বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তিতলী শেষ পর্ব

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X তিতুন মারা যাবার পর তিতলী অনেকটা অস্বাভাবিক হয়ে গেল। ঠিকমত খেতো না, ঘুমাতো না, বাইরে কোথাও যেত না। এমনকি তিতলী হাসতেও ভুলে গেল। আমি অনেক চেষ্টা করেও তিতলীকে স্বাভাবিক করতে পারি নি। . কয়েকমাস আগেই তিতিলী আমাদের তিতুনের জন্য এতগুলো খেলনা কিনে রেখেছিল। প্রতি রাতেই হঠাৎ মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙে যেত। আমি ঘুম ভেঙে দেখতাম, তিতলী উঠে টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে তিতুনের খেলনা দিয়ে কার সাথে যেন খেলছে আর খিলখিল করে হাসছে। আমি উঠে তিতলীকে ডাক দিতেই ও যেন চমকে উঠতো। সঙ্গে সঙ্গে ওর মন খারাপ হয়ে যেত। . প্রথম প্রথম আমি ওকে কিছু বলতাম না। কিন্তু কয়েকদিন পর যখন ওকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা তিতলী তুমি গভীর রাতে উঠে কি করো বলতো? কার সাথে যেন কথা বলো আবার খিলখিল করে হাসো। তিতলী বলল, প্রতি রাতে তিতুন আমার কাছে আসে। আমি ওর সাথে খেলি, মজা করি, গল্প শোনাই। আরও কত কি... . তিতলীর মানসিক অবস্থাটা আমি বুঝতে পারলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম ওকে ভালো কোনও সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাব। কিন্তু ও কোনও ভাবেই বাইরে যেতে চাইতো না। বাইরে যাবার কথা শুনলেই চিৎকার করতো। ধীরেধীরে তিতলীর স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করলো। চোখের নিচে কালি পড়তে লাগল। গোলগাল মেয়েটি কয়েক মাসের মধ্যে শুকিয়ে একদম কংকালের মত হয়ে গেল। -- একদিন মধ্য রাতে আবারও আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমি ধড়ফড় করে উঠে দেখি তিতলী বসে বসে কাঁদছে। আমার দিকে তাকিয়ে সে কান্নার আওয়াজ বাড়িয়ে দিলো। তার চোখ দুটো লাল টকটক করছে। জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে। ওর মাথা ব্যথা শুরু হয়েছে। আমি বললাম, কি হয়েছে তিতলী? কাঁদছো কেন? তিতলী কথা বলতে পারছে না। কথা বলার শক্তিটাও যেন হারিয়ে ফেলেছে মেয়েটি। তবুও অনেক কষ্টে বলল, "জানো, ক'দিন হলো তিতুন আমার কাছে আর আসে না। ওর কি হয়েছে বলতে পারো? কোথায় আছে ও?" . বলতে বলতেই তিতলী মাথা ব্যথার যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগলো। আমি ওর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললাম, কাল সকালে অবশ্যই তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো। একদম না করতে পারবা না। এখন একটু ঘুমানোর চেষ্টা করো। তিতলী ধীরেধীরে বাচ্চাদের মত ঘুমিয়ে পড়লো। . . তিতলী মারা গেল প্রায় শেষ রাতের দিকে। ফজরের আজানে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর আমি তিতলীকে ডাকলাম। তিতলী কোনও কথা বলল না। আর কোনও দিন বলেও নি। -- রাত এখন ১২ টা বেজে ১ মিনিট। আজ আমাদের তিতুনের প্রথম জন্ম অথবা মৃত্যুবার্ষিকী। আমি বেলকনিতে বসে আছি। কী সুন্দর জোছনা উঠেছে আজ। আজকের জোছনার রংটা সম্ভবত হলুদ। আচ্ছা বেদনার রং যদি নীল হয়, তাহলে হলুদ কিসের রং? জোছনা দেখতে দেখতে পুরনো দিনের কথা গুলো কী সুন্দর ভাবেই না মনে পড়ে যাচ্ছে আমার! স্মৃতি সব সময়ই দীর্ঘনিঃশ্বাসের কারণ হয়। সেটা সুখের স্মৃতি হোক অথবা দুঃখের স্মৃতি। . আজ রাতে আমি প্রথমবারের মত তিতুনের জন্য অপেক্ষা করছি। তিতুন কি আজ রাতে আসবে আমার কাছে? ও আসলে আমরা দুই বাপ বেটি মিলে জোছনা দেখবো। গল্পও করব কুটকুট করে। আচ্ছা ও কি কথা বলা শিখেছে এখন? বড় হয়ে গিয়েছে নিশ্চয়ই অনেকটা, তাই না? ও কখন আসবে? আমাদের তিতুন...মা তিতুন... কার্টেসি (kawsar Ahmed)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now