বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আচ্ছা,আমার কি এখান দিয়ে যাওয়াটা ঠিক হবে?ওই
তো অবন্তিকা আসছে।যাই, যা কিছু মনে করুক না
কেন!তার পেছনে যেতে ভালোই লাগে।
আসলে আমার নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে গেছে
অবন্তিকার পেছন পেছন যাওয়াটা।তবে আমি একা যাই
না।সঙ্গী একটা বাইসাইকেল।অামাদের গ্রাম থেকে
একটু দুরে অবস্হিত স্কুল টা।তবে পরিবেশ টা খুব
সুন্দর। চারপাশে সারি সারি গাছ দাড়িয়ে আছে।পাখির
কলকাকলি সব মিলিয়ে অবন্তিকার পেছনে যাওয়া টা
খুব উপভোগ করি আমি।তবে সে বুঝে কি না জানি
না!তবে মাঝে মাঝে মুচকি হাসে।সে হাসিটা যেন
সদ্য ফোটা এক গোলাপ।মেয়েটা একটু খাটো।
তবে তার শরীরের সাথে মানানসই।আর সেই হাসিটা
যেনো আরো তার সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে
দিয়েছে।সবচেয়ে ভাল লাগে তার হাটার গতি।খুবে
ধীরে ছন্দে তাল মিলিয়ে হাটে সে।যা সব
মেয়ে পারে না।
.
তার বাড়ির কাছেই বাগানে একটা বসার জায়গা আছে।
যেখানে ক্লান্ত পথিকেরা শরীর শীতল করতে
বসতে পারে।খুব সুন্দর করে বাঁশ দিয়ে সেই টং টা
কে জানি বানিয়েছে।বলতে হবে তার হাত পাকা।
তবে যাই হোক না কেন!আমি এখানে বসি দুটো
কারনে।এক, এখান থেকে অবন্তিকাদের বাড়ি
পর্যন্ত দেখা যায়।প্রতিবার সে আড়াল হবার আগেই
চুলের বাধন ছেড়ে দিয়ে পেছনে ফিরে মুচকি
হাসি দিবে।তখন মনে হয় এখানে থেকে যাই।তবে
অবন্তিকা দেখলে রাগ করতে পারে ভেবে থাকা
হয় না।দুই নাম্বার কারন টা হলো অবন্তিকা পেছনে
সাইকেল চালিয়ে আসতে আসতে ঘেমে যাই।
এখানের শীতল বাতাস টা অবন্তিকার হাসির মতই মন
জুড়িয়ে দেয়।মাঝে মাঝে মনে হয় ঘুমিয়ে পড়ি
এখানে।অপরিচিত একটা গ্রামে হুট করে ঘুমানো ঠিক
হবে না।যদিও অবন্তিকা আমাকে চেনে!
.
আজ যখন পেছন পেছন যাচ্ছিলাম তখন মাঝ পথে
অবন্তিকা ঘুরে দাড়ালো। আমার হৃৎস্পন্দন তখন
বেড়ে গিয়েছে।দেখলাম চোখে কপট রাগ।
মনে হয় বুঝাতে চেয়েছে যে তুমি কেন
পেছন পেছন আসো প্রতিদিন?লোকে
দেখলে কি বলবে শুনি?তাছাড়া,আমার কি লজ্জা করে
না!খবরদার আর আসবে না কিন্তু! তবে সে কিছু
বলে না।আবার চলা শুরু করে।না এবার যেন একটু
তাড়াতাড়ি হাটছে।সাইকেলের গতি বাড়াতে হবে! গতি
বাড়াতে গিয়ে পা পিছলে পেডেলে বারী খায়!
ব্যথায় ককিয়ে উঠি!ততক্ষনে সে আবার ফিরে
তাকায়!বুঝি সে বলতে চাই যে হাদারাম একটা।ভালো
করে সাইকেল টা চালাতে পারো না।আমাকে এক
সময় চড়াবে কি ভাবে!তবে এবারো কিছু বলে না।
কপট রাগে ফিরে তাকিয়ে ভেংচি কাটে!আমি মুচকি
হাসি!মেয়েটা ভেংচি টাও ঠিক মত দিতে পারে না।না
পারুক।তবে মুচকি হাসি দিতে পারলেই হবে!
.
কয়েকদিন যেতে পারি নি অবন্তিকার পেছনে।
কারন,খুব বেশি ব্যস্ত ছিলাম নানান কাজে। এই
কয়েকদিন কি মেয়েটা আমাকে মিস করেছে?
হয়তো বা না!কখনো তো কথা বলা হয়নি।হয়তো
ভুলে গেছে।ভাবছে আপদ বিদায় হয়ে ভালোই
হয়েছে।কিন্তু আমি যে ভীষণ মিস করছি তাকে।
কারন,তাকে দেখাটা আমার নেশায় পরিনত হয়েছে!
.
বের হয়ে গেলাম সাইকেল টা নিয়ে।মা পেছনে
ডাকছে।কিন্তু খাবার সময় নেই।যদি খেয়ে বের হই
তবে অবন্তিকাকে দেখতে পাবো না।আর
দেখতে না পেলে ভীষণ মন খারাপ হবে।
এমনিতেই অনেক দিন হলো দেখি না।সাইকেলের
গতি বাড়ালাম!
.
আজ একটু পরে পরে ফিরে তাকাচ্ছে মেয়েটা।কি
অবস্হা করেছে চেহারার! মনে হচ্ছে ঠিক মত
খাওয়াদাওয়া কিংবা ঘুমানো হয় নি তার!তবে কি
অবন্তিকাও
আমাকে.....?নাহ! তবু বিশ্বাস হচ্ছে না।তার সাথে কথা
বলবো এমন বাহানাও খুজে পাচ্ছি না।আজো কি
তবে কথা বলা হবে না?একটু যেয়ে আবার
দাড়ালো!দু পা এগিয়ে আবার কেন ঠিক চলতে শুরু
করলো বুঝলাম না।হয়তো লজ্জা পাচ্ছে!নয়তো
সংকোচে আছে যে আমি কি না কি মনে করবো!
কিন্তু আমি যে প্রতিক্ষায় আছি সেটা কেমনে
তাকে বুঝাবো?
.
বুঝলাম না ব্যাপার টা।হাতের রুমাল টা কি সে ইচ্ছা
করেই ফেলে দিলো নাকি?সে কি চাচ্ছে যে
আমি রুমাল তার কাছে ফিরিয়ে দেবার ছলে কথা বলি!
আরে আমিও তো খুব বোকা!এই তো সুযোগ
কথা বলার!না ফেলে ইচ্ছা করে,তাতে আমার ই সুবিধা
হলো!
-অবন্তিকা শোন....
-সে ফিরে তাকিয়েছে
-আমি রুমাল টা এগিয়ে দিলাম।
-আপনি আমার নাম জানেন?
-হ্যা মানে না মানে...
-সত্যি করে বলুন...!
-হ্যা জানি
-তবে ইচ্ছে করেই প্রতিদিন পেছন পেছন
আসেন বুঝি!
-আমি কোন কথা বলছি না। নিচের দিকে তাকিয়ে চুপ
করে আছি।যেন দাগী আসামি!
-কি হলো চুপ করে কেন?বলুন(ধমক দিয়ে)
-না মানে....
-না মানে মানে করছেন কেন?
-....??
-আমি কিন্তু আর হেটে যেতে পারবো না!
-আমি চোখ তুলে অবন্তিকার চোখে তাকালাম।
চোখে তার দুষ্টুমি আর বিজয়ের হাসি!
-এখন থেকে প্রতিদিন সাইকেলে বাড়ি পর্যন্ত
দিয়ে আসবেন!
-আমি কিছু বুঝলাম না।তবে মনে হচ্ছে তা মেনে
নেয়ায় ঠিক.....!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now