বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনো —পর্ব ২

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)



X facebook শুধুই গল্প এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনো ১ম গল্পঃ রুপান্তর পর্বঃ ২ @জাকিউল অন্তু জ্ঞান ফিরলো গ্রিফিনোর গর্জন শুনে। ও আমার পিঠে ক্রমাগত ধাক্কা দিয়ে শোয়া অবস্থা থেকে বসানোর চেষ্টা করছে।আর বার বার গর্জন করে উঠছে। সেই গর্জন হিংস্র প্রানীর আক্রোশের গর্জন নয় কেমন যেত আকুতি ভরা ঐ গর্জন। অনেকটা ডুকরে কেঁদে ওঠার মতন। অনেকদিন পর প্রভুকে কাছে পেয়ে এমন বিপদের শিকার হতে দেখে গ্রিফিনো ঘাবড়ে গেছে। ওর গর্জনে সাহায্যের আবেদন স্পষ্ট। আমি ওর সহযোগীতা পেয়ে উঠে বসতে সক্ষম হলাম। আমি উঠে বসার পর একটু শান্ত হলো প্রানীটা।তারপর আমাকে চারপাশে বৃত্তাকারে চক্কর দিলো একটা। ওর চোখেমুখে হিংস্র ভাবটা ফিরে এসেছে। যেন শত্রুর অপেক্ষা করছে আর সুযোগ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে তাদের ওপর। আমি অজ্ঞান হবার আগের ঘটনাটা মনে করার চেষ্টা করছি। আবছা আবছা মনেও পড়ছে। আমার শরীরে প্রচন্ড যন্ত্রণা ছিলো এবং আমার মমি আমাকেই হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলো।কিন্তু আমি তো এখনো বেঁচে আছি। তাহলে ওর কি হলো? ওর হাত থেকে আমাকে বাঁচিয়েছে কে?নাকি যা দেখেছি সব মনের ভুল। হতে পারে। হঠাৎ একটা বিষয় মনে পড়লো। আমার মেস থেকে পোর্টাল এর মাধ্যমে এই পিরামিডে আসার কিছুদিন আগে একটা বেশ পুরনো ইংরেজি ম্যাগাজিনে মিশর সংক্রান্ত একটা আর্টিকেল পড়েছিলাম। আমার এক বন্ধুর বাসায়।ওর পুরনো ম্যাগাজিন সংগ্রহ করার বাতিক আছে। এই ম্যাগাজিন নাকি খোদ মিশরে ছাপা হয়েছিল। কোন এক অদ্ভুত কারনে সেই আর্টিকেল আমার চোখের সামনে সিনেমার পর্দার মত ভাসছে। আর্টিকেলের শিরোনাম ছিল"Tomb of tutankhamun revealed " অর্থাৎ তুতানখামেনের কবরের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। আর্টিকেল অনুযায়ী তুতানখামেন নামের বালক রাজা সম্পর্কে ইতিহাসবিদ দের আগ্রহ ছিলো অনেক বেশী। কিন্তু তারা প্রত্যেকটা পিরামিড তন্নতন্ন করে খুঁজেও তুতানখামেনের মমি পায়নি। তাদের শেষ ভরসা ছিলো "Valley of the kings" অর্থাৎ "রাজরাজড়ার উপত্যকা " নামের একটি এলাকা। যেখানে মিশরের বিখ্যাত সব রাজাদের কবর ছিলো। অনেক চেষ্টা চালানোর পর ১৯২২ সালে ইংল্যান্ড এর হাউজ অব দি লর্ডস এর সম্মানিত সদস্য লর্ড কার্নারভন এবং অতি উদ্যমী যুবক হাওয়ার্ড কার্টার পরিচালিত একটি দল তুতানখামেনের কবরের দেখা পায়। মরুভূমির বালির অনেকটা তলে ঢাকা পড়ে গিয়েছিলো সেই কবর। আরেক বিখ্যাত রাজা দ্বিতীয় রামেসিসের কবরের ঠিক পাশেই পাওয়া গেলো বহুল প্রত্যাশিত তুতানখামেনের কবর। কিন্তু সেই কবরের সিঁড়ি ভেঙে নামার পর কার্নারভনের দৃষ্টি যখন তুতানখামেনের সিলমোহর যুক্ত দরজায় পড়লো তখন তিনি অবাক হয়ে গেলেন। কারন সিলমোহর দ্বিখণ্ডিত। কিন্তু পরে জোড়া দেয়া হয়েছিলো। অর্থাৎ তাদের আগেই কে বা কারা এসেছিল এই কবরের সন্ধানে। ভেতরে প্রচুর অর্থসম্পদ রয়েছে তা প্রায় সবার ই জানা। গবেষনা করে জানা গেলো একদল ডাকাত এসেছিলো এই কবরের ধনরত্ন লুট করতে কিন্তু অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই কি যেন দেখে মারাত্মক ভয় পেয়ে সব রেখে পালিয়ে যায়। ভেতরে ঢুকে অবশ্য তুতানখামেন অর্থাৎ আমার সেই মমি সুরক্ষিত অবস্থাতেই পাওয়া গিয়েছিল। প্রদর্শনীর জন্যে মমির আবরণ খুলে কাঁচের জারে করে বাইরে আনা হয়েছিলো কিছুদিনের জন্য। তারপর কদিন পর আবার আগের মত সোনায় মোড়ানো কফিনে রেখে আসা হয় আগের কবরেই। আমার এই কবর অনুসন্ধানকারী লর্ড কার্নারভনের দলের কেউই আমার ছোঁয়াচে অভিশাপ থেকে বাঁচতে পারেনি। অস্বাভাবিক রোগে ভুগে অথবা হার্টফেল করে মারা গেছে। কবরে ধনরাশির লোভে হানা দিতে আসা ডাকাতদের যে গ্রিফিনোই ভয় দেখিয়েছে সেটাও বলে দিতে হয়না। কিন্তু আমি তো সাধারণ পিরামিডের ভেতরেই ঢুকেছিলাম। আশেপাশে তো রাজা দ্বিতীয় রামেসিস বা অন্যকারো কবর চোখে পড়েনি। আমি ঘটনার আকস্মিকতায় নিশ্চই ভুল দেখেছি। কিন্তু আমার অর্থাৎ তুতানখামেনের কবরে নামতে তো সিড়ি ব্যবহার করতে হবে। আমি তো সোজাসুজি ঢুকেছি। একটা শব্দে আমার ভাবনায় ছেদ পড়লো। কান খাড়া করলাম। পাথরের ভারী দরজা খোলার শব্দ। আমার কাছ থেকে হাতদশেক দূরে একটা সিঁড়ি আছে। সেটা সোজা উপরের দিকে চলে গেছে। সিঁড়ির উপরের দিকে তাকাতেই আলোর রেখা দেখা গেলো। অর্থার সিঁড়ির শেষপ্রান্তেই কোন দরজা খোলা হয়েছে ফলে বাইরের আলো পিরামিডের ভেতরে ঢুকেছে। আমি গ্রিফিনো কে সাথে নিয়ে ওপরে উঠতে লাগলাম। উড়ে নয় দৌড়ে। মাথা ঠিকমতন কাজ করছিলো না। যেন বহুকাল থেকে বন্দী হয়ে আছি এই পিরামিডের ভেতর। এখন বাইরে বেরুতে না পারলে দম আটকে মারা পড়বো। সিঁড়ির শেষ প্রান্তে একদল লোক দাঁড়িয়ে আছে।আলোর বিপরীতে দাড়ানোর ফলে চেহারা বোঝা যাচ্ছেনা স্পষ্ট। তবে তাদের হাতে প্রাচীন সব তৈজসপত্র এবং সেগুলো নিঃসন্দেহে মিশরীয় সম্পত্তি। এরা নতুন কোন ডাকাত দল নয়তো? আমি এগোলাম লোকগুলোর দিকে।আমার নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী গ্রিফিনো আছে। কাজেই ভয় নেই। এবার ওদের পোশাক নজরে পড়লো। পুরোহিতদের পোশাক পরিহিত সবাই। সবার সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে সে সম্ভবত এই দলের প্রধান। আমি এগিয়ে যেতেই নজরে পড়লো ওর চেহারা আর তৎক্ষণাৎ চমকে উঠে পিছিয়ে গেলাম আমি। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে এই লোক আমার মমি সৎকারের দায়িত্বে থাকা প্রধান পুরোহিত বেন্নেস। সেই নিষ্ঠুর, গোয়ার, পাষন্ডটা। যে আমার মৃত্যুতে খুশি হয়েছিলো। অথচ আমার ভয় পাওয়া চেহারার ওপর ঝুকে পড়ে বললো -কেমন আছেন রাজাধিরাজ?ভয় পাবেন না।আজ থেকে আপনি অভিশাপমুক্ত। ভেতরে আপনাকে একটা ছোট্ট পরীক্ষায় ফেলেছিলাম। আপনি তাতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এক মহান উদ্দেশ্যে আপনাকে এখানে ডেকেছি। প্রথমে আপনার পোষা প্রানীটিকে বাগে আনুন তারপর আমার সাথে চলুন। পিছে তাকিয়ে দেখি গ্রিফিনো বেন্নেসের ওপর হামলা করার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে স্বাভাবিক করলাম। তারপর পিরামিড থেকে বেরিয়ে এলাম।বেন্নেসের কথা পুরোপুরি বিশ্বাস হয়নি কিন্তু আমার নিজের দেশ থেকে এই দেশে আসার পেছনে নিজের পূর্বজন্মের পরিচয় জানা ছাড়াও যে আরো কিছু উদ্দেশ্য আছে তা ধারনা করেছিলাম। পিরামিড থেকে বেন্নেসের দলের পিছুপিছু বের হয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম। আমার পেছনের পিরামিড পলক ফেলতে না ফেলতেই অদৃশ্য হয়ে গেলো। শুধু পড়ে রইলো একটা সিঁড়ির মুখ। যার পাশে প্রাচীন মিশরীয় ভাষায় লেখা "তুতানখামেন" তার মানে এই সিঁড়ির নিচেই আমার মমি রাখা ছিলো। তাহলে পিরামিডের ধোকা দেয়ার মানেটা কি?ওটা যে আমার কবরে যাওয়ার রাস্তা সেটা আরো নিশ্চিন্ত হলাম পাশে দ্বিতীয় রামেসিসের কবর দেখে। আমি আমার মমির আক্রমনের শিকার হওয়ার পর থেকেই মিশরীয় ভাষা বলতে, পড়তে ও বুঝতে পারছি। অবশ্য আগের জন্মের স্মৃতিগুলোর সাথে সাথে ভাষা আর সংস্কৃতি ফিরে আসাটা অস্বাভাবিক নয়। বেন্নেসের সাথে কথোপকথন টাও মিশরীয় ভাষাতেই হচ্ছে।তাও বেশ সাবলীল ভাবেই। বেন্নেস আমায় আবার ডাকলো -দাঁড়িয়ে পড়লেন যে রাজাধিরাজ? আমাদের হাতে কিন্তু সময় নেই। খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে আপনার জন্য। দয়া করে দেরী করবেন না। আমি বললাম -হুম।সে তো যাবই কিন্তু কি কাজ বেন্নেস?আর আরেকটা কথা । তুমিও কি আমার মতই আবার জন্মেছ নাকি কালোজাদুর জোরে এখনো বেঁচে আছো?তোমার তো কালোজাদুর ওপর বিশ্বাস ছিলো অনেক। কিছুক্ষেত্রে সফল ও হয়েছিলে। বেন্নেস লজ্জিতমুখে বললো -সবার কি আর পুনর্জন্মের সৌভাগ্য হয় রাজাধিরাজ? আপনার ধারনাই ঠিক। এই যে আমার সহচর দের দেখছেন এদের নিয়ে আমি কালোজাদুর বলে বেঁচে আছি গত পাচহাজার বছর ধরে। তবে এর উদ্দেশ্য কিন্তু মহৎ। আপনার সব প্রশ্নের উত্তর কিছুক্ষনের মধ্যেই পাবেন। আপাতত শুধু মহান ফারাও রাজা "আখেনাতুন" এর অত্যদ্ভুত আবিস্কারের কথা চিন্তা করুন। বাকিটা ধীরেধীরে বুঝতে পারবেন। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনো:কার্থেজের দানব (৮ম পর্ব)
→ দ্য এডভেঞ্চার অব ডক্টর গ্রিফিনো:কার্থেজের দানব (৭ম পর্ব)
→ দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনোঃকার্থেজের দানব (৫ম পর্ব)
→ দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনো:রুপান্তর (পর্বঃ ১)
→ এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনো (পর্ব ২)
→ দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনো:রুপান্তর পর্বঃ ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...