বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একদল অমানুষের গল্প

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Lamiya Akther (০ পয়েন্ট)

X মানিক, এ্যাই মানিক, তারাতারি কর বাবা দেরী হয়ে যাচ্ছে’ ডাক দিলেন আব্দুল হক সাহেব। তার অনেক আদরের ছেলে মোজাফফর হোসেন মানিক। ছোটবেলায় অনেক শখ করে নাম রেখেছিলেন ‘মানিক’। অনেক স্বপ্ন দেখেছেন তাকে নিয়ে। ছেলে অনেক বড় হবে, দেশজ়োড়া খ্যাতি হবে। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়বে। জ়ীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সে সফল হবে। সমাজের দশজন তাকে দেখে বলবে ‘ওই দ্যাখ মানিকের বাবা যাচ্ছে।‘ ছেলের কোন ইচ্ছা বা শখ অপুর্ন রাখেননি তিনি, ছেলেও তাকে নিরাশ করেনি। ভাল স্কুলে ভর্তি করেছেন, ছেলে ভাল রেজাল্ট করে দেখিয়েছে। এস.এস.সি, এইচ.এস.সি তে ভাল নম্বর নিয়ে পাশ করেছে। অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে হয়েও কখনো খারাপ কোন কিছুর সাথে জড়ায়নি। নম্র, ভদ্র সর্বোপরি ভাল ছেলে হিসেবে সবাই তার সুনাম করে। তার বুকটা গর্বে ফুলে যায়। তবে তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিন ছিল যখন মানিক দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেল। ছেলেকে প্রান ভরে দোয়া করলেন। ছেলেও সুখের সাগরে গা ভাসিয়ে নাদিয়ে দিনরাত মেহেনত করল, ভারসিটিতে ক্লাশ করা, বাসায় পড়াশোনা করা, পাশাপাশি তার বাবার সাথে তাদের পারবারিক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে বসা শুরু করল। মানিক অনার্সে প্রথম শ্রেণীতে পাশ করল। মাষ্টার্সেও প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ন হলো। বাবার স্বপ্ন পুরন করল। এখন একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ভাল চাকুরী করছে। আবদুল হক সাহেব নামাজ পড়ার সময় আল্লাহ’র কাছে দুহাত তুলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তাকে এত ভাল একটি সন্তান দান করার জন্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে সব দিয়েছেন। যেখানে যান সবাই মানিকের প্রশংসায় পঞ্ছমুখ। এখন একটি ভাল মেয়ে দেখে যত তারাতারি সম্ভব ছেলের বিয়ে দিতে চান আবদুল হক সাহেব। এসব চিন্তা করতে করতে চোখ ভিজে যায় আবদুল হক সাহেবের। এমন সময় মানিক এসে দাঁড়ায় তার পাশে, তাড়া দেয় ‘চলেন বাবা, আপনাকে ধান্মন্ডিতে নামিয়ে দিয়ে আমি অফিসে যাব’। একটি মাত্র গাড়ি তাদের। প্রতিদিন ছেলে তাকে তার অফিসে নামিয়ে দিয়ে যায় তারপর নিজের অফিসে যায়, আবার রাতে তাকে বাসায় নিয়ে আসে। আজকাল এরকম দায়িত্ববান সন্তান পাওয়া দুষ্কর। প্রতিদিনের মত মিরপুর থেকে ধানমন্ডি রওনা হলেন। খুব পরিচ্ছন্ন গাড়ি চালায় তার ছেলে। কখনোই তাড়াহুরা করেনা, সবসময় ট্রাফিক আইন মেনে চলে। তার অফিস ধানমন্ডি ৬ নম্বর রোডে, তো গণসাস্থ্য হাসপাতালের পাশে ধানমন্ডি থানাসংলগ্ন ৬ নম্বর সড়কের সিগন্যালে যে ক্রসিং আছে সেখান দিয়ে তাকে ডানে মোড় নিতে হয়। মানিক ডানে মোড় নেয়ার জন্য সিগন্যালে অপেক্ষা করছিল। মানিক হঠাৎ খেয়াল করল যে ডানদিক দিয়ে চৈতালি নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দোতলা বাস এসে বায়ে মোড় নেয়ার জন্য থামল। এই গাড়িতে করেই মানিক ৮ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করেছে। এই বাসগুলি কখনোই সিগন্যাল বা ট্রাফিক আইন মেনে চলেনা। জ্যাম থাকলে সবসময় রং সাইড দিয়ে চলে যায়। কিন্ত মানিক যেহেতু আগে এসেছে তাই ওর গাড়ি নাগেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দুটি বায়ে মোড় নিতে পারবেনা। দোতলা বাস থেকে কয়েকটি ছেলে ওর গাড়ির সামনে এসে গাড়ি সরানোর জন্য চীৎকার করতে লাগল। কিন্ত সামনে সিগন্যাল আর পেছনে গাড়ি থাকায় মানিক গাড়ি সরাতে পারছিলনা। কিন্ত ছেলেগুলোর সেদিকে নজর নেই তাদের চীৎকার তখন অশ্রাব্য গালাগালিতে রুপান্তরিত হয়েছে। ‘ওই শালা ড্রাইভারের বাচ্চা, গাড়ি সরা নাইলে পিটাইয়া তোর গাড়ি ভাইঙ্গা দিমু’। ‘খাড়াইয়া আছস কেন, ওর কানের নিচে দুইটা বয়রা দে নাইলে কাজ হইবনা’। আরও কিছু ষ্টুডেন্ট নেমে এসে ওর গাড়ি ঘিরে ফেলে।যুগপৎ গালাগালির পাশাপাশি গাড়ির গায়ে আর কাচে কিল ঘুষি মারতে থাকে। পেছনে বসা মানিকের বাবা আব্দুল হক সাহেব অবাক হয়ে তাকিয় থাকেন। মানিক ততক্ষনে গাড়ির কাচ নামিয়ে বলে ‘তোমরা এমন করছ কেন, সিগন্যাল না ছাড়লে গাড়ি কিভাবে সরাবো? আর আমিও ঢাকা ইউনিভার্সিটির ষ্টুডেণ্ট ছিলাম, এই বাসে করে টানা ৮ বছর যাতায়াত করেছি। এরকম খারাপ আচরন কেন করছ? কোন ডিপার্টমেন্টে পড় তোমরা?’ ‘কোন ডিপার্টমেন্টে পড়ি সেটা তোরে কইতে হইব, (গালি)’ মানিক অবাক হয়ে যায়, ওরই সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোন ষ্টুডেণ্ট যে বিনা কারনে ওর সাথে এত খারাপ ব্যাবহার করতে পারে সেটা ও কখনো কল্পনাও করেনি। এটা ভাবতে ভাবতেই একটা ছেলে এগিয়ে এসে ওর কপালে খুব জোরে ঘুষি মারল, আরেকটি ঘুষি এসে পড়ল বামচোখের নিচে। সব অন্ধকার দেখতে লাগল মানিক। দরজা খুলে বের হয়ে বোঝাতে চাইল ওদের, কিন্ত কে শোনে কার কথা, বৃষ্টির মত কিল, ঘুষি আর লাথি মারতে লাগল ছেলেগুলো। মানিকের মনে হলো ও একদল ক্ষুধার্ত হায়েনার মাঝখানে পড়ে গেছে। আবদুল হক সাহেব গাড়ি থেকে বের হয়ে আসলেন, ‘থামো তোমরা, কেন মারছ আমার ছেলেকে! কি অন্যায় করেছে আমার ছেলে? ও তো তোমাদেরই মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে, তবে কেন মারছ ওকে?’ অনেক চেষ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একদল অমানুষের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now