আর সেটা এই অভাগা মেয়ে মোহনা। যার যাওয়ার কোন জাইগা নেই।সুস্মি কতবার বলল ওর সাথে ওদের বাড়ি যেতে।রাজিই হল না।একবার দেখে আসা উচিৎ ভেবে বের হয়ে গেলাম... দারোয়ানের কাছে থেকে জানতে পারলাম মেস নাকি বন্ধ হয়ে গেছে।কেউ নাকি নেই।সুস্মি কে কল করলাম ও বলল ওর সাথে নাকি যায়নি মোহনা।অজানা ভয়ে শঙ্কিত হচ্ছি।কোথায় গেল মেয়েটা? কার কাছে গেল? ফোন ও নেই ওর যে একটা ফোন করব।যত গুলা জাইগা ওর পছন্দ সারাদিন খুঁজাখুঁজি করেও পেলাম না।ও যে আমার জন্য কি সেটা হয়ত জানে না ও।ভালবাসার মানুষের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক রাখা কত যে বড় অভিনয় তা যে করে সেই বুঝতে পারে।তারপরও কাছে ছিল কথা বলেছি এটাই বা কম কিসে? কিন্তু এখন আর কার সাথে কথা বলব? সন্ধ্যা নামতে শুরু করছে।কাশ ফুলের ডগা গুলা বাতাসের সাথে নুইয়ে পড়ছে।যেন বলতে চাইছে আজকের মত বিদায়..... উঠে দাড়ালাম যাওয়ার জন্য.... হঠাৎ করেই কেউ বলে উঠল.... - কি রে চলে যাচ্ছিস? কিছুটা ভয় পেলাম আচমকা শব্দে,কিন্তু পরিচিত শব্দটা মধুর লাগল কানে।আবার বলল... - আমাকে নিয়ে যাবি না? - মোহনা??? - তোর চোখ ভেজা কেন রে? - কই ছিলি সারা দিন? সব জাইগা খুজছি কোথাও পাইনি।এত টেনশন হচ্ছিল।মনে হচ্ছিল হারিয়ে ফেলেছি তোকে।(অনেক দ্রুত কথা গুলা বললাম) - এখানেই ছিলাম সারাদিন।মেয়েরা বাড়ি চলে যাচ্ছে সবাই।দেখতে অনেক খারাপ লাগছিল তাই..... - আমাকে দেখিস নাই।এখানে বসে ছিলাম? - দেখলাম তো। - সামনে আসলি না কেন? - দেখলাম আমার জন্য আসলেই তুই অনেক ভাবিস। - ওও শুধু এটুকুই দেখলি? আর কিছু না? - আমার দেখার পরিধি খুব ছোট রে।অনেক কিছু দেখেও দেখি না। ( উত্তর দেয়ার মত কিই বা আছে আর।মাথা ঝাকালাম খুব ঘন....... নোনা পানি উপস্থিতি টের পেলাম ঠোটের কাছে।শার্ট এর হাতা দিয়ে মুখটা মুছে নিলাম.....) - এখানে কেন ছিলি একা একা যদি কিছু হত? - আর কিসের ভয়!যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে.... কথা টা কানের ভেতর প্রতিধ্বনি হতে লাগল।কষ্টের শেষ সীমায় নিয়ে এসেছি নিজেকে।সহ্য হচ্ছে না আর।গায়ের যত বল আছে,সেটা প্রয়োগ করেই থাপ্পড় টা দিলাম ওর গালে।নিজের হাতেই জ্বালা করে উঠল....ওর শরীরটা ততক্ষনে টলে উঠেছে।পড়ে যেতেই হাত বাড়িয়ে ধরে ফেললাম।বোকামি হয়ে গেল।এত জোরে মারা উচিৎ হয়নি।নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি।এতটা অসহায় বোধ হয়নি কখনো। কয়েকবার ডাকাডাকি করলাম সাড়া পেলাম না.....বাড়িতেই নিয়ে যাব যা হয় হবে। রাস্তা পর্যন্ত কোলে করেই নিতে হবে।চাঁদটা হাসছে আমাদের অসহায়ত্ব দেখে। - প্রহর....? - হু..... কথা বলছে দেখে থেমে গেলাম।ঘাসের উপর রাখতে চাইলাম ওকে। - প্রহর এভাবে রাখ না আর একটু। অবাক হয়ে ওর মুখের দিকে চাইলাম।এমন একটা কথা শোনার জন্য হাজারটা বছর অপেক্ষা করা কিছু না। - এভাবে রাখবি সারা জীবন আমাকে? হাটু ভেঙে বসে পড়লাম ওকে কোলে নিয়েই।শক্তি লোপ পাচ্ছে কেমন।দু হাতের ভেতর ওর মুখটা নিলাম।আধ শোয়া হয়ে আমার কোলের ভেতর সিধিয়ে গেল। - কথা দিলাম....... সারা জীবন এভাবেই রাখব তোকে।শুধু একটু ভালবাসবি আমাকে। - ভালবাসি তো..... শুধু একটু সাহস দিবি আমাকে। - আমিই তোর সাহস পাগলী। ভরসা রাখ..... অশ্রুসিক্ত নয়নে জড়িয়ে ধরলাম দুজন দুজন কে।নিজের কাছে সব চেয়ে খুশি মানুষ আমি।মেয়েটা জীবনের প্রথম ভরসা আর ভালবাসার আশ্রয়স্থল পেল।ওর শরীরের কাপুনি বলে দিচ্ছে কান্নার গতি বাড়ছে।শক্ত করে জাপটে নিলাম আর একটু... *সমাপ্ত* . . .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now