বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(পরের দিন সকাল বেলা,,,,,, ইবলিশ মাঠ, রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়।)
.
.
একা একা বসে আছি। মেজাজ প্রচুর খারাপ। সারারাত ঘুমাতে পারিনি। কেমন যেনো ছটফটানির মাঝেই রাতটা কেটে গেছে। মারুফাকে কে কয়েকটা কথা বলার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে আছে। আবার মনের মধ্যে একটা ভয়ও কাজ করছে।
.
সব সময় আমি ডাকলে মারুফা আগেই চলে আসে। আর আমি দেরিতে আসি। ও পৌছানোর পর থেকে ফোন দেওয়া শুরু করে। আর আমি ততক্ষনে রেডি হয়ে হল থেকে বের হই। কিন্তু আজ হারামীটা এত দেরি করছে কেন বুঝতে পারছি না। খুব খারাপ লাগছে। অপেক্ষা জিনিসটা যে কত কষ্টের তা আজ হারে হারে টের পাচ্ছি।
.
.
মারুফা: কিরে তোর কি হইছে। আজ এত সকালে ডাকলি কেন। তোরতো জমিদারি ঘুম ৯ টার আগে বেড থেকেই উঠিস না। আজ আবার জমিদার সাহেবের কি হলো?
জুম্মান: দেখ মারুফা একদম মজা করবি না। মেজাজ কিন্তু প্রচুর গরম আছে।
মারুফা: ওমা তাই। কই, তোর মেজাজ একটু বের কর। পানি ঢেলে ঠান্ডা করে দেই।
.
জুম্মান: আজ আমি ঝগড়া করতে চাচ্ছি না। কারণ তোর সাথে আমার ইম্পরটেন্ট কথা আছে।
মারুফা-: ওমা তাই,,,, বলে ফেল।
জুম্মান-: কথা গুলো তুই কি ভাবে নিবি আমি জানি না। কিন্তু কথা গুলো আমাকে বলতেই হবে। তুই প্লিজ আমাকে ভুল বুঝিস না।
মারুফা-: ওকে বলে ফেল।
জুম্মান-: দেখ আমি কাল সারা রাত ঘুমাতে পারি নাই।
মারুফা-: কেন কেন,,,,, কোনো মহারানীর উপর ক্রাশ খাইছিস নাকি?
.
জুম্মান-: মজা করবি না। তোর বিয়ের কথাটা শোনার পর থেকে কেমন যেনো লাগছে।
মারুফা-: তুই কি চাস আমি বিয়ে না করে সারা জীবন তোর সাথে এমন ঝগড়া করি?
জুম্মান-: না তা চাই না।
মারুফা-: তাহলে?
জুম্মান-: আমি তোকে বিয়ে করে আমার সাথে সারাজীবন ঝগড়া করার জন্য রাখতে চাই।
.
(দুজনেই চুপ। কিছুক্ষন পর)
.
মারুফা: তুই এটা কি বললি জুম্মান?
জুম্মান-:মারুফা তোকে আমি অনেক ভালোবাসি। শুধু যে ভালোবাসি তা নয়। তোকে ছাড়া আমি এক মূহুর্তও চলতে পারবো না। তুই ছারা আমার জীবনটা কুয়েতের ধুধু মরুভূমির মত হয়ে যাবে। তুই অন্য কারো হবি, আমার সাথে তোর আর দেখা হবে না, এটা আমি কোন দিনো মেনে নিতে পারবো না। তুই মিশে গেছিস আমার প্রতিটি মূহুর্ত প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে।
.
তোকে যদি শুধু ভালোবাসতাম, তবে আমি হয়ত তোকে না জানিয়েই থাকতাম। এবং তুই সুখে থাকবি ভেবে তোকে হাসি মুখে অন্যর হাতে তুলে দিতাম। কিন্তু তুই আমার শুধু ভালোবাসা নস তুই আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস প্রশ্বাস। ভালোবাসাকে ছারা বেচে থাকা গেলেও নিঃশ্বাস কে ছারা কেমনে বাচবো বল। জানি না তুই এটাকে কিভাবে নিবি। তবে আমি তোকে কখনো জোর করবো না। তোর সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত হবে।
.
.
.
মাথানিচু করে কথা গুলো এক নিশ্বাসে বলে মারুফার দিকে উত্তরের জন্য তাকালাম। মারুফার দুচোখ দিয়ে পানি পরছে। মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না। ঠোট দুটো শুধু কাপছে।
.
জুম্মান-: আমি ভেবে নিবো তুই আমিকে পছন্দ করিস না।
মারুফা-: (হাত দিয়ে আমার মুখটা চেপে ধরলো মারুফা) আমাকে বিয়ে করবি?
জুম্মান-: হুম (বলে মাথা নারালাম)
মারুফা-: খাওয়াবি কি?
জুম্মান-: আমি যা খাই।
মারুফা-: রাখবি কই ?
.
জুম্মান-: আমি যেখানে থাকি সেখানেই রাখবো।
মারুফা-: এসব আবেগের বয়স অনেক আগে পার করছি বুঝলি। এসব আবেগ হাইস্কুল জীবনে থাকে।
জুম্মান-: তার মানে তুই আমাকে বিয়ে করবি না।
মারুফা-: সেটাতো বলিনি।
জুম্মান-: তাহলে ?
.
মারুফা-: সামনের মাসে ফাইনাল পরীক্ষা। তোকে ৬ মাস সময় দিলাম। যেমন করেই হোক আমি এই ৬ মাস বাসায় ম্যানেজ করে নিবো। তুই পরীক্ষা দিয়ে একটা জব ম্যানেজ করবি। নাহলে কিন্তু আমি সত্যি সত্যি অন্যজনকে বিয়ে করে নিবো।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now