বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রতিদান।

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahmida(guest) (০ পয়েন্ট)

X : বাবা মা আমরা আর তোমাদের সাথে মানিয়ে নিতে পারছিনা। এবার তোমাদের পথ তোমরা বেছে নাও। এই বলে ছেলেটা আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিল। একবারও ভাবলোনা আমাদের দিন গুলো কীভাবে কাটবে।আমরাতো আর কিছু চাইনি ওর কাছ থেকে। শুধু শেষ বয়সে ওকে পাশে চেয়েছিলাম।এটাই কি আমাদের ভাগ্যে নেই।------- বলেই দিদা কাদতে লাগলেন।অঝোর ধারায় কান্না যাকে বলে। : আহা মেয়েটা আজ প্রথম আমাদের বাড়িতে এল আর তুমি যে কি করনা।ওকে কিছু খেতে দাও (দাদু) : না না দাদু ঠিক আছে। আমি কি তোমাদের পর নাকি।এত ব্যস্ত হতে হবেনা। : মারে যারা আপন তারাইতো আপন থাকলো না।আর তুমি পর হয়েও মনে হয় কত আপন।.বলে দাদুও কাদতে লাগল। ওদের কান্না দেখে কখন যে আমার চোখের কোনা বিন্দু বিন্দু অশ্রুসিক্ত হল বুঝতেই পারলামনা। সেই ছোটবেলা থেকে এই মানুষগুলোকে চিনি।তারা আমার নিজের কেউ না।কিন্তু নিজের চেয়েও যেন বেশি কিছু। আমি যখন স্কুলে প্রথম ভতি হই তখন বাবা এই দাদু নামের মানুষটাকে আমার সামনে আনে আর বলে এবার থেকে এই মানুষটাই তোমাকে স্কুলে আনা নেওয়া করবে। সেদিন থেকেই লোকটা বরো আপন হয়ে যায়। লোকটা ভীষন গরিব।ভ্যান চালায়। ওনার সাথে রোজ গল্প করতে করতে বাড়িতে ফিরতাম। বকবক করে ওনার মাথা খারাপ করে দিতাম।কিন্তু উনি সব কিছু হাসি মুখে সহ্য করতেন।ওনিও গল্প করতেন।ওনার একমাত্র ছেলের গল্প।যার জন্য অসুস্থ থাকার পরও দিনরাত পরিশ্রম করতেন তিনি।তারযে একটাই স্বপ্ন ছেলেকে ডাক্তার বানাবেন। আর ছেলে তাদের স্বপ্ন পুরোন করবেন।কখনো তার কাজে আমি কোন ভুল পাইনি। মাঝে মাঝে তাকে হসপিটাল থেকে বের হতে দেখতাম।একদিন জোড়াজুড়ি করায় জানতে পারলাম যে তার ছেলের খরচের জন্য রক্ত বিক্রি করেছেন। সেদিন আমার অনেক কষ্ট হয়েছিল।কিন্তু ছোট থাকাই কিছুই করতে পারিনি। একদিন দেখি তার পায়ে ঘা হয়েছে যা নিয়ে গাড়ি চালানো সম্ভম না।কিন্তু তবুও তিনি আমাকে নিতে আসেন। গাড়ি চালানোর সময় তার পা দিয়ে রক্ত বের হয়। বাধ্য হয়ে আমি তাকে অনুরোধ করি বিশ্রাম নিতে।ওনি হাসেন আর বলেন গরিবের জন্য এসব কিছুই না। আমি শুধু অবাক হয়ে দেখি।একটা মানুষ তার সন্তানের জন্য কত কি করতে পারে।gj আমি শুধু একটাই দোয়া করতাম আল্লাহ যোন এই লোকের মনের আশা পূরন করে। এভাবে অনেক দিন কেটে যায়। আমি হাইস্কুলে ওঠি। তাই আর দাদুর গারিতে যাওয়ার প্রয়োজন পরে না।আর সারাদিন কোচিং প্রাইভেট নিয়ে থাকায় ব্যস্ত হয়ে পরি। তাই স্কুল ও ঠিকমত যাইনা।ফলে পরিচিত কারও সাথেই দেখা হতনা।কারন আমি বাড়ি থেকে বের হইনা হঠাৎ একদিন স্কুলে যাবার সময় দাদুর সাথে দেখা হয়।জানতে পারি দাদুর ছেলে এখন ডাক্তার হয়েছে আর সে এখন অনেক টাকার মালিক।আমি অবাক হই তাহলে দাদু এখনো গাড়ি চালাই কেন।দাদু আমায় এত দিন পর দেখে খুশি হয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যাই।মানুষটা আমাকে এতটাই ভালোবাসে যে আমি আর না করতে পারিনা। এরপর আমি জানতে পারি সেই কথ যার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলামনা। দাদুর ছেলে ডাক্তার হয়েছে ঠিকই কিন্তু মানুষ হতে পারেনি। সে এখন একটা ধনী ঘরের দুলালিকে বিয়ে করেছে। তাদের স্ট্যাটাসের সাথে নিজের বৃদ্ধ বাবা মার আদব কায়দা মিলেনা বলে তাদেরকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের সামান্য ভুল ত্রুটি তাদের সহ্য হয়নি। কারন সেও যে এখন উঁচু স্তরের মানুষ।একবারো ভাবেনি যে মানুষটা তার জন্য নিজের একটা কিডনি বিক্রি করে দিল সে শেষ বয়সে কীভাবে বাঁচবে। হায়রে দুনিয়া..........এই দুনিয়ায় ভালোবাসার প্রতিদান এই.......gj gj যে মা বাবা সারাজীবন তার সন্তানের জন্য কষ্ট করে গেল সেই সন্তান তার এই প্রতিদান দিল। ধিক্কার সেই মানুষদের ওপর....যারা টাকার জন্য নিজের মা বাবার ভালোবাসাকে ত্যাগ করতে পারে...........ধিক্কার তাদের ওপর যারা ভুলে যায় যে একদিন তাদেরও ঠিক একই পরিস্থিতির স্বীকার হতে হবে...........অসীম ঘৃনা তাদের জন্য যারা তাদের মা বাবার প্রতি তাদের দায়িত্ব ভুলে যায়। আমাদের সমাজে এমন মানুষ কখনি কাম্য নয়। যে রাসূল নিজে আমাদেরকে আমাদের মা বাবার প্রতি আমাদের দায়িত্ব বুঝিয়েছেন তার উম্মত হয়ে আমরা কীভাবে এই কাজগুলো করি। আমার ঘৃনা হয় যে আমরা এই রকম সমাজে বাস করি যেখানে মা বাবা তাদের যথাযথ সম্মান পায়না।(এটি একটি সত্য ঘটনা).gj


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now