বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মাগরিবের পর বসলাম বউ বাজার নামে একটা বাজারের চা দোকানে। এটাকে শুধু চা দোকান বললে ভুল হবে। এই দোকানে হাতে তৈরি বিভিন্ন নাস্তা বানানো হয়। যেমন :- আলুর চপ, বেগুন পুরী, পেঁয়াজু ইত্যাদি।
এই বউ বাজার হলো ঢাকা শহরের হাজারীবাগ থানার সনাতনগড় এলাকায়।
মাগরিবের নামাজ পড়ে বাসায় যাচ্ছি। দোকানের পাশ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় খেয়াল করলাম, নাস্তা বানানো হচ্ছে। গরম গরম নাস্তা। যদিও একা খেতে ইচ্ছা করেনা। তারপরও দোকানে ঢুকলাম। কারণ, নাস্তা বানানো দেখেই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেছে।
.
শীতের দিনে গ্রাম এলাকায় পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যায়। মা - বোনরা পিঠা বানাতো আর ছোটরা অপেক্ষায় থাকতো, কখন তারা পিঠা খাবে। আর ঘরে যদি কয়েকটা বাচ্চা থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। প্রথম পিঠা খাওয়া নিয়ে শুরু হতো ঝগড়া এরপর মারামারি। আমার আম্মুও পিঠা বানাতেন। তাকে সাহায্য করতো আমার বড় দুই বোন আর এক ফুফু। যদিও তিনি আমাদের ফুফু না তারপরও আমরা তাকে ফুফু ডাকতাম। তিনি আমাদের বাড়ির পাশের। আমাদের বাড়িতে কাজ করতেন। কিন্তু তাকে কখনওই কাজের লোক হিসেবে দেখা হতো না। এখন আর কাজ করতে হয় না, কারণ তার ছেলে পড়ালেখা করেছে, আয় করে মোটামুটি। তারপরও যেকোনো কাজে ওনাকে পাওয়া যায়। খুব ভালো মানুষ তিনি।
দুইটা বড় পাতিলে বিভিন্ন ধরণের নাস্তা বানানো হচ্ছে। এক পদের নাস্তা বানানো হয়েছে, আরেকটা কিছুক্ষণের মধ্যেই হবে। ছোট বেলার কথা মনে হতেই ভাবলাম বসি দোকানে তারা বানিয়ে নিক আর আমি খাওয়ার আগ্রহ নিয়ে বসে থাকবো, কখন বানানো হবে আর কখন আমি খাবো।
.
দোকানে আর কোন কাস্টমার নেই। যে লোকটা নাস্তা বানাচ্ছে তাকে লোক না বলে ছেলে বলা ভালো। কারণ তার বয়স ২০ থেকে ২২। দোকানের ক্যাশিয়ার ছেলেটার বয়স ও একই। ক্যাশিয়ার বলল, ভাই নাস্তা দিবো?
আমি বললাম, আরেকটু পরে।
আচ্ছা।
২০ মিনিট পর বললাম, ভাই নাস্তা দাও।
কি দিবো?
যা আছে সবগুলো একটা করে দাও।
ক্যাশিয়ার উঠে এসে ৫ রকমের নাস্তা দিলো ১ পিস করে। আমি খাওয়া শুরু করলাম। খুব মজা করেই খাচ্ছি।
.
ক্যাশিয়ার ছেলেটা হঠাৎ করেই গান ধরলো। কিছুক্ষণ পর তার সাথে বাবুর্চি ছেলেটাও গাইতে শুরু করলো।
"ও শ্যাম রে তোমার সনে,
একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম,
এই নিঠুর বনে।
আইজ পাশা খেলবো রে শ্যাম।
একেলা পাইয়াছি হেতা,
পলাইয়া যাবে কোথায় ।
চৌদিকে ঘিরিয়ারে রাখবো,
সব সখি সনে।
আইজ পাশা খেলবো রে শ্যাম। "
উচ্চারণে কিছু ভুল ছিলো। যেমন শ্যাম রে না বলে শাম রে বলেছে। কিন্তু দুজনের গানের গলা এতো ভালো যে, আমি মুগ্ধ হয়ে শুনলাম তাদের গান। দুজনের গানের গলাই ভালো তবে বাবুর্চি ছেলেটার গলা খুব ভালো।
|
আমি অনুরোধ করলাম ভাই, আরেকটা গান গাও।
ততক্ষণে আরো দুজন কাস্টমার এসেছে। ক্যাশিয়ার উঠে তাদের নাস্তা দিচ্ছে। বাবুর্চি বলল, ভাই এখন কাস্টমার আসবে। আরেক সময় গাইবো।
বললাম, তাহলে অন্তত দুই এক কলি।
কোনটা গাইবো?
তোমার যেটা ইচ্ছে হয়।
ছেলেটা গাইলো,
" আমার হাড় কালা করলাম রে, ওরে আমার দেহকালার লাইগা............."
অসাধারণ ভালো লাগছে আমার। সবচেয়ে ভালো লাগছে ছেলেটার দরদ মাখা কণ্ঠ টা।
.
আমাকে উঠতে হলো, কারণ কাস্টমার বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে দুজনের ব্যস্ততা। তাদের জন্য আমি কিছুই করতে পারবো না, কারণ আমার সেই ক্ষমতা নেই। কিছু যেহেতু করতে পারবো না, ক্ষতি করবো কেন? চলে আসলাম।
এখন আমি আপুর বাসার ছাদে। চিন্তা করতেছি। প্রতিভা অনেকেরই আছে কিন্তু কয়জন পারতেছে প্রকাশ করতে। কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ে এক বয়স্ক লোক রাতে চানাচুর বিক্রি করে। ওই লোক চানাচুর বিক্রি করার ফাঁকে বাঁশি বাজায়। এতো সুন্দর সুর তুলে বাঁশিতে, অবাক হয়ে যেতে হয়। অথচ তার কোন ওস্তাদ নেই। বাজাতে বাজাতে হয়ে গেছে। যেকোনো গানের সুর তুলতে পারে লোকটা।
.
সৃষ্টিকর্তার লীলা বুঝা বড় দায়। কেউ হাজার চেষ্টা করেও পারেনা, আবার কেউ একই কাজে অল্পতেই সক্ষম হয়। কেউ সফলতা পায় না, আবার কারো কারো পেছনে যেন সফলতা ঘোরে।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now