বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক : সায়েমুছ সুহান (কাব্য)
সুহান কইরে বাবা ওঠনা, টিউশনি করাতে যাবিনা...! আফরোজার আম্মু ফোন দিচ্ছে তো! ওঠ তাড়াতাড়ী... আর টেবিলে নাস্তা দেয়া আছে,খেয়ে নিস.... কেমন? আচ্ছা আম্মু যাও আমি আসছি, ঘুমঘুম ভাব নিয়ে জেগে উঠে ঘড়ির দিকে তাকাতেই মাথাটা আউলিয়া গেল, হায় হায়, ৬টা ৪৫ মিনিট হয়ে গেল, আজ থেকে আফরোজার পরিক্ষা শুরু তাই ৬.৩০ এ যাওয়ার কথা ছিল। টি শার্ট একটা কোনো ভাবে পরে বের হয়েগেলাম, দাঁতটাও ব্রাশ করতে পারলাম না । গিয়ে পৌছালাম ৭.০৪ মিনিটে, প্রায় ৯টা পর্যন্ত আফরোজাকে পড়ালাম, তারপর বের হয়ে আসলাম। মাকে ডাক দিলাম... দেখি মা ঘুমাচ্ছেন, অসুস্থ ছিলেন কয়েকদিন থেকে তাই শরীর খারাপ করবে ভেবে আর ডাক দেইনি। নিজে রুটি বানালাম সাথে একটি ডিম পোঁচ করলাম , তারপর খেয়ে কাপড় পড়ে বের হয়ে গেলাম, ১০.০০ টা বেজে গেল, বাড়ী থেকে বের হয়ে একটা সিএনজি পেয়ে গেলাম, উঠে পড়লাম গাড়ীতে। প্রায় ২ঘন্টার যাত্রাপথ শেষে আমি পৌছালাম ভার্সিটিতে,আমাকে দেখেই আমার রোমিও বন্ধু এসে পড়লো বুকের মাঝে , অনেক পর দেখছে তো তাই আবেগি হয়ে পড়লো, রাজও কম না রোমিওকে ছাড়িয়ে সেও কোলাকুলিতে এসে জয়েন করলো । তিনবন্ধু একসাথে ভার্সিটিতে প্রবেশ করে জয়কে খুজতে লাগলাম... গিয়ে দেখি মুমূর্ষু অবস্থায় বসে আছে, এর অবশ্য একটা কারণ যা আমি বলতে পারছিনা। তাকেও যোগ করে শুরু করলাম উৎপাত। বাংলা ডিপার্টমেন্ট অশৃঙ্খলা শুরু হয়ে গেল। বাংলার ৪ পাগল বললে কেউ চিনবেনা এমন কাউকে আমি মনে করতে পারছিনা । এইতো কয়েকদিন আগে পরিক্ষার সময় সবাই মাথায় কাপড় বেঁধে লিখছে আর আমরা তাদের ডিস্টার্ব করছি, অবশ্য কেউ কিছু বলেনা কারণ তারা জানে আমরা এমনি...! সবাই আমাদের কে অনেক ভালোবাসে। যাইহোক, ঐদিকে আর না যাওয়াই ভালো । ক্লাস চলছিল সমাজ বিজ্ঞানের... তাই তিনজনই ডুকে পড়লাম, কিন্তু দেখি সবাই আতংকিত । এরও কারণ আছে যার কাছেই গিয়ে বসবো, তারই ১২টা বাজবে । আমরা ধীরে ধীরে পেছনের দিকে যাচ্ছি আর সামনের ডিজিটাল বন্ধুরা হাফ ছেড়ে বাঁচতেছে। কোথাও যায়গা না পেয়ে গিয়ে বসলাম একদম পেছনের বেঞ্চে.... সামনে বসে আছে আমাদের সবার ভালোবাসার টুনটুনি (তান্নি) যাকে আমি বউ বলে ডাকি (অনেক ভালো একটা বন্ধু, তাই সে কিছু মনে করেনা) ভয় পাচ্ছে... কারণ কিনা কি করবো? মুখখালা লাল হয়ে গেছে। আমি ডাক দিলাম ও বউ কেমন আছিস ? কাঁপা স্বরে বলে, আল্লাহর দোহাই আমাকে মাফ কর । আমি : এই ঠিকমতো কথা বল, নয়তো আমি ম্যাডামকে বলে দেব..! তান্নি : কি বলবি ? তুই আমাকে I love You বলছিস।
তান্নি রেগে আগুন হয়ে জোর গলায় বলে ওই বেটা fake id তরে আমি কোন দুঃখে I love you কমু। এই তো বললি... হাহাহা। আহারে টুনটুনি বউটা দেখি কান্না করে দিছে, ধুর কি করলাম? নিজেরই খারাপ লাগছে। দুঃখিত আন্টি... বলে থাকে হাসালাম। ঐদিকে রাজ ম্যাডামকে রাগাতে উঠে লেগেছে, জয়ও থাকে সায় দিচ্ছে, আর আমার রোমিও বন্ধুটির চক্ষু লজ্জা আছে তো তাই আমাদেরকে বারবার হুঁশিয়ার করে দিচ্ছে। আড় চোখে মিষ্টি(আমাদের আরেক বেস্টফ্রেন্ড) ওসব দেখছে আর হাঁসছে । কখন যে ক্লাস শেষ হলো বুঝতেই পারলাম না, বের আরো কয়েক ঘন্টা আড্ডা দিলাম, তারপর ক্যাফেতে আসলাম, এখানে এসে যোগ দিল মোহিত...আড্ডা হলো আরো কয়েক ঘন্টা... সবাই মিলে নাস্তা করলাম। তারপর বেলা ৫ টার সময় বের হয়ে আসলাম । সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসে গাড়ীতে বসলাম...আর শেষ করলাম আজকের আড্ডা....।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now