বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এক
লোক পরম্পরায় গোপালের
সূক্ষ্ম বিচার বৃদ্ধি দেখে এক
প্রতিবেশী তার
মোকদ্দমা চালাবার জন্য
গোপালকে অনুরোধ করে ।
কিন্তু গোপাল মোকদ্দমার
কাহিনী শুনে বারবার না-
নাকরা সত্ত্বেও
প্রতিবেশী লোকটি নাছোড়বান্দ
হয়ে গোপাল প্রতিবেশীর
মোকদ্দমাটি হাতে নেয় ।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই
মামলার হার হয়।
ভদ্রলোক
কাঁদতে কাঁদতে বললে এ
কি করলেন, আমার সব গেল ।
তখন গোপাল বলল,
দেখুনব্যারাম
সেরে উঠতে উঠতেও লোক
অনেক সময়ে হার্টফেল
করে মারা যায় ।
তাকে ব্যারাম-
মরা বলা যেতে পারে না ।
আপনার ব্যাপারটওঠিক সেই
রকম । মামলার
বিচারে আপনি হারেন নি ।
হাকিমেরা মূলত
তিনটি বিষয়ের উপর
বিবেচনা করে রায় দেয়
সাধারণত- তিনটি বিষয় হল
অনুমান, প্রমাণ
এবং স্বীকারোক্তি ।
অনুমানটাও আপনার
স্বপক্ষে ছিল, অর্থাৎ যে-
কেউ মামলার বিবরণ
শুনলে বলতে বাধ্য ছিল
যে বিবাদী দোষী । হাকিমও
নিশ্চয়ই তাই ভেবেছেন ।
কিন্তু অনুমানের উপর নির্ভর
করে তো আর রায়
দেওয়া চলে না ।
দ্বিতীয়তঃ হলো প্রমাণ ।
প্রমাণ করা এত শক্ত যে, ওর
ভেতরে শেষ পর্যন্ত গলদ
থেকেই যায় । আমি আপনার
মামলা প্রমাণ করে ছেড়েছি,
এ
কথা যাকে জিজ্ঞাসা করবেন
সেই বলবে, কিন্তু ঐ
যে বললাম-গলদ
রয়ে গেছে গোড়ায় । থাকতেই
হবে গলদ ! বিপক্ষের উকিল
আমাদের সব অকাট্য
প্রমাণগুলি মিথ্যে বলে উড়িয়ে
তৃতীয়তঃ বাকি রইল
স্বীকারোক্তি ।
আসামী লোকটা যদি ভদ্রতা কর
স্বীকার করে যেতো,
তাহলে আর কোন কিছুতেই
আটকাতো না আমাদের । কিন্তু
তা সে কোনমতেই
করলে না কিনা !
তাতে আমি আর
কি করতে পারি বলুন ।
মামলা জেতবার আগেই
তো হার হলো । ব্যায়রাম
থেকে সেরে উঠতে উঠতে হার্ট
। এতে বলুন আমার কি দোষ
আছে? কারণ এর বেশী আর
ভদ্রলোককে কিছু বলতে পারেই
না গোপাল ।
ভদ্রলোক রেগেই চলে গেলেন
।
দুই
গোপাল
একবার খুব বিপদে পড়ে এক
মহাজনের কাছ
থেকে চড়া সুদে কিছু
টাকা ধার করেছিল। এক
বছরের মধ্যে সেই টাকা শোধ
করবে বলে শর্ত ছিল। বছর
পেরিয়ে গেল, গোপাল কিন্তু
টাকা ও সুদ কোনকিছুই শোধ
করল না। একদিন মহাজন
নিজেই এলেন গোপালের
বাড়িতে।
মহাজনঃ কি হে গোপাল, বছর
ঘুরে নতুন বছরে পড়লো।
তুমি যে চিৎ হাত উপুর করছ
না, ব্যাপারটা কি?
গোপালঃ বছর ঘুরে নতুন
বছরে পড়লো মানে?
আমি তো বলব, বছরই
এখনো শেষ হয়নি। কেউ কেউ
বারো মাসে বছর হিসাব করে,
আবার কারো কারো বছর
তো আঠারো মাসেও হয়, ঠিক
না?
তিন
শেখ আমীরশাহ খুব বিচক্ষণ
মৌলবী ছিলেন।
হিন্দুশাস্ত্রেও তাঁর বেশ দখল
ছিল। তারই
জোরে গোপালকে তিনি অনেক
সময়ে ঠকাবার চেষ্টা করেন।
অবশ্য তার ফলে নিজেই জব্দ
হতেন সর্বদা। কিন্তু
তাতে লজ্জা নেই তাঁর। বার
বার গোপালকে ঠকাবার
চেষ্টা করেও বুদ্ধিমান
গোপালকে কোনমতেই
ঠকানো যায় না বরং শেখ
আমীরশাহই বারবার ঠকেন।
একদিন গোপান ভিন গাঁয়ে এক
বন্ধুর বাড়িতে গেছেন। শেখ
আমীরশাহও সেই বন্ধুর
বাড়িতে সেইদিন নিমন্ত্রিত।
গোপাল গিয়ে বন্ধুর
বাড়িতে পৌঁছে দেখেন শেখ
আমিরশাহ ভোজনে বসেছেন।
গোপাল জিজ্ঞাসা করলেন,
‘কী খাচ্ছেন মৌলবী সাহেব?’
শেখ সাহেব শাস্ত্রের মারফত
রসিকতা করবার লোভ
সামলাতে পারলেন না এবার।
বললেন, ‘এই যে গোপাল,
তোমাদের অবতার ভোজন
করছি।’ তিনি মাছ
খাচ্ছিলেন, এবং মৎস্য
হলো দশ-অবতারের প্রথম
অবতার।
গোপালেরও শাস্ত্রজ্ঞান বেশ
প্রখর। একথা শেখ সাহেব
বেশ ভালোভাবেই জানেন।
গোপাল অর্থটা অন্যরকম
বুঝবার ভাণ করলেন।
তিনি বললেন, ‘অবতার? তৃতীয়
অবতার নিশ্চয়ই?’
শেখ সাহেব ‘তোবা, তোবা’
করে লাফিয়ে উঠলেন ভোজন
ত্যাগ ক’রে। কারণ হিন্দুদের
তৃতীয় অবতার হলো–বরাহ
বা শূকর অবতার এবং শূকরের
মাংশ হলো মুসলমানদের
পক্ষে নিষিদ্ধ খাদ্য।
বেশি জব্দ হয়েই সেদিন শেখ
সাহেবকে উপোসেই
থাকতে হলো। কারণ
তিনি সেদিন আর কিছু
খেতে পারলেন না।
এদিকে গোপাল বন্ধুর
বাড়িতে বেশ পেট ভরেই
খেয়ে মুচকি মুচকি হাসতে হাস
নিলেন। এবারও শেখ সাহেব
হলেন ভীষণ জব্দ। তিনি খুব
ব্যথিত
হয়ে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলে
আর কোনদিনও গোপালের
সঙ্গে খারাপ
রসিকতা বা খারাপ ব্যবহার
করবেন না।
চার
গোপাল যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ি।
মাথার ওপর গনগনে সূর্য।
গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গোপাল এক
গাছের নিচে বিশ্রাম
নিতে বসল। বেশি গরম লাগায়
ফতুয়াটা খুলে পাশে রেখে একটু
আয়েশ করে বসল। বসে বিশ্রাম
নিতে নিতে কখন
যে ঘুমিয়ে পড়ল, নিজেই
জানে না।
ঘুম যখন ভাঙল গোপাল দেখে,
তার ফতুয়াটা চুরি হয়ে গেছে।
হায় হায়! এখন কী হবে!
খালি গায়ে তো আর
শ্বশুরবাড়ি ওঠা যায় না।
কী আর করা।
সে হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বলতে লাগল,
‘হে ভগবান, রাস্তায় অন্তত
১০টি মুদ্রা যেন কুড়িয়ে পাই,
তাহলে পাঁচ মুদ্রায় আমার জন্য
একটা ভালো ফতুয়া কিনতে পারি।
আর তোমার জন্য
পাঁচটি মুদ্রা মন্দিরে দান
করতে পারি···।’ আর কী আশ্চর্য!
ভাবতে ভাবতেই দেখে,
রাস্তার
ধারে কয়েকটি মুদ্রা পড়ে আছে।
খুশি হয়ে উঠল গোপাল,
গুনে দেখে পাঁচটি মুদ্রা!
গোপাল স্বগত বলে উঠল,
‘হে ভগবান, আমাকে তোমার
বিশ্বাস হলো না, নিজের
ভাগটা আগেই রেখে দিলে?
[চলবে...]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now