বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বউবালিশ প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X এই নিয়ে পাঁচ বার হলো।কিন্তু মহারাণীর আসার কোন নাম গন্ধ নেই। ঘুমটা আমার একটু বেশীই।তবে আজ তাড়াতাড়িই ঘুমটা চলে আসলো। আমি অবনীকে আবারও ডাক দিলাম কিন্তু এবারও সেই একই উত্তর, আসছি। রাতের খাবার খেয়ে প্রায়ই অবনীকে নিয়ে ল্যাপটপে নাটক বা মুভি দেখি। তারপর শুতে যাই।কিন্তু আজ অফিসে একটু কাজের চাপ বেশীই ছিল।তাই শরীরটাও কেমন যেন করছে। আজ মুভি না দেখেই অবনীকে রেখে ঘুমাতে গেলাম।আহ,এখন একটু ভালো লাগছে।আমি অবনীকে ঘুমানোর জন্যে ডাক দিলাম। " ঘুম আসছেনা কেন!কেমন যেন ফাকা ফাকা লাগছে।আমার ঘুম তো এতো খারাপ না যে দেরী করে আসবে।শোয়ার সাথে সাথেই ঘুম চলে আসে।আজ আবার কি হলো। আমি যখনি আবার চোখ বন্ধ করতে যাব তখনি মনে হলো আরে অবনী তো পাশে নেই।প্রতিদিন তো ওকে জড়িয়ে ধরেই ঘুমাই।বিয়ের আগে কোলবালিশ ছাড়া ঘুম আসতো না আর এখন অবনীকে ছাড়া।আমি অবনীকে আবারও ডাক দিলাম। """"""" আরে আমার কোল বালিশ কোই!বিয়ের রাতেই আমার মুখ থেকে এই রকম কথা শুনে অবনী মনে হয় কিছুটা অবাক হলো।এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে আমি ভুল কিছু বলে ফেলেছি।কোলবালিশ ছাড়া তো আমার আবার ঘুমও আসবে না। ' আমি যখনি আম্মাকে ডাক দিতে যাব তখনি অবনী আমার মুখ চেপে ধরলো।আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম।এই মেয়ে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে।আমার মুখ থেকে হাত সড়িয়ে ও আমাকে চুপচাপ বিছানায় বসতে বললো। " কোলবালিশ আমি সড়িয়ে রেখেছি।বিছানায় বসতেই অবনী কথাটি বলে উঠলো।কি বলে মেয়েটা।তাহলে এখন আমি কি জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো।আমার মুখটা একটু মলিন হয়ে গেল। ' এখন থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে।অবনীর কথায় আমি ওর দিকে তাকালাম।মেয়েটা লজ্জায় যেন লাল হয়ে গেল।আমি কিছু বলার আগেই ও আমার বুকে মুখ লুকালো।বাহ,ভালোই হলো।কোলবালিশের বদলে বউ বালিশ।সেদিনের পর থেকে অবনীকে জড়িয়েই ঘুমাতাম কিন্তু আজ আবার কোলবালিশটার কথা খুব মনে পড়লো।আমি অবনীকে এবার রাগি স্বরে বেশ জোড়েই ডাক দিলাম। " ওইতো কোলবালিশ।আমি উঠে কোলবালিশটা নিয়ে আসলাম।আহ,এখন অনেক ভালো লাগছে।ঘুমটা দারুন হবে।তবে কোলবালিশেটা অবনীর মত না। ------- এই, তোমার চা। আমি আড়মোড়া ভেঙে তাকাতেই দেখি অবনী চা হাতে দাঁড়িয়ে আছে।বাহ,কি সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে।আমার সব রাগ যেন পানির মত গলে গেল।মেয়েটা প্রতিদিন সব ভুলে গেলেও আমার চা দেওয়াটা ভোলে না।চায়ের কাপটা হাতে নিতেই আমার রাতের কথা মনে পড়ে গেল।আমার রাগটাও একটু বেড়ে গেল।কিন্তু কোলবালিশটা কোই।আমি অবনীর দিকে তাকাতেই ও বললো, তুমি সারারাত বউ বালিশ জড়িয়েই ঘুমিয়েছ। ' আমি চা টা না খেয়ে রেখে দিলাম।এতে অবনী বেশ ভালই অবাক হলো।এর আগে কোনদিন এমন হয়নি তো তাই।আমি ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।তবে আমার মুখের রাগি ভাবটা থেকেই গেল।ওকে বুঝতে দিলাম না যে আমি ওর উপর রেগে নেই। " প্রতিদিন অফিসের আগে অবনীই সব কিছু ঠিক করে দিত।কোনটা পড়বো সেটা ও আগেই গুছিয়ে রাখতো।আজও তার ব্যাতিক্রম হয় নি।তবে আজ আমি ওটা না পড়ে অন্য একটা পড়ে যখন খাবার টেবিলে আসলাম তখন অবনীর চোখে আমি পানি দেখতে পেলাম।আমার বুকের ভেতরটাও কেমন যেন মোচর দিয়ে উঠলো।আমি আর দাড়ালাম না।ওর চোখের পানি সহ্য করতে পারবো না।অফিসের উদ্দেশ্য বের হয়ে আসলাম।প্রতিদিন ওর কপালে চুমু দিলেও আজ দিলাম না। ------ আহাদ সাহেব,প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অফিস থেকে একজনকে সিলেক্ট করা হয়েছে কক্সবাজার ভ্রমনে।আপনার কাজে স্যার মুগ্ধ।তাই এবার আপনিই যাচ্ছেন। এই নিন, এই খামে সব কিছু দেওয়া আছে।আমি খামটা নিয়ে স্যারকে ধন্যবাদ দিয়ে যখনি বের হতে যাব তখনি স্যার আবারও ডাক দিলেন।আমি পেছনে তাকাতেই স্যার বললেন,ভাবিকে নিয়ে আজিই রওনা হয়ে যান। " একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছিলাম তখনি রফিক ভাই এসে বললেই বড় স্যার আমাকে ডাকতেছে।আমি কিছুটা অবাক হলাম।অফিসে আসতেই ওনার ডাক।আসলে ওনি আমাকে তেমন ডাকেন না।কিন্তু আজ আবার কি হলো। আমি রফিক ভাইকে বললাম,আপনি যান আমি আসছি। " স্যারে রুম থেকে বের হয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম।আজ অবনীকে সারপ্রাইজ দেব।অনেক দিন হলো ও একটু বাইরে যেতে চাচ্ছে কিন্তু অফিসের কাজের চাপে সে সময়ই হচ্ছিলোনা। আজ সেই সুযোগটা এসে গেল। ' কলিং বেল বাজাতেই অবনী দরজা খুলে দিল।একি,ও কান্না করছিল নাকি।চোখ তো একদম লাল হয়ে গেছে।আমাকে দেখে ও বললো,এতো তাড়াতাড়িই এলে যে।শরীর খারাপ নাকি? আমি কিছু বললাম না।রুমে ঢুকে ব্যাগটা রেখে খামটা অবনীর হাতে দিলাম।ও খামটা দেখে একটু অবাক হয়েই বললো এইটা কি? -ডিভোর্স পেপার। -মানে! -আমি আর তোমার সাথে থাকতে পারবো না।আমার কোলবালিশ ই ভালো।বউ বালিশ লাগবে না। অবনী এবার আর চোখের পানি আটকে রাখতে পারলো না।হু হু করে কাঁদতে লাগলো। ' প্লিজ তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না।আমি আর কখনও তোমার অবাধ্য হব না।কথাটি বলেই অবনী আমাকে জড়িয়ে ধরে আরও জোরে কাদতে লাগলো।নাহ মেয়েটাকে আর কষ্ট দেওয়া যাবে না।ও সত্যি ই আমাকে খুব ভালোবাসে। আমি অবনীর কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম, খামটা একটু খুলে দেখো। -না। -আরে দেখোই না। অবনী এবার আমাকে ছেড়ে খামটা খোলায় মনোযোগ দিল।খামটা খুলতেই বাসের টিকেট আর কিছু টাকা বের হয়ে আসলো। -কক্সবাজারের টিকেট! অবনীর মুখে কক্সবাজার শুনে আমার হাসিই পেল।ভাবলো কি আর হলো কি।এবার আমার খবর আছে।মিথ্যা বলার জন্যে আবার যেন কি শাস্তি দেয়। ' তবে তেমন কিছুই হলো না।অবনী এবার আমার বুকে মুখ লুকিয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে বললো,আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।খুব ভালোবাসি। আমিও অবনীকে শক্ত করেই জড়িয়ে ধরলাম। "" আমি আর অবনী বাসে বসে আছি।ও আমার কাধে মাথা রেখে বসে আছে।অবনীর চুলগুলো বাতাসে উড়ছে আর আমি আমার চাঁদ পরীকে দেখছি। ----------------#সমাপ্ত#----------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now