বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রতিদিনের মতো আজো মাহফুজ মধ্যরাতে নেশা করে দরজা ধাক্কাতে লাগলো। মাহফুজের পরিবারে মাহফুজ এবং তার মা আর ছোট বোন।এটাই হলো মাহফুজের ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় আপনজনদের মধ্য হতে সবচাইতে কাছের মানুষ।৬ মাস আগেও মাহফুজ অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই ছিলো।মাহফুজ যখন ইন্টার পরিক্ষার্থি তখন তার বাবা হঠাৎ হার্ট এটাক করে পরোপারে পারি জমান।বাবা ছিলো পোষ্ট মাষ্টারের সামান্য একজন পিয়ন। কিছুদিন পূর্বেই কাজ থেকে রিটায়ার করেছিলেন।বাবা মারা যাবার পর সংসারের সমস্ত বোঝা এসে পরে মাহফুজ এর কাধে।সরকার থেকে পাওয়া কিছু পেনশন আর মাহফুজের টিউশনি করে যা আয় হতো তা দিয়েই টেনেটুনে সংসার চলে যেতো।মাহফুজের জীবনে সবচাইতে বড় ধাক্কাটা আসে রিতা নামের একটি মেয়ের কাছ থেকে।চলার তাগিদে মাহফুজ নতুন একটি টিউশন তালাশ করছিলো।তখনি হাতে চাঁদ হয়ে ধরা দেয় এলাকার বিশিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আফজাল হোসেনের মেয়ে রিতা। রিতা তখন দশম শ্রেনীর ছাত্রী। সামনের পরীক্ষার জন্য তার দরকার ছিল একজন ভালো টিউটর। আর তখনই আফজাল হোসেনের চোখে মাহফুজ এসে ধরা দেয়। আফজাল হোসেন যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন আর রিতাকে পড়ানোর দায়িত্ব মাহফুজের হাতে সপে দেন।রিতা ছিল অসম্ভব সুন্দরী। তাই প্রথম দেখাতেই মাহফুজ তার প্রেমে পড়ে যায়। তবে কথায় আছে না পকেটে ১০ টাকা মনে হাজারটা স্বপ্ন এরই নাম মধ্যবিত্ত। তাই মাহফুজ কখনো তা প্রকাশ করত না। তবে রিতাকে পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে আড়চোখে তার সৌন্দর্য উপভোগ করত। রিতা অবশ্য বিষয়টা খেয়াল করতো তবে সে এ ব্যাপারে কিছু বলত না। একদিন রিতা মাহফুজকে বলল প্রতিদিন পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে কি দেখেন? মাহফুজ তার প্রশ্নে ভয় পেয়ে গেল।রিতা মাহফুজকে বলল আজকে যদি আপনি আমার এই প্রশ্নের জবাব না দেন তাহলে আমি আমার আব্বুকে সব বলে দেব। মাহফুজ তখন বলে প্রথম দেখাতেই তোমাকে আমার ভাল লেগে যায় আমি কোন পর্যায়ে আছি সেটা আমি ভাল করেই জানি । তাই বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়াতে চাইনা। এখন যদি তোমার আব্বুকে কিছু বলতে চাও তাহলে বলতে পারো।রিতা অবশ্য মাহফুজের কথায় অবাক হলেও এই কিছুদিনে সে মাহফুজের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। রিতা তখন মাহফুজের কথার উত্তরে বলে আপনার সাহসিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আর কিছুদিন যাবত আপনার প্রতি আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি। আর আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তখন থেকেই মাহফুজের সাথে রিতার প্রেম শুরু হয়। মাহফুজ রিতার সাথে প্রেম করলে কী হবে? সে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রিতাকে পড়ানো শুরু করে। ফলে রিতা এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে এ প্লাস অর্জন করে। একদিন কিভাবে যেন আফজাল সাহেবের কানে মাহফুজ এবং রিতার প্রেমের খবর চলে আসলো। তখন সাথে সাথেই মাহফুজকে বের করে দেন। তার পরের দিনই রিতার সাথে অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেন। মাহফুজ মন প্রান দিয়েই রিতাকে ভালোবাসতো। সে যতবারই রিতার সাথে দেখা করার চেষ্টা করত ততবারই আফজাল সাহেব তাকে কুকুরের মত দূর দূর করে তাড়িয়ে দিত। একদিন রিতা মাহফুজের বন্ধুর মাধ্যমে তাকে খবর পাঠায় যে গোপন একটি জায়গা দেখা করতে। মাহফুজ সেখানে গেলে রিতা তাকে অনেক গালমন্দ করে আর বলে তার সাথে যেন আর দেখা না করে। মাহফুজ তাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে তখন রীতা মাহফুজকে বলে তার মত ছোট লোকের ছেলের সাথে তার সম্পর্ক রাখা সম্ভব না। মাহফুজ সেদিন অনেক কষ্ট পায়। আর সেই দিন থেকেই নেশার সাথে তার পরিচয়। মাহফুজের মা মাহফুজকে অনেক বুঝায় এই সব ছেড়েছুড়ে ভাল পথে আসতে । কিন্তু মাহফুজ যে কষ্ট পেয়েছে ভুলে থাকার জন্য নেশাকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে। মাহফুজের মা চিন্তা করে দেখল হয়তো ছেলেকে বিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মাহফুজ কে বিয়ে করার জন্য অনেক পীড়াপীড়ি শুরু করে। কিন্তু মাহফুজের এক কথা সে আর অন্য কোন মেয়ের জীবন নষ্ট করতে চায় না। এরই মাঝে তার ছোট বোনকে দেখতে একটি সম্বন্ধ আসে এবং বরপক্ষ তার ছোট বোনকে খুব পছন্দ করে এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার ছোট বোনের বিয়ে হয়ে যায়। তখন বৃদ্ধ মায়ের কথা চিন্তা করেই মাহফুজ বিয়ের জন্য রাজি হয়। তখন সে তার মাকে শর্ত দেয় যে বিয়ের পর সেই মেয়ে তার মার সাথে ঘুমাবে। তার সাথে ঘুমাতে পারবে না। অতঃপর যথারীতি ছোটখাটো আয়োজনের মধ্য দিয়ে মাহফুজের বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। মাহফুজ বাসর রাতে গিয়ে দেখে তার বউ তার জন্য মুখে ঘুমটা দিয়ে অপেক্ষা করছে। মাহফুজ তাকে বলে দেখো এই বিয়েটা আমার সম্মতিতে হয়নি তাই আমার সাথে থাকা তোমার প্রশ্নই আসে না সুতরাং তুমি এখন আমার মার কাছে চলে যাও। আজ থেকে তুমি সেখানেই ঘুমাবে। এই কথা বলা মাত্রই মেয়েটা মাহফুজের মায়ের কাছে চলে গেল। তবে যাওয়ার সময় মাহফুজের কানে কান্নার মতো ফোঁপানির শব্দ এলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now