বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বন্ধুর জন্য সফল প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান টি.বি তৌহিদ (০ পয়েন্ট)

X ফারিহা দোস্ত একটা হেল্প করতে পারবি?” “পারবো।তবে টুয়েলভ পারসেন্ট ইন্টারেস্ট লাগবে” “আচ্ছা তোরা যারা ব্যাংকে চাকরি করিস তারা ইন্টারেস্ট ছাড়া কি কিছু বুঝিস না নাকি?” “অয়ন ইন্টারেস্টের হিসেব নিয়েই তো আমাদের জীবন চলে নাকি?” “বরের কাছেও কি ইন্টারেস্টসহ আদর নিবি?” “কেন নয় বস? ইন্টারেস্ট ছাড়া তো কোন কথাই নেই” “আমি রাজী দোস্ত। চাইলে তোর ইন্টারেস্টের চাপে পড়ে দেউলিয়া হতেও রাজী...” কথা শেষ করতে পারলাম না। তার আগেই ফারিহা আমার পিঠে কিলঘুষি দিতে লাগলো। আমি নিজেকে বাচাতে দৌড়ে ছুটে গেলাম রিকশা ডাকতে।রিকশা ডেকে এনে দিয়েই বললাম,দোস্ত চাইলে ইন্টারেস্টের পরিমানটা বাড়িয়ে দিতেও রাজী আছি। “নো চান্স বস।” “তাই বলে তুই সাজ্জাদকে বিয়ে করবি?সে তো তোর কলিগ” “তো কি হইছে।দুইজনের টুয়েলভ পারসেন্ট ইন্টারেস্টে ভালোবাসা কেমন জমবে বল?” “জমবে না।জমবে না’ “না জমুক।তবুও আমি ওকেই বিয়ে করবো”বলেই ফারিহা রিকশাওয়ালাকে তাড়া করলো যাওয়ার জন্য।নিমিষেই সে উধাও হয়ে গেল রাস্তার বাকে। ফারিহার সাথে আমার তুই এর সম্পর্কটা ভার্সিটি লাইফের নয়,সেই স্কুল লাইফ থেকেই।স্যার প্রতিদিন এসে শুধু ফারিহাকেই আদর করে,কোলে নেয় এটা দেখে আমি প্রচন্ড হিংসায় পুড়তাম।শুধু তাকেই আদর করবে কেন স্যার,আমাকে করবে না কেন?আমি কি দোষ করেছি?এসব ভেবেই অভিমান করে কাটিয়ে দিতাম আমি।সেই থেকে ফারিহাকে সহ্য করতে পারতাম না। লুকিয়ে ওর হোমওয়ার্কে কলম ক্রস চিহ্ন একে দিতাম,রং পেন্সিল দিয়ে ওর ড্রেস রং লাগিয়ে দিতাম,ব্যাগ পেছনের বেঞ্চে লুকিয়ে রাখতাম।আর এসবে যখন তুলতুলে গালের মেয়েটা কেদে দিত তখন আমি স্যারের আদর ওর একাই পাওয়ার প্রতিশোধ নিতে পেরেছি বলে তৃপ্ত হতাম। ফারিহাকে এত জ্বালানোর পরও কোনদিন স্যারের কাছে অভিযোগ করে নি। বরং প্রতিবার সেই প্রথমে এসে কথা বলেছে,বন্ধু বন্ধু বলে হেসে হেসে ডেকেছে। এক সময় যখন আমি বুঝতে পারলাম,অবাক হয়ে খেয়াল করলাম তখন আসলেই আমরা অনেক অনেক ভালো বন্ধু। অথচ তার জন্য কোন আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয় নি,হয়ে গেছে। এখনো যখন ফারিহাকে স্যারের আদর করার কারনে আমার রাগ করার কথা বলি তখন সে বলে,আমার মত কিউট তুলতুলে একটা মেয়েকে আদর না করে কি তোর মত পেচাকে আদর করবে বল? বলেই হি হি হি করে হেসে উঠে। এই কিউট মেয়েটাই যখন একটা ব্যাংকে চাকরি পেয়ে গেল তখন আর হিংসে হয় নি,তবে ভয় হয়েছিল অনেক। ফারিহা পারবে তো? যখন জিজ্ঞেস করলাম,হ্যা রে তোদের কাজ কি? “অনেক কাজ তুই বুঝবি না। ইন্টারেস্টের খেলা চলে এখানে” “ইন্টারেস্টের খেলা! বুঝিয়ে বল।” “বুঝাবো।তবে টুয়েলভ পারসেন্ট ইন্টারেস্ট দিতে হবে” “চুপ কর।বলতে হবে না” “চুপও করবো। তবে এখানেও টুয়েলভ পারসেন্ট ইন্টারেস্ট লাগবে’ “ধুর......” ফারিহার সব কথাই যেন ইন্টারেস্ট কেন্দ্রিক। এই যেমন এখন ফারিহাকে কল দিলেই বলবে,কথা বলব না।ফোন রাখ। “কেন?কেন কথা বলবি না” “তোর সাথে কথা বলে এক পারসেন্টও ইন্টারেস্ট পাওয়া যায় না তাই” “তাহলে সাজ্জাদের সাথে কথা বলে বুঝি ইন্টারেস্ট পাওয়া যায়?রাত জেগে কি না কি করিস সেটা তোরাই ভালো জানিস?” “ঐইইইই অয়ন আমাদের মাঝে কিচ্ছু হয় না বললাম” “বলনা দোস্ত একটু। ইন্টারেস্ট সহ বলতে না চাস,ঠিক আছে বলতে হবে না।শুধু আসলটাই বল” “ঘোড়ার ডিম হয়।রাখ বললাম সাজ্জাদ কল দিতে পারে” এই হল ফারিহার ইন্টারেস্ট ম্যানিয়া।দুই দিন পর ইন্টারেস্টম্যান িয়া ফারিহার বিয়ে।বিয়েতে আমাকে স্পেশাল ভাবে ইনভাইট করেছে। সেটা অবশ্য তার জন্য স্পেশাল,সাথে আমারও। আমার জন্য স্পেশাল হওয়ার কারন হল বিয়েতে আমাকে “কিছুই না” গিফট করতে হবে,সাথে টুয়েলভ পারসেন্ট ইন্টারেস্ট। ইন্টারেস্ট ম্যানিয়া ফারিহার বিয়েতে আমি “কিছুই না” সাথে ইন্টারেস্টসহ গিফট নিয়ে ওদের বাসায় হাজির হয়েছি।এই বাসায় ঢুকার পর থেকে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি।অবশ্য এখনো অবাক হওয়ার পর্ব চলছে। ফারিহার বাবা আমার সামনে বসে আমাকে বাংলা সিনেমার নায়িকার বাবার মত এক এক করে প্রশ্ন করে যাচ্ছে,তুমি কি করো,ইনকাম কত,ফিউচার প্লান কি। আর আমিও এক এক করে উত্তর দিয়ে যাচ্ছি নিরীহ নায়কের মত কিন্তু কিন্তু আমি অন্য কোথাও বিয়ে হতে যাওয়া নায়িকার স্বপ্ন দেখা নায়ক বেশে বন্ধু। “আচ্ছা তুমি আমার মেয়েকে কতটুকু ভালোবাসো?” “না মানে আংকেল আমি তো...” “এই যা বলছি তার উত্তর দাও বলছি” “অনেক আংকেল অনেক” “ইন্টারেস্টসহ নাকি ইন্টারেস্ট ছাড়া?” আমি তো থ হয়ে তাকিয়ে আছি। এ দেখি মেয়ের মত বাবারও ইন্টারেস্টম্যান িয়া রোগ হয়েছে।দ্বিতীয় বার ধমক খাওয়ার আগেই বললাম,টুয়েলভ পারসেন্ট ইন্টারেস্টসহ আংকেল। মনে মনে ভাবছিলাম এরপরে হয়তো আংকেল বাংলা সিনেমার মত বলবেন,কি এত্ত কম! যাও এক্ষুনি বেরিয়ে যাও।কিন্তু সেরকম কিছু হল না। তিনি কিছু না বলে উঠে গেলেন।একটু পরে ফারিহা আসতেই আমি বললাম,এই হচ্ছেটা কি?আংকেলতো আমাকে সাজ্জাদ মনে করে আলাপ করলো মনে হয়। “আরে বাবা ঠিকই করেছে?আর আমাদের বাসার অবস্থা দেখে কি মনে হচ্ছে আজকে আমার বিয়ে” “জানিস এটাও আমি ভাবছিলাম।তাহলে কি সাজ্জাদ তোকে বিয়ে করবে না বলেছে?” “সাজ্জাদ বলে কেউ নেই।আর আমার বিয়ের কথা চলছিল।বাবা জিজ্ঞেস করলো,আমি কাউকে পছন্দ করি কিনা?আর তাই আমি তোমার নাম বলেছি” বলেই ফারিহা মাথা নিচু করে রইলো।আমি দুই দিয়ে ওর গাল ধরে মাথাটা উচু করতেই দেখলাম সে কাদছে। কাদতে কাদতে সে বলল,তোমরা ছেলেরা এমন কেন বল তো?মেয়েদের মনের কথা বুঝো না কেন? “সরি ভুল হয়ে গেছে” “আমাকে ভালোবাসো না?” আমি মুচকি হেসে বললাম,হ্যা ভালোবাসি।টুয়েল ভ পারসেন্ট ইন্টারেস্টসহ ভালোবাসি। ফারিহাও হেসে উঠলো আমার কথা শুনে...........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now