বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আসবো আমি

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahamul Haque (০ পয়েন্ট)

X ২বছরের রিলেশন টা শেষ করে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় 'ইরার'..শুভ অনেক চেষ্ঠা করেও বিয়ে টা ভাঙ্গতে পারে নায়। কারণ সে ছিল বেকার, আর ইরা ও বিয়ে টায় রাজি হয়ে গেলো। বিয়ের পর নিজেকে শেষ করতে চেয়েও পারে নি শুভ নিজেকে। . বিয়ের ৬বছর পর, সংসার সন্তান এসব নিয়ে 'ইরা'এখন অনেক ব্যস্ত আজ,চরম মধুর এক ব্যস্ততা!শুভর কথা একটি বার ও মনে হয় না তার এখন। দুটা বাচ্চার মা এখন সে,ছেলেটা বড়, মেয়েটা হাঁটতে শেখেনি এখনও। মেয়েটা দেখতে ইরার মতই হয়েছে,মুখের ভিতর ওর মত একটা তীল আছে,ঘন কালো রঙের তীল টা.. একটা সময় শুভ তা চেয়েছিল,তাদের মেয়েটা ইরার মতই হোক। . সেদিন টা ছিল সোমবার,সকাল ১০:০৭ স্বামীকে অফিসে আর ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে,মেয়েটাকে ঘুম পাড়িয়ে বিছানায় শরীর মেলে গুনগুনিয়ে গান গাইতে লাগলো ইরা,কোন গানটা ঠিক জানা নেই। হয়তো রবীন্দ্র সংগীত, "যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে" ঠিক তার ৪ মিনিট পর... কলিংবেলের আওয়াজ,ইরা মনে মনে ভাবলো, -- এমন সময় বাসায় তো কেউ আসে না, কারো তো এসময় আসার কথা ছিল না... কে আসতে পারে? ভাবতে ভাবতে সে দরজা খুললো। . দরজার ওপারে মাথা নিচু করে শুভ দাঁড়িয়ে,ইরার দরজা খোলার অপেক্ষায়। দরজা খুলা হলো,কিন্তু শুভ তাকাই নি ইরার দিকে এখনও,অথচ শুভ জানে কি ভয়াবহ রকম চমকিয়েছে ইরা! শুভ এসেছে ভেবে! এত্ত বছর পর আসলে চমকানোরই কথা, অথচ ইরা জানতো, শুভ কোনো একদিন আসার কথা... একবার হলেও আসার কথা! . অনেক ক্ষণ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার পর,শুভ বলে উঠলো -- এখানে দাঁড়িয়ে থাকবো? -- (চুপচাপ) -- এখানে দাঁড়িয়ে থাকবো আমি (একটু জোড় গলায়) -- অবশ্যই, আসো। . বসার ঘরের সোফায় শুভ বসতে বললো,গায়ে শুভর প্রিয় একটা সাদা শার্ট।আর ইরার গায়ে আটপৌরে একটা শাড়ি, -- "এ কয় বছরে ইরা আরও কিশোরী কী করে হলো" জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হলো একবার শুভর। করা হলো না, ইরা জিজ্ঞেস করতে লাগলো, -- আছো কেমন?কি কর এখন, চাকরি পেয়েছো? বিয়ে হইছে? শুভ কিছু বললো না,শুধু হেসে উঠে বললো, -- অনেকদিন তোমার হাতের চা খাইনি। কত জন্মের যেন তৃষ্ণা জেগেছিল! এক কাপ চা খেয়ে চলে যাব... -- শুধুই চা..?? -- হ্যাঁ, ওটা খেলে চলে যাবো। -- আচ্ছা তুমি বস আমি এক্ষনি আনতেছি। . ইরা রান্না ঘরে চা বানাচ্ছো,মুখে বেশি কথা বলেনি এতক্ষণে, অথচ মনে মনে কত কী বলতেছে শুভকে তা ও নিজেও জানে না! রাগের কথা, অভিমানের কথা! চোখের নিচে এমন বিচ্ছিরি গাড় কালি কী করে পড়লো, পাটকাঠির মত শুকিয়েছে কেন, পাতিলের তলার মত হয়ে যাচ্ছে কেন এরকম, কত প্রশ্ন মনে! . তখনই বারবার বেজে উঠছে ইরার ফোন। ধরবেনা ধরবেনা এমনটা ভেবেও চা টা চুলা থেকে নামিয়েই ফোনটা ধরলে। ফোন করেছে তাদের এক বন্ধু! কারণটা বারবার ফোন দেয়ার মতই জরুরী, -- হ্যালো (ইরা) -- শুভ আর নেই? -- নেই মানে? -- আমাদের ছেড়ে চলে গেছে ও না ফেরার দেশে.. -- কী আবোলতাবোল বলছিল,ও তো আমার বাসায়। -- তিন মিনিট আগে মারা গেছে ও। এটা বলতে কল টা কেটেঁ দিল.. . ইরা দৌড়ে গেলে বসার ঘরে,শুভ নেই। পুরো বাসা খুঁজলো। নাহ, কোথাও নেই শুভ! সে এসেছিলাম, এমন কোনো চিহ্নও নেই! যেন সবটাই মনের ভুল, আর কিছুই না... তবু জানি, কয়েক মুহুর্তের জন্য থেমে গেল ইরার সময়! . অথচ ইরা তো ঠিক জানে,শুভ এসেছিলো। শুভ সত্যি এসেছিলো,কোনো ভুল নেই এতে! . তখনি ইরার মনে হলো বিয়ের আগের রাতের শুভর সেই কথা গুলো,শুভ বলেছিল, -- বিয়েতে রাজি হয়ে গেলে,একবার ও কি এ মানুষটার কথা মনে হলো না। তুমি তো আমাকে সত্য ভালবাসছিলে,তাহলে আজ কেন? তবুও সুখে থেকো,তাই কামনা করি.. আর হ্যাঁ আমি আসবো, কোন একদিন ঠিকি আসবো তোমার কাছে। আসবো আমি!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now