বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অফিস থেকে ফিরে দেখি বেটার হাফ চুপচাপ গায়ে চাদর দিয়ে জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখছে। আমার দেখেই মোটামুটি শরীর গরমে চিড়বিড় করে জ্বলতে শুরু করলো; যদিও বৃষ্টি হচ্ছে, তাও এত গরম লাগছে যে মনে হচ্ছে শরীর থেকে সোডিয়াম ক্লোরাইডের সম্পৃক্ত দ্রবণ ফোয়ারার মত বেরোচ্ছে!
কাছে গিয়ে বললাম, অ্যাই শোনো না! টাই-টার গিট্টু খুইলা দেও না প্লিজ! আমি পারতেসি না!
বেটার হাফ কোনো কথা না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে হাত উঁচু করে টাই খুলে দিলো। সন্দেহজনক! খুবই সন্দেহজনক! বেটার হাফ তো কখনোই দুটা ঝাড়ি না দিয়ে টাই খুলে দেয় না...
চেঞ্জ না করেই একটা টুল টেনে বেটার হাফের পাশে বসলাম। দুইটা আহ্লাদের কথা বলতে যাব, বেটার হাফ নাক কুঁচকে বললো, অনি! চেঞ্জ করে আসো! বিশ্রি গন্ধ আসতেসে তোমার শার্ট থেকে!
আমি মোটামুটি বেজার হয়ে উঠে গেলাম। শার্ট প্যান্ট ছেড়ে টিশার্ট ট্রাউজার পড়ে পারফিউম দিয়ে ভদ্র হয়ে এসে বেটার হাফের পাশে এসে বসলাম।
এক মিনিট গেল। বৃষ্টি পড়ছে। বেটার হাফ জানালার দিকে তাকিয়েই আছে।
দুই মিনিট গেল।
পাঁচ মিনিট গেল।
দশ মিনিট যায় যায় করছে।
হঠাৎ কি জানি হলো। বেটার হাফ একটু নাক টানলো। বাসার বুয়াদের চুরির অপবাদ দিলে নিঃশব্দে কান্না করতে করতে যেইভাবে নাক টানে, ঠিক সেইভাবে! আমি চমকে উঠলাম! বেটার হাফ কি কান্না করছে নাকি! আতঙ্কে দুইহাত লাফিয়ে উঠে জিজ্ঞেস করলাম, অ্যাই কি হইসে তোমার!! কাঁদতেসো নাকি?
বেটার হাফ গম্ভীর গলায় বললো, নাহ।
আমি এবার আরেকটু অনুসন্ধিৎসা নিয়ে বেটার হাফের দিকে তাকালাম। নাক-চোখ লাল হয়ে আছে। এবার মোটামুটি নিঃসন্দেহ হয়ে গেলাম, বেটার হাফ নিশ্চয়ই কান্না করছিলো!
ক্যান জানি আমার বুকটা খা খা করে উঠলো! ছোটবেলার দেখা একটা সিনেমার কথা মনে পড়ছিলো! মোটা করে একটা নায়িকা গোবেচারা দেখতে একটা ছেলেকে ভালোবাসতো। কোমর দুলিয়ে তার সাথে দুএকটা গানও গেয়েছিলো বোধহয়। কিন্তু গোবেচারা ছেলেটা গরিব ছিল, তাই মোটা নায়িকার বাবা ছেলেটাকে পিটিয়ে আধমরা করে মোটা নায়িকাকে ধনীর ছেলের সাথে বিয়ে দেন।
এক্সট্রাওর্ডিনারি কোইন্সিডেন্সের ব্যাপার, বিয়ের পর প্রেমিকের বিরহে মোটা নায়িকাও সেম টু সেম নাক টেনে টেনে কান্না করতো। একই ভাবে চোখ-নাক লাল হয়ে যেত!
তবে কি... আমার বেটার হাফও...কাউকে...কাউকে ভালোবাসতো??আমি বেটার হাফকে তার ভালোবাসার কাছ থেকে হাইজ্যাক করে নিয়ে এসেছি??
হঠাৎ করে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাষণ্ড মনে হতে লাগলো! আমি কি তবে আমার বেটার হাফের লাইফের ভিলেন? আমি কি তবে আমার বেটার হাফের লাইফের পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনীকে মাঝপথেই শেষ করে দিলাম? এজন্যই কি আজ বেটার হাফ গোপনে গোপনে কাঁদে?
শাশ্বত প্রেমকে ধ্বংস করার প্রচন্ড আফসোসে আমার বুকে চিনচিন ব্যাথা শুরু হলো। টের পাচ্ছি হার্ট আস্তে আস্তে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দিচ্ছে! মোটামুটি শিওর হয়ে গেলাম, কিছুক্ষনের মধ্যেই আমার হার্ট এটাক হবে। মারা যাওয়ার আগে বেটার হাফকে তার শাশ্বত প্রেমের কাছে পৌছে দেওয়া আমার অবশ্য কর্তব্য। তাই বুকে চিনিচিনি ব্যাথা নিয়েই জিগ্যেস করলাম, আচ্ছা, ওই ছেলেটারে খুব ভালোবাসতা, তাইনা?
বেটার হাফ চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকালো। সেই চাউনি দেখে বুকের ব্যাথাটা আরেকটু বেড়ে গেল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, খুব মিস করো তারে, তাই না? এজন্যই আড়ালে আবডালে আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে কান্না করো....
বেটার হাফ অবাক হওয়া গলায় বললো, মানে কি! আমি কখন কান্না করসি!
বেটার হাফের নিজের কান্না গোপন করার চেষ্টা দেখে আমার বুকের ব্যাথা আরো এক ডিগ্রি বেড়ে গেল! প্রচন্ড ব্যাথা হচ্ছে! আমি প্রায় কোকাতে কোকাতে বললাম, আমি জানি তুমি লুকিয়ে কান্না করো!
তারপর একটু বাংলা সিনেম্যাটিক স্টাইলে কোকানোর চেষ্টা করলাম, তোমার ওই লাল চোখ বলে দেয়, তুমি কান্না করো! তোমার ওই নাক টানা বলে দেয়, তুমি কান্না করো!তুমি কি ভেবেছিলে, আমার কাছ থেকে লুকাতে পারবে তোমার অন্তরের অন্তঃস্থলে ভরে থাকা চাপা কষ্ট? না...তুমি পারবে না...আমি জানি যে...
আমার ডায়লগ ডেলিভারি শেষ হবার আগেই চিল-চিৎকার, অ্যাই! সমস্যা কি তোমার? হ্যা??
হঠাৎ বাধা পড়ায় আমি থতমত খেয়ে গেলাম। সিনেমায় মোটা নায়িকা তো এমন রিএকশন দেয় নি! কি বলবো ভেবে পেলাম না।
প্রায় সাথে সাথেই আবার চিৎকার, তোমার কি সেন্স বলে কিচ্ছু নাই?
আমি চি চি করে কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, তার আগেই আবার বজ্রনাদ , আমার ভাইরাল ফ্লু হইসে, জ্বর আসছে তাই চোখ লাল, সাথে সর্দি তাই নাক টানতেসি!ওকে?? বোঝা গেসে? বোঝা গেসে??
ততক্ষণে আমার হার্ট ঝরঝরে হয়ে আবার আপন গতিতে চলতে শুরু করে দিয়েছে! আমি আহ্লাদে টুল ছেড়ে মহাকাশের দিকে ভাসতে ভাসতে এক ফুট এগিয়ে আবার নেমে আসতে আসতে হাসতে হাসতে বললাম, ও! খালি ভাইরাল ফ্লু হইসে!? তাইলে ঠিক আছে হেহেহে! হিহিহি! হোহোহো! হাহাহা!
বেটার হাফ বড় বড় চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কি জানি বললো। মনে হয় "কোঁদালেদাঁতওয়ালা"ই বলেছে! আমি আহ্লাদে সতেরোখানা হয়ে ডাক দিলাম, অ্যাঁ?
বেটার হাফ কঠিন গলায় বললো, শাট আপ!
আমি ধমক খেয়ে বেজার মুখে চুপ করে গেলাম।
বেটার হাফও মুখ শক্ত করে চুপচাপ জানালার দিকে তাকিয়ে আছে।
এতক্ষণে এই কাটফাটা গরমে বেটার হাফের চাদর গায়ে বসে থাকার রহস্যটা বুঝতে পারলাম!
বেটার হাফের নাক টানা আর চোখ লাল দেখে প্রেমটেম কি কি সব বাজে কথা মনে করেছিলাম, ছি ছি...শেম শেম...
একটু পরে গলায় এক কেজি সোহাগ ঢেলে জিগ্যেস করলাম, ও গো, জ্বরটা বেশি আসছে? কপালটা বেশি গরম হইসে? কপালে একটু বরফ ঘইষা দেই? তাইলে বেশ একটা ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল টাইপ আরাম পাবা...দেই?
বেটার হাফ কঠিন গলায় বললো, আর একটা কথা বললেই কঠিন থাপ্পড় খাবা! কসম!
আমি ভয় পেয়ে চুপ করে গিয়ে জানালার বাইরে উদাসমুখে তাকিয়ে রইলাম। বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করছে না। ও সবসময় আমার সাথে এমন করে। কী ভীষণ নিদারুণ!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now