বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নীল গোলাপ
.
-- এই নাও।(নীলা)
-- এটা কি?(শুভ)
-- আমার বিয়ের কার্ড।১ম দাওয়াত তোমাকে করলাম।অবশ্যই তুমি
আসবে।
-- অনেক সুন্দর হয়েছে কার্ডটা।
.
একটা লোক দেখানো হাসি দিলো শুভ।আর ওদিকে নীলা একটা
মলিন হাসি দিয়ে পিছনে ঘুরে চলে গেল।আর শুভ দাঁড়িয়ে
থেকে তার চলে যাওয়ার দৃশ্যটা দেখছে।শুভ বুঝতে পারছে
এখানে দোষ তারই।নীলা তাকে পালাবার কথা বলেছিল কিন্তু শুভ
পরিবারের কথা চিন্তা করে সেই কথাটিকে প্রত্যাখ্যান করে
নীলাকে ফিরিয়ে দেয়।
.
২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখ..
-- নীলা আমি তোমাকে ভালোবাসি।বিশ্বাস করো ওই আকাশটা
সাক্ষী ওই বাতাস টা সাক্ষী আছে আমি তোমাকে কতটা
ভালোবাসি।প্লীজ আমাকে ছেড়ে যেও না।আমি তোমাকে
সত্যি অনেক ভালোবাসি.... (একদমে কথা গুলো বলে ফেলল
শুভ)
-- আরে বুদ্ধু এই কথাটা বলতে এতো দেড়ি কেন করলে?
(নীলা)
-- আমি এতো কিছু জানি না। তুমি যদি আমাকে ছেড়ে চলে যাও
তাহলে আমি সুইসাইড করবো।
-- সুইসাইড করতে হবে না।তাহলে আমি বিধবা হয়ে যাবো।যাও যাও
আমিও তোমাকে ভালোবাসি।
.
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে শুভ কেদেই দিলো।এখন আর
বিকেল দেখার সঙ্গি নেই তার।একা একা সারাদিন কাটায় শুভ।তাকে
আর এখন কেউ শাসন করে না।সে তার নিজেকে কেন্দ্র
করে ঘুরতে শিখে গেছে।তাও তার মধ্যে একটা শুন্যস্থান
রয়ে গেছে।তবে দোষটা শুভর।নীলা তাকে অনেকবার
পালানোর কথা বলেছিল।কিন্তু শুভ বলেছিল সে প্রতিষ্ঠিত হয়ে
সবার সামনে দিয়ে নীলাকে বিয়ে করে আসবে।কিন্তু শুভ
ব্যর্থ।
.
দেখতে দেখতে নীলার বিয়ের দিন চলে এল।আর এদিকে
শুভর পাগলামি বেরে গেলো।রাতের আধারে একা একা কথা
বলে।"কি মজা! কি মজা! কাল নীলার বিয়ে।"বলতে বলতে ঘুমিয়ে
পড়ল শুভ।কিছুটা পাগলের মতো হয়ে গেল......
সকাল বেলা ঘুম ভাঙলো শুভর তাও আবার নীলার দেয়া এলার্ম
ঘড়িটার মাধ্যমে।তাই আবার এলার্ম ঘড়িটাকে নিয়ে কল্পনার রাজ্যে
হারিয়ে গেল.......
-- ওই তুই কই কুত্তা?(নীলা)
-- এইতো মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম। (শুভ)
-- হারামী এখনো তুই ঘুমাস?তোর না আজ ১০ টার সময় দেখা
করার কথা?
-- ওই শুনো.. (টুট টুট টূট)
(১ ঘন্টা পর)
-- সরি বাবু একটু লেট হয়ে গেলো.. (শুভ)
-- তোর সরির গুষ্টি কিলাই.. কয়টা বাজে দেখ.(নীলা)
-- মাত্র ১১.১৬ বাজে।(দাত গুলো বের করে..)
-- হুহ।এইটা ধর।বাসায় গিয়ে এলার্ম লাগাবি।কাল থেকে যদি লেট হয়
তাইলে আমি সুইসাইড করব মনে রাখিস।
-- ওকে জান পাখি।
.
ভাবতে ভাবতে চোখের কোনে পানি চলে এলো শুভর।
হাতে একটা নীল গোলাপ। নীলার আবার নীল গোলাপ খুব
প্রিয়।তাই সে এটিকে খুব কষ্ট করে জোগাড় করে রাখে।
ফ্রেশ হয়ে শুভ তৈরি হয়ে নীলার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা
করে।আজ শুভর মনে হচ্ছে আর হারানোর মতো কিছু নেই।
তাই সে অনেকটা খুশি আজকে।নীলার বাসার সামনে চলে
আসে শুভ।আজ নীলার বাসাটা অনেক সুন্দর করে সাজানো।শুভ
দেখেই চমকে যায়।সিড়ি বেয়ে নীলার রুমের কাছে গেল
শুভ।
.
-- ভিতরে আসতে পারি?(শুভ)
-- এসে পরেছো?(নীলা)
-- হুম এই নাও এইটা তোমার।
-- নীল গোলাপ?
.
বলেই কান্না শুরু করে দিলো নীলা।শুভ আর নীলার দিকে
ফিরে তাকালো না।উলটো দিকে হাটতে শুরু করলো।শুভ একটি
অভার ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে আছে।পুরানো স্মৃতিগুলো ভাবতে
ভাবতে চোখের পানি মুছে পুরো পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে
বলে..
"নীলা আমি আমার কথা রাখতে পারি নাই,তাই আমার আর এই
পৃথিবীতে বেচে থাকার অধিকার নাই।" বলেই লাফ দিলো ব্রিজ
থেকে.....একটি গাড়ি তার উপর চলে গেলো।দেহটি রক্তে
রঞ্জিত হয়ে গেল।
.
অপর দিকে নীলা তার রুমের দর্জাটা বন্ধ করে শুভর দেয়া
নীল গোলাপটিকে বুকে জড়িয়ে এক শিশি বিষ খেয়ে
আত্মহত্যা করল....
.
শেষ হয়ে গেলো দুটি জীবন।শেষ হয়ে গেল একটি
সত্যিকারের ভালোবাসা।জীবনটা হয়ত এমনি,যেখানে ভালোবাসা
পরিপূর্ণ পায় না।আত্মহত্যা মহাপাপ।সবাই এটিকে প্রত্যাখ্যান করবেন।
আজ এই পর্যন্ত ধন্যবাদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now