বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃরুপান্তর পর্বঃ ৩ (শেষ পর্ব)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)



X দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃরুপান্তর পর্বঃ ৩ (শেষ পর্ব) @জাকিউল অন্তু পিরামিডের দরজা ভারী পাথরে তৈরি। দুপাশ থেকে শিকল নেমে এসেছে দরজার মাঝামাঝি। সেই শিকলের দুটি প্রান্ত একসাথে করে বেশ বড় একটা তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। সেটা খুলতে হলে শক্তি দরকার। বেন্নেস আর দলের বাকিদের সেই শক্তি আছে বলে তো মনে হলোনা। যা লিকলিকে গড়ন সবার। অবশ্য আমার নিজের ও সেই শক্তি আছে বলে দাবী করিনা। শেষ ভরসা হিসেবে হয়তো গ্রিফিনোকে দিয়ে তালা ভাঙার কাজটা সারতে হবে। এছাড়া তো উপায় দেখিনা।কিন্তু গ্রিফিনো তো এখন আহত।ওকে দিয়ে কাজ করানো কি ঠিক হবে? তালাটা ভালোভাবে দেখবার জন্য কাছে এগিয়ে গেলাম। এই তালা সাধারন তালা নয়। এটাকে প্রাচীন মিশরীয় কায়দায় মন্ত্রপূত করা হয়েছে।মন্ত্রগুলো খোদাই করে বসিয়ে দেয়া হয়েছে স্বর্ন নির্মিত তালার ওপর। তারওপর বসিয়ে দেয়া হয়েছে আমার বাবা মহান ফারাও আখেনাতুনের সিলমোহর।অর্থাৎ ভেতরের বন্দী যাতে পালিয়ে যেতে না পারে তারজন্য ভালো ব্যবস্থাই করা হয়েছে। ঐ মন্ত্রের গুন আমার অজানা নয়।বাবার রাজত্বের সময় রাজ্যের নৃশংস সব অপরাধীদের কয়েদখানায় আটকে রাখা হতো ঐ মন্ত্রবলে। অপরাধীর কোন ক্ষমতাই ছিলোনা ঐ মন্ত্রচক্র ভেদ করে বাইরে আসার। কফিনের শেষ পেরেক টা ঠুকেছেন বাবা। তালায় তার সিলমোহর দেখে সেটা বোঝা যাচ্ছে। তিনি তার রাজ্যবাসী কে দেয়া কথা রেখেছেন। ভীনগ্রহের কোন প্রানীর কাছে নিজ রাজ্যের প্রজাদের পরাধীন করে দেন নি তিনি। প্রকৃত রাজার মতই নিজের রাজ্যের সুরক্ষার পরিকল্পনা করেছেন। যদিও অন্যান্য ভীনগ্রহের প্রানীদের সাথে ফারাও আখেনাতুন কি আচরণ করেছেন তা আমার মনে পড়ছেনা। যেহেতু একজন এই পিরামিডের ভেতর বহুকাল যাবত বন্দী এবং তাকে মুক্ত করার জন্য বাইরের গ্রহ থেকে কোন সাহায্য আসেনি তাহলে নিশ্চই বড় কোন রহস্যের বেড়াজালে আবদ্ধ এই পিরামিড। পিরামিডের দরজায় সোনায় মোড়ানো তালা দেখে কয়েকটা প্রশ্ন উকি দিলো মনে।নিখাদ স্বর্নে গড়া এই ভারী তালার বর্তমান বাজারমূল্য অনেক বেশী হওয়ার কথা। বর্তমান সময়ের নিয়ম অনুযায়ী সেটা হয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সম্পত্তি হিসেবে গন্য হতে বাধ্য নইলে চোর ডাকাতদের দখলে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।কিন্তু এত বছর পরেও অক্ষত অবস্থায় শিকলে ঝুলছে ওটা! তাহলে কি এই পিরামিড আজ ও লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে গেছে? কিন্তু সেটা কি করে সম্ভব? এত বড় একটা স্থাপত্য মানুষের বিশেষ করে আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক দের নজর এড়িয়ে যাবে কি করে? এই পিরামিডের অবস্থান অন্যান্য পিরামিডের তুলনায় এত দূরেই বা কেন? আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর একমাত্র বেন্নেস ই দিতে পারবে তাই ওকেই জিজ্ঞেস করলাম। বেন্নেস উত্তরে কিছু না বলে আমার আঙুল ধরে তালার যে অংশে চাবির খাজ থাকে সেখানে ছুঁইয়ে দিলো। আর তৎক্ষণাৎ জাদুর মতন কাজ হলো। ভারী তালাটা ঘটাং শব্দে খুলে গিয়ে শিকল বেয়ে ঝুলতে থাকলো। এবার বেন্নেস বললো -দৃশ্যমান বস্তুকে নিজের করায়ত্তে আনতে পারে দূর্বল মানুষেরা কিন্তু অদৃশ্য বস্তুকে কেবল নির্বাচিত ব্যক্তিরাই নিজের দখলে আনতে পারে। -ঠিক বুঝলাম না। কি বলতে চাইছো তুমি? -এই পিরামিডের অস্তিত্ব শুধু আপনি, আমি,আপনার পোষা প্রানী আর আমার সহচর রা বুঝতে পারছি। যাদের প্রত্যেকের সাথে মহান রাজা আখেনাতুনের কোন না কোন সম্পর্ক ছিলো। এই যুগের মানুষ এই পিরামিড স্পর্শ করা তো দূরে থাক খালি চোখে দেখতেই পারবেনা। তালায় যে মন্ত্রখচিত রয়েছে তার প্রভাবে এই পিরামিড অদৃশ্য হয়ে রয়েছে বছরের পর বছর। শুধু আপনার মত বিশেষ ব্যক্তিই এই তালা খোলার অধিকার রাখেন রাজাধিরাজ । এমনকি আমার কালো জাদু ও এই তালার ওপর কোন প্রভাব ফেলতে পারবেনা। বরং কালো জাদুর প্রভাব খাটাতে গেলে উলটো অভিশপ্ত হয়ে যেতে হবে আমাকে। আপনার স্পর্শে যখন পিরামিডের তালা খুলে গেছে তখন নিঃসন্দেহে আপনিই মহান ফারাও আখেনাতুনের পুত্র বালক রাজা তুতানখামেন। তা না হলে এই তালার সংস্পর্শে আসতেই আপনার মৃত্যু হয়ে যেত।তাছাড়া আপনার কবরে নিজের মমির সাথে টিকে যাওয়ার ব্যপার তো আছেই। বেন্নেসের কথা শুনে অবাক হলাম। পাশাপাশি রাগ ও হলো। ব্যাটা পুরোহিত আমায় এখনো সন্দেহ করে? তবে মুখে সেটা প্রকাশ না করে বললাম -তালা যখন খুলে গেছে আর দেরী না করে ভেতরে ঢোকা যাক। -অবশ্যই। ভীনগ্রহের প্রানী নিয়ে বই পুস্তকে পড়েছি। নানান চলচিত্র দেখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের দেখতে পাইনি কোনদিন। আজ তা সম্ভব হতে চলেছে। সবচেয়ে বড় কথা এই বন্দী জীবটা আমার ই পূর্বপুরুষ । তাই কৌতুহলের মাত্রা দ্বিগুণ। খুলে যাওয়া তালা শিকল থেকে ছাড়িয়ে হাতে নিলাম তারপর আপনা থেকেই ঘড়ঘড় শব্দ করে খুলে গেলো দরজা। আমি রাজা।তাই নিয়ম অনুযায়ী আমাকেই আগে ঢুকতে হলো। ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাইরের সূর্যের আলোর কোন প্রভাব নেই এই পিরামিডের ভেতর। থাকার কথাও না। কারন পিরামিডে জানালা দরজা বা ঘুলঘুলি থাকেনা। বেন্নেস অন্ধকার দূর করার জন্য চমৎকার একটা কাজ করলো। হাতদুটো উপরে তুলে দুই তালু ঘষতে লাগলো। চকমকি পাথরে ঠুকোঠুকি করলে যেমন আগুন ধরে যায় তেমনি আগুন ধরে গেলো ওর দুহাতের তালুতে কিন্তু আশ্চর্য ব্যপার ওর হাত সেই আগুনে একটুও পুড়ে গেলোনা। তারপর সেই আগুন ভাসতে ভাসতে চলে গেলো শুন্যে। আর পিরামিডের বিভিন্ন কোনায় মশালদানীতে যতগুলো মশাল ছিলো সবগুলোকে আলোকিত করতে লাগলো।ঐ আগুনে এমন কিছু আছে যাতে ভেতরটা দিনের আলোর মতই পরিষ্কার দেখাচ্ছে। অন্ধকারের ছিটেফোঁটা ও নেই কোথাও। এটাই ওর কালো জাদুর ক্ষমতা। ভেতরটা আলোকিত হতেই চরম বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম। বন্দী আমার থেকে দশহাত দূরে একটা উঁচু বেদির মত জায়গার ওপর মাটি থেকে প্রায় সাত ফুট ওপরে হাত পা চারদিকে সরিয়ে ভাসছে। কোন শিকল বা দড়ি দিয়ে ওকে বেধে রাখা হয়নি। ওর ভেসে থাকাটাই যেন একটা শাস্তি। অবশ্য এমন ও হতে পারে এই বাইরের মানুষ যেমন এই পিরামিড দেখতে পারেনা তেমনি ওকে ভাসিয়ে রাখার জন্য সহায়ক বস্তুটাও আমি দেখতে পারছিনা। হাতের তালাটা নিচে রেখে আমি আরো সামনে এগিয়ে গেলাম। গ্রিফিনো আর বেন্নেস এলো পিছে।বেন্নেসের সহচর রা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো রাজকার্যের সময় ওদের মাথা নিচু করেই রাখতে হয়। বন্দী ভীনগ্রহবাসী প্রানীর সমস্ত শরীর কাঁচের মত স্বচ্ছ। তার ভেতরে নীল তরল চলাচল করছে। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সেটা । আমার বাবার হাত থেকে বেরুনো রক্তধারার কথা মনে হতে লাগলো। এদের সবার রক্তই তাহলে গাঢ় নীল! শরীরের গড়ন দেখে অবাক হয়ে যেতে হয়। আখেনাতুন যে হুবুহু এদের নকল তা বুঝতে কোন অসুবিধেই হয়না। সেই পরিচিত লম্বাটে মাথা, সরু গলা,লিকলিকে হাত পা,স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হাত পায়ের আঙুল! প্রানীটা হাত পা ছড়িয়ে যেভাবে ভাসছে দেখে মনে হবে ঘুমুচ্ছে। এখন আমার কি করনীয় সেটা বেন্নেস নিজে থেকেই বলে দিলো। -রাজাধিরাজ। এই পিরামিডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিন্তু আখেনাতুনের সীলমোহর অঙ্কিত মন্ত্রপূত তালা ভাঙার পর থেকেই লুপ্ত হয়ে গেছে। তাই যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে। এই প্রানী আমাদের সভ্যতা ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। পারেনি। বরং হাজার হাজার বছর ধরে ওদের পরিকল্পনার শাস্তি ও একা পেয়েছে। ওর সঙ্গীরা ওকে ছেড়েই আখেনাতুনের ভয়ে এই পৃথিবী ছেড়ে পালিয়েছে। আখেনাতুন আপনার ভবিষ্যৎ প্রত্যাবর্তনের খবরটা জেনে গিয়েছিলেন। তাই তিনি চেয়েছিলেন আপনাকে এমন কিছু ক্ষমতা দেয়া হোক যেন আপনি তার মতই পৃথিবীবাসির উপকার করতে পারেন। আর এই ক্ষমতা একমাত্র এই ভীনগ্রহ বাসী প্রানীটাই দিতে পারবে। নইলে এই দুনিয়া থেকে ওদের দুনিয়ায় ফিরে যেতে পারবেনা ওরা। আপনাকে প্রদত্ত ক্ষমতাই ওদের মুক্তির সনদ হবে। আপনি ঐ বেদির ওপর গিয়ে দাঁড়ান। বাকি কাজ ও নিজেই করবে। আমি কথামতো এগিয়ে বেদিতে গিয়ে দাঁড়ালাম। গ্রিফিনো আমার দেখাদেখি লাফিয়ে চড়লো বেদির ওপর। কিছু সময় যেতে না যেতেই মাথার ওপরে ভাসতে থাকা প্রানীটা নিচে নেমে এলো। আমার একদম কাছে এসে চোখ খুললো। সে চোখে অদ্ভুত চাহনি দেখে ঘাবড়ে গেলাম। পৃথিবীর মানুষের চোখে রাগ অভিমান বা আনন্দের মত অনুভূতি গুলো ফুটে ওঠে। এই প্রানী বাইরের গ্রহের হওয়ায় তার চোখে সেই অভিব্যক্তি নেই। আমি অপেক্ষা করছি এরপর কি হয় সেটা দেখার জন্য। ক্ষমতার লোভ আমার নেই। এই প্রানী আমায় কি ক্ষমতা দেবে তার কোন ধারনাও নেই। মিশরে রাজতন্ত্র প্রায় উঠেই গেছে ।অন্তত ফারাও রাজাদের মত জাঁকজমক জীবনযাপন করেনা কেউ। আমার মত অথর্ব কে এই প্রানী মানবকল্যানে কিভাবে কাজে লাগাবে তাই ভাবছি। প্রানীটা এবার কথা বললো। যদিও কথা বললো বলছি কিন্তু ওর ঠোঁট নড়েনি এক চুল পরিমান। আমার সাথে ওর কথোপকথন টা মনে মনে হচ্ছে। এই ব্যপারটাই সম্ভবত টেলিপ্যাথি। শুরুটা হলো এভাবে -হে পৃথিবী র মানব, আমার মুক্তিদাতা তোমায় স্বাগতম। হাজার হাজার বছর কেটেছে তোমার প্রতীক্ষায়।লোভী, বিশ্বাসঘাতক সহযোগীদের অন্যায়ের ফল ভোগ করতে হয়েছে আমাকে। সে যাই হোক। তোমার বাবা আমাদের বংশধর ছিলো। অর্থাৎ তুমিও একই বংশোদ্ভূত।আখেনাতুন আমাদের পৃথিবী ধবংসের পরিকল্পনার কথা জেনে মানবজাতির পক্ষ নিলো। তারপর ভয়ানক এক যুদ্ধের পর আমার পরাজিত সাথীরা আমায় ফেলে চলে গেলো। আমি বন্দী হলাম। রাগান্বিত আখেনাতুন আমায় শর্ত দিলো যদি ভবিষ্যতের তুতামখামেন আমার কাছ থেকে বিশেষ কোন ক্ষমতা না পায় তবে আমার মুক্তি হবেনা। -আমার কোন ক্ষমতার দরকার নেই। তুমি তো আমায় দেখেছো। তোমায় মুক্ত করে দিলাম। নিজের গ্রহে ফিরে যাও। -না। তোমার ক্ষমতার দরকার নেই কিন্তু আমি এতবছর পর অপেক্ষার পর আখেনাতুন কে দেয়া কথার বরখেলাপ করবোনা।তাছাড়া তোমার পুনর্জন্মের উদ্দেশ্য তুমি এখনো জানোনা হে যুবক। নইলে ক্ষমতার দরকার টা বুঝতে অসুবিধে হতোনা। তবে তোমায় বিশেষ শক্তি প্রদানের আগে বলতে চাই প্রত্যেক ক্ষমতা অর্জনের পেছনেই কিন্তু আপনজনের আত্মত্যাগ থাকে। তুমি সেই জন্য প্রস্তুত থেকো। বলেই আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে শুন্যে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো।সাথে সাথে শুন্যে ভেসে উঠলো আমার প্রিয় পোষা প্রানী গ্রিফিনো। ভাবলাম হয়তো ওকে ও কোন শক্তি প্রদান করা হবে। কিন্তু আমি ভুল ভেবেছিলাম। হঠাৎ কোত্থেকে যেন ধুলোমাখা দমকা হাওয়া এসে আমাদের চারপাশে ধুলোর ঝড় তৈরি করে ফেললো। সেই ঝড় কিছুক্ষনের মধ্যেই রুপ নিলো ঘূর্নিঝড়ের। সেই ঘূর্নীপাকে পড়ে অসহায়ের মত পাক খেতে লাগলাম আমি আর গ্রিফিনো। প্রচন্ড অস্বস্তি লাগছিলো। মাথা চক্কর দিচ্ছে। শরীর দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। ব্যথায় অজ্ঞান হবার মত পরিস্থিতি তৈরি হলো। গ্রিফিনোর দিকে তাকিয়ে দেখি ওর ও একই অবস্থা। এই ঘুর্নীঝড় শুধু বেদির ওপরের অংশে হচ্ছে। অর্থাৎ এটা ক্ষমতা প্রদানের অংশ। কানে ভেসে আসছে মন্ত্রের সুর। বেন্নেস আর তার সহচররা মন্ত্র পড়ছে। আমি একবার গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলাম -এই যন্ত্রনা আর সহ্য হচ্ছেনা। আমায় ছেড়ে দাও। আমার ক্ষমতা চাই না। কিন্তু কেউ শুনলোনা। মন্ত্রের সুর আরো বেড়ে গেলো আর সেই ধুলোঝড়ের মধ্যে একটা নীলাভ আলোর সৃষ্টি হলো। সেই আলো বিন্দুর মত আকার থেকে ধীরে ধীরে বড় হতে হতে বিস্ফোরিত হলো। সেই বিস্ফোরনে ভীনগ্রহবাসী প্রানী বাদে আমরা সবাই পিরামিডের বাইরে ছিটকে এলাম। অথচ সরু দরজা দিয়ে এভাবে ছিটকে না এসে আচমকা পিরামিডের দেয়ালের সাথে ধাক্কা লাগার কথা আমাদের। যেন হাওয়ার তোড়ে ইচ্ছা করেই দরজা দিয়ে বাইরে ফেলা হয়েছে আমাদের। বাইরে বালির ওপর আছড়ে পড়ে আহত হয়েছি সবাই। অনেক কষ্টে উঠে বসলাম। ঐ ভীনগ্রহের প্রানীটাকে শায়েস্তা করার আগপর্যন্ত আমার শান্তি হবেনা। এভাবে আমাদের বাইরে ছুড়ে ফেলার উদ্দেশ্য কি? ওকে শাস্তি দেবার জন্য গ্রিফিনোই যথেষ্ট । কিন্তু আশেপাশে তো কোথাও গ্রিফিনো কে দেখছিনা। হঠাৎ সামনের পিরামিডের দিকে চোখ পড়লো। সেটা মরুভূমির বালি উড়িয়ে শো শো শব্দে উপরে উঠে যাচ্ছে। গ্রিফিনো ওর ভেতরে নেই তো?ঐ বজ্জাত প্রানীটা প্রতিশোধ নেবার জন্য গ্রিফিনো কেই বলির পাঠা বানাচ্ছে না তো? ও আপনজনের আত্মত্যাগের কথা বলেছিল। এই মুহুর্তে গ্রিফিনোই ছিলো আমার একমাত্র আপনজন।ওকে অপহরণ করছে ঐ প্রানীটা। পিরামিডরুপী বাহনে করে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে নিজ গ্রহে। এদিকে বেন্নেস আর তার সঙ্গীরা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। আমি অসহায়ের মত কাঁদছি আর তারস্বরে চেচাচ্ছি গ্রিফিনোর নাম ধরে। যদি ও ঐ প্রানীটার কবল থেকে আমার ডাক শুনে মুক্ত হয়ে আসতে পারে। কিন্তু নাহ। দেখতে দেখতে পিরামিডের মত বাহনটা আকাশে মিলিয়ে গেলো। আমি বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। ঘটনা হয়তো এখানেই শেষ হয়ে যেতো। আমিও তাই ভেবেছিলাম। কিন্তু একঘন্টা নিস্তব্ধ অবস্থায় কাটিয়ে গ্রিফিনোকে হারানোর সব কষ্ট ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে খানিকটা ধাতস্থ হবার পর একটা অসাধারণ ব্যাপার ঘটলো। আমার পিঠে কে যেন সুড়সুড়ি দিচ্ছে। পেছনে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। শুধু দুটো শুভ্র ডানা দেখা যাচ্ছে ঠিক আমার পেছনে। ভাবলাম হয়তো গ্রিফিনো ফিরে এসেছে। কিন্তু আমি যতই ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাচ্ছি ততই সাদা ডানাদুটো আমার সাথে সাথেই নড়ছে। এবার নিজের পিঠে হাত বুলিয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। ডানাদুটো আর কারো নয় আমার নিজের পিঠ ফুঁড়ে বেরিয়েছে!কিছু সময় যেতেই সেই ডানা দুটো নাড়াতে শিখে গেলাম।চোখের সামনে ডানা দুটোকে আনতেই ফোস্কার দাগ দেখে আবার অবাক হতে হলো। এই ডানা আমার পিঠ থেকে বেরিয়েছে ঠিকই কিন্তু ফোস্কার দাগ থেকে বোঝাই যাচ্ছে এটা গ্রিফিনোর ডানা! অর্থাৎ গ্রিফিনো অপহরণ করা হয়নি বরং ঐ নীলচে আলোর বিস্ফোরনের প্রভাবে আমি আর গ্রিফিনো একাকার হয়ে মিশে গেছি! এবার মাথার ভেতরে আবার সেই পলাতক প্রানীটার অবয়ব ফুটে উঠলো। টেলিপ্যাথি করে আমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে ও। -নতুন রুপে এই পৃথিবীতে তোমায় স্বাগতম রাজা। তোমার ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ধীরেধীরে ঘটবে। সেই ক্ষমতা নিয়ন্ত্রনের পদ্ধতি আমি শিখিয়ে দেবো। আপাতত চোখ বন্ধ করে ভাবো তোমার পিঠের ডানাদুটো নেই। আমি কথামতো তাই ভাবলাম।আর তখুনি পিঠের সাদা ডানাদুটো এমনভাবে অদৃশ্য হয়ে গেলো যেন কোনদিন ছিলোই না। তারপর ঐ প্রানীটা আবার বলে উঠলো -তোমার এই রুপান্তর মানবজাতি এবং অসহায় গুপ্ত প্রানীদের সহায়ক হোক। আপাতত বিদায় ডক্টর গ্রিফিনো! গুপ্ত প্রানী আর ডক্টর গ্রিফিনোর মানেটা পরে বুঝেছিলাম। মিশরের "ভ্যালী অব দি কিংস "এ তুতানখামেনের কবরের পাশে একটা যুবক তার নতুন স্বত্ত্বার সাথে পরিচিত হতে লাগলো। তার আধা-মানুষ আধা-প্রানী স্বত্তা তাকে বারবার অবাক করে দিচ্ছিলো। অথচ আধুনিক পৃথিবীর মানুষ তার এই রুপান্তর এর ঘটনা জানতেই পারলোনা।কিন্তু জানতে যে হবেনা তার কোন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে কি? (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃরুপান্তর পর্বঃ ৩ (শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...