বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনো:রুপান্তর পর্বঃ ১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (২ পয়েন্ট)



X গ্রিফিনো আমার পায়ে মুখ ঘষছে। আমি হাটুগেড়ে বসে পরম যত্নে ওকে কাছে টেনে নিলাম ।ওর গলা থেকে একটা মৃদু ঘড়ঘড় শব্দ বেরিয়ে এলো। ঘাড়ের নরম কেশরগুলো আমার গলার কাছে এসে সুড়সুড়ি দিতে লাগলো।তারপর অকস্মাৎ একধাক্কায় আমায় শুন্যে ছুড়ে দিয়ে নিজের বিশাল ডানাদুটো মেলে ধরলো গ্রিফিনো । আমি যখন প্রায় মেঝের কাছাকাছি চলে এলাম তখনি ওর সামনের পা দুটো দিয়ে খপ করে ধরে নিয়ে আমায় পিঠে বসিয়ে শুন্যে উড়াল দিলো আমার পাঁচ হাজার বছর আগের পোষা প্রানীটা। পুরনো বন্ধুকে অনেকদিন পর নতুন করে খুঁজে পেয়ে খেলার শখ জেগেছে ওর। ওর এই অভ্যাসগুলো পূর্বজন্মের। এর পুনরাবৃত্তি পূর্বজন্মের ঘটনাগুলো কে আবছা অন্ধকার থেকে বের করে নিয়ে এসে আলোকিত করে দিচ্ছে। ধীরেধীরে নিজের হারিয়ে যাওয়া পরিচয় খুঁজে পাচ্ছি যেন।সময়ের স্রোতে ভেসে যাওয়া পুরনো অস্তিত্বহীন আমি আবার ফিরে আসছি একবিংশ শতাব্দীর এই নতুন আমির মধ্যে। গ্রিফিনোর মাথায় হাত বুলানোর পর থেকেই আমি আমার আগের জীবনের স্মৃতি ফিরে পেতে শুরু করেছি। মনে পড়ছে ফারাওর মুকুট পরিহিত একটা অল্পবয়স্ক কিশোরের মিশরীয় সিংহাসনে বসার অভিজ্ঞতার কথা।উনিশ বছর বয়সী এক কিশোরের মাত্র দশ বছরের রাজত্বের কথা। তার অভিশপ্ত হওয়ার কথা। সেই ছেলেটা স্বভাবগত কারনেই অনেকটা অবাধ্য, কিছুটা একগুঁয়ে আর খুব বেশী অধার্মিক।তৎকালীন ধর্মীয় রীতিনীতি যার দুরন্ত মস্তিষ্কে ঢুকতোনা। সে জানতোনা এর পরিণাম কতটা ভয়াবহ হতে পারে। মহামারী তে আক্রান্ত ছেলেটার মৃত্যুশয্যায় কত রাজা মহারাজা আর রাজ্যের নৃশংস পুরোহিত রা ব্যাঙ্গের হাসি হেসেছে তার হিসেব নেই। অবাধ্য এই কিশোরের উচিত শিক্ষা হোক সেটাই ছিলো সবার কাম্য। অথচ পাপপুণ্য বিচার করার ক্ষমতা যে ছেলেটার থাকার কথা না। তাকে সেগুলোর মর্ম বোঝাতে আসেনি কেউ। অথচ তার মৃত্যু দেখে উল্লাস করার মত লোকের অভাব হয়নি। আমার মমি কফিনে করে পিরামিডের ভেতরে রাখবার সময় তাতে প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী প্রচুর পরিমানে মহামূল্যবান হীরা জহরত মনি মুক্তা রাখা হয়েছিলো। অনেকের তাতেও আপত্তি ছিলো। ওগুলো নাকি স্রেফ নিয়ম রক্ষার জন্য। লাশ সৎকারের দায়িত্বে থাকা প্রধান পুরোহিত বেন্নেস বলেছিলো, -শুধুমাত্র প্রথার জোরে এই অভিশপ্ত বালক রাজার কবরে এত দামী সব জিনিস রাখা অপচয় ব্যতীত আর কিছুই নয়। যদিও এখন এই ধনসম্পদ ও এই বেয়াদব কিশোরের মতই অভিশপ্ত। এই অভিশপ্ত ধনরত্ন কেউ ছুঁয়ে ফেললেই তার পরিণাম ও তুতানখামেনের মতই ভয়াবহ হবে। বলে হেসেছিল বেন্নেস। ওর ক্রুর হাসিটাও মনে পড়ে গেলো। কি নিষ্ঠুর, পৈশাচিক সেই হাসি। এসব বিভোর হয়ে ভাবছিলাম। এরইমধ্যে গ্রিফিনো আমায় শুন্যে উড়িয়ে নিয়ে কখন যে পাথুরে মেঝেতে নামিয়ে দিয়েছে টের পাইনি। ভূমির সংস্পর্শে ফিরে এসে চোখে পড়লো মেঝেতে ছড়ানো ছিটানো মূল্যবান পাথর, তৈজসপত্র আর অলঙ্কার গুলো। সেগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকলে যে কোন মানুষের মন লোভাতুর হয়ে উঠবে। কিন্তু আমি তো রাজা। প্রচুর প্রাচুর্যের মধ্যে বেড়ে উঠেছি আমি। এমনকি আমার কবরেও ধনসম্পদের ঘাটতি ছিলোনা। তাই আমার বিন্দুমাত্র লোভ হচ্ছেনা। বরং যখন থেকে আমার তুতানখামেন হওয়ার ব্যপারটা জানতে পেরেছি তখন থেকেই একটা বিষয় জানার জন্য মনটা ছটফট করছে। আমাকে যেহেতু এই পিরামিডেই নিয়ে আসা হয়েছে তখন নিশ্চই আমার লাশ ও এই পিরামিডেই থাকবে। মমি করা লাশ তো পচে গলে নষ্ট হওয়ার ও কোন সুযোগ নেই। কাজেই আমি নিশ্চই আমার পুরাতন স্বত্তার সাথে নতুন করে পরিচিত হতে পারবো। এরকম ভাগ্য কজনের হয়? আমি পাগলের মত সবগুলো কফিন খুলে খুলে দেখতে লাগলাম। যখন প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছি তখন ডালাভাঙা একটা কফিনে খুঁজে পেলাম মমিকৃত নিজেকে।প্রথম দেখায় নিজের চোখকে বিশ্বাস হয়না । এখনকার আমার সাথে ঐ মমির পার্থক্য হলো হাজার হাজার বছরের পুরনো আর মলিন ধুলোমাখা ওটার দেহ এবং পোশাক। তবুও মনে হয় যেন মরেনি ঘুমিয়ে আছে। আপনা থেকেই হাতটা চলে গেলো যুগ যুগ ধরে পড়ে থাকা আমার ই লাশের বুকের ওপর ভাজ করে রাখা হাত দুটোর দিকে। একটা হাত নিজের হাতে তুলে নিতেই চমকে উঠলাম। আমার হাত রাখাতে যেন ধীরেধীরে প্রাণসঞ্চার হচ্ছে ওটাতে। শুধু হাত নয় পুরোদেহ সজীব হয়ে উঠলো কিছুক্ষনের মধ্যেই। তারপর বুকের ওপর থেকে ভাজ করা হাতদুটো নামিয়ে বসে পড়লো কফিনের মধ্যেই। চোখদুটো এমনভাবে খুললো যেমন করে দরজার কপাট ঝড়ের তোড়ে আচমকা খুলে যায়।সে চোখে ছলছল করতে থাকা জল আর আশান্বিত দৃষ্টি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম! সজীব ও সতেজ দেহটায় এক অদ্ভুত সোনালী আভা ঝলমল করছে! অদ্ভুত একটা ব্যাপার যে ঘটে চলেছে সেদিকে তেমন মনোযোগ ই নেই আমার । আমি কিছু বলার বা করার আগেই আরেকটা ঘটনা ঘটলো। মমির গায়ের সোনালী আভা আমার শরীরেও দেখা দিতে লাগলো। একটা সোনালী দ্যুতি আমার সারাদেহের পরিধিরেখা বরাবর ছড়িয়ে পড়লো। আর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হলো ভয়ানক যন্ত্রনা। আমায় যেন কেউ তীক্ষ্ণ ধারালো অস্ত্র দিয়ে বারবার আঘাত করছে ।চরম আক্রোশে ফালাফালা করে দিচ্ছে দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ! ব্যথার চোটে তারস্বরে চেঁচিয়ে উঠলাম!আমার আর্তনাদ শুনে পাশে থাকা পোষা প্রানী গ্রিফিনো দৌড়ে ছুটে এলো। কিন্তু ঐ সোনালী আলোর গন্ডির মাঝে আসতেই ছিটকে সরে গেলো কয়েকহাত দূরে। আমি মমির মুখের দিকে চাইলাম আবার। কিন্তু একি! আলোকিত এবং আশান্বিত চোখমুখ এমন অস্বাভাবিক রাগান্বিত দেখাচ্ছে কেন? এবার ওর ঠোটদুটো নড়ে উঠলো। আমার সজীব হওয়া মমি আমাকে কিছু বলতে চাইছে। তার ঠোট নড়ছে এবং গলার আওয়াজ ও শুনতে পাচ্ছি কিন্তু ভাষা অচেনা। আমি ব্যথা সহ্য করতে করতেই নিজের ভাষাতেই প্রশ্ন করলাম -আমায় এই যন্ত্রণা দিয়ে কি লাভ তোমার?কি চাও তুমি? বলেই নিজের কণ্ঠ আর ভাষা শুনে অবাক হলাম। এমন কর্কশ কণ্ঠস্বর আর অপরিচিত ভাষা আমার মুখ থেকে কিভাবে বেরুলো?ঠিক এই ভাষাটাই আমার মমির মুখ থেকে শোনা যাচ্ছে। হয়তো কিছু সময় গেলে এর মানেও বুঝতে পারবো। কিন্তু ততক্ষণ বেঁচে থাকতে পারবো কিনা কে জানে। নিদারুণ যন্ত্রনায় অবশ হয়ে আসছে শরীর, বোধহয় অজ্ঞান হয়ে যাবো। জ্ঞান হারাবার আগমুহুর্তে মমির মুখ নিঃসৃত বাক্যগুলোর অর্থ স্পষ্ট হয়ে এলো আমার কাছে । যা শুনলাম তার অর্থ বুঝতে পেরে সমস্ত দেহ শিহরিত হয়ে উঠলো। আমার এক স্বত্তা মমি আরেক স্বত্তা আমাকে বলছে -আমি তো অভিশপ্ত রাজা। দেবতাদের অভিশাপে সুখের রাজত্ব ছেড়ে অল্পবয়সে মরেছি। আমাদের দুজনের মধ্যে তো কোন পার্থক্য নেই।তবে তুই কেন মিছেমিছি বেঁচে থাকবি? তোকেও মরতে হবে আমার ই মতন.....এখুনি! তারপর যন্ত্রনার পরিমান বেড়ে গেল। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৬৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্য এডভেঞ্চার অফ ডক্টর গ্রিফিনো:রুপান্তর (পর্বঃ ১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...