বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ফুলের পাপড়িতে সাজানো বিছানায় বসে আছে নববধু মালিহা। মালিহাকে অনেক সুন্দর লাগছে, ঠিক যেন অপ্সরী। আবির চুপচাপ খাটের পাশে দাড়াতেই মালিহা নেমে আবিরকে পা ধরে সালাম করলো। আবির কি বলবে বুঝতে পারছেনা।
আবির= ইয়ে মানে খেয়েছো?
মালিহা= জ্বি।
আবির= আচ্ছা তাহলে শুয়ে পড়, অনেক রাত হয়েছে।
.
আবির এটা বলে একটা বালিশ নিয়ে বারান্দায় চলে গেলো। মালিহা ভাবলো কেমন মানুষরে বাবা, মানুষ নতুন বউয়ের সাথে রোমান্স করে আর উনি বাসর ঘরে বউকে একা ফেলে বারান্দায় গিয়ে ঘুমাচ্ছে, আমি দেখতে অসুন্দর নাকি? তাহলেতো তিনি আমাকে বিয়ে করতেন না, কারণ উনি তো আমাকে বিয়ের আগে দেখেছিলেন। একবার গিয়ে ডাক দিই, নাহ কি না কি ভাববে। এসব মনে মনে বললো মালিহা। সে চেইঞ্জ করে শুয়ে পড়লো। পরদিনও সেই একই অবস্থা। এভাবে কয়েকদিন কেটে গেলো আবির বিয়ের পর থেকে প্রতিদিনই বারান্দায় ঘুমায় আর মালিহা বিছানায়। আবির মালিহার সাথে ঠিকমত কথাও বলেনা, এমনকি মালিহা কোন প্রশ্ন করলেও এড়িয়ে যায়। বারবার জিজ্ঞেস করলে উত্তেজিত হয়ে কথা বলে। এসব নিয়ে মালিহার মনে প্রচন্ড জেদ চেপে আছে, কিন্তু আবিরের সাথে ততটা ফ্রি নয় তাই কিছু বলতে পারছেনা। মালিহা আবিরের এরকম আচরণে অনেকসময় রুমের মধ্যে একা একা বসে কাঁদতো। আবিরের মা আবার মালিহাকে নিজের মেয়ের মত আদর করতেন। মালিহা প্রায়ই মন খারাপ করে থাকতো সেটা তিনি বুঝতেন।
.
মা= আচ্ছা তুই বউমাকে কেন কষ্ট দিচ্ছিস?
আবির= কখন কষ্ট দিলাম? ও তোমাকে বলেছে তাইনা?
মা= মালিহা আমাকে কিছুই বলেনি। আমি ওর চেহারা দেখলেই বুঝতে পারি। বাবা তুই ওকে কষ্ট দিস না, ও অনেক ভালো মেয়ে
আবির= ভালো মেয়ে হোক আর খারাপ হোক তাতে আমার কি? আমি কি বলেছি যে বিয়ে করবো? তোমরা পছন্দ করেছো, তোমাদের জন্য বিয়ে করেছি।
মা= এটা তুই কিরকম কথা বললি? মেয়েটা তুই খাওয়ার আগ পর্যন্ত খায়না, দুপুরেও অপেক্ষা করে, আমরা জোর করে খাওয়াই। রাতেও তুই না আসা পর্যন্ত জেগে থাকে।
আবির= আমি কি তাকে এসব করতে বলেছি। এসব কথা শুনতে ভালো লাগেনা। যত্তসব।
.
কয়েকদিন পর, আবির একটা ফ্যাক্টরিতে ইঞ্জিনিয়ার পদে আছে। আজ সে একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরলো, আবির যেদিন তাড়াতাড়ি বাসায় আসে সেদিন কোল্ড কফি খায়, মালিহা এটা জানতো। তবে মালিহা আবিরের জন্য আমের জুস বানিয়ে আনলো। কিন্তু সে জানতোনা আবির আমের জুস পছন্দ করেনা। আবির জুস দেখেই প্রচন্ড রেগে গেলো।
আবির= এসব কি?
মালিহা= আমের জুস, আপনার জন্য একদম ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা আম দিয়ে বানিয়ে এনেছি।
আবির= আমি কি জুস আনতে বলেছি? এত পন্ডিতি করো ক্যান? থাপড়ে দাঁত ফেলে দিবো। আমার সামনে থেকে দুর হও।
.
মালিহা কাঁদতে কাঁদতে অন্যরুমে চলে গেলো। মালিহা আর আবিরেরা একই এলাকায় থাকে। আবিরেরা ফ্ল্যাট ও মালিহারা একই এলাকায় ফ্ল্যাট কিনেছে। মালিহা রাগ করে তাদের বাসায় চলে গেলো।
.
রাত ৮টা। আবির মালিহাদের দরজায় নক করলো। বিয়ের পর এই প্রথম সে মালিহাদের বাসায় এসেছে। মালিহার মা দরজা খুললো
.
আবির ভয়ে ছিলো কারণ সে মালিহাকে বকেছে তাই তার শশুর শাশুড়ি কি বলে সেটা নিয়ে। কিন্তু সালাম দিয়ে ঢুকার পর তারা বললো ওদেরকে নাকি খুব মনে পড়ছে তাই মালিহা এসেছে। আবির ভাবলো মেয়েটা আসলেই অসাধারণ। সে মালিহার রুমে ঢুকে দরজায় একটা টোকা দিলো। মালিহা আবিরকে দেখে বললো
মালিহা= কি চাই?
আবির= তোমাকে।
মালিহা= হেসে গড়াগড়ি দিতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু পারছিনা, আমাকে দেখতেই পারেন না আবার বলছেন আমাকে চাই?
আবির= স্যরি,
মালিহা= আমি সারপ্রাইজড, যে মানুষ বিয়ের পর আমার সাথে ঠিকভাবে কথা বলেনি সে আমাকে স্যরি বলছে? আচ্ছা বলুন তো আমার অপরাধটা কি? আমি কি ক্ষতি করেছি? আপনি তো আমাকে দেখে শুনেই বিয়ে করেছেন, মেয়েরা অনেক আশা নিয়ে নিজের ঘর ছেড়ে নতুন এক ঘরে যায়, অপরিচিত একজন মানুষকে আপন করে নেয়, অনেক স্বপ্ন দেখে তাকে নিয়ে সুখে থাকবে, একটু ভালোবাসা পাবে, কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, (কান্না করে দিলো)
আবির= স্যরিতো। আমি ভূল করেছি। আর করবোনা। আমাকে ক্ষমা করা যায়না?(মালিহার হাত ধরে বললো।)
মালিহা= আপনি আমাকে প্রতিদিন রুড বিহ্যাভ করতেন আমি কিছুই বলিনি কিন্তু আজ আমি ভালোবেসে আপনার জন্য জুস বানিয়েছিলাম, ভেবেছি খাবেন কিন্তু আপনি উল্টা আমায় বকা দিলেন।
আবির= আর করবোনা মালিহা. আই লাভ ইয়্যু.
.
এটা বলেই সে মালিহাকে বুকে জড়িয়ে ধরলো।
মালিহা= ছিঃ ছিঃ এসব কি করছেন? লজ্জা শরম নাই? কেউ দেখে ফেলবে তো।
আবির= দেখুক। লজ্জা লাগবে কেন? আমি কি মানুষের বউকে জড়িয়ে ধরছি নাকি? আমি আমার বউকে জড়িয়ে ধরেছি। যে দেখবে সে চোখে হাত দিয়ে বসে থাকবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now