বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অতঃপর তমাল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রাসেল পারভেজ (০ পয়েন্ট)

X অতঃপর তমাল রাসেল পারভেজ পূর্ব দিগন্তে উদীয়মান সূর্যের দিকে তাকাইয়া থাকিতে ইচ্ছা হইয়াছিল.। তাহা সত্ত্বেও বারংবার নয়নটা অন্যমনস্ক হইয়া যাইতেছিল অদিতির। অগত্যা সে দিগন্ত পানে চাহিয়া রহিল। আকস্মাৎ বাতাসের বেগে সে নিজেকে ক্ষুদ্র এক জীব মনে করিল। দন্ডায়মান পাশ্ববতী গাছটির নিচে ছিল সে। কিন্তু গাছটির পাশে লুকাইয়া তমাল তাকে দেখিতেছিল। অদিতি অবশ্য জানিত যে তমাল তাকে প্রায়শঃই দেখে, তবুও সে গাছটিকে উপেক্ষা করিয়া দিগন্ত দেখিতে মনস্ত হইলো। সূর্য প্রায় অর্ধ উদীয়মান, ঠিক তখন তার পার্শ্বে আসিয়া দাঁড়াইল তমাল। - আকাশ দেখিতে কেমন? বিশেষকরে বোশেখের ঝড়ো বাতাসে ভরা সকাল, বলল তমাল। তার কথার জবাব না দিয়া তমালের রসগোল্লার মত চক্ষুদ্বয় পানে চাহিয়া অদিতি কহিল, "আমাকে লুকিয়ে দেখ কেন? তমাল বোধহয় প্রস্তুত হইয়াই ছিল, তাই কোনরূপ দ্বীধা ব্যাতিত প্রসন্ন মনে কহিল, "ওই হুতুমপেঁচার মত চক্ষুদ্বয়ের মধ্যে রাত্রি শেষের অন্ধকার জুড়ে আছে, তাই দেখি। " তারপর নিস্তব্ধ হইয়া গেল চারিদিক। অদিতি কোন কথা না কহিয়া দ্রুতপদে বাড়িতে চলিয়া আসিল। তারপর আর সপ্তাহ খানেক আর শাল তলায় গেল না। অদিতির সারাদিন ভালোই যাইতো,, নায়তো, খায়তো,, বিকেল হলে বই পড়িয়া সময় যাপন করিত,, কিন্তু রাত হইলেই দু চোক্ষুর পাতা দুখানি এক করিতে পারিত না,, চোখের দৃশ্যপটে বারংবার অগত্যা তমালের ছবি খানি ভাসিয়া উঠিত,, যাহা ডুবিবার কোন লক্ষণ খুজিয়া পাইতো না। অদিতি নিজেকে প্রশ্ন করিল, " আমি তাহলে উহাকে ভালবাসিতে শুরু করিয়াছি? না ইহা সম্পূর্ণই আমার আবেগ?? তবে উহার কথা মনে হইলে ভিতরে কেমন যেন একটা ধুকধুকানি শুরু হইয়া যায় যাহা থামিবার কোন নাম গন্ধ নাই। তাহলে কি প্রাতঃভ্রমনে কালকে আবার শাল তলায় যাইবো? নাহ তমাল বেচারা কি বলতে কি ভাবিয়া বসিবে!! অদিতি মনস্থির করিল কালকেই যাইবে। . অদিতি একখানা নীল শাড়ি পড়িয়াছে, নীল বোধহয় তমালের প্রিয় রং হইতে পারে,, প্রায়শই তমালকে নীল পাঞ্জাবি পড়িতে দেখা যায়। অদিতি শাড়ির সাথে মিল রাখিয়া নীল ব্লাউজ, নীল রংয়ের পাদুকা,, নীল রংয়ের কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ এবং কপালের টিপটা পর্যন্ত নীল রংয়ের পড়িল। অদিতি লক্ষ্য করিল মনের ভিতরের আনন্দটা কেমন জানি বাধ ভাঙ্গিয়া ফেলিতে চাই। অদিতি যথা সময়ে শাল তলায় গিয়া উপস্থিত হইলো। তমাল তখনও সেখানে বর্তমান ছিল। সেই পরিচিত নীল পাঞ্জাবি তখনও গায়ে জড়ানো, যেটাতে গাছ হইতে ঝরিয়া পড়া শিশিরের জলে পাঞ্জাবির অর্ধেকটা ভিজিয়া গিয়াছে। হাতে একখানা শুকনো গোলাপের ডাল যেটার পাপড়িগুলো প্রায় শুকাইয়া গিয়াছে। চক্ষু দুইটার নীচের কালো দাগ জ্বলজ্বল করিতেছে,, যাহা বোধহয় নিদ্রাহীনতার ফল। অদিতির বাঁধভাঙ্গা আনন্দের জোয়ারে ভাটা পড়িলা। দু চোখ বাহিয়া কয়েক ফোটা নোনা জল চিবুক বাহিয়া পড়িতে শুরু করিল। নিজেকে ধরিয়া রাখিতে কষ্ট হইতেছিল। বুকের ভিতরটাতে হাতুড়ি দিয়া কে যেন কলিজায় আঘাত করিতেছে। অদিতি এবার ছুটিয়া গিয়া তমালকে জড়াইয়া ধরিয়া চেচাইয়া উঠিয়া কহিল, " তুমি আমাকে এতটা ভালবাস আর আমি পাষানী তোমাকে এতটা কষ্ট দিয়েছি।" তমাল এবার অদিতির চিবুক ধরিয়া কহিল, " কষ্ট ছাড়া যে প্রেমের সূচনা হয়, সেই প্রেমের স্থায়িত্ব কি বেশিদিন হয়.?" অদিতি মুখের কোনে এক চিলতে হাসি আঁকিয়া কহিল, " শুকনো গোলাপটাকে কি হাতেই ধরে রাখবে, নাকি আমাকে দেবে? " তমাল শুকনো গোলাপের ডালখানি অদিতির হাতে ধরাইয়া দিয়া কহিল, "আমি কি সারাজীবনের জন্য হাতটা ধরতে পারি? " তারপর খুনসুটির হাসিতে ছাপিয়া গেল চারিদিক!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now