বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রচন্ড ক্ষুধা লাগছে। পকেটে টাকাও নাই। শালা আবির গেছে ওর প্রেমিকার সাথে ডেটিং মারতে। আমি আর হিমেল পাহারা দিচ্ছি। একসাথেই ছিলাম চারজন। আমি, হিমেল, আবির এবং আবিরের প্রেমিকা 'শিখা'। শিখা বললো.. "ভাইয়া আমি আর আবির একটু একা একা কথা বলতে চাই, আপনারা আশেপাশে থাকেন.!"
আমি বললাম.. "অবশ্যই.., নো প্রব্লেম..!"
.
প্রব্লেম তো ঐ শালা আবিরের..! ও একা একা শিখার সাথে যেতেই চাচ্ছিলোনা। আমি আবিরকে বললাম.. "শালা, তোর যখন এতই ভয়, তোকে প্রেম করতে কইছিলো কোন শালায়..!? যা.. ভাবির সাথে যা..! বিয়ের পর তো সারা জীবন ভাবির সাথেই কাটাইতে হইবো, তখন কি করবি শুনি..!?"
শিখা হি.! হি.! করে হেসে দিলো, তারপর আবিরের হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেলো..।"
.
দুরে দাড়িয়ে আছি..। ঐতো দেখা যাচ্ছে..! প্রায় ঘন্টা খানিক হয়ে গেলো, ওদের কথাই শেষ হচ্ছেনা। হিমেল বললো.. "দোস্ত চল, আমার পকেটে বিশটা টাকা আছে। দুজনে দুইটা চা বিস্কিট খেয়ে আসি..!"
আমি বললাম.. "আবির আসুক, তিনজনে একসাথেই খাই..!"
ও বললো.. "ঠিক আছে..।"
.
আসলে আবির আমাদের প্রানের বন্ধু। আবিরকে আমরা প্রচন্ড ভালবাসি। আবিরও আমাদের জীবন দিয়ে ভালবাসে। আবির ছেলেটা সহজ সরল। কোনো প্যাঁচ ঘোচ নাই ওর মধ্যে। ওকে পছন্দ করার একটাই কারন.., আমাদের প্রতি ওর ভালবাসাটা ছিল পবিত্র, একদম নির্ভেজাল..।
আবিরের আম্মা তো বলা যায় এক কথায় মাটির মানুষ। আবিরের আব্বা একটু রাগী, তবে যাকে ভালবাসে, তার জন্য জীবন দিতে রাজী..! আবিরের আম্মা বাড়িতে ভালকিছু রাঁন্না করলে আবির আমাদের না খাওয়ানো পর্যন্ত নিজে কখনও মুখে দেয়না! এতে করে আবিরের আম্মাও ভীষন খুশি হতো।
.
অবশেষে তাহাদের কথা শেষ হইলো। তহারা আসছেন.! কাছে আসতেই দেখি আবিরের চোখে পানি..! আমি বললাম.. "কিরে ভাবি তোকে মাইর দিছে নাকি.? কাঁদছিস কেন..?"
এমন সময় আবির আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে আর বলছে.. "শিখার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে..! আগামী সপ্তাহে ওর বিয়ে..!"
কথাটা শুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো.! শিখার দিকে তাকিয়ে দেখি শিখার দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে..! আমি মনে মনে ভাবলাম.. "এতদিনের ভালবাসা ওদের! শিখাকে পাবার জন্য কত কষ্টই না করছে আবির..! শিখার যদি অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে যায়, নিশ্চিত শিখা বিশ খেয়ে মারা যাবে। আর আবির যাবে পাগল হয়ে! এটা আমি হতে দিবোনা ইন-শা-আল্লাহ।"
তখন শিখাও কেঁদে কেঁদে বললো.. "ভাইয়া, গতকাল হঠাৎ করে একজায়গা থেকে দেখতে এসেছিলো। আমাকে তারা পছন্দ করে এবং বিয়ের দিন তারিখও পাকা করে যায়.! একটা কিছু করেন ভাইয়া।"
আমি আবির এবং শিখার উদ্দেশ্যে বললাম.. "আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা..।"
.
আমি আবির এবং শিখাকে বললাম.. "এখন তোদের মা বাবাদের বলে কোনো কাজ হবেনা। কারন শিখার মা বাবা ছেলেদের কথা দিয়ে ফেলেছে। আর আবিরের মা বাবাও চাইবেনা এমন সময় শিখার মা বাবার কাছে প্রস্তাব নিয়ে যেতে..! অতএব, তোদের পালিয়ে বিয়ে ছাড়া উপায় নেই। এবং যা করার আগামীকালই করতে হবে! "
.
তাপরের দিন আরো কয়েকজন বন্ধু মিলে সব আয়োজন করে ফেলি। সবাই মিলে কিছু টাকা ম্যনেজ করি। আমার কথামত কাজী ডেকে ওদের বিয়ে দিয়ে দিই।
আবিরের আম্মাকে আমি সব বুঝিয়েছিলাম। জানি তিনি কোনো প্রব্লেম না। যাকে নিয়ে প্রব্লেম আবিরে বাবা, তার কাছে আমি আর হিমেল চলে যাই। গিয়েই আমি আর হিমেল আংকেলের পায়ের উপর পড়ে যাই। এবং তাকে বলি... "একটা অন্যায় করে ফেলেছি আংকেল। যা বলার আমাদের বলেন। মারেন কাটেন, যা ইচ্ছা করেন। তবু আবিরকে কিছু বইলেননা।"
তিনি আমাদের দুজনকে টেনে দাড় করালেন আর বললেন.. "আহা..! আগে বলবা তো কি করেছো।"
--আগে কথা দেন, আবিরকে কিছু বলবেননা..!
--আচ্ছা ঠিক আছে..!
তারপর আবিরের আব্বাকে সবকিছু খুলে বলি। সবকিছু শুনে আংকেল হেসে দিয়ে বললেন.. "এবার যদি হাদারামটা মানুষ হয়..! কই ওরা..! এই আবিরের মা, তোমার হাদারাম বিয়ে করেছে! বৌমা আসছে সবকিছু গোছগাছ করো..!"
আন্টি দুর থেকে মুচকি হাসছে..!
.
তারপর ওদের বাড়ি নিয়ে আসলাম। আংকেল শিখার বাড়িতে ফোনে কথা বলে, এবং তিনিই সব ম্যানেজ করে ফেলে..।
আমি আর হিমেল অনেক রাত পর্যন্ত ওদের বাসর সাজালাম। সাথে আবির এবং শিখাও নিজেদের বাসর সাজাতে ব্যস্ত ছিলো। অনেক মজা করলাম। ওদের বাসর ঘরে দিয়ে যখন চলে আসবো, আবির আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল, এবং বললো.. "আমার জীবনের বড় একটা পাওয়া, তোর মতো বন্ধু পাওয়া। আমি সৌভাগ্যবান যে, তোর মত বন্ধু পেয়েছি..!"
ওরসাথে আমিও কেঁদে দিলাম, আর বললাম.. "শালা.., যাও... ভাবির কাছে যাও। কত রাত হইছে, হিসাব করছো..!"
--হোক, এমন বাসর জীবনের প্রতিটা দিনই করা যাবে..
--বব্বাহ্..! ওরে শালা, তুমি বিয়ে করে তো কথা শিখে গেছো দেখছি..! আংকেল তো ঠিকই বলেছে..
তারপর ওদের বাড়ি থেকে আমি আর হিমেল চলে আসি। আসার সময় আবিরের আব্বা আমাদের বলেছিলো... "সত্যিই তোমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন প্রশংসার দাবিদার। এই বন্ধন যেন আজীবন অটুট থাকে।"
আমি বললাম.. "দোয়া করবেন আংকেল..!"
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now