বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি ট্রেন ভ্রমণ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রাসেল পারভেজ (০ পয়েন্ট)

X "একটি ট্রেন ভ্রমণ" লিখেছেনঃ রাসেল পারভেজ "ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে " ভাবছেন গান বাজছে ? আরে নাহ এটা আমার ফোনের রিংটোন। সোহম চ্যাটার্জীর মত আমিও এই রিংটোন দিয়েছি। • বোধহয় আম্মু ফোন করেছে। --হ্যালো আম্মু। --কেমন আছিস বাবা.....? --এইতো আম্মু আছি মোটামুটি। --কেন কিছু হয়েছে নাকি.......??? --কোই নাতো...!! --তো বলছিস মোটামুটি, নিশ্চয়ই ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করিস না...??? --ওওহ আম্মু তুমি শুধু শুধু চিন্তা কর, খেতে খেতে যে মোটা হয়ে গেলাম তবুও বলছ খাইনা.....??? --না খাস না..। বেশি বেশি করে খেয়ে আমাদের টাকা উসুল করবি..। --উফ...! আচ্ছা খাবো। বল তুমি কেমন আছ...??? --আল্লাহর রহমতে ভাল আছি। বাড়ি আসবি কবে.?? --এবার ঈদে বাড়ি না গেলে হয়না....???  --কি বললি....?খুব বজ্জাত হয়েছিস নাহ...??? গত মাসেও তো আসিস নি, তোর আব্বু কুরবানীর পশু কিনেছে, না আসলে কিন্তু থাপ্পড় মেরে দেব...। --আচ্ছা দেখি কালকে আসা যায় কিনা...!! --দেখাদেখি বাদ দিয়ে সকলের ট্রেনেই চলে আয়।  --ওকে আম্মু...! --ট্রেনে উঠে কিন্তু ফোন দিস আর ট্রেনের ভিতরে কিছু খাবিনা কিন্তু..। আর এক বোতল পানি আনবি। অপরিচিত কারও সাথে কথা বলবি না..। তাড়াতাড়ি চলে আসিস। --উফ...। আচ্ছা আম্মু হয়েছে। আমি এখন বড় হয়েছি অত চিন্তা করা লাগবে না...। --বড় না হাতি হয়েছিস..। তোর যে বুদ্ধিসুদ্ধি কোথায় কি করে বসবি। আর সাবধানে আসিস..। --আচ্ছা আচ্ছা..। তোমার আদেশ শিরোধার্য। এখন তাহলে রাখি....??? --আচ্ছা। • উফ...আমার আম্মু বোধহয় আমাকে নিয়ে বেশিই চিন্তা করে। • সকাল ৬:৩০ মিনিটে পুটলা-পুটলি গুছিয়ে যশোর জংশনে গিয়ে হাজির হলাম, উদ্দেশ্য রাজশাহীগামী ট্রেন ধরা। • চারদিকে চেচামেচির শব্দে মেজাজটা বিগরে যাচ্ছে। দুনিয়ার সবাই কি যাত্রী..???  নাহ আর ভাল্লাগেনা। সবাই বাড়ি ফেরার আনন্দে ব্যাস্ত। বাড়ি ফেরার আনন্দটা বোধহয় আমার ভিতরেও কাজ করতে শুরু করেছে  • স্টেশনের একটা দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম,  হঠাৎ চোখ আটকে গেল একটা মেয়ের দিকে, কি..অপরূপ সুন্দরী। মেয়েটার দিক থেকে চোখ ফেরানো যাচ্ছে না, চোখ ফেরানোটাও বোধ হয় চরম অপরাধ হবে। ইচ্ছে করছে ওর সামনে গিয়ে বসে শুধু ওকেই দেখি। কি সুন্দর মায়াবি চেহারা, বাদামি চোখ দুটো যেন হৃদয় হরনের অস্ত্র। কিন্তু চেহারাটা অনেকটা চেনা চেনা লাগে, ঠিক বৃষ্টির মত। • আপনাদের মনে আছে সেই বৃষ্টির কথা....???  ওইযে একবার বলেছিলাম না...??? আমার নিয়মিত পাঠক হলে বুঝতে পারবেন। যায় হোক, মেয়েটা হঠাৎ বৃষ্টির কথা মনে করে দিল। মনটা বিষন্নতায় ভরিয়ে দিয়ে মেয়েটা কোথায় যেন হারিয়ে গেল। • ট্রেনে উঠে সিট খুজে একটা সেলফি তুললাম, ভাবলাম একটা ক্যাপশন দেয়া যাক। কি ক্যাপশন দেব ভাবছি হঠাৎ একটা মেয়েলী কন্ঠ শোনা গেল।, মনযোগের তার ছিড়ে গেল। মেয়েটা চেঁচিয়ে বলে উঠলো.... --এইযে মিস্টার ব্যাগ সরাবে কে...??? এতো দেখছি সেই মেয়েটিই যাকে একটু আগে প্লাটফর্মে দেখে এলাম। যে এতক্ষণ আমার কল্পনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। মেয়েটা আমার দিকে আড় চোখে চেয়ে আছে,আবার ধমক দিয়ে বলে উঠলো... • --এই যে মিস্টার...? কথা কি কান পর্যন্ত যায়নি...?? নাকি ইমেইল করে পাঠাতে হবে...??? --আপনার সিট বুঝি এখানে...? --না আপনার সাথে ফাজলামো করার জন্য এখানে আসলাম। --সরিয়ে দিছি এবার বসুন...! --হেহেহে..এবার এপাশে সরে এসে আমাকে জানালার পাশে সিট দিন। --বললেই হলো, মগের মুল্লুক পেয়েছেন...??? এখানে আমার সিট --হ্যাঁ মগের মুল্লুক পেয়েছি, এবার সরে বসুন ....!!! --আচ্ছা মেয়ে তো আপনি উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন..! --হ্যাঁ জানালার পাশে বসা আমার অধিকার, না সরলে আপনার গায়ে বমি করে দেব। --ছিঃছিঃ কি বিশ্রী মেয়ে আপনি। এই দেখুন আমার টিকিট। এই বলে পকেটে থেকে আমার টিকিট টা দেখালাম, ওমনি আমার টিকিট নিয়ে ওরটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে টিটি সাহেব কে ডাকলো। --দেখুন ভাই আমার সিটে এই ভদ্রলোক জোর করে বসে আছে (মেয়ে)  টিটি সাহেব আমাকে উঠিয়ে মেয়েটিকে জানালার পাশে বসতে দিল, আমি চুপচাপ উঠে এলাম। • --এই যে মিস্টার শেষ পর্যন্ত উঠলেন তো...??? এই নিন আপনার টিকিট। --আপনি এমন করলেন কেন...??? --আমি জানালার পাশে ছাড়া বসিনা তাই...!! • এই বলে মেয়েটি খিকখিক করে হেসে উঠলো। মেয়েটার হাসির ধরনটাও একদম বৃষ্টির মতনই। আমার সাথে যখন খুনসুটি করতো তখন এমন দুষ্টু হাসি হাসতো। ট্রেন চলছে...। বাইরে থেকে হাওয়া আসছে, দুলিয়ে দিচ্ছে তার রেশমি চুলগুলো। সকালের মিষ্টি রোদ এসে যখন ওর মুখে পরছে তখন মুখটা আরও মায়াবী হয়ে উঠছে, বেড়ে যাচ্ছে লাবন্যতা।  • মেয়েটা আমার দিকে আড় চোখে চেয়ে বললো.... --এই যে মিস্টার নাম কি...??? --আমাকে বলছেন...??? --না..আপনাকেই বলছি...!! --আমি পারভেজ আহম্মেদ । আপনি...??? --আমি মেহনাজ আফরিন। বাড়ি কোথায়...??? --আমি লালনের প্রতিবেশী। --বাহ! ভাল। আপনার লেখা মাঝেমধ্যে পড়ি। --আমি লেখালেখি করি আপনি জানলেন কি করে..??? --যেভাবেই হোক জানি...!! --তাই নাকি....??? --হুম..!! • জানিনা কখন মেয়েটার সাথে কথা বলতে বলতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে যায়। যখন জাগ্রত হই তখন দেখি সবকিছু উল্টাপাল্টা। পাশের সিটে বসে থাকা লোকটার কাছে জানতে পারলাম মেয়েটা নেমে গেছে। ধ্যাত্তেরিকা...ঠিকানাটাই তো জানা হল না...!! নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে, অন্তত ফেসবুক আইডির নামটা জানা উচিত ছিল। • মনটা যখন বিষন্নতায় পর্যুদস্ত তখন মনের মাঝে স্বস্তির ছায়া পড়লো। দেখি আমার ব্যাগের সাথে সেপটিপিন দিয়ে একটা কাগজ আটকানো। খুলে দেখি একটা চিরকুট। তাতে লেখা... "এই যে মিস্টার লালনের প্রতিবেশী, মেয়েদের প্রতি এত দুর্বল হবে না, একটু চালাক হওয়ার চেষ্টা করবেন। আপনি ঘুমিয়ে ছিলেন বলে ডাকলাম না আর ইচ্ছে করেই ফেসবুক আইডির নাম দিলাম না। ভাল থাকবেন। "


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now