বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বোবা ছেলের বিয়ে.....

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X ছেলেটার ডাকনাম তানু। আসল নাম সোহানুর সায়েম। অনেক সুন্দর দেখতে, স্মার্টনেসে ভরপুর যেকোনো মেয়েকে পাগল করে দেয়ার জন্য কোনো কিছু তারকাছে কমতি নেই, অথচ সে বোবা কথা বলতে পারে না। ধন সম্পদ কোনো কিছুর অভাব নেই, সে যা চায় ২ মিনিটের মধ্যে এসে হাজির হয়ে যায়। তারপরও ছেলেটা প্রতিদিন রাতে অনেক কান্না করে, তার মধ্যে প্রবল ইচ্ছা জাগে কথা বলার কিন্তু পারে না । কারণ উপরওয়ালা তাকে এই ক্ষমতা দেন নি। তার বয়স অনেক হয়েছে কিন্তু বিয়ে করতে চাইছে না, যদি তার বউ এ বাঁধন মেনে না নেয়। অনেক বোঝানো হয়েছে তাকে, বড়লোক হওয়াতে অনেক সুন্দর সুন্দর মেয়েরা তানুকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে, কিন্তু সে ভয় কে জয় করতে পারে না। তানুর মা সাফিয়া চৌধুরী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যেকরেই হোক ছেলেকে বিয়েতে রাজি করাবেনই কিন্তু কোনো সুত্র কাজে আসছিল না । এ নিয়ে তিনি মহা চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। একদিন সাফিয়া চৌধুরীর দূরসম্পর্কের ভাই আসলো তার মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে । আসল কথা হলো বেড়াতে আসেন নি! মেয়ের অনার্সের ফরম ফিলাপের ফি যোগাড় করতে পারেন নি, এসেছেন সাফিয়া চৌধুরীর কাছে কিছু টাকা চাইতে। মেয়েটি অসাধারণ সুন্দর, গ্রামের মেয়ে বলে মনেই হয় না। মেয়েটিকে দেখেই সাফিয়া চৌধুরী পছন্দ করে ফেললেন, যে করেই হোক একেই তার পুত্র বধু করতে হবে। সাফিয়া চৌধুরী মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলেন তোমার নাম কি? সে বলল আমার নাম মনিশা । সাফিয়া তাদের আপ্যায়ন করে ভেতরে নিয়ে গেলেন। একদিকে সাফিয়া চৌধুরী অনেক খুশি কারণ তিনি মনে করছেন এই মেয়েই পারবে তার ছেলেকে বিয়েতে রাজি করাতে। রাতে মনিসার বাবা সাফিয়া চৌধুরীর কাছে করজোরে মেয়ের অনার্সে ফির জন্য আবদার করলেন। সাথে মনিসা ছিল, সাফিয়া চৌধুরী মনিসাকে অন্যঘরে যেতে বললেন " মনিসা অন্য ঘরে চলে গেল " তারপর সাফিয়া চৌধুরী তার ঐ ভাইয়ের কাছে মনিসাকে আবদার করে বসলেন, এবং সবকিছু খুলে বললেন। মনিসার বাবা আব্দুর রহমান এই প্রস্তাবটি শুনে কত যে খুশি হয়েছেন তা বলে বুঝানো যাবেনা । কারণ তার মেয়ে এখন রাজরাণী হিসাবে থাকবে। প্রত্যেক বাবা-ই তো তার মেয়েকে সুখি দেখতে চায়। মনিসার বাবা নির্দিধায় হ্যা বলে দিলেন। সাফিয়া চৌধুরী অনেক খুশি হলেন। তারপর আব্দুর রহমান মেয়ের কাছে গিয়ে সবকিছু খুলে বললেন। মনিসা লজ্জা পেয়ে বললো, " আমি কি বলবো,ওসব আপনিই ভালো বুঝেন " বলে মুচকি হেসে বারান্দায় চলে গেল। সেই ছোট বেলা থেকে তানুকে ভালোবাসে মনিসা। আজ সেটা সত্যি হচ্ছে ভেবে অনেক খুশি হয়েছে সে ! সকালে মনিসাকে সাফিয়া চৌধুরী ডাক দিয়ে নিজের রুমে নিয়ে গেলেন, এবং সবকিছু খুলে বলে মনিসা নিজের মেয়ে বানিয়ে তানুর দায়িত্ব দিলেন। মনিসাও তানুকে রাজি করাতে লেগে গেল, নিজের ফরম ফিলাপের কথা এখন আর মাথায় নেই, অথচ ২ দিন আগে কি কান্না যে করছিল। সকালে তানুকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিয়ে চা দেওয়া, ঠিকমত কাপড় চোপড় পড়িয়ে দেওয়া সহ তানুর সব যত্ন একাংশে করে যাচ্ছে। তানুকে নিয়ে বাহিরে যাওয়া, গল্প করা ইত্যাদি ইত্যাদি। এদিকে তানুও মনিসার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে, কেমন প্রেম জেগে উঠছে মনিসার প্রতি, একটু সময় মনিসাকে না দেখলে সবকিছু ভাঙ্গা শুরু করে দেয়। মনিসা সাথে কাতুকুতু খেলা, চিমটি কাটা, গাল চেপে ধরা ইত্যাদি করতে থাকে । এসব দেখে আলগা থেকে তানুর মা ও মনিসার বাবা হাসতে থাকেন। মনিসার মা এবার ঠিক করলেন তানুর কাছে জিজ্ঞাসা করবেন বিয়ে করবে কি না ? ঠিক তখন তানু এসে হাজির, এসেই মাকে খুশিতে ঝড়িয়ে ইশারায় বুঝালো মনিসা বিয়ে করতে চায়। সাফিয়া চৌধুরী খুশিতে চোখের পানি ছেড়ে দিলেন। সবাইকে ডাক দিয়ে বললেন, বিয়ের আয়োজন কর, আজ রাতেই আমার ছেলের সাথে মনিসার বিয়ে হবে। এখন সবাই খুব খুশি কারণ একটু আগেই তো বিয়েটা সম্পন্ন হলো, তানু আর মনিসা এখন বাসর ঘরে ! কি করছে সেটা ওরাই জানে তোমাদের বলে লাভ কি ! সবাই এই নব দম্পতির জন্য আর্শিবাদ করবেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now